এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বিজ্ঞাপন

  • বাঙালি শ্রমিকের জীবনের মুল্য

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
    বিজ্ঞাপন | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫৪ বার পঠিত
  • মুম্বা ই এর নারিয়েলপানি ওয়ালা, কাশ্মিরী ছাত্র ,  উত্তরপূর্বের ছাত্রছাত্রী দের পরে এখন বাঙালি শ্রমিক হল সর্বভারতীয় রাজনীতির নতুন শত্রু
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:9e4e:4584:d955:b7a8:***:*** | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭746568
  • নবারুণ একটা কথা বলতেন, রাস্তা দিয়ে একটা লোকও যদি মুখ নীচু করে যায়, তাতে আমাদের মধ্যে যদি ক্রোধ বা দুঃখ কোনোটা ই না হয় , তাহলে আমরা কিসের লেখালিখি করি। 
    প্রতিদিন বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর আসে , আর আমরা মুখ ঘোরানো অভ্যেস করি। রাজনৈতিক দল গুলি বীরভূম., মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ছোটে মৃত শ্রমিকের পরিবার কে সমবেদনা জানাতে, হয়তো বড় নেতারা ই যান বা  এমপি রা হয়তো দেহ বাড়ি ফেরাতে কখনো কখনো সাহায্য করেন। কিন্তু এটা তো সমাধান না। গতকাল একটা ভিডিও চোখে পড়লো , কোনো নেতা গেছেন , স্থানীয় সাংবাদিক গেছে আহত শ্রমিকের বাড়ি, মার খাওয়া মুসলমান বাঙালি শ্রমিক কাঁদছে , আর এক দাড়িওয়ালা বুড়ো প্রতিবেশী বা আত্মীয় বলছে , ওকে একটু কাঁদতে দাও বলতে দাও।.ঐটুকু দিয়ে সে নাতিকে বা পাড়ার ছেলেটাকে আগলাচ্ছে অসহায় বাবা বা দাদুর মতো। নবারুন দা কবে চলে গেছেন , ওঁর কথাই মনে হল। 

    এতগুলো তৃণমূলের এম পি, শয়ে শয়ে এম এল এ, দেড়শো ভাষা জানা মুখ্যমন্ত্রী , হেলিকপ্টার ভাইপো, সারা দেশের অনেক রাজ্যে সিপি এম এর বড় বড় মিছিল করা শ্রমিক সংগঠন, সাম্প্রতিক কালে আন্দোলনে সফল বড় কৃষক সংগঠন, লিবারেশন , সি পি আই  সহ অন্য বিহারের সমাজবাদী দল গুলোর বড় বড় ছাত্র সংগঠন , দক্ষিনের প্রগতিশীল রাজ্য গুলির.গণতান্ত্রিক সংগঠন গুলি, দেশ জোড়া মহিলা সংগঠনগুলি , এরা সকলে মিলে বা ছাগলের সেকটারিয়ান ইগো রেখে নিজেদের মতো আলাদা আলাদা করে ই ভারতের বড় শহর গুলোতে , প্রতিটা রাজ্যে  পরিযায়ী শ্রমিকের সহায়তা কেন্দ্র খুলতে পারে না, হেলপ লা ইন খুলতে পারে না, আইনি সহায়তা, পুলিশ সামলানো , এবং ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে না? বাংলাদেশী সন্দেহে যাকে তাকে রাতের অন্ধকারে পুশ ব্যাক , ন্যূনতম কনসুলার সার্ভিসের ব্যবস্থা না রাখা , পুলিশি আর মস্তানের অত্যাচার আর প্রধানমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাঙলার প্রতিটি বক্তৃতায়  মুসলমানের প্রতি উগরানো জাতিবিদ্বেষ এর তৎপরতার প্রতিরোধ শুধু নিজেদের.নির্বাচন ক্ষেত্রে করলে হয় না। the resistance has to be at place of work , at place of the criminal racial attack. 

    সারা দেশে ছড়িয়ে আছে বাঙালি শ্রমিক , তাদের কাজ কি শুধু বাড়ি এসে ভোট দে ওয়া আর এস আই আর করানো?

    এত ঘটনা ঘটে, হাতে গোণা কেসে কখনো সে ই বুড়ো বৃন্দা কারাত কে দিল্লি বা ঝাড়খন্ডে ছুটতে দেখি। বা মহুয়া মিত্র কে একটা ভিডিও করতে দেখি। এতদিনে ডি ওয়া ই এফ আই এর ধ্রুবজ্যোতিকে এক দুবার উড়িষ্যায় বক্তৃতা করতে.শুনেছি আর উড়িষ্যার কংগ্রেসের ছেলেরা দু এক বার বাঙালি দের বাড়ি পাঠাতে সাহায্য করেছে সমাজ মাধ্যমে খবর পা ই। পরিযায়ী শ্রমিকের দুরবস্থা  ও তার প্রতিরক্ষা ও সহায়তা নিয়ে কোনো বিশেষ সর্বভারতীয় সম্মেলন হবে না কেন? কংগ্রেসের এত নব প্রতিরোধের নেতা হবার পরিশ্রম তারা পরিযায়ী শ্রমিক কে সাহায্য করে কতটুকু? রাজনীতি হয়ে গেছে হয় বিধানসভা নতুবা লোকসভা নির্বাচন আর টিভিতে অশ্বডিম্ব আস্ফালন আলোচনা। একটা ভালো ডকুমেন্টারি ছেড়ে দিন একট্ শর্ট চোখে পড়ে না পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে। 

    অথচ কোভিডের.সময় এই অবস্থা ছিল না।.প্রায় দেড় মাস টানা রাস্তায় থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে উদ্যত শ্রমিক দল গুলোর সঙ্গে কথা বলে ভিডিও করেছিল বরখা দত্ত। সম্ভবতঃ তার সাংবাদিক জীবনের.সেরা কাজ। আমি নিজে কোভিডের সময়ে সিটু , এস এফ আই আর ডি ওয়া ই এফ আই এর নানা রাজ্যের ইউনিটের.সঙ্গে কাজ করেছি , রীতিমতো ভালো সমন্বয় দেখেছি। এখন সেসব কোথায় গেল? নাকি সর্বভারতীয় বিরোধী গণতান্ত্রিক লোকেরাও আজকাল আমাদের ঘুসপেটিয়া ভাবে? 

      সর্বাধিক নিরাপত্তাহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর.কোনো পরি কল্পনা নেই। কালে কালে সেটলমেন্ট হলে সেখানে গিয়ে একটা কাউন্সেলর ইলেকশন জেতার ধান্দা। আসলে কাজের খোঁজে পাগলের মতো ঘুরে বেড়ানো মানুষের ভোট রাজনীতিতে গুরুত্ব কম আর আইডেন্টিটির রাজনীতিতে সে চিহ্নিত শত্রু।
    জ্ঞান মজুমদার রা সাতের দশকে  সেলস আর ফিলড স্টাফ দের ইউনিয়ন তৈরি করেছিলেন, দীর্ঘদিন সেই ইউনিয়ন মধ্যবিত্ত পরিযায়ী বাঙালি সেলসম্যানদের আশ্রয় দিয়েছে, চাকুরিস্থলের অন্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। বম্বেতে সমাজবাদী পার্টির মূল ভিত্তিটা ই হল বিহার উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকরা। সাধারণ ভাবে বামপন্থী ইউনিয়ন গুলো সাহায্য করতো পরিযায়ী শ্রমিকদের, আবার.স্থানীয় শ্রমিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও সামলাতো, এখন আর সেসব খবর ও পা ই না, খালি বাঙালির দুর্গোপুজোর.খবর আসে, তাতে আমার ই নিজেকে ঘুসপেটিয়া মনে হয়, লুঙ্গি পরা মুসলমান বাঙালি শ্রমিক তো তার ছায়া মাড়ানোর.কথা  ও ভাববে না বা পুজোয় পরবে বাড়ি যাবে।
  • albert banerjee | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৬746571
  •  বাঙালি শ্রমিক ও রাজনৈতিক যন্ত্রের রূপকথা

    একটি কক্ষ। সম্ভবত দপ্তর, অথবা হয়ত আদালতের কোনও অলিন্দ, কিংবা নিছকই বিস্তৃত কোনও ভবনের করিডোর। এর কোনো স্পষ্ট শুরু বা শেষ নেই। এই কক্ষে, বাতাস নিষ্ক্রিয়, সময় আঠালো। দেয়ালে টাঙানো নীতিবাক্যের ফ্রেমে ধুলো জমেছে, শব্দগুলো অর্থহীন অক্ষরের সন্নিবেশে পরিণত হয়েছে। আর এই স্থানের কেন্দ্রে, অথবা হয়ত প্রান্তে—কারণ কেন্দ্র নির্ধারণের অধিকার তার নেই—দাঁড়িয়ে আছে সে। তার পরিচয়: বাঙালি শ্রমিক। সে জানে না কেন তাকে এখানে আনা হয়েছে। শুধু জানে, একটি দরজা পার হয়ে আরেকটি দরকার, একটি ফরম পূরণের পর আরেকটি আবেদন, একটি অনুমতির জন্য আরও দশটি সনদের প্রয়োজন। তার অস্তিত্ব, যেন কাগজের স্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি জীবনী-সংক্ষেপ।

    সে জানে, তার বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। তবুও, সে অভিযুক্ত। সে জানে, সে দেশেরই সন্তান। তবুও, তাকে বারবার প্রমাণ করতে হয় তার অন্তর্গত হওয়া। একটি অদৃশ্য, নামবিহীন কর্তৃপক্ষ যেন তার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসকে সন্দেহের চোখে দেখে। সে রেশন কার্ড নেয়, ভোট দেয়, শিশুকে স্কুলে পাঠায়—এই সাধারণ ক্রিয়াগুলোই যেন কোনও গুপ্ত অপরাধের প্রমাণ হয়ে ওঠে। রাজনীতির ভাষ্যকারেরা দূরদর্শনের পর্দায় কথা বলেন, সংসদে বিতর্ক হয়, কিন্তু সেই সব আলোচনায় তার উপস্থিতি একটি "সমস্যা" হিসেবে, একটি "সংখ্যা" হিসেবে, একটি "হুমকি" হিসেবে। সে নিজে সেখানে অনুপস্থিত। সে শত্রু। কিন্তু কে তাকে শত্রু বলছে? আদালত? সংবিধান? না। এটি একটি অনুভূতি, একটি বাতাসে ভাসা অনুমান, যা ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।

    তার যুদ্ধ ক্ষেত্র নয় রণাঙ্গন, বরং নালিশ দপ্তরের লম্বা লাইন, ভিসা কাউন্টারের সামনের ভিড়, ঠিকাদারের অফিসের কর্কশ কথোপকথন। তার অস্ত্র নয় বন্দুক, বরং সেই ফেটলানো পরিচয়পত্র, রেশনের কার্ড, জমির দলিল—যেগুলোর বৈধতা হঠাৎ করেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে। শত্রুপক্ষ স্পষ্ট নয়। কখনো সে স্থানীয় কর্মকর্তা যার কাছে তার ভাষা অদেখা, কখনো বা দূরের কোনো রাজনীতিবিদ যার বক্তৃতায় সে একটি পরিসংখ্যানমাত্র। শত্রুতার নিয়মকানুন অজানা। আজ যে নিয়মে সে কাজ পেলে, কাল সেই নিয়মই তাকে বাদ দেবার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই যুদ্ধে জয়ের অর্থ শুধু টিকে থাকা, পরাজয়ের অর্থ লুপ্ত হয়ে যাওয়া। আর এই টিকে থাকাটাই যেন একটি অপরাধের নীরব স্বীকৃতি।

    তাকে বলা হয় "অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ইঞ্জিন"। কিন্তু এই ইঞ্জিনটিকেই যখনই প্রয়োজন হয় তেল দেয়া হয়, আবার যখন অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, তা সরিয়ে ফেলা হয় কোনও গুদামঘরে। সে সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু ক্ষমতায় নয়। সে প্রয়োজনীয়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত নয়। তার শ্রম দৃশ্যমান, অস্তিত্ব প্রায় অদৃশ্য। সে শহর গড়ে, সেতু বানায়, ফসল তোলে, কিন্তু সেই শহরে তার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন, সেই সেতুর নিচে তার ঘর ভাঙা হয়, সেই ফসলের বাজারদরে তার লাভ মেলে না। এই দ্বৈততা—অপরিহার্যতা ও প্রত্যাখ্যানের মধ্যে যে ফাঁক—সেখানেই জন্ম নেয় রাজনৈতিক সন্দেহের বীজ।

    একটি মহান, সর্বভারতীয় পরিকল্পনা রয়েছে বলে শোনা যায়। উন্নয়নের মানচিত্র, জাতীয় নিরাপত্তার কৌশল, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের রক্ষাকবচ। এই পরিকল্পনাগুলো অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ, অত্যন্ত বিমূর্ত। কিন্তু এই বিমূর্ততার খপ্পরে পড়ে যেন সে। সে যখন তার গ্রাম থেকে শহরে আসে রোজগারের জন্য, তখন সে "অবৈধ অনুপ্রবেশকারী" হওয়ার অভিযোগের সম্মুখীন হয়। সে যখন তার মাতৃভাষায় কথা বলে, তখন তা "আঞ্চলিকতাবাদ" হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। সে যখন তার ধর্মীয় উৎসব পালন করে, তখন তা "সংকীর্ণ স্বকীয়তা" বলে গণ্য হয়। তার অস্তিত্বের প্রতিটি প্রকাশ যেন সর্বভারতীয়তার একটি আদর্শ সংজ্ঞার সাথে সংঘাতে লিপ্ত। সে শত্রু নয় কারণ সে কিছু করে, বরং শত্রু কারণ সে আছে। একটি নির্দিষ্ট ভাবে আছে।

    এখানে কোনও স্পষ্ট মোকাবেলা নেই। নেই কোনও এপিক যুদ্ধ। আছে কেবল দৈনন্দিনের ক্লান্তিকর, ক্ষয়কারী অস্বস্তি। একটি কর্তৃপক্ষ, যার মুখ কখনো দেখা যায় না, যার নির্দেশনা কেবল গুজব ও ভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সে যেন এই শ্রমিকের জীবনকে একটি জটিল মামলায় পরিণত করেছে। যে মামলার সকল কাগজপত্র হারিয়ে গেছে, বিচারক অনুলভ, এবং শাস্তি আগে থেকেই নির্ধারিত: এক ধরণের অন্তহীন প্রতীক্ষা, এক ধরণের নাগরিকত্বের সাসপেনশন।

    সে তার নিজের জীবন সম্পর্কে অনিশ্চিত। সে কি একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক, নাকি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি? তার প্রতিবেশী, যে তার সাথে একই কাজ করে, সে কি সঙ্গী, নাকি তথ্যদাতা? তার নিজের পরিচয়ই এখন তার কাছে একটি প্রশ্নচিহ্ন। সে কি বাঙালি? ভারতীয়? নাকি শুধুই এক টুকরো সস্তা শ্রম, যা ব্যবহার্য এবং বর্জনযোগ্য? এই পরিচয় সংকট নিজেই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তাকে বিভক্ত করা হয়েছে তার পূর্বপুরুষের ভৌগোলিক উৎস নিয়ে, তার ভাষা নিয়ে, এমনকি তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে। এই বিভাজনগুলো তাকে দুর্বল রাখে, অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেয় না।

    রাজনীতি, যা নাগরিকদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার কথা, তা নিজেই যেন একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে, যার দরজা এই শ্রমিকের জন্য সর্বদা অর্ধ-উন্মুক্ত। ভোটের সময় তার কাছে পৌঁছানো হয়, তার নম্বর নেয়া হয়, তার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটের পর সে আবার সেই করিডোরের অনিশ্চিত বাতাসে ফিরে যায়, যেখানে তার প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে ফারাক ক্রমশ গভীর হতে থাকে। সে রাজনীতির বিষয়, কিন্তু রাজনীতির অংশ নয়। সে বিতর্কের বিষয়, কিন্তু বিতর্কে তার কণ্ঠস্বর নিষ্ক্রিয়।

    কোনও নায়ক নেই, কোনও চূড়ান্ত সমাধান নেই। আছে শুধু একটানা, নিষ্ক্রিয় অশান্তি। বাঙালি শ্রমিকের এই পরিস্থিতি কোনও ষড়যন্ত্রের ফল নয়, বরং একটি নৈর্ব্যক্তিক, জটিল ব্যবস্থার পরিণতি। এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তিনির্ভর নীতির বদলে জন্ম নেয় বিমূর্ত শ্রেণীবিভাগ, যেখানে মানুষের বদলে পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রয়োজনের সঙ্গে নীতির বিরোধ তৈরি হয়। সে ব্যবস্থার একটি কাঁটাযুক্ত চাকা মাত্র, যা একইসাথে তাকে চালিত করে এবং বিদ্ধ করে।

    সুতরাং, সে দাঁড়িয়ে থাকে। করিডোরের শেষ নেই। দরজার পর দরজা। কাগজের পর কাগজ। সে জানে না তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কী। শুধু জানে, সে শত্রু। আর এই শত্রুতা তার নিজের মধ্যে নয়, বরং একটি দৈত্যাকার, নিশ্চুপ যন্ত্রের সাথে তার সম্পর্কের মধ্যে নিহিত। একটি যন্ত্র, যার নাম হয়ত "সর্বভারতীয় রাজনীতি", অথবা হয়ত কিছুই না। একটি যন্ত্র, যা তাকে প্রয়োজন করে, আবার একই সাথে তাকে অস্বীকার করে। এবং এই দ্বৈততার মধ্যেই, এই অদৃশ্য, অবর্ণনীয় সংঘর্ষের মধ্যেই, তার জীবন কেটে যায়—একটি  অস্তিত্ব, যেখানে অপরাধ সুনির্দিষ্ট নয়, কিন্তু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী; যেখানে মুক্তির কোনও পথ নেই, আছে শুধু প্রতীক্ষার অনন্ত প্রহর।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন