এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নীল সামিয়ানা - ১

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  • ( ১ )
     
    মহাদেব দীনবন্ধুকে বললেন আমাদের রামায়ণ মহাভারতের টিভি সিরিয়ালগুলোয় দেখেছ তো কেমন অটোমেটেড মিসাইল জেনারেট করছে বিভিন্ন ক্যারেকটার। আমার মনে হয় ব্যাপারটা রোবোটিকস-এর একটা ইন্টিগ্র্যাল ডিভাইস হতে পারে। ‘
    দীনবন্ধুবাবু খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিলেন। মুখ তুলে বললেন, ‘ আরে দারুণ বললে তো .... এভাবে ভাবিনি কখনও সত্যি। ‘
    —- ‘ হ্যাঁ .... আমি যেটা বলছিলাম এটা যদি ত্রিকালকে দিয়ে করানো যায়। অ্যাসাল্ট রিবাফ আর কি ! কিংবা অফেন্স রিট্যালিয়েশান। ‘
    দীনবন্ধু একটু তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘ ঠিক বুঝলাম না। দুষ্টের দমন তো ত্রিকাল করেই থাকে। ‘
    —- ‘ হ্যাঁ তা করে। কিন্তু সেটা তার মেকানিকাল পাওয়ার, মানে, যান্ত্রিক শক্তি দিয়ে। কিন্তু আমি যেটা চাইছি সেটা হল দরকার মতো লেজার আর্মার জেনারেট করে অপোনেন্টকে কুপোকাত করে ফেলা এবং ইচ্ছেমতো এর ম্যাগনিচিউড রেগুলেট করা যাবে।’
    —- ‘ ওহ্ ... ইটস এ ইউনিক আইডিয়া .... কাজটা খুব তাড়া তাড়ি শুরু করে দিতে হবে মহাদেব। ’
    —-‘ হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। শুভস্য শীঘ্রম। ‘

    জয়ন্তী আর শুভাশিস বোসপাড়ার বস্তীতে থাকে দুটো ছেলেমেয়েকে নিয়ে। ছেলেমেয়ে দুটো নাম কা ওয়াস্তে স্কুলে পড়ে। জয়ন্তী লোকের বাড়ি বাসন মাজে, কাপড় কাচে, ঘর মোছে। শুভাশিস স্টেশানের ওপারে রঙের কারখানায় কাজ করে। ওভারটাইম ফাইম নিয়ে হাজার ছয়েক টাকা রোজগার হচ্ছিল।জয়ন্তীও পাঁচ হাজারের মতো কামাচ্ছিল।ভালই চলছিল। কিন্তু অভাগাদের সময় বেশিদিন ভাল যায় না। আশ্চর্যজনকভাবে দুজনের কাজই চলে গেল। শুভাশিসের রঙের কারখানা অনেকদিন ধরেই লোকসানের কবলে পড়েছিল। এবার একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। জয়ন্তীর কাজগুলো চলে গেল অতিমারির মারে। সবাই বাড়িতে ‘কাজের লোকেদের’ যাতায়াত বন্ধ করে দিল।

    ওদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একটা আছে বটে, তবে তাতে টাকা পয়সা বিশেষ কিছু নেই। ঘরে যে দু চারশো ছিল তা দিয়ে বড়জোর মাসখানেক চলতে পারে। তারপর কি হবে কে জানে। খাওয়া জোটানো হবে কি করে ভেবে পায় না স্বামী স্ত্রী। ছেলেমেয়ে দুটোও জন্ম থেকে লড়াইয়ের আগুনে সেঁকা হতে হতে শক্তপোক্ত হয়ে গেছে। দুজনেই ইস্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল। আর এক হপ্তার খোরাকির বন্দোবস্ত হতে পারে।আর সব বাদ দিলেও পেটে অন্তত দুবেলা কিছু দানাপানি তো চালান করতে হবে। নইলে শরীরই তো বসে যাবে একেবারে।এই তো প্রবাল মাঝির কি হাল হল তা তো ওরা সবাই দেখল।কাজকম্ম কিছু ছিল না, খেতে পেত না মোটে। পুষ্টির অভাবে শরীরে নানা রোগ দেখা দিল। চেহারা কেমন পাকিয়ে গেল। চামড়া কাগজের মতো সাদাটে মেরে গেল। ঠোঁটের কোনে ঘা। ভাবলেশহীন ঘোলাটে চোখ।মাথাও বোধ হয় ঠিক মতো কাজ করত না। যখন একেবারে শুয়ে পড়ল বস্তীর লোকেরা ধরাধরি করে হাসপাতালে দিল। সেখানে পরের দিনই দেহত্যাগ করল। ডাক্তারে বলল ওর শরীরে নাকি ভয়ানক অপুষ্টি ছিল। তা সে যাই হোক প্রবাল মাঝি মরে বাঁচল। কেই বা দেখত ওকে।
    সে যাই হোক, জয়ন্তী শুভাশিসরা চারজনেই মরে বাঁচতে রাজি হল না। তারা একদিন রাত্তিরবেলা চারজনে মাদুরের ওপর গোল হয়ে গম্ভীরমুখে মিটিং-এ বসল। এ ব্যাপারে ( সাত বছরের ছেলে নীলু সমেত ) চারজনেই দ্বিমত হল না যে বাঁচতে গেলে টাকা লাগে। সুতরাং সিদ্ধান্ত হল যে যেভাবেই টাকা যোগাড় করতে হবে। সে যে উপায়েই হোক, অবশ্য নিজেকে বাঁচিয়ে।
    রাস্তার ধারে বস্তীর প্রথম ঘরটাই শুভাশিসের। ঘরের পাশে প্রায় দশবছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটা সপ্তপর্ণী গাছ। উদার বদান্যতায় গন্ধ বিলিয়ে যায় প্রায় সারা বছর। ফাল্গুন চৈত্রে গন্ধে ম ম করে আশপাশ। কত পাখি যে বাসা বেঁধেছে ওর ডালে ডালে পাতায় পাতায়। সন্ধে নামলে এখানে ওখানে সারাদিন চক্কর মেরে সংসার অনুরক্ত গেরস্থর মতো বৃক্ষ বসতে ফিরে আসে।ঘরে ফিরে কূজন কাকলির মনোরম অর্কেষ্ট্রা বাজাতে থাকে সন্ধেবেলার ঘুমেল আলোয়। এতদিন পেটের দায়ে নানা কাজেকম্মে উদয়াস্ত জড়িয়ে থাকায় সন্ধের মুখে সপ্তপর্ণীর ডালে পাতায় এসব কলকাকলি শোনার ফুরসৎ হয়নি কখনও। একদিন ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে গেল শুভাশিসের। কাজে বেরোবার তাড়া নেই। লকডাউন চলছে। রেললাইন ঘুমোচ্ছে।ভোরের নরম আলো সবে ফুটেছে। সপ্তপর্ণীর তলায় গিয়ে দাঁড়াল সে। ওপর দিকে চোখ তুলে দেখল পাখিগুলো ছটফটে ছেলেপুলেদের মতো গাছের ডাল থেকে উড়ে উড়ে বেরিয়ে পড়ছে, কে জানে কোথায়।শুভাশিসের মনে কেমন একটা আনন্দ খেলা করতে লাগল। আবার বিকেল আর সন্ধের মাঝামাঝি আবার একবার কূজনকাকলি মুখর গাছটার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। একটা অদ্ভুত স্পন্দনের আবেশে ভরে যেতে লাগল সে। তারপর থেকে এই সকাল সন্ধেয় গাছটার পাশে গিয়ে পাখিদের ঘর সংসারের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকাটা তার নেশায় দাঁড়িয়ে গেল। ঘরের পাশেই এমন একটা মধুর মায়াজাল বিছোনো ছিল কে জানত। শুভাশিস ভাবে এমন মধুর জীবন যদি তারও থাকত।
    হঠাৎ মনে হল ডিজিটাল রেশান কার্ড তৈরির জন্য ফর্ম ভরতে হবে আজ। এ ব্লকে পার্টির মুরুব্বি সন্দীপ ঘোষকে ধরতে হবে এ বার যাতে গত দুবারের মতো কার্ডটা ফস্কে না যায়। এই নিয়ে তিনবার হল। কার পড়শিদের সবার কার্ড হয়ে গেলেও তাদেরটা কোন গেরোয় আটকে গেল সে আন্দাজ করতে পারল না।
    পরের সপ্তাহে কালিপুজো। রাস্তার ওপর চারতলা বাড়ির সমান প্যান্ডেল উঠছে। এবার নাকি সুবর্ণ জয়ন্তী না কি একটা জয়ন্তী, মুখে মুখে শুনতে পেল। আলোয় আলোয় মুড়ে দেওয়া হবে সারা পাড়া। এমনকি রাস্তার ধারের প্রত্যেকটা গাছ।
    শুনে শুভাশিসের বুকের ভিতর কেমন একটা ব্যথা চাক বাঁধল।
    পরদিন ভোরে সে আবার সপ্তপর্ণী গাছের তলায় গিয়ে দাঁড়াল। আকাশ থেকে কোমল শিশির ভেজা আলো চুঁইয়ে নামতে লাগল। শুভাশিস আপনহারা হয়ে দেখতে লাগল হাওয়ায় হাওয়ায় পাখিগুলোর চঞ্চল লুটোপুটি।
    বেলা এগারোটা নাগাদ ইলেকট্রিশিয়ানরা কাজ শুরু করে দিল। তারা পাড়াটা মুড়ে দেবে আলোয় আলোয়। রাস্তার দুধারের গাছগুলো আগাগোড়া ঢেকে দেওয়া হবে আলোর সাজে। ইলেকট্রিক তারের পাকে পাকে এঁটে ধরবে গাছগুলোর ডালপালা। সারারাত ধরে জ্বলবে ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি আলো। তাহলে পাখিগুলোর কি হবে ! শিউরে উঠল শুভাশিস।সে ভেবে পেল না কি করা যায়। ভীষণ মনমরা হয়ে সে ওপাশের মাঠের একপাশে এলিয়ে ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার তলায় গিয়ে বসল। পাখিগুলোর কথা ভেবে শুভাশিসের মন ছটফট করতে লাগল। ওই আলো জড়ানো গাছগুলোয় পাখির দল ফিরবে কি করে দিনের শেষে। কোথায় ঘুমোবে রাতের বেলায় ? ওদের ঘর বাড়ি তো এই গাছের ডালপাতাতেই।এই কদিনের মধ্যে সে সপ্তপর্ণী গাছটাকে, গাছের পাখিগুলোকে বড্ড ভালবেসে ফেলেছে। বড় মায়ায় জড়িয়ে গেছে একেবারে। সে দেখল বটগাছটার তলায় আরও অনেকে বসে আছে। একজন একটা গামছা পেতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। শুভাশিস বুঝতে পারল তারই মতো এই লোকগুলোরও কোন কাজকম্ম নেই। নইলে বেলা বারোটার সময় এখানে বেকার শুয়ে বসে বটকি মারে। শুভাশিস দেখল এই বটগাছটাতেও কত পাখি আনাগোনা করছে। ব্যস্ত হয়ে উড়ে চলে যাচ্ছে কোথায়, আবার ফিরে আসছে। শুভাশিস শুনল বটগাছটাকেও নাকি জ্বলন্ত যন্ত্রনার আলোর সাজে ঢাকা হবে। শুভাশিস ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভেবে কোন কূলকিনারা পাচ্ছে না। আবার কষ্টটা ঝেড়েও ফেলতে পারছে না। আশ্চর্যের ব্যাপার এরকম একটা হ্যাপা যে তার জীবনে চেপে বসতে পারে সেটা তার কল্পনার বাইরে ছিল। খাওয়া পরা, অসুখ বিসুখ আর টাকাপয়সার টানাটানি — এর বাইরে মানুষের জীবনে যে কোন সমস্যা থাকতে পারে সেটা তার জানা ছিল না।
    এই রকম একটা অবান্তর এবং অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় সে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যেতে লাগল।
    বটের ছায়ায় চিন্তায় আকুল হয়ে বসে রইল সে। বেলা গড়িয়ে যেতে যেতে দুপুর একটা বাজল। আচমকা তার মাথায় একটা উপায় ঝিলিক দিয়ে উঠল। সে ঝটপট উঠে পড়ে মহাদেববাবুর বাড়ির দিকে হাঁটা দিল।

    মহাদেব দীনবন্ধু কথা হচ্ছিল। ত্রিকাল চুপচাপ একটা চেয়ারে বসে আছে।
    মহাদেববাবু বললেন, ‘ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এভাবে চললে বড়জোর দু হাজার পঞ্চান্ন পর্যন্ত চলতে পারে।
    তারপর এই প্ল্যানেট থাকলেও এর ইকোলজিক্যাল কন্ডিশান কোন প্রাণীর বসবাসের উপযুক্ত থাকবে না। ‘
    দীনবন্ধু বললেন, ‘ বটেই তো। কিন্তু কোন দেশ গ্রীনহাউস গ্যাস কন্ট্রোলের কোন ইনিশিয়েটিভ নিচ্ছে না। ইনডাসট্রিয়াল এজ শুরু হবার আগের টেমপারেচার থেকে পৃথিবীর টেমপারেচার দু ডিগ্রী সেলসিয়াস লিমিটের মধ্যে আটকে রাখার দরকার আছে।’
    — ‘ ওটা দেড় ডিগ্রীর মধ্যে রাখতে পারলে ভাল হয়। কিন্তু পৃথিবীর কোন দেশই তো কোন পরিণামদর্শিতা দেখাচ্ছে না।শর্ট টার্ম বেনিফিটের জন্য এই ভয়ঙ্কর পরিণাম বুঝেও বুঝছে না।’
    —- ‘ গ্রেটা থুনবার্গ নামে সুইডেনের একটা বাচ্চা মেয়ে কি লড়াইটাই না লড়ছে। ‘ দীনবন্ধুবাবু বললেন।
    —- ‘ এক্জ্যাক্টলি ...... ওকে সত্যিই কুর্নিশ জানাতে হয়।গ্লাসগোতে কনফারেন্স অফ দা পার্টিজ মানে, সি ও পি-তে কোন সমাধান বেরোবে বলে মনে হয় না। আমার ধারণা, কোন দেশ রাজি হবে না গ্রীনহাউস গ্যাস এমিটিং প্রোডাকশন কমাতে। না চায়না, না আমেরিকা, না অন্য কোন দেশ।
    মহাদেব একটু চুপ করে থাকলেন, তারপর বললেন, ‘ এদিকে আমাদের কাজটা কিন্তু কমপ্লিট হয়নি।মানে, আমি ত্রিকালের মধ্যে অটোমেটেড মিসাইল জেনারেট করার ব্যাপারটা বলছি ..... ‘
    —- ‘ হ্যাঁ হ্যাঁ ..... আমিও ওই ব্যাপারটাই চিন্তা করছি। খুব তাড়াতাড়িই কমপ্লিট করতে হবে।’
    মহাদেব আবার বললেন, ‘ আমি কিছু ফর্মূলা জট ডাউন করেছি। মনে হয় ওগুলো কাজে দেবে। নতুন কিছু চিপস বসালে তবে ....’
    এই সময়ে অনুপমা এসে দু কাপ কফি রেখে গেল। বলল, ‘ দাদা, একজন এসেছে দেখা করতে .... বাইরে দাঁড়িয়ে আছে .....’
    — ‘ কে ? কোথা থেকে এসেছে ? ‘
    — ‘ তা জানিনা। বলল, ব্যানার্জীপাড়া থেকে এসেছে। কিছু কথা বলার আছে। ‘
    — ‘ ও .... আচ্ছা ভিতরে আসতে বল। ‘

    শুভাশিস ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল কুন্ঠাভরে। দুটো হাত বুকের কাছে নিয়ে এসে বলল, ‘ ভেতরে আসব স্যার ? ‘
    —- ‘ আরে এস এস ..... চলে এস। এত দ্বিধা কিসের ? ‘
    ..... ‘ আরে বস বস ..... দাঁড়িয়ে কেন ? ‘
    শুভাশিস একটা চেয়ারে বসল।
    মহাদেববাবু বললেন, ‘ হ্যাঁ বল.... তুমি আমার থেকে অনেক ছোট বলে তুমি বলছি.... কিছু মনে ক’র না ..... ‘
    —- ‘ না না স্যার ..... সেকি কথা ..... আমি শুধু বয়সেই ছোট
    নই, ছোটখাটো মানুষ .... খুব সামান্য লোক। আমার একটা কথা ছিল ..... যদি পারমিশান দেন .....’
    — ‘ নির্দ্বিধায় বল ..... কোন অসুবিধে নেই ’ মহাদেব বলেন।
    —- ‘ আমি কদিন ধরে খুব কষ্টে আছি স্যার .... ‘
    মহাদেব এবং দীনবন্ধু আন্দাজ করলেন অতিমারির কারণে কাজকর্ম চলে যাওয়া আর পাঁচজন দিন আনি দিন খাই কোন মানুষের পরিচিত কোন সমস্যায় পড়েছে নিশ্চয়ই ছেলেটি। তারা শুভাশিসের মুখের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
    শুভাশিস অসংলগ্নভাবে বলল, ‘ মানে..... ওই সপ্তপর্ণী গাছটা আর পাখিগুলোকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি ..... কি যে হবে ! ‘
    —- ‘ মানে ? ঠিক বুঝতে পারলাম না। ‘
    শুভাশিস মোটেই ভাল বক্তা নয়। সে এলোমেলোভাবে জোড়াতাড়া দিয়ে কোনরকমে গাছপালা, পাখি, কালিপুজো, আলোর সাজ, বিদ্যুতের তার, পাখিদের সম্ভাব্য যন্ত্রনা ..... সব কিছু মিলিয়ে গুলিয়ে তার মরীয়া বক্তব্য পেশ করল।
    মহাদেব এবং দীনবন্ধু পরিষ্কারভাবে শুভাশিসের বক্তব্য ধরে নিলেন।
    মহাদেব আপনমনে বললেন, ‘ গ্রেটা থুনবার্গ..... ‘
    — ‘ আজ্ঞে কি বললেন স্যার ? ‘
    —- ‘ না ..... কিছু না ..... ‘
    মহাদেব দেখলেন ত্রিকাল তার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে।সে কয়েক পা হেঁটে শুভাশিসের চেয়ারের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। শুভাশিস জড়সড় হয়ে ত্রিকালের দিকে তাকিয়ে রইল। ত্রিকাল আলতোভাবে শুভাশিসের মাথায় হাত রাখল। স্রোতের জলে ময়লা ধুয়ে যাবার মতো তার মনের ভিতর এক শীতল ঝর্ণাধারার আবেশ বয়ে যেতে লাগল। মহাদেব এবং দীনবন্ধু মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন।
    শুভাশিস ত্রিকালের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ত্রিকালের চোখে কোন ভাষা নেই। তা ভাষাহীন, নিস্পন্দ, স্থির। কিন্তু শুভাশিসের মনে হল মহাদেববাবুর রোবট তাকে আশ্বাস দান করছে। সে তো মহাদেববাবুর কাছে এই কথাটাই বলতে এসেছিল। ত্রিকালের নানা কর্মকান্ডের কথা সে লোকের মুখে শুনেছে। মহাদেববাবু ভাবলেন, ত্রিকাল এ ব্যাপারে কি সমাধান দিতে পারে ! এটা তো কটা গাছ আর কিছু পাখির ব্যাপার নয়। সমস্যাটা সামগ্রিকভাবে সারা বিশ্বের। মানুষের শুধু পরিবেশ সচেতনতা নয়, সূক্ষ্ম অনুভূতিশীলতা না জাগলে জোর করে কিছু করা কি সম্ভব ?
    মহাদেব বললেন ‘ত্রিকাল তুমি বস।’ ত্রিকাল পিছন ফিরে তার চেয়ারে গিয়ে বসল।

    পরিবেশ কর্মী বিশাখা মিত্র বললেন, ‘ এ কথাটা তো এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে শুধু আমাদের চেষ্টায় কিছু হবার নয়। সকলের আন্তরিক যোগদান আবশ্যক। ‘
    সৌমিত পাইন একবারে সামনের সারিতে বসেছিল এই গ্রুপ মিটিং-এ। সে বলে উঠল, ‘ প্রশাসনের সদিচ্ছাটাও জরুরী ব্যাপার.... ‘
    তার কথা ওখানে অনেকেই সমর্থন করল।
    স্বরূপ সরকার বলল, ‘ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহই নেই ..... ‘
    বিশাখা মিত্র বললেন, ‘ যাই হোক, এ সব সত্ত্বেও আমাদের ক্যামপেনিং চালিয়ে যেতে হবে। চেষ্টায় ঘাটতি থাকলে হবে না। সচেতনতা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমার প্রস্তাব হল, স্থানীয় এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কল্লোল দত্তর সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে কথা বলা। অন্তত আমাদের মিশনটা তার নলেজে আনা। ‘
    এ ব্যাপারেও কারো দ্বিমত দেখা গেল না।

    কল্লোল দত্তের বাড়িতে তিনজন গেল কথাবার্তা বলতে। বিশাখা মিত্র নিজে এবং তার সঙ্গে আরও দুজন। তারমধ্যে একজন হল সৌমিত পাইন।
    কল্লোল দত্ত সজ্জন ব্যক্তি এবং এবং সূক্ষ্মবোধসম্পন্ন মানুষ। তাকে বেশি বোঝাতে হল না। দেখা গেল, তিনি গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং গ্রীনহাউস গ্যাস নি:সরণ সংক্রান্ত কিংবা উত্তরমেরুতে হিমবাহ গলন বা সমুদ্রের জলস্তর ক্রমশ: বৃদ্ধি সংক্রান্ত সব ব্যাপারে রীতিমতো ওয়াকিবহাল। তিনি ধীর স্থির মৃদু কন্ঠে বললেন, ‘ আমরা সকলেই তো সবকিছু জানি। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি সুখভোগ বা মুনাফা লাভের প্রবণতা আমাদের মজ্জাগত। আমরা কোন কিছু দেখেও দেখি না, বুঝেও বুঝি না। গভীর ভাবনা আমরা জোর করে দূরে ঠেলে রাখি। এভাবে চললে পৃথিবীর আয়ু যে আর বেশিদিনের নয় তা আমরা একেবারেই ভাবতে চাই না। ভাবি, এই তো দিব্যি আছি। আমার জীবনটা কেটে গেলেই হল। তার পরের কথা আর আমার ভাবার দরকার কি ? আরে বাবা মাত্র পঞ্চাশ বছর পরে স্রেফ জলের অভাবেই তো মানুষ পৃথিবীতে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।’ কল্লোল দত্ত মৃদু কন্ঠে মোটেই রাজনীতিকের মতো নয়, বরং পরিবেশবিদ এবং সমাজতাত্ত্বিকের ভঙ্গীমায় কথা বলে যেতে লাগলেন .....
    ‘ ...... সমস্যার ব্যাপার হল আমার কাজকর্মের জায়গাতেই অধিকাংশ মানুষ আমার সঙ্গে একমত নন। তারা বুঝতে পারেন না, কিংবা হয়ত বুঝেও মানতে চান না কথাগুলো। যাই হোক, আপনারা এগিয়ে যান আপনাদের কার্যক্রম নিয়ে, আমি অবশ্যই সমর্থন করব। ‘
    কোন একটা জায়গার প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই বোধহয় তিনি সমর্থনের কথা বললেন, কিন্তু সঙ্গে থেকে রাস্তায় নাবার প্রতিশ্রুতি দিলেন না।
    বিশাখা মিত্র বললেন, ‘ কিন্তু কল্লোলবাবু আপনি সঙ্গে না থাকলে আমরা জোর পাব কি করে এই ইনডিসক্রিমিনেট ইলেকট্রিফিকেশান রুখতে। বিশেষ করে গাছ আর গাছের পাখিগুলো। ‘
    —- ‘ সবই তো বুঝলাম, কিন্তু এই এজ লঙ প্র্যাকটিস কি আর একদিনে বন্ধ করা যায় ! সাধারণ মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন না আনতে পারলে এসব থামানো কঠিন। তবে আবার বলছি আপনারা আপনাদের ক্যামপেনিং থামাবেন না।আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।’
    সুতরাং শুধুমাত্র খানিক শুভেচ্ছা মাথায় মেখে বিশাখা দেবীরা ওখান থেকে বেরিয়ে এলেন।

    কালীপুজোর আর তিনদিন বাকি। প্যান্ডেল পুরোপুরি খাড়া হতে আর কয়েক ঘন্টা লাগবে। কালই মনে হয় ঠাকুর বসে যাবে। বাতাসে হিমের টান লেগেছে। ওপরে আকাশের নীল সামিয়ানা। আকাশ খেলছে আলোর সাথে, পাতলা মেঘের আঁশের সাথে।আড়িয়ে গড়িয়ে খেলছে মাথার ওপরে।
    দুপুরবেলা থেকে গাছগুলোতে আলো লাগানোর কাজ শুরু হল।শুভাশিসের বুক কেঁপে উঠল। দেখল কত পাখি ভয় পেয়ে উড়ে চলে গেল। তার মনে দুশ্চিন্তা চেপে বসল। সন্ধেবেলা পাখিগুলো ঘরে ফিরবে কি করে। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বাতাসে পাক মেরে ঘুরে মরবে বেচারারা।
    ইলেকট্রিকের লোকগুলো তো সপ্তপর্ণী গাছটার দিকেই যাচ্ছে। শুভাশিষ ভাবতে লাগল কি করবে
    সে। সে কি আর একবার মহাদেববাবুর বাড়ি যাবে। তিনিই বা কি করবেন এ ব্যাপারে। তার ওই রোবটটা ..... ত্রিকাল না কি নাম যেন .....। কিন্তু ওরই বা ক্ষমতা কতটুকু এসব মামলায়। কিন্তু ও নিশ্চয়ই তার কষ্টটা বুঝতে পেরেছে, নাহলে তার মাথায় হাত রাখবে কেন। তাছাড়া তাকে আজ একটু পরেই রেশন অফিসে যেতে হবে ডিজিটাল রেশান কার্ড বানানোর ব্যাপারে। এমনিতেই তো রোজগারপাতি বন্ধ। তার ওপর রেশানের চাল গম না পেলে তো একেবারে শোচনীয় অবস্থা। কিন্তু এই মুহুর্ত্তে সে প্রবল উৎকন্ঠায় ক্ষিধে তেষ্টা সব কিছু ভুলে গেল। তার বৌ জয়ন্তী প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটা বাড়িতে নতুন কাজ পেয়েছে। সকাল আটটার মধ্যে হাজিরা দিতে হয়।বাড়ি ফিরতে ফিরতে বেলা একটা বাজে। অন্যান্য কাজের সঙ্গে রান্নাও করতে হয় ওখানে।ছেলেমেয়ে দুটোর এখন পড়াশোনা কাজকর্ম কিছুই নেই।রাতদিন টো টো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে ওখানে। শুভাশিস ভাবল ঘরে গিয়ে রান্নাটা করে রাখবে কিনা। রান্না মানে ভাত আর কুমড়োর তরকারি। ঘরে চাল আছে কিনা কে জানে। ভাবল যাওয়ার রাস্তায় রাস্তার ধারে বসা বাজার থেকে একফালি কুমড়ো কিনে নিয়ে যাবে। বেলা বাড়লে দামটা একটু কমবে। তাই সে এক্ষুণি না গিয়ে বেলা বাড়তে দিতে লাগল। বটতলায় গিয়ে বসল সে। উদার নীল আকাশের নীচে হেমন্তের ওস মাখা রূপোলি রোদ্দুর ভেসে আছে।
    বটতলার নীচে বসে শুভাশিস দেখতে পেল ইলেকট্রিশিয়ানের লোকগুলো যন্ত্রপাতি, পাকানো তার টার নিয়ে তার বাড়ির গলির মুখে সপ্তপর্ণী গাছটার দিকে যাচ্ছে। দেখেই তার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। সে ভাত আর কুমড়োর তরকারির কথা মুহুর্ত্তের মধ্যে ভুলে গেল। ভীষণ আতঙ্কে সে শিউরে উঠল। বটতলা থেকে উঠে সে প্রাণপণে ছুট লাগালো মহাদেববাবুর বাড়ির দিকে।
    সে যখন উঠোনের বাইরে তেঁতুল গাছের পাশে লোহার নীচু গেটটার হুড়কো খুলে ঢুকছে, দেখল প্রায় কুড়ি ফুট দূরে ঘরের বারান্দায় ত্রিকাল দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। শুভাশিস ছুটে গিয়ে ত্রিকালের সামনে দাঁড়াল এবং তার দিকে আকুতিভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মুখ দিয়ে অসংলগ্নভাবে বেরিয়ে আসতে চাইল —
    ‘ লাইটের লোকগুলো এসেছে.....গাছটার পাখিগুলোর কি হবে ..... ওরা সন্ধেবেলায় ফিরে যদি বাসা খুঁজে না পায় ..... কোথায় ঘুরে ঘুরে মরবে .... ‘ শুভাশিসের মুখ কাঁদ কাঁদ শোনায়।
    ত্রিকাল স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল প্রায় দেড় মিনিট এক অদ্ভুত উদাসী ভঙ্গীতে। তারপর নেমে এল বারান্দা থেকে। শুভাশিসের কাঁধে কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো হাত রেখে বলল, ‘ চল .... ‘
    রাস্তাঘাটের সবাই অবাক হয়ে দেখতে লাগল শুভাশিসের পাশাপাশি মহাদেববাবুর রোবট ত্রিকাল হেঁটে যাচ্ছে পার্কের দিকে। ত্রিকাল শুভাশিসকে নিয়ে বটগাছটার তলায় পৌঁছল। কাউন্সিলার কল্লোল দত্ত হাতে ব্যাগ নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখেশুনে থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন।তিনি ত্রিকালের কথা অনেক শুনেছেন। কিন্তু নিজের চোখে এই প্রথম দেখলেন। আকাশের নীল সামিয়ানার নীচে হৈমন্তী রোদ্দুর খেলা করছে। কল্লোল দত্ত হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন।
    ( আর একটু বাকি আছে। এখানে নিচ্ছে না। তাই পরের পর্বে)

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন।