এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নাট‍্যপ্রচেষ্টা : নিঃস্ব

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৬৩ বার পঠিত
  •       
                চরিত্রলিপি 
           _____________
          ১) চন্দ্রপ্রভা দেবী (৬০)
          ২) কাজললতা (আদিবাসী কন‍্যা;২৭)
    ________________________
    (মঞ্চে একটি লালমাটির গ্রাম‍্যপথের দৃশ‍্য। একটি শীর্ণ নদী বয়ে চলেছে। তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। একটি উঁচু পাথরের বেদীর মতো অংশে বসে রয়েছেন চন্দ্রপ্রভা দেবী । সন্ধ‍্যা নেমে আসছে। বাতাসের ক্ষীণ শব্দ। চন্দ্রপ্রভার হাতে একটি বই )

    (নিজের সাথেই কথা বলা শুরু করলেন তিনি।)

    চন্দ্রপ্রভা: হ‍্যাঁ, এটা পৌষমাস বটে। তা এই রাঙামাটির দেশে বসে না থাকলে হয়তো বোঝাই যেতো না। কলকাতায় যাহা গ্রীষ্ম,তাহাই শীত! জাঁকিয়ে পড়েছে ঠান্ডাটা এখানে। আমার আবার মাইগ্রেনের সমস‍্যা। তা এই শীতের সন্ধ‍্যে নামা মানেই মাথার যন্ত্রণার কনসার্ট শুরু হবে! এই কাজলটা যে কোথায় যায়!

    (একটু থেমে আবার বলেন)

    কাজল ! হ‍্যাঁ, ওই আদিবাসী মেয়েটি এখন আমার একমাত্র আশ্রয়। তা হবে না কেন প্রফেসর চন্দ্রপ্রভা দাস? নিজেই তো আপনি এই অবস্থার জন‍্য দায়ী। না, ঠিক আপনি নন। আপনার উল্টোপাল্টা চিন্তাভাবনা দায়ী। জীবনে একটাদিনের জন‍্য ভদ্র মেয়ে হয়ে উঠতে পেরেছেন? পেরেছেন "নক্কীঠাকুরের মতো ঘরণী" হতে? না!
    ঠান্ডার বিকেল। হ‍্যাঁ,এমন সময়টিতেই তো সে…না,না,কীসব ভাবছি! (গলার জোর বেড়ে যায়)

    ড.চন্দ্রপ্রভা দাস কী কারো ক্রীতদাসী যে এসব ভাববে? কক্ষনো না! এই শীতের বিকেলে এখানে এলাম পাবলো নেরুদা পড়বো বলে, খামোখা বাজে সব পুরোনো চিন্তা!
    DNA! জিন! বুঝলে হে! মেয়েমানুষের এই দাসত্ব মানসিকতার জিনটা অপরিবর্তনীয়!

    (চেঁচিয়ে)

    অপরিবর্তনীয়! ওহ্!!

    (একটি লালপাড় শাড়ি পরিহিতা আদিবাসী মেয়ে ছুটে আসে। পায়ে তার নুপুরের শব্দ। কষ্টিপাথরের প্রতিমার মতো দৃঢ়তাপূর্ণ সৌন্দর্য )

    কাজল : দিদি, কী হয়েছে বটে?  
    চন্দ্রপ্রভা : কাজল…! কী রে কোথায় থাকিস তুই?  কতোবার ডাকছিলাম বল তো?

    কাজল (লজ্জিতভাবে) : মাপ কইরে দে বটে, পড়তেছিলাম।

    চন্দ্রপ্রভা : বাহ্! তা সে তো আমিও পড়ছিলাম। এখন বোস। 

    কাজল : তা বসি। সাঁঝবেলা আসতেছে! হিম পড়বে একটু বাদেই।
    চন্দ্রপ্রভা (ধীরস্বরে) : হিম আর কী পড়বে রে? 
    ভেবে দ‍্যাখ,  
    যাবার সময় হলো বিহঙ্গের / এখনই কূলায় রিক্ত হবে / স্তব্ধ গীতি ভ্রষ্ট নীড় পড়িবে ধূলায় / অরণ‍্যের আন্দোলনে!

    কাজল:  আচ্চা দিদি, তুই তো এতো পড়ালিখা করেচিস বটে! কালেজে পড়াতিস, একেনে এতো কষ্টের মধ‍্যি এই আদিবাসি গেরামে থাকতে তোর ভালো লাগে কেমনে? 

    চন্দ্রপ্রভা : তোদের গ্রামে নয় রে, কাজল, তোর সাথে থাকতে ভালো লাগে।  জীবনের সায়াহ্নে এসে একজন সঠিক বান্ধবী পেয়েছি। তাকে ছেড়ে কেউ যায়? 

    কাজল : কী যে কইস! তোর কতো বড়ো সব ব‍্যাপার -স‍্যাপার বটে। ওই যে সেদিন গাড়ি চড়ে এক দিদিমণি আইলো, তুই ওর সনে গেলি না ক‍্যান বটে? 

    চন্দ্রপ্রভা : গাড়ি চড়ে…ওহ্! মিসেস চক্রবর্তীর কথা বলছিস? তা উনি আমাকে নিতে এসেছিলেন ওনার Feminist কার্যক্রমে সাহায‍্য করার জন‍্য। ভেবেছে সামান‍্য রোজগারের বিনিময়ে ওনার নারীবাদের গোড়ায় জল দিতে আমি জ্বালাময়ী বক্তৃতা লিখে দেবো…প্রবন্ধ লিখে দেবো পাতার পর পাতা….হ‍াঃ!হাঃ…..(হাসিতে ভেঙে পড়েন তিনি)

    কাজল : অ! তা লিখে দিবি না কেনে? তুইও তো মেয়েদের কথা লিখিস বটে!
    চন্দ্রপ্রভা : সেটা মেয়েদের কথা, কাজল! প্রচারের কথা নয়!
    মিসেস চক্রবর্তী আমারই কলেজে এসেছিলেন, ভারতে feminism ও তার অগ্রগতি নিয়ে বক্তিমে দিতে। আমিও শুনলাম, বুঝলি। রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো, ভাবলাম,”really, নারীবাদী হো তো অ‍্যায়সা!” 
    তারপর যেই না ঘড়ির কাঁটায় সাতটা ছুঁয়েছে, সবার অভিনন্দন অগ্রাহ‍্য করে উনি পড়িমরি করে গাড়ির দিকে ছুটলেন। ওনার millionaire স্বামীর বাড়ি ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে!
    ঠিক সময়ে না পৌঁছালে ক‍্যাপিটালিস্ট মশাই  সব নারীবাদ  বরবাদ করে দেবেন না?.....(হাসতে হাসতে যেন দম আটকে আসে )

    কাজল : বাপ রে! এমনও হয় বটে?
    চন্দ্রপ্রভা : হয় রে, সব হয়। মুখোশ আর মুখের পার্থক‍্য করা কঠিন নয়, অসম্ভব। 
    কাজল : হ‍‍্যাঁরে দিদি, তোর শহরে ঘর আচে, আপনজন আচে, সেকেনে আর কক্ষনো যাবি লাই?
    চন্দ্রপ্রভা : ঠিক বলতে পারি না। আসলে আমি  সঠিক মানুষ বা মেয়েমানুষ কোনোটাই নই। আমি সৃষ্টিছাড়া, ব‍‍্যতিক্রম! আর এই নিয়ে আমার চরম অহংকার, বুঝলি কাজল।
    কাজল : অমন বলিস নাই, দিদি।

    চন্দ্রপ্রভা : Graduate হওয়ার পর যখন masters শুরু করলাম,  আত্মীয়রা বললো, “আর কদ্দিন মেয়েকে পুষবে?” না, চাকরি জুটিয়ে ফেলার পর নিজেই যখন ডক্টরেট করলাম, তখন অবশ‍্য চুপ করেছিলো সব। কিন্তু তুই বল কাজল, মেয়ে, নারী, মহিলা –এসব কীরকম হয়?  ভীষণ শান্ত, মিষ্টি স্বভাবের, ভালো চাকরি করার পর আরো ভালো কারো সাথে settled, রুচিশীল সাজুগুজু – এই তো?
    তবেই তো দশজনে ভালো বলবে, “ভেনাস ডি মিলো”  হিসাবে কেউ কেউ ভাববে, right? ( প্রচন্ড হাসি)

    না রে কাজল। এর কোনোটাই আমি নই। মা -বাবা শেষে ভেবেছিলেন হয়তো, “মেয়েটাকে মানুষ করতে পারলাম না!”  
    বুঝলি? ড. চন্দ্রপ্রভা দাস মানুষ নন, তাঁর ডিগ্রি, সার্ভিস লাইফ তাঁকে মানুষ বলে প্রমাণ করতে অক্ষম।

    কেন বল তো? কারণ সে কোনো বনজ বৃক্ষের আশ্রয় চায় না, সে ঘৃণা করে স্বর্ণলতার জীবনকে! সে চিরকালীন দুর্বিনীতা! 

    কাজল : তবে তুই আমার কাচে কেনে এলি, দিদি? আমি তো কাজললতা! 

    চন্দ্রপ্রভা (হেসে ) : কাজললতার সম্বল অন্ধকার নয় রে, সে জানে স্বপ্ন কীভাবে আঁকতে হয়! তাই এলাম ধরে নে।

    কাজল : আমিও পেরথমে বুঝতে লারতাম। জমিনদারের লোক আর নেতাহোতার  দল যখন আমাদের ঘর ভাঙতে এলো, আমি শুধু কয়েছিলাম, “ ঘরছাড়া কোরো না।” কেমন করে জানবো, আমার দাদারা তাদের সনে আছে? বুড়া বাপটার
    তখনও পেরাণ ছিলো। আমাকে তো অন‍্য কোনোখানে নে গিয়ে শাস্তি দেতে পারতো তারা…কিন্তু…(শ্বাসরোধ হয়ে আসে কাজলের)

    চন্দ্রপ্রভা : না, তাহলে ওরা ভয়ঙ্কর প্রমাণিত হবে কী করে? তোর শয‍্যাশায়ী বাবাকে ওই বিভীষিকা দেখানো তাদের নৈতিক কর্তব‍্যের মধ‍্যে পড়ে, সেটাই তারা চেয়েছিলো!
    কাজল : তারপর কত্তো টি.ভি. র বাবুরা এলে! আমি বলি, গেরাম ঘরের অপয়া  মেয়েকে লিয়ে এতো লিখালিখি কিসের?  কী খাতির আমার তখন! এদিকে আমার শরীর-মন দুটোই ভাঙাচোরা, রক্তাক্ত! তবুও আমাকে লিয়ে আদিখ‍্যেতা দেখে হাসি পেতো বটে!  কী যেন একখান শব্দ লিখতো আমার নামের আগে…কী খটরমটর শব্দখানা…
    চন্দ্রপ্রভা :  গণধর্ষিতা! 

    কাজল : হ‍!  ওইটিই! ওই শব্দখানার জন‍্যি অতো কদর! আচ্চা দিদি, মানুষ ব‍্যাবসা করবে বলি অপর মানুষের ক্ষত লিয়ে খেলে কেনে বটে? 

    চন্দ্রপ্রভা: ক্ষতের দুর্গন্ধ সবচেয়ে ভালো বিজ্ঞাপন! 

    কাজল, তুই কোনোদিন স্কাইলার্কের আর্তনাদ শুনেছিস বিদেশের বাগানে? না, তুই শুনবি কী করে! তুই তো মায়াকোভস্কির শেষ কবিতাটাও পড়িসনি।  আচ্ছা বাদ দে,  কাজল,  ওই নজরুলগীতিটা শুনেছিস বোন, “তোমারই আঁখির মতো….”
    কাজল : হ‍ বটে! 
    “তোমারই আঁখির মতো আকাশের দুটি তারা,
    চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা,,
    সে কি তুমি? সে কি তুমি?”

    চন্দ্রপ্রভা : আচ্ছা, এই যে “সে কি তুমি..” অংশটা যখন গাওয়া হয় মনে হয়না, গায়কের হৃদয়টা উপড়ে আসতে চাইছে? সব জীবনীশক্তি তার কন্ঠনালীতে এসে মিশেছে, এখনই ফেটে পড়ে প্রলয় ঘটিয়ে দেবে অসাম‍্যের পৃথিবীতে?”

     কাজল : অসাম‍্য কারে  কয় সে আমাদের মতো গেরাম ঘরের অপয়া মেয়ে ছাড়া কারা বোঝে লো দিদি?

    চন্দ্রপ্রভা : না, না কাজল, আমি হয়তো বুঝি। কিছুটা হলেও বুঝি। হ‍্যাঁ, তোরা জননী বসুন্ধরার মাটির কন‍্যা। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত হবার পর আমি সুললিত রমণী আর উৎকৃষ্ট পরিবারের রাজেন্দ্রাণীর জীবনকে ঘৃণা করেছিলাম। তাতে প্রত‍্যেকে আমাকে দ্বিগুণ ঘৃণা ফিরিয়ে দিলো।

    আর যখন তোদের কাছে এসে থাকতে চাইলাম, পরিস্থিতি আমাকে গ্রহণ করলো না। প্রমাণ হয়ে গেলো আমার “পেটি বুর্জোয়া” মানসিকতা আর “মহান হওয়ার লোলুপতা” ! আমাকে তোরাও কেউ সহজভাবে নিতে পারিসনা, পারবিও না। আমার এখানে পরিচয় “ শহরের দিদিমণি”, আর নিজের পরিচিতমহল চেনে “বিকৃত মস্তিষ্ক ও সময়ের সাথে অচল” উপাধি দিয়ে….!! আমি আর পারছি না, কাজল…

    কাজল : দিদি, এ কেমন কুথা বটে! তুকে ছাড়া এই অপয়া মেয়েটা বাঁচার শক্তি পাবে? এই তো কাল নিজের ঘরে গেছলাম। দাদারা সব জানে। কইলো, “কে কাজললতা বটে? আমাগো কুনো বুন ছিলো না তো!”  কই যাবো আমি বল?

    চন্দ্রপ্রভা : কেন..কোথায় যাবি? তুই আমার কাছেই থাকবি। 
    ওরে, নাজিম হিকমত ঠিকই লিখেছিলেন, “কোনো শোকের গড় আয়ু একবছরে বেশী নয়।”

    কাজল, তুই নির্যাতিতা, সবার কাছে অস্পৃশ‍্যা। তোর কথা না হয় আলাদা। আমি তো নিজে বেছে নিয়েছি যাপনের কাজলকালিমা।
    মেকি সভ‍্যতা আর আদর্শের ব‍্যাবসা আমার মাথা ধরিয়ে দিয়েছে!  আর ভালো লাগে না! 
     
    কাজল : সন্ধ‍্যাতারা ফুটেছে দিদি, হিম পড়তেছে, ঘরে চল কেনে।

    চন্দ্রপ্রভা : সন্ধ‍্যাতারা? হ‍্যাঁ রে, শুকতারাই তো নাম আর পরিচয় বদলেছে সন্ধ‍্যায়! 

    কাজল,  ওকে কি বলা যায়,
    “তোমার যোগ‍্য গান বিরচিব বলে,
    বসেছি বিজনে; নব নীপবনে
    পুস্পিত তৃণদলে।
    শরতের সোনা গগনে গগনে ঝলকে
    ফুকারে পবন কাশের লহরী ছলকে,
    শ‍্যামসন্ধ‍্যার পল্লবঘন অলোকে,
    চন্দ্রকলার চন্দনটীকা জ্বলে…

      (প্রচন্ড কান্না চেপে রাখার নীরব প্রচেষ্টা করেন চন্দ্রপ্রভা)

    কাজল : দিদি, তুরে বলতেছি ঘর চল,  কেনে বা শুনছিস লাই?? তুর শ্বাসকষ্ট হতিছে..দিদি..!
    চন্দ্রপ্রভা : “মুগ্ধ নয়ান–পেতে আছি কান…!

    গান…গান বিরচিব বলে..!”

    আহ্! পারছি না রে কাজল! আবৃত্তির চর্চা নেই তো বহুদিন।  আমার ধ্রুবতারা হারিয়ে গেছে? নাকি ছিলোই না কোনোকালে বল তো? নাহলে একটা সোজা পথে আমিও চলতাম। মানুষ হয়ে বাঁচতে চাইলে সবাই বললো, “অতি পাকা!”
    আর মেয়েমানুষ হতে চাইলে নিজের অন্তর বললো, “ভোগবাদী, ন‍্যাকা!”

    কাজল : আমারে বাইরের অন‍্যায়ের সনে লড়তি হইছে। তুর তো ভিতরে-বাইরে যন্ত্রণা, দিদি!

    চন্দ্রপ্রভা : (রুদ্ধস্বরে) হ‍্যাঁ, বেশ বলেছিস তো!

    “আমার ভিতর -বাহিরে 
      অন্তরে অন্তরে, আছো তুমি!
           হৃদয় জুড়ে…”  
      ওহ্! আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে, কাজল…আকাশে কী ওটা কুয়াশার সেতু? না কালপুরুষ আবির্ভূত হয়েছেন? 

    কাজল : দিদি! ঘর চল এখুনি! তুর এমন কি হতিছে? হাতে যে তুর সাড় নাইকো! দিদি?

    চন্দ্রপ্রভা : সাড় কি এই সভ‍্যতার আছে? জাগিয়ে তোলার ডাক দিবি? তুই পরিবর্তন ঘটাবি, লাভের গদি দখল করবে কোনো স্বার্থান্বেষী। তারপর পুনর্মুষিক ভব! তুই হয়ে যাবি প্রতীক, Symbol ! হয়তো বা যুদ্ধু-যুদ্ধু ব‍্যাবসার পুঁজি…আর যারা ভালোবেসেছিলো…. কাজল,  একটু জল দে বোন… আর…পারছি না

    কাজল: দিদি, সত‍্যি তোর কোনো নিজের নক্ষত্র ছিলো বটে?

    চন্দ্রপ্রভা: নক্ষত্র না, চিরন্তন ধ্রুবতারা..!
    না রে, আমাকে ঘরে নিয়ে যাস না। এটা যদি শেষরাত হয়, তবে লক্ষ‍্যচ‍্যুত ভোগবাদী এভাবেই শেষ হোক। এই আদিবাসী গ্রামে, পলাশ -মহুয়ার ছায়ায়, রাঙামাটিতে শরীর রেখে, ধ্রুবতারাকে দেখতে দেখতে… 
    কাজল : দিদি! 

    চন্দ্রপ্রভা : Yes, I love you as certain the dark things are to be loved,
    In secret, between the shadow and the soul. 

      তব মুখ সদা মনে,
     জাগিতেছে সংগোপনে,
    তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূলকিনারা…
    তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা….!!

    ( কাজল নীরব কান্নায় ভেঙে পড়ে)

    [ নেপথ‍্যে শোনা যায় শীতলতম রাতে বৃষ্টিপাতের শব্দ। ]

     
      
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | 194.56.***.*** | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১০738595
  • ভালো লাগছে পড়তে। তবে একটা জিনিস চোখে পড়ল, যেটা খুব কমন, - আদিবাসী বা সাঁওতাল মেয়েরা কিন্তু অমন কথায় কথায় বটে বটে করে না। ওরকন টিভি সিরিয়ালে দেখায় বটে, তবে আদিবাসীরা চমৎকার বাংলা বলে, একদম পরিষ্কার বাংলা।
  • Manali Moulik | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৬738596
  • ধন‍্যবাদ। হুম রাঙামাটি অঞ্চলের ভাষাশৈলী নিয়ে আমার তেমন জানা নেই তাই হয়তো মেনষ্ট্রীমের প্রভাব কিছুটা পড়েছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন