এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দত্ত জুয়েলার্স - ৫ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৮১৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • ওখান থেকে লেকের গার্ডেন্সের মোড়ে এসে বাইকটা দাঁড় করিয়ে বউবাজার থানার ওসি বিদ্যুৎ তরফদারকে একটা কল দিল।
    ----- ' হ্যা ..... কলতানদা ..... কেসটার কদ্দুর ?'
    ----- ' কেন .... এত তাড়া কিসের ? '
    ----- ' আরে কি বলব ..... পার্টি বহুৎ সেয়ানা .... বারবার হুড়কো মারছে ..... খালি বাজে ধান্দা .... একটা নীরিহ গরীব মানুষকে ফাঁসাচ্ছে ..... শেমলেস ....'
    ---- ' তুমি কি বললে ? '
    ----- ' আমি ওসব রংবাজদের কেয়ার করিনা..…. আর যে করে করুক ..... পুলিশে কাজ করি বলে কি ..... ছো : '
    ------ ' সে ঠিক আছে .... তুমি কি বললে ওদের ?'
    ----- ' ও..ই ক্যাভিয়েট পিটিশানের কপিটা ধরিয়ে দিলাম ..... বললাম .... চারদিনের আগে কোন অ্যকশান নেওয়া যাবে না ..... ওয়েট করতে হবে ..... '
    তারপর বলল, ' ..... আর চারদিনের মধ্যে, ইন এনি কেস যদি কেস রিজলভড না হয় .... তখন না হয় .... '
    কলতান বলল, ' কে প্রেসার দিচ্ছে ....বড়ভাই না ছোটভাই ? '
    ----- ' ছোটভাই ..... ছোটভাই ...ওই সতীনাথ।বড়ভাইয়ের কোন মাথাব্যথা নেই ..... '
    ----- ' আচ্ছা .... ঠিক আছে ... বিদ্যুৎ একটা কথা বলছি মন দিয়ে শোন ..... '
    ----- ' হ্যা ..... বলুন ....বলুন .... '
    কলতান বিদ্যুৎ তরফদারকে সব কিছু বুঝিয়ে বলার পর বলল, ' ওদের সঙ্গে কথা হয়ে গেলে আমাকে জানাও। আমি এখানে আছি .... মনে রেখ আমার নামটা ..... দিব্যেন্দু রায় .... সতীনাথের কাছে যেন ফোন না যায় ..... খেয়াল রেখ ..... আর থানার নাম জড়ানো নিয়ে যদি পরে প্রব্লেম হয় ..... সেটা একটু দেখে নিও .....
    ----- ' ওকে .... ওকে .. দেখে নেব .... ওসব কিছু হবে না .... নিশ্চিন্তে থাকুন ... '
    বিদ্যুতের ফোন এল কুড়ি বাইশ মিনিট পরে।
    ----- ' ওকে.... কলতানদা .... ডান ... তুমি যেতে পার মোটামুটি আধঘন্টা পরে। এক্ষুণি গেলে আবার ..... নামটা তো দিব্যেন্দু রায় .... তাই তো ..... '
    ----- ' হুঁ হুঁ ..... থ্যাঙ্ক ইউ .... '

    বালীগঞ্জে একশো ছাব্বিশ এ বাড়িটা সহজেই পেয়ে গেল কলতান। বাইকে বসে একটু দূর থেকে কলতান দেখতে পেল তিনতলা বিশাল বাড়ি। বাড়ির আকার প্রকার এবং নানা বর্ণের বহিরঙ্গ সজ্জায় বৈভবের ছাপ স্পষ্ট। একতলার গেটে কোলাপসিবল গেট ভিতর থেকে তালা বন্ধ করা। তারপর রয়েছে সেগুন কাঠের গালা পালিশ করা বিশাল দরজা। সেটাও বন্ধ।
    কলতান বাইকটা বাড়ির একপাশে রেখে কলিং বেলে আঙুল দিল। মিনিটখানেক পরে সেগুন কাঠের দরজা খুলল এক বছর চল্লিশের মহিলা। দেখে কলতানের মনে হল বাড়ির পরিচারিকা। সে কোলাপসিবলের ওপার থেকে কলতানের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
    কলতান ওর দিকে ভাবলেশহীন পুলিশি দৃষ্টিতে তাকিয়ে সরাসরি বলল, ' সতীনাথ দত্ত আছেন নাকি ? '
    পরিচারিকা বাঁধা গতে জিজ্ঞাসা করল, 'কোথা থেকে আসছেন ?
    ---- ' বৌবাজার থানা থেকে আসছি .... '
    ----- ' ও আচ্ছা .... কিন্তু ছোটবাবু তো বাড়ি ফেরেনি এখনও। বড়বাবু আছে ..... খবর দেব ..... '
    মহিলাটি কিন্তু এখনও কোলাপসিবলের তালা খোলেনি। ওদিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
    কলতান এবার গলায় একটু কড়াপাক মিশিয়ে পুলিশি স্টাইলে বলল, ' আরে হ্যা হ্যা ...... খবর দাও না ..... বল দিব্যেন্দু রায় এসেছে .... ফালতু টাইম নেই হাতে ..... '
    পরিচারিকা দ্রুত পায়ে ভিতরে চলে গেল এবং মিনিট দেড়েক পরে শশব্যস্ত হয়ে ফিরে এসে কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে বলল, ' আসুন বাবু ..... বড়বাবু ওপরে আছে ..... '
    ওই মহিলা তাকে দোতলার একটা ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে ঢুকে দেখল একটা ধবধবে সাদা হাফহাতা গেঞ্জি আর পায়জামা পরে এক সাতান্ন আঠান্ন বছরের ভারী চেহারার গৌরবর্ণ প্রৌঢ় একটা কালো রঙের কাউচে বসে আছেন। মাথার প্রায় সব চুল সাদা। চোখে স্টীল প্রেমের চশমা।
    কলতানকে দেখে বললেন, ' আসুন আসুন ....বসুন। বউবাজার থানা থেকে ফোন করেছিল .....নেকলেসের ব্যাপারে পুলিশে কমপ্লেন্ট অবশ্য আমার ভাই করেছিল .... আমি করিনি ....'
    ----- ' হ্যা জানি। ওনার সঙ্গেই কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি তো শুনছি বাড়ি নেই। ওনার মিসেসের সঙ্গে কথা বললেও হবে .... '
    ----- ' মিসেসের সঙ্গে কি কথা বলবেন .... ও তো এসব ব্যাপারে .... '
    ----- ' না .... এসব ব্যাপারে না .... অন্য কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে। বুঝতেই তো পারছেন..... অত বড় একটা থেফট কেস ..... দোকানের এমপ্লয়ীরা শুধু না, আপনাদের পুরো ফ্যামিলিই ইনভলভড হয়ে পড়েছেন .... কমপ্লেন্ট না হলে অবশ্য আলাদা ব্যাপার ছিল .....'
    ----- ' হুমম্ .... সেতো বটেই। আমি কিন্তু চাই না বিনা কারণে আমার কর্মচারিদের কোন অসম্মান বা হেনস্থা হোক .... আপনাদের তদন্তে যা বেরোবে সেটাই মানতে হবে ..... এখন তদন্তটা যেন প্রপারলি হয় .... '
    ভদ্রলোকের বেশ ব্যক্তিত্ব আছে। ধীর স্থির ভাবে কথা বলেন। অভিজ্ঞ পোড় খাওয়া ব্যবসায়ী হলেও কথায় অনুভূতিশীতলতা এবং
    যুক্তিপূর্ণতার ছাপ পাওয়া গেল।
    ------ ' এক্জ্যাক্টলি স্যার .....ঠিক এটাই বলতে চাইছি। প্রপার ইনভেস্টিগেশনের স্বার্থে আমাকে একটু সহযোগিতা করুন ..... আপনাকে কিছু করতে হবে না ..... শুধু আমি যেগুলো জিজ্ঞাসা করছি সেগুলোর উত্তর দিন .... তাহলেই হবে ..... '
    ----- ' হ্যা ..... বলুন ... '
    ---- ' আপনাদের এই পারিবারিক ব্যবসা কি আপনার ভাইয়েদের সঙ্গে জয়েন্ট পার্টনারশিপে ? '
    ----- ' কোন পার্টনারশিপ নয়। পুরোটাই আমার। এটা আমাদের পৈত্রিক ব্যবসা ঠিকই, কিন্তু খুব ছোট মাপের ব্যবসা ছিল। বাবা মারা যাবার পর আমিই ব্যবসাটা দাঁড় করাই এবং প্রচন্ড পরিশ্রম করে ব্যবসা এই জায়গায় নিয়ে গেছি। অনেক শত্রুতার মোকাবিলা করতে হয়েছে সেই সময়ে। সব আমি একা সামলেছি। সতীনাথ আমার সেজ ভাই। আমার থেকে এগারো বছরের ছোট। সেই সময়ে স্টুডেন্ট ছিল। পড়াশোনায় একদম মন ছিল না, তাই ওকে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দিই। বাকি দুই ভাই পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল। তারা এখন বিদেশে থাকে। এ ব্যবসার ব্যাপারে তাদের কোন ইন্টারেস্ট নেই। সতীনাথের বিয়েও আমিই দিয়েছি। বৌমাটি খুব লক্ষ্মীশ্রীযুক্ত এবং শান্ত প্রকৃতির ..... সেই জন্যই বোধহয় সতীনাথকে ঠিক কন্ট্রোল করতে পারে না ..... '
    ----- ' আচ্ছা আচ্ছা ..... আপনি তো, আমি জিজ্ঞাসা করার আগেই, সক্ষেপে সব কিছু সুন্দরভাবে বলে দিলেন। অনেক ধন্যবাদ। '
    ----- ' আপনি ইনভেস্টিগেশানে এসেছেন ..... সব কিছু পরিষ্কারভাবে না বললে আপনারা কাজটা করবেন কিভাবে ...... অত দামী একটা নেকলেস পাওয়া যাচ্ছে না ..... ওটা তো উদ্ধার হওয়া দরকার ..... চোর ধরার কথা আমি
    বাদই দিলাম ...... অনেক কষ্ট করে আমি এ ব্যবসাটাকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম ...... কর্মচারীদের ঘাড়ে সব দোষ চাপালে তো হবে না। নিজেদের গাফিলতি না থাকলে ...... '
    ----- ' একদম ঠিক কথা ..... আপনার মতো সেনসিবল লোক যদি সবাই হত ..... সে যাক,
    যদি বলতে অসুবিধে না থাকে .....আপনি যে বললেন ..... সতীনাথবাবুর স্ত্রী তাকে ঠিক কন্ট্রোল করতে পারেন না ..... আপনি ঠিক কি কন্ট্রোল করার কথা বলছেন ? '
    ----- ' ও..ই .... প্রায়ই অনেক রাত করে বাড়ি ফেরা .... মাঝে মাঝে না বলে কয়ে কোথায় উধাও হয়ে যাওয়া দু একদিনের জন্য .... এইসব আর কি ..... একটু আধটু নেশাও বোধ হয় করে। অনেক জিজ্ঞেস করেও সাফসুফ কিছু জানা যায় না। শোধরানো গেল না ছেলেটাকে ..... '
    পশুপতিবাবু চিন্তিতভাবে হাতে ভর দিয়ে মাথা নীচু করে কি ভাবতে থাকেন। কলতান বুঝতে পারল নানা অশান্তির বাষ্প জমে আছে পশুপতিবাবুর মনে। বলবার লোক বোধহয় তেমন কেউ নেই। তাই 'পুলিশের লোক' -এর কাছে কিছু কথা বলে তিনি হালকা হচ্ছেন। তা না হলে একজন দুঁদে ব্যবসায়ীর প্রথম সাক্ষাতেই এত কথা বলে ফেলার কথা নয়। এই সুযোগে কলতান আর একটা ট্রিগার টেপার জন্য উদ্যোগ নিল ......
    ----- ' মিস্টার দত্ত আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে, জিজ্ঞেস করতে চাই এ ব্যবসা থেকে সতীনাথবাবুর রোজগার কেমন ? '
    ----- ' এক্জ্যাক্ট ফিগারটা আমি বলতে চাই না। তবে ও এখান থেকে ভাল টাকাই পায়। আমি সবসময় খেয়াল রাখি যাতে ওদের কোন অসুবিধে না হয় ..... বিশেষ করে বৌমার কথা ভেবে ..... মানে, যতটা ওর পাওয়া উচিত তার চেয়ে বেশিই দিই। ব্যবসার সব ঝামেলা ঝক্কি তো আমাকেই সামলাতে হয়। ও শুধু দোকানে বসে ..... '
    পশুপতিবাবু অকপটে কথা বলে মনের ভার হালকা করতে থাকেন। কলতানকে দেখে তার বোধহয় অন্যরকম কোন অনুভূতি হয়েছে। পুলিশের লোক তিনি আগে অনেক সামলেছেন ..... নতুন কিছু না। কিন্তু ওদের সঙ্গে বরাবর মেপেজুপে কথা বলে এসেছেন। ওদের কাছে মনের আগল খুলে দিলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে এবারে কেমন যেন অনর্গল হয়ে গেলেন তিনি ....
    ----- ' হ্যা ..... মিস্টার দত্ত .... আই গেট ইয়োর পয়েন্ট ...... বুঝতে পেরেছি। আর একটা কথা ছিল স্যার ‌। সতীনাথবাবু তার নিজস্ব আর্থিক অবস্থায় সন্তুষ্ট বলে মনে হয় আপনার ?'
    পশুপতিবাবু এ কথা শুনে দু হাত উল্টে বিষণ্ণ ভঙ্গীতে হেসে বললেন, ' কি জানি ...... মনে তো হয় না ..... ওর কিসের এত চাহিদা কে জানে .....
    সংসারে তো কিছুই দিতে হয় না ওকে ..... '
    ----- ' সেটা আপনি কখনো জানতে চেষ্টা করেননি ? '
    ---- ' না : .... কারো ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানো আমার স্বভাবিরুদ্ধ কাজ। '
    ----- হ্যা .... সে তো একশোবার... কিন্তু ওনার যদি কোন আনএথিক্যাল ইনভলভমেন্ট থেকে থাকে সে ক্ষেত্রে তো গার্জেন হিসেবে আপনার অ্যলার্ট হওয়া উচিত ..... তাই না ? '
    কলতান একটু নরম জমির আভাস পেয়ে ভদ্রলোককে ক্রমশঃ কথার পাকে জড়িয়ে ফেলতে থাকে।
    ----- ' হ্যা .... সে তো ঠিকই ....কিন্তু রুচিতে বাধে ..... হাজার হোক বয়সে তো অনেকটাই ছোট ..... বাবা মারা যাবার পর প্রায় সন্তানের মতো মানুষ করেছি ..... '
    কলতান সহানুভূতির সুরে বলল ---- ' আই আন্ডারস্ট্যান্ড ..... আই আন্ডারস্ট্যান্ড ইয়োর প্রবলেম মিস্টার দত্ত ..... থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ স্যার ..... আপনাকে ডিসটার্ব করলাম অনেকক্ষণ ..... '
    ----- ' না না ..... আমরা যখন কমপ্লেন্ট লজ করেছি আপনাদের কাজে তো সহযোগিতা করতেই হবে আমাদের ..... '
    ----- ' আর একটা রিকোয়েস্ট ছিল স্যার .... আপনার বৌমা, মানে সতীনাথবাবুর মিসেসের সঙ্গে কথা যদি দু একটা বলা যেত ..... '
    ----- ' ও আচ্ছা ..... দেখছি ..... '
    বলে ' কমলা .... ' বলে হাঁক পাড়লেন।
    সেই মহিলা আবার আবির্ভূত হল।
    ------ ' ছোট বৌদিকে বল তো .... থানা থেকে এক ভদ্রলোক এসেছেন ..... কথা বলবেন একটু .... '
    কমলা চলে গেল ছোটবৌদিকে খবর দেবার জন্য।
    একটু পরে সে ফিরে এসে বলল, ' বলেছি .... বৌদি যেতে বলল ..... '

    কলতান সতীনাথবাবুর ঘরে ঢুকল। অন্তত পনের বাই তেরো মাপের ঘর। বিলাসবহুল আসবাবপত্র সারা ঘরে আকীর্ণ।
    সতীনাথ পত্নীর শান্ত শ্রী মাখা লাবন্যময় চোখ মুখ। দোহারা ফর্সা চেহারা। চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর বয়েস হবে।
    দুহাত জড়ো করে বিনীতভাবে কলতান কে বলল, ' বসুন .... '
    কলতান বুঝতে পারল কমলা ঘরের বাইরে একপাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। নিশ্চয়ই সে রকম নির্দেশ আছে তার ওপর। সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। বাড়ির বৌয়ের ঘরে একজন বাইরের লোক। একজন গাট্টাগোট্টা নেপালি দারোয়ানকে দুবার দরজার সামনে দিয়ে যাতায়াত করতে দেখল।
    কলতান একটা গলি আঁটা চেয়ারে বসল।
    ----- ' নমস্কার ম্যাডাম ..... আপনাকে ডিসটার্ব করার জন্য দুঃখিত। আমি দশ মিনিটের বেশি সময় নেব না ...... '
    ----- ' না না .... ঠিক আছে .... বলুন না ... '
    কলতানের মনে হল ভদ্রমহিলা বোধহয় পাকেচক্রে আগেও দু একবার পুলিশ এনকোয়্যারির সম্মুখীন হয়েছেন, হয়ত বিয়ের পরেই ..... নাহলে পুলিশের সামনে এত স্বচ্ছন্দ থাকাটা একটু অস্বাভাবিক।
    ---- ' ম্যাডাম আপনাদের কত বছর বিয়ে হয়েছে ? '
    ----- ' কুড়ি একুশ বছর হবে ... '
    ----- ' এনকোয়্যারির স্বার্থে ... যেহেতু সতীনাথবাবুও সাসপেক্ট লিস্টে আছেন ..... আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি ..... আপনার স্বামীকে আপনার কেমন মানুষ মনে হয় ? '
    ----- ' এটা নিতান্তই ব্যক্তিগত প্রশ্ন ..... মাফ করবেন .... '
    ----- ' আচ্ছা আচ্ছা .....বাদ দিন। আপনাদের ক'টি সন্তান ? '
    ----- ' আমাদের এক মেয়ে। এবার আই এস সি দিয়েছে। '
    ----- ' তার সঙ্গে সতীনাথবাবুর সম্পর্ক কেমন ?'
    ----- ' বাবা মেয়ের সম্পর্ক আবার কেমন হবে ..... খুব সুইট রিলেশান ওর আর শুচিস্মিতার ...'
    ------ ' শুচিস্মিতা আপনার মেয়ের নাম ? '
    ------ ' হ্যা ... '
    ------ ' আপনাদের পার্সোনাল ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের ব্যাপারে আপনার ফুল নলেজ আছে ? '
    ------ ' ফুল নলেজ আছে কিনা জানি না ..... তখন যেটা দরকার সেটা আমি পেয়ে যাই ....
    এর চেয়ে বেশি জানার কোন দরকার নেই আমার ..... '
    কলতান বুঝতে পারল, শান্ত সরল দেখতে হলে কি হবে, ভদ্রমহিলা এক পাকা খেলোয়াড়। হয়ত এ সংসারের মেশিনে ঢুকে এমনি ছাঁচে ঢালাই হয়ে গেছেন।
    ----- ' আর একটা.... এবং এটাই শেষ প্রশ্ন ..... আপনি কি আপনার স্বামীকে কোনভাবে সন্দেহ করেন ? '
    ----- ' প্রশ্নই ওঠে না ...... ওনার মতো ডিউটিফুল লোক কজন আছে ..... এত বছরের ম্যারেড লাইফে কোনদিন তাকে কর্ত্তব্যে অবহেলা করতে দেখিনি .... '
    ------ ' আচ্ছা ..... ম্যাডাম, অনেক ধন্যবাদ ... আপনার খানিকটা সময় নষ্ট করলাম ..... সরি..... '
    ----- ' না না ..... কোন ব্যাপার না .... দরকার হলে আবার আসবেন ..... একটু বসুন .... চা খেয়ে যান স্যার ..... '
    কলতান উঠে দাঁড়াল।
    ----- ' আজকে একদম সময় নেই প্লি..জ .... যদি আবার কখনও এসে পড়ি তখন নয় হবে ওসব ..... ' কলতান দরজার দিকে পা বাড়াল। কমলাকে ঝট করে সরে যেতে দেখল। বারান্দার শেষ প্রান্তে নেপালি দারোয়ানটাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেল।
    কলতান আর একবার ঘুরে দাঁড়াল ----- ' সরি ..... আপনার নামটা জানা হল না ম্যাডাম ..... '
    ------ ' প্রিয়দর্শিনী দত্ত ...... আপনার ? '
    ----- ' দিব্যেন্দু রায় ...'
    ---- ' তাই ? '
    ---- ' মানে ? '
    ----- ' না কিছু না .... ' প্রিয়দর্শিনী একগাল হেসে বলল।
    কলতানের গোয়েন্দা মস্তিষ্কে একটা দোলা লাগল।
    ( ক্রমশঃ )



    ************************************************************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:১৫512438
  • "গোয়েন্দা মস্তিষ্কে দোলা" ‌!! ব্যাপারখান খুব ফিশি, মানে আঁইশটা devil
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন