এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   সমাজ

  • বাংলাদেশে হিন্দুহত্যা 

    দীপ
    আলোচনা | সমাজ | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ৩০৯ বার পঠিত
  • বাংলাদেশে আবার আরেক হিন্দুহত্যা।
    আলোচনা করলেন ইমতিয়াজ মাহমুদ।
    পশ্চিমবঙ্গের মহাবিপ্লবীরা অবশ্য একটা কথাও বলবে না!
    আগ্রহী হলে পড়তে পারেন।
    -------------------------------------------------------------------
     
    (১) 
    এবার নরসিংদীতে ছোটো ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তীকে হত্যা। এইটা বিডিনিউজের শিরোনাম। ফেসবুক খুলতেই দেখি ওদের এই সংবাদ। কয়েক লাইনের এইরকম একেকটা সংবাদ আমাদের চেতনায় অনেক বড় আঘাত হয়ে আসে, তীব্র শঙ্কার জন্ম দেয়।   
     
    'সোমবার রাত ১১টার দিকে পলাশ উপজেলার চরসিন্ধুর বাজারে যে ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তাঁর নাম মনি চক্রবর্তী। পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানান, নিহত মনি চক্রবর্তী শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মদন ঠাকুরের ছেলে। ৪০ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে চরসিন্দুর বাজারে মুদির দোকান চালিয়ে আসছিলেন। তাঁকে হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।নরসিংদীর ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তীকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিনজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হল।' এটাও বিডিনিউজের বর্ণনা। লক্ষ্য করুন, বিডিনিউজের চোখ এড়ায়নি, তিনজন হিন্দু ব্যবসায়ী। 
     
    (২) 
    না, একজন মানুষ যখন কোন হামলায় নিহত হয়, সেটার সাথে সবসময় মৃতব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কোন যোগ থাকে না। ছিনতাইকারীর হাতে এই দেশে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যায়, লঞ্চ ডুবিতে মানুষ মরে। পুলিশের গুলিতে বা ব্যাবের ক্রসফায়ারেও তো এই পোড়ার দেশে কম মানুষের প্রাণ যায়নি। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে অনেক নারী প্রাণ হারিয়েছে এই দেশে। তাইলে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায় আমরা সাম্প্রদায়িক একটা চিত্র কেন দেখি? ভয়ে। ভয়টা হচ্ছে যে, আমাদের দেশে কি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের একটা পরিবেশ বিরাজ করছে? তবে কি বেছে বেছে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে? সেই ভয়। 
     
    আমরা কেউ চাইনা যে দেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হোক। ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের সকলের বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন আছে যারা ধর্ম বিশ্বাসের দিক দিয়ে সংখ্যালঘু। আমরা চাই যে আমাদের আপনজনেরা ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক। তার চেয়েও বড় ব্যাপার যেটা, আমরা যে স্বাধীন রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করেছি সেটাকে আমরা একটা ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চাই। আমাদের স্বাধীনতাটার অর্থও তাই- একটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক পরিচয় ভিত্তিক একটি জাতি প্রতিষ্ঠা করা ও সেই জাতির জন্যে একটি রাষ্ট্র গঠন করা। এর মানে কি? এর মানে হচ্ছে যে সাম্প্রদায়িকতাকে আমরা রাষ্ট্রের মৌলিক চিন্তার বিপরীত মনে করি। 
     
    না, এটা কোন কথার কথা নয়। এই রাজনৈতিক আদর্শ আমাদের দেশের মানুষের মগজে হৃদয়ে প্রতিদিনের জীবন যাপনে গভীরভাবে প্রোথিত। অল্প কিছু লোক আছে যারা আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানাতে চায়। ওদের সংখ্যা খুবই কম, ওদের রজানইতিক দলগুলিও ছোট ছোট- কিন্তু ওরা প্রশ্রয় পায় অন্যসব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। এই যে রাষ্ট্রের মৌলিক রাজনৈতিক চরিত্র; এটার প্রতিফলন দেখবেন ধর্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে যারা সংখ্যালঘু ওদের আচরণে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ওদেরকে আশ্বস্ত রাখে। আওয়ামী লীগ প্রতারণা করে, সাম্প্রদায়িকতার ব্যবসা করে, তারপরেও ওরা আওয়ামী লীগকে অপেক্ষাকৃত আপন মনে করে। 
     
    (৩) 
    শোনেন, সংখ্যালঘু হওয়ার অনেক কষ্ট আছে। এই যে আজ মনি চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়েছে, এই মৃত্যু যদি নিতান্ত কোন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণেও হয় তথাপি ওঁর আত্মীয়স্বজনের কাছে মনে হবে যে ছেলেটা হিন্দু বলেই আক্রান্ত হয়েছে প্রাণ দিয়েছে। আপনি লন্ডনে যান। দেখবেন যে একজন বাঙালী জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার সকল ব্যর্থতার জন্যে কোন না কোন কারণে তার গায়ের রঙ ও এথনিক পরিচয়কে প্রাসঙ্গিক মনে করে। সংখ্যালঘু হলে চেতনায় এইরকম বিচিত্র সব শঙ্কা গেঁড়ে বসে। আর যদি দেশে গনতন্ত্র না থাকে, আইনের শাসন না থাকে তাইলে সেই আতঙ্ক আরও তীব্র হয়। গণতন্ত্র আর আইনের শাসন থাকলে ভয় কম থাকে। 
     
    আরেকটা বিষয় আছে। দেশে একটা সেক্যুলার লিবারেল বুদ্ধিজীবী শ্রেণী থাকতে হয়- আপনি সেটাকে কনশাস সিভিল সোসাইটি বলতে পারেন, বা সোশ্যাল ইন্টেলেকচুয়াল বলতে পারেন। এরা হচ্ছে এমন একদল মানুষ যারা সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। এই শ্রেণীর লোকজন যদি মুখ খুলে কথা বলতে পারে তাইলেও সংখ্যালঘুরা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বোধ করে। এইটার বাস্তব উদাহরন ইত্যাদি নিয়ে আরেকদিন বলি। আজ শুধু এইটা বলে রাখি, একটা সমাজে যখন মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকে না, তখন ঐসব উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আস্কারা পায়, খোলা মাঠ পায়, মনে হতে থাকে যেন ওরাই দেশটার মালিক। 
     
    আমরা মনি চক্রবর্তীর হত্যার বিচার চাই। খোকন দাসের হত্যার বিচার চাই। দিপু চন্দ্র দাসের হত্যার বিচার চাই। স্পষ্ট স্বচ্ছ বিচার এবং দ্রুত। কেননা এইসব হত্যার বিচার যদি দ্রুত না হয়, যদি স্বচ্ছ না হয়, যদি সুষ্ঠু না হয়- অথবা যদি আদৌ বিচারই না হয়, তাইলে যে ক্ষতি হবে সেটা কেবল ঐ পরিবারগুলির ভোগান্তি ও কষ্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমাদের প্রিয় স্বদেশটির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। মেহেরবানী করে বুঝতে চেষ্টা করুন, সাম্প্রদায়িকতা যদি দেশে থাকে সেটাকে আড়াল করে কোন লাভ হয়না, সেটাকে মোকাবেলা করতে হয়- শক্ত হাতে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:3a80:198d:2fef:778:5634:1232:***:*** | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৫746494
  • সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল তারাই যারা একটা মুরগি জবাই করা দেখতে সহ্য করতে পারেন না, কিন্তু যে কোন জেনোসাইডকে জাস্টিফাই করে ফেলেন অবলীলায়। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনার পর সেই ঘটনাগুলোকে নানা রকম ছাঁদে ফেলে অস্বীকারকারীরাই এদেশের সংখ্যাগুরু। যারা হামলা করেছে তারাই ‘সংখ্যালঘু’। আপনাদের ভাষায় ‘গুটিকয়েক’। এই গুটিকয়েক খুন করতে পারে, লুট করতে পারে, রেপ করতে পারে, ক্ষেতের ফসল কেটে নিয়ে যেতে পারে, আর এই ঘটনাগুলিকে যারা নানা লেবেলে অস্বীকার করতে পারে সেই সংখ্যাগুরুরা নিজেরা জীবনে একটা চড়ও কাউকে দিতে পারে না। কিন্তু একটি জাতির, একটি সম্প্রদায় নিশ্চহ্ন করে দেয়ার ইতিহাস ধামাচাপা দেয়ার মত অপরাধ এরা অম্লাণবদনে করে ফেলে। 
     
    নতুন বছরের শুরুতে বাংলাদেশের গ্রাম মফস্বলে টার্গেট হিন্দু কিলিং বেড়ে যাবার পর আমি ভাবছি কাওরান বাজারের বিবেকের দোকানদাররা এটা কি বলবেন? একটা জনপ্রিয় থিউরী বললে কেবল বাংলাদেশই নয়, পশ্চিমবঙ্গের লিবারেল, নারীবাদী, কমিউনিস্টদেরও সহমত পাওয়া যাবে। খালি বলতে হবে, বাংলাদেশের যেসব বিচ্ছিন্ন সংখ্যালঘু হামলার কথা শোনা যাচ্ছে তার পেছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত। হিন্দুত্ববাদীরা আসন্ন নির্বাচনে হিন্দু কার্ড খেলতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি শুরু করেছে...। এক শেয়াল এটা বলে রব করলেই নানা গর্ত থেকে বাকীরা হুক্কা হুয়া বলে সমর্থন শুরু করে দিবে।
     
    পৃথিবীর যে কোন দেশের গণমাধ্যম ও বুদ্ধজীবী যাদেরকে মৌলবাদ বিরোধী প্রগতিশীল বলা হয় তারা সকলেই সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকেন। তারা দেশে যে কোন সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সোচ্চার হয়ে উঠেন। কিন্তু আপনি বাংলাদেশসহ সমস্ত মুসলিম দেশগুলোতে দেখবেন সেখানকার সোকোল্ড প্রগতিশীলরা কখনোই স্বীকার করবে না তাদের দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক। তাদের দেশের অমুসলিমদের উপর নির্যাতন হয়। এই প্রশ্নে সকলেই মুসলিম লীগ!
     
    গত বছর জুলাই মাসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৩০ দিনে সংখ্যালঘুদের উপর ২৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে! একই ঘটনার কথা আইন ও সালিশ কেন্দ্রও তাদের নথিতে জানিয়েছে। আপনি জাস্ট চিন্তা করেন। গত ৫৪ বছরের ইতিহাস বাদ দিলেও মাত্র ৩৩০ দিনে এতগুলো সংখ্যালঘু হামলার ঘটনার কাছাকাছি দূরে থাক, তিন-চারটা ঘটনা ভারতে মুসলিমদের উপর ঘটলে আকাশ-বাতাস কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যেতো। নাসিরুদ্দিন শাহ থেকে আমির খান সবাই ভারতে নিজেদের নিরাপত্তহীন বলে কেঁদে ফেলত। অর্মত্য সেন থেকে অর্পণা সেন সবাই ভারতে কোন মানুষ বাস করে বলে তাদের মনে হতো না। অরুন্ধতী থেকে রমিরা থাপার, ধ্রুব রাঠি যে প্রচারণা চালাতো তাতে ভারত এমন এক ভয়ংকর দেশ বলে মনে হতে পারে যেখানে হিংস্র হিন্দুরা বাস করে। অথচ খোদ বাংলাদেশ থেকে রোজ কয়েক হাজার রোগী ও পর্যটক ভারত ভ্রমণ করতে যায়। ভারতে গরুর মাংস খেলে সবাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এইসব রোগী ও টুরিস্টরা নিজেরা ফেইসবুকে পোস্ট করলেও ভারত ঘুরে এসে সেখানে সস্তায় গরুর মাংস রোজ খাওয়ার গল্প বলার সময় তাদের মনে থাকে না তারা সোশাল মিডিয়ায় কি পোস্ট করেছে!
     
    বাংলাদেশের এই হিন্দু কিলিংকে হিন্দু কিলিং না বললে আগামীতে প্রথম আলোতে আবার আগুন লাগলে সেটাকে প্রথম আলোতে আগুন বা গণমাধ্যমে আগুন বলবে না কেউ, বলবে ফ্যাসিস্টদের আস্তানায় আগুন। আজ যদি সাম্প্রদায়িকতাকে স্বীকার না করেন কাল আপনি আপনার পরিচয়ের কারণে আক্রান্ত হলে তাকেও অন্যরা স্বীকৃতি দিবে না। আপনি মুসলিম হলেই রক্ষা পাবেন এটি ভাববেন না। তখন আপনি মাজারপন্থী, লালনপন্থী, সুফিপন্থী বলেও আক্রান্ত হবেন আর অন্যরা বলবে এরা মুরতাদ! আপনি নারীবাদী কিন্তু মনের গভীরে হিন্দু ভারত বিদ্বেষ। আপনি নারী হিসেবে আক্রান্ত হলে একইভাবে জাস্টিফাই করা হবে- ভদ্র মেয়েদের উপর কেউ হামলা করে না, তারা ছিল উচ্ছৃঙ্খল! কাজেই এই সংখ্যালঘু পরিবারগুলো আপনার ভাইবোন, এই এদেশের আদিবাসরা আমাদের স্বজন। তাদের উপর হামলা নির্যাতনগুলো তাদের পরিচয়েই স্বীকার করতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে।
     
    -সুষুপ্ত পাঠক
    ৬/১/২৬
     
    #bangladeshhindhu #MinorityPersecution #Bangladesh
  • দীপ | 2402:3a80:197f:490b:878:5634:1232:***:*** | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১১746496
  • গত ১৫ দিনে ৭ জন হিন্দু খুন হয়েছেন।
    প্রত্যাশিতভাবেই সবার মুখে কুলুপ।
    একটা পাঁঠাবলি হলে বিপ্লবীরা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়, তবে এখন গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোয় না! 
    তখন মুখে আর পেছনে মনুসংহিতা গুঁজে বসে থাকে!
  • albert banerjee | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১০746499
  • @ দীপ পেছনে মনুসংহিতা গুঁজে? পারবো না ভাই তবে দু দেশের নায়ক তো পুতুল এবং ভারত যে কি প্রব্লেমে আছে তাই নিয়ে কিছু বলতে পারি দুই বারে বলি প্রথমে ভারতের নিজস্ব প্রব্লেম পরে আলোচনা হলে ভারত বাংলাদেশ মিলিয়ে দেখা যাবে একটু বড়ো হবে ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হয় 

     ভারতের উপর শুল্ক বৃদ্ধি: বিশ্বায়নের (পড়ুন আমেরিকার)জটিল রাজনীতি?
     
    ভারতের শুল্ক বৃদ্ধি, বিশেষ করে কৃষি পণ্যে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে দেশের কৃষকদের স্বার্থরক্ষা, স্থানীয় কৃষি-শিল্পকে রক্ষা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটি বৈধ কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ও বক্তার দাবি, এই শুল্ক বৃদ্ধি আসলে ভারতের কৃষি জমির উপর আমেরিকার (বা পশ্চিমা পুঁজির) নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক চাল মাত্র। এই প্রবন্ধে আমরা এই দাবিটির গভীরে প্রবেশ করে বিষয়টির ঐতিহাসিক পটভূমি, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং বাস্তবতার নিরিখে তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব।

     ১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: কৃষি বাণিজ্য, বিশ্বায়ন ও ভারত

    ভারতের কৃষি বাণিজ্য নীতি বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক গতিপথ বোঝা জরুরি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে সেটি অর্জিতও হয়। তবে ১৯৯০-এর দশকের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) যোগদান ভারতের কৃষি বাজারে আমূল পরিবর্তনের সূচনা করে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও কৃষি চুক্তি (AoA): WTO-এর কৃষি চুক্তি তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে: বাজার প্রবেশাধিকার (Market Access), অভ্যন্তরীণ সহায়তা (Domestic Support) এবং রপ্তানি ভর্তুকি (Export Subsidies)। উন্নত দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, তাদের কৃষকদেরকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিত (এবং দেয়)। এর ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্য (যেমন: গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ডেইরি) আন্তর্জাতিক বাজারে খুবই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো। ভারত ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ এটিকে "ডাম্পিং" হিসেবে দেখে এবং তাদের নিজস্ব কৃষকদের রক্ষায় শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধার আশ্রয় নেয়।

    বহুজাতিক কোম্পানির প্রবেশ ও বীজের অধিকার: ১৯৯০-এর পর থেকেই Monsanto (বর্তমানে Bayer-এর অংশ), Cargill, Archer Daniels Midland-এর মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ভারতের কৃষি বাজারে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ শুরু করে। বিশেষ করে জেনেটিকালি মডিফায়েড (জিএম) বীজ, বিশেষত বিটি কপাসের (সূতি) প্রবর্তন, ভারতের কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আনে। এর মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়লেও, কৃষকরা বীজের জন্য এই কোম্পানিগুলির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, কারণ জিএম বীজ সংরক্ষণ করে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। এখানেই "কৃষি জমির উপর নিয়ন্ত্রণ" বিতর্কের বীজ নিহিত। নিয়ন্ত্রণ শুধু জমির মালিকানায় নয়, বরং পুরো "কৃষি মূল্য শৃঙ্খলে" (Agricultural Value Chain) – বীজ, সারের দাম থেকে শুরু করে ফসলের বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত।

     ২. বাণিজ্য চুক্তির রাজনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভারতের প্রতিরোধ

    ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সুদীর্ঘকাল ধরেই উত্তাপ ও শীতলতার মধ্যে দোদুল্যমান। বিশেষ করে কৃষি পণ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে মার্কিন উদ্বেগ লক্ষণীয়।

    মার্কিন অভিযোগ ও WTO-তে মামলা: যুক্তরাষ্ট্র বারবার অভিযোগ করে যে, ভারত তার কৃষি পণ্য (যেমন: দুগ্ধজাত পণ্য, মুরগির মাংস, শুকরির মাংস, আপেল, বাদাম) এবং শিল্প পণ্যের উপর যে উচ্চ শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা (যেমন: স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি বা SPS পদক্ষেপ) আরোপ করে, তা WTO নীতির পরিপন্থী। মার্কিন পক্ষ দাবি করে, ভারত তার বাজার খুলে দিলে তাদের কৃষকরা লাভবান হবে। ভারতের বাজারে মার্কিন সয়াবিন তেল, বাদাম, আপেলের ব্যাপক প্রবেশ ঘটলে স্থানীয় উৎপাদকদের উপর কী প্রভাব পড়বে, সে আশঙ্কাই ভারতের শুল্ক নীতির মূলে থাকে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লুকানো শর্ত? কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তির (যেমন সম্ভাব্য FTA) আগ্রহ দেখায়, যার একটি মূল শর্তই হল ভারতের কৃষি বাজার খোলা। অন্যদিকে, ভারতের কাছে কৃষি একটি "স্পর্শকাতর" খাত (WTO-র পরিভাষায় Special Products), যা খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের জীবিকা এবং গ্রামীণ সামাজিক স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত। তাই যেকোনো মূল্যে এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া সরকারের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব।

    সরাসরি জমির মালিকানা ভারতীয় আইনে বিদেশীদের জন্য (প্রায় সবক্ষেত্রে) নিষিদ্ধ। “মালিকানার অধিকার” এখানে ব্যবৃহিত  অর্থে  :
       বীজ ও ইনপুট বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ: যদি মার্কিন বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলি বীজ, কীটনাশক, প্রযুক্তির বাজার দখল করে, তাহলে কৃষক তাদেরই ক্রীতদাসে পরিণত হবেন। ফসলের দাম ও উৎপাদন খরচ তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
       প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন শৃঙ্খলে কর্তৃত্ব: যদি কোম্পানিগুলি ফসল ক্রয়, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং খুচরা বিক্রির চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
       চুক্তি চাষের মাধ্যমে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ: বহুজাতিক কোম্পানি সরাসরি জমি কিনতে না পারলেও, চুক্তি চাষ (Contract Farming) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফসল চাষের শর্ত, দাম ও গুণমান কোম্পানি নির্ধারণ করে। এটিও এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ।
    সুতরাং, শুল্ক বৃদ্ধি এই শৃঙ্খলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলির প্রভাব ঢোকার গতিকে মন্থর করার একটি হাতিয়ার।

     ৩. শুল্ক বৃদ্ধির অর্থনৈতিক যুক্তি ও কৌশলগত উদ্দেশ্য

    ভারতের শুল্ক নীতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, কৌশলগতও বটে।

    কৃষক আয় বৃদ্ধি ও আমদানিতে প্রতিস্থাপন: উচ্চ শুল্কের ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম স্থানীয় বাজারে বেশি হবে, ফলে স্থানীয় উৎপাদকদের সাথে প্রতিযোগিতার সুবিধা হারাবে আমদানিকৃত পণ্য। এটি 'ইমপোর্ট সাবস্টিটিউশন'-কে উৎসাহিত করে এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য বাজার রক্ষা করে। উদাহরণস্বরূপ, ডাল, ভোজ্যতেল, ফল-মূলে শুল্ক বৃদ্ধির পেছনে এই যুক্তি কাজ করে।

    বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল। ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত আমদানি করে বাদাম, আপেল, ডেইরি, বিমান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও হাইড্রোকার্বন। কৃষি পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করে ভারত এই ঘাটতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, পাশাপাশি বাদাম, আপেলের মতো পণ্যে স্থানীয় উৎপাদন (উদাহরণ: কাশ্মীরি আপেল, মহারাষ্ট্রের বাদাম) বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।

    খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা: কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যে বিদেশী আমদানির উপর অত্যধিক নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্ত্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত তার গম, চাল, ডাল, পেঁয়াজের মজুত ও উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও বজায় রাখতে চায়। শুল্ক একটি নীতি-হাতিয়ার যা এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়ক।

     ৪. প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ: বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ম ও "সংরক্ষণবাদ"-এর অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য কৃষি রপ্তানিকারক দেশগুলো ভারতের শুল্ক নীতিকে "অত্যধিক সংরক্ষণবাদী" এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিত্রিত করে।

    বাজার প্রবেশাধিকারের বাধা: তাদের যুক্তি হল, ভারতের শুল্ক হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চের একটিতে পরিণত হয়েছে, যা ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে ব্যাহত করে। তারা দাবি করে, ভারত যদি সত্যিকার অর্থে বিশ্বায়নে বিশ্বাসী হয়, তবে তার বাজার আরও উন্মুক্ত করা উচিত।

    কৃষকদের জন্য উপকারিতা নয়, রাজনৈতিক স্বার্থ: প্রতিপক্ষ আরও দাবি করে যে, উচ্চ শুল্কের সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভারতের ধনী কৃষি কর্পোরেশন বা মধ্যস্বত্বভোগীদেরই বেশি হয়, সাধারণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ততটা লাভবান হয় না। বরং, আমদানিকৃত সয়াবিন তেলের দাম কমলে বা উচ্চ উৎপাদনশীল বীজ সহজলভ্য হলে ক্ষুদ্র কৃষকরা উপকৃত হতেন।

    বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মিলনস্থল: মার্কিন কৌশল হল WTO-তে চাপ সৃষ্টি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতকে শুল্ক কমাতে বাধ্য করা। ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (TPP) বা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (USMCA) এর মতো চুক্তিগুলিতে কৃষি বাজার খোলার কঠোর শর্ত থাকে। ভারতের সাথে সম্ভাব্য চুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্র অনুরূপ শর্তারোপের চেষ্টা করে।

     ৫. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কৃষক আন্দোলনের প্রভাব

    ভারতের শুল্ক নীতি সম্পূর্ণরূপে বাহ্যিক চাপ দ্বারা নির্ধারিত হয় না; দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমত এতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।

    কৃষক আন্দোলনের শক্তি: ২০২০-২০২১ সালের কৃষক আন্দোলন ভারতের রাজনীতিতে কৃষি নীতির প্রাধান্য ফের কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলি সরাসরি বহুজাতিক কোম্পানিগুলির (বিশেষ করে বীজ ও খুচরা বাণিজ্যে) প্রবেশের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা দাবি করে যে এটি শেষ পর্যন্ত কৃষকদের জমি হারানোর দিকে নিয়ে যাবে (ঋণের জালে জড়িয়ে)। সরকার কৃষকদের এই শক্তিশালী ভোটব্যাংকের অসন্তুষ্টি সহজেই আমলে নিতে পারে না। সুতরাং, শুল্ক বৃদ্ধি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বটে, যা কৃষকদেরকে বলছে: "তোমাদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সজাগ।"

     ৬. বাস্তবতা পরীক্ষা: শুল্ক কি আসলে কার্যকর রক্ষাকবচ?

    এখন প্রশ্ন আসে, শুল্ক বৃদ্ধি কি আসলে ভারতের কৃষি জমি ও কৃষকদের বহুজাতিক পুঁজির কবল থেকে রক্ষা করতে পারছে?

    সীমাবদ্ধতা: শুল্ক শুধু আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ায়। কিন্তু যদি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো না যায়, বা দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল অদক্ষ থাকে, তাহলে উচ্চ দামের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বহন করতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।

    বাইপাস করার পথ: বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলি সরাসরি রপ্তানির পরিবর্তে ভারতেই উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করে শুল্ক এড়াতে পারে (যেমন Pepsi, Coca-Cola)। সেক্ষেত্রে শুল্ক সরাসরি বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

    প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ: শুল্ক শুধুমাত্র পণ্য আমদানিতে বাধা দেয়। কিন্তু প্রযুক্তি হস্তান্তর, বীজের পেটেন্ট, ডিজিটাল কৃষি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ – এসবের বিরুদ্ধে শুল্ক কোনও ঢাল নয়। এর জন্য দরকার শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা আইন এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ।

     ৭. উপসংহার: কৌশলগত স্বার্থরক্ষা বনাম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

     যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি রপ্তানি বৃদ্ধির আগ্রহ এবং বহুজাতিক কৃষি ব্যবসার বিশ্বব্যাপী বিস্তার একটি অত্যন্ত বাস্তব ঘটনা। ভারত তাদের জন্য একটি বিশাল বাজার। ভারতের কৃষি মূল্য শৃঙ্খলে তাদের কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক আগ্রহ রয়েছে। উচ্চ শুল্ক সেই আগ্রহকে বাধাগ্রস্ত করে।
    শুল্ক বৃদ্ধি, শুধুমাত্র  প্রতিহত করার জন্য নয়। এটি ভারতের সামগ্রিক  রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা, খাদ্য নিরাপত্তার চিন্তা এবং কৃষকদের (এবং ভোটারদের) দাবির একটি বহিঃপ্রকাশ।
    কৃষকের সার্বভৌমত্ব ও আয় নিশ্চিত করাতে  শুল্ক বৃদ্ধি একটি প্রতিরক্ষামূলক ও অপর্যাপ্ত হাতিয়ার মাত্র। এর পাশাপাশি দেশীয় কৃষি অবকাঠামো, সঞ্চয়স্থান, বিপণন, কৃষি গবেষণা এবং কৃষকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা জাল শক্তিশালী করা অনেক বেশি জরুরি।

    শুল্ক হল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঢাল ভারতের কৃষির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুল্ক প্রাচীরের পাশাপাশি নিজস্ব উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং কৃষক-বান্ধব নীতির উপর, যাতে বহুজাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণ হয় নিয়ন্ত্রিত ও দেশীয় স্বার্থের অধীনস্থ।
    নাহলে পেছনে .........................​​​​​​​
     
  • দীপ | 2402:3a80:1971:e300:578:5634:1232:***:*** | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৫746500
  • সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করে, আর ভুক্তভোগী মানুষের নিরাপত্তা সেই দোষারোপের নিচে চাপা পড়ে যায়।   

    বিএনপি–জামায়াত আমল (২০০১–২০০৬) ও শেখ হাসিনার আমল (২০০৯–২০২৪) তুলনা করলে দেখা যায়—দুই আমলই ব্যর্থ। 

    ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছিল ব্যাপক ও প্রকাশ্য। এটি কেবল সামাজিক সহিংসতা ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক সহিংসতা।

    সবচেয়ে গুরুতর বিষয় ছিল—

    প্রশাসনের নীরবতা

    পুলিশের মামলা নিতে অনীহা

    অপরাধীদের প্রকাশ্য দায়মুক্তি (impunity)

    এখানে রাষ্ট্র তার মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে অর্থাৎ আইনের সামনে সমতা আনতে ব্যর্থ হয়। 

    শেখ হাসিনার সরকার নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবাধিকারবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে। তুলনামূলকভাবে এই সময়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক নিধন হয়নি—এটি সত্য। কিন্তু সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়মিত ঘটেছে। ভূমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, নারী নির্যাতন অব্যাহত থেকেছে। এই সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো দায়মুক্তির সংস্কৃতি।অপরাধীরা জানতো তারা রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত হলে শাস্তির ঝুঁকি কম।

     

    বিএনপির  আমলে রাষ্ট্র অনেক সময় চুপ ছিল। শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্র কথা বলেছে, ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, পুনর্নির্মাণ করেছে। কিন্তু মানবাধিকার কেবল পুনর্নির্মাণ নয়—মানবাধিকার মানে নিরাপত্তা, বিচার ও মর্যাদা। এই তিনটির মধ্যে বিচার ও প্রতিরোধ—দুই আমলেই দুর্বল ছিল।

    সংখ্যালঘু নারী নির্যাতনের প্রশ্নটি দুই আমলেই প্রায় অদৃশ্য থেকেছে। ধর্ষণ, অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে—এসবকে “সাম্প্রদায়িক” বা “পারিবারিক” সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্টতই নারীবিরোধী  রাষ্ট্রীয় আচরণ।

     

     এই তুলনার লক্ষ্য কোনো দলকে “ভালো” বা “খারাপ” প্রমাণ করা নয়। লক্ষ্য হলো এই সত্য তথ্য তুলে ধরা যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন দল বদলালেও থামেনি, কারণ রাষ্ট্র কখনোই মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়নি।

    গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্র সেটিই, যেটি ---

    ধর্ম দেখে নাগরিক বিচার করে না

    রাজনৈতিক পরিচয় দেখে অপরাধ মাফ করে না

    সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগের কাছে সংখ্যালঘুর অধিকার বিকিয়ে দেয় না

    সেই রাষ্ট্র গড়ার লড়াই মানুষ কবে থেকে শুরু করবে?
     
    লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।
  • দীপ | 2402:3a80:198b:d35b:678:5634:1232:***:*** | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৬746502
  • আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে হিন্দুদের ৪০টি বাড়ি, ৭টি মন্দির এবং ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে।
     
    সংবাদপত্রের প্রতিবেদন
  • লে প্টনা ণ্ট জে না রল টে রা উচি | 2a12:a800:2:1:45:80:158:***:*** | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৮746510
  • আমরা জা পা নকে প্রা ণে র অধি ক ভা লবা সি । জা পা নবা সী
    নরনা রি গণকে অতি নি কট আত্মী য় বলি য়া মনে করি । যাঁ হা রা বলে ন,
    জা পা ন একদি ন নি জ বা হুবলে ইং লণ্ডকে পর্য্যু দস্ত করি য়া সমগ্র
    ভা রতবর্ষকে স্বা ধী নতা প্রদা ন করি বে , জা পা নে র কৃপা য় বাে ম্বা ই
    নগরী একদি ন বাে ষ্টন বন্দরে পরি ণত হইবে , তাঁ হা রা হয় ভ্রা ন্ত, না
    হয় উন্মা দগ্রস্ত । বা তুলা লয়ই তাঁ হা দে র উপযুক্ত বা সস্থা ন । জা পা নে র
    প্রতি আমা দে র ভা লবা সা ও সহা নুভূতি র কা রণ অন্য বি ধ । জা পা ন
    এসি য়া বা সী বলি য়া আমা দে র ধর্ম্মভ্রা তা , জা পা নবা সী রা ভগবা ন
    বুদ্ধদে বে র উপা সক বি ধা য় আমা দে র ধর্ম্ম শি ষ্য । আমা দে র
    সর্ব্বপ্রধা ন তী র্থ গয়া ধা ম, জা পা নি গণে র অতি প্রি য় ও পরম তী র্থ ।
    জা পা নে বি ধি মতে সং স্কৃত চর্চ্চা হইয়া থা কে , এক্ষণে বহুতর জা পা নী
    যুবক ভা রতে আসি য়া সং স্কৃত ভা ষা শি ক্ষা করি তে ছে ন । ইউরাে প বা
    আমে রি কা য় আমা দে র স্থা ন না ই, তথা য় আমরা বি তা ড়ি ত, ঘৃণি ত ও
    অপমা নি ত । অষ্ট্রে লি য়া ও আফ্রি কা য় ভা রতবা সী মা ত্রে ই কুলি বলি য়া
    অভি হি ত । পক্ষা ন্তরে জা পা নে র প্রতি গৃহদ্বা র আমা দে র জন্য
    উন্মুক্ত, তথা য় আমরা ভা রতবা সী বলি য়া পূর্ব্বগৌ রবে সম্মা নি ত । মিঃ
    ওয়া গে ল ইং লণ্ডে কা চনি র্ম্মা ণ কৌ শল শি ক্ষা করি তে গি য়া যে
    বি পদে পড়ি য়া ছি লে ন, তা হা আমরা ভুলি না ই; আর আজি
    ভা রতবা সী দলে দলে জা পা নে গমন করি য়া নি রুপদ্রপে না না বি ধ
    শি ল্পকলা শি ক্ষা করি য়া আসি তে ছে ন, তা হা ও স্বচক্ষে দে খি তে ছি ।
    ইহা তে ও যদি আমরা জা পা নকে ভা ল না বা সি , জা পা নি গণে র প্রতি
    অকৃত্রি ম অনুরা গ পাে ষণ না করি , জা পা নবা সী র মঙ্গলে র জন্য
    সর্ব্বমঙ্গলা র চরণে প্রা র্থনা না করি , তা হা হইলে আমা দে র মত কৃতঘ্ন
    ও নরা ধম ধরা তলে আর কো থা য় পা ওয়া যা ইবে ?
     
  • দীপ | 2402:3a80:198f:5147:878:5634:1232:***:*** | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৭746739
  • "প্রাণগোপালরা দেশ ছাড়ে না; তাদের দেশছাড়া করা হয়।
    বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা কখনো স্বেচ্ছায় যায়নি।
    তাদের বারবার ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
    ১৯৪৬–৪৭ এ ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
    ১৯৬৫ তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
    ১৯৭১ এ গণহত্যা করে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
    ২০০১ এ আবার ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
    এবং আজও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
    বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা; বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, মানবসেবক; এই মাটিতে থেকেও এই মাটির মালিক হতে পারেনি।
    তারা বারবার অপমানিত হয়েছে, নিঃস্ব হয়েছে, তবু দেশ ছাড়েনি।
    ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধে তারা ঘর, পরিবার, সব হারিয়েও এই বাংলাকেই বেছে নিয়েছিল।
    তবু আজ তারা “বিদেশি”, “অপ্রয়োজনীয়”, “মুছে ফেলার মতো” হয়ে গেছে।
    বাংলার গর্ব আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জগদীশ চন্দ্র বসু,
    সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জীবনানন্দ দাশ;
    এই নামগুলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
    ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই এখন নীতি।
    যাঁরা এই দেশ গড়েছেন;
    তাঁদের স্মৃতি মুছে ফেলেই রাষ্ট্র নির্মাণ চলছে।
    প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষিত হয়েও জগৎজ্যোতি দাসের নাম হারিয়ে গেছে।
    জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাস আজ অচেনা।
    পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত; তাঁর নাম জানে না নতুন প্রজন্ম।
    কারণ ইচ্ছে করেই তাদের নাম জানানো হয়নি।
    এই মাটিতে হিন্দু নেতৃত্বের পরিণতি একটাই; হয় দেশছাড়া, নয় মৃত্যু।
    এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ডা. প্রাণগোপাল নিঃস্বার্থভাবে হিন্দু-মুসলিম সবার চিকিৎসা করেও আজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
    তিনি অপরাধী নন; তিনি সংখ্যালঘু।
    দেশ না ছাড়লে তাঁর পরিণতিও হতো দীপু দাস বা এসআই সন্তোষ চৌধুরীর মতো।
    এটাই এই রাষ্ট্রের নিয়ম—
    সংখ্যালঘু হলে তুমি নিরাপদ নও,
    যত বড় মানুষই হও না কেন।
    প্রাণগোপালরা দেশ ছাড়েন না।
    তাঁদের দেশছাড়া করা হয়।
    এটা অভিবাসন নয়।
    এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।
    এটা পরিকল্পিত নিঃশেষকরণ।"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন