গুজরাতে নথিভুক্ত ছয়টি রাজনৈতিক দল। আম জনমত পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং গরিব কল্যাণ পার্টি। নির্বাচন কমিশনের পরিভাষায় এরা "রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি" (RUPP), অর্থাৎ, নথিভুক্ত, কিন্তু স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ এমন দল যারা হয় কখনো নির্বাচন লড়েনি, অথবা লড়লেও রাজ্য বা জাতীয় দলের স্বীকৃতি পাওয়ার মতো ভোট বা আসন পায়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই ছয়টি দল অনুদান পেয়েছে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা! সংখ্যাটার মাপ বোঝার জন্য একটা তুলনা জরুরি। ওই একই অর্থবর্ষে সেই সময়ের পাঁচটি জাতীয় দল, যাঁদের আপনি নামধাম জানেন - কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সিপিআই(এম) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, এরা সবাই মিলে অনুদান পেয়েছিল ১,৪৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গুজরাতের ঐ ছয়টি অখ্যাত দল একসাথে দেশের পাঁচটি জাতীয় দলের চেয়ে দুশো কোটিরও বেশি টাকা তুলেছে। এদের চেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে শুধু একটি দল, যার নাম গ্যেস করার জন্য কোনো প্রাইজ নেই। বিজেপির ঘোষিত অনুদান ছিল ২,৬০৪.৭৪ কোটি টাকা। ছয়টির মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম আম জনমত পার্টির ভাঁড়ে একাই ৬২০ কোটি টাকা। আগের বছর, ২০২২-২৩-এ, এই দলটির অনুদান ছিল ২১৬ কোটি। এক বছরে প্রায় তিনগুণ। তুলনায় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ২০২৩-২৪-এর অনুদান ছিল ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ যে দলের নাম আপনি আজকের আগে শোনেননি, তার তহবিল কংগ্রেসের দ্বিগুণেরও বেশি। বাকিদের হিসাব: সত্যবাদী রক্ষক পার্টি ৩৩০.৫৫ কোটি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি ২১৯.৬৯ কোটি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি ২০০.৬৯ কোটি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল ১৯১.৬১ কোটি, গরিব কল্যাণ পার্টি ১৩৮ কোটি। ... ...
কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় দক্ষতা-প্রশিক্ষণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, সংক্ষেপে PMKVY বা স্কিল ইন্ডিয়া। ২০১৫ থেকে ২০২২, তিন পর্বে সরকার এই প্রকল্পে ছেড়েছে ১০,১৯৪ কোটি টাকা, আর সার্টিফিকেট দিয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ জনকে। খাতায় কলমে এর উদ্দেশ্য - দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে রুজিরুটির একটা ব্যবস্থা করা। যদিও আসল উদ্দেশ্য ব্যাপক দুর্নীতি ও চুরি। ২০২৫ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক, অর্থাৎ CAG, এই প্রকল্পের একটা পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করেন, রিপোর্ট নম্বর ২০। সেই রিপোর্টে অল্প চোখ বোলালেই বোঝা যায়, হিসেবের খাতায় এল-এইচ-এস আর আর-এইচ-এসের মধ্যে আর ইজুকালটু নেই। এক বাঁও মেলে না, দো বাঁও মেলে না, আসলে বিশ বাঁও জলে আমাদের তরুণের স্বপ্ন। তিনটে উদাহরণ দিলেই ছবিটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যায়। ... ...