কোনো একটা ক্যাম্পে বেশ কিছু মেয়েকে অপহরণ করে রাখা হয়েছিল। তাদের চোখ বাঁধা থাকত। বাংক থেকে নামিয়ে তাদের বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় স্লিপার পরতে দেওয়া হত। সেই স্লিপার এর স্ট্র্যাপগুলিতে ছিল একটা করে সূর্যমুখী। অন্য কোনো ফুল হয়তো বা। মেয়েগুলি এক পায়ের পাতা দিয়ে অন্য পায়ের স্ট্যাপএর সেই ফুল গুলি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতো। তাদের ভালো লাগতো খুব।
ভালো লাগার এই ছিরির কথা শুনে অনেকেই নাক তুলবেন, বেঁকা কথা বলবেন। ওই অবস্থায় ভালো লাগে কী করে! তাই না?
আসলে সব অবস্থাতো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না! অথচ অনেক সময় তার থেকে বেরোবার পথটিও অন্ধকারে ঢাকা থাকে সাময়িকভাবে। এমত অবস্থায় ধৈর্য ধরতে হয়। পরিস্থিতিটা থেকে নিষ্কৃতি পাবার উপায় বের করতে সাময়িক ভাবে হলেও কিছু অনৈতিক বা খারাপকে মেনে নিতে হয়! এই ধৈর্যের প্রতীক্ষাকে শক্তিশালী করে আশার আলোয় ভরে দেয় ছোট ছোট সুখবোধগুলি। এই ধৈর্যের, এই উপভোগের মনটি ভেঙে গেলতো সব শেষ!
লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভাগ্য ঝুলিয়ে রেখে নির্বাচন একটা অন্যায়, একটা দুশ্চিন্তা, একটা কষ্টের আবহ তৈরি করেছে এই ২০২৬ এর নির্বাচনে। ভোট দিতে যাবো – এ কথাটি বলতে গিয়েও তাকাচ্ছি শ্রোতার মুখের দিকে! তার মুখখানি কালো হলো না তো? নাম আছে তো? নাম নেই ! আমি সুবিধাভোগী, কারণ ভোট দিতে পাচ্ছি।
এমত অবস্থায় বিবেক স্বভাবতই বলবে: ওকে বাদ দিয়ে নির্বাচন চাই না।
কিন্তু, বাস্তব বলব, সেটি না হলে যে আরও বিপদ! নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হওয়ার অজুহাতে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হলে তুমি এই অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষমতাটুকুও হারাবে!
তাই নির্বাচন হল।
এদিকে নাম কাটা যাবার ভয়েও খানিকটা, চরম উদাসীন ও আত্মমগ্ন মানুষেরা, ধর্মস্থান নিয়ে অতি মগ্ন মানুষরাও ছুটে ছুটে এসে ভোট দিলো। কারণ তারা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সুবিধা ভোগ করতে হলে নিজের দায়িত্বটিও পালন করতে হবে ! ইচ্ছে না হলেও ! নতুবা অন্যকে নীতি জ্ঞান দিয়ে নিজেরা এতদিন ভোটাভুটি থেকে নিজেদের দূরে রেখে এক ধরনের শুদ্ধতা প্রমাণের শুচিবাই সমৃদ্ধ আমোদে, আত্মপ্রসাদে থাকত। ঠেলার নাম বাবাজী! প্রতিটি মেঘেরই যে এক রুপোলি পাড় থাকে --- তাইই আরেকবার প্রমাণিত হল।
আবার নির্বাচন ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে, একটি বৃহত্তর স্বার্থে বুথের বাইরে ও ভিতরে নিজেদের ‘নিষ্ক্রিয়’ রাখলে অনেক অতি সক্রিয় ব্যক্তি। তাই এবার তেমন গোলমালও দানা বাঁধলোনা, বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া।
যাই হোক।
মেঘের তলাতেও একটা সূর্যমুখী তো ফোটানো গেলো। বাংলায় ভোট পড়ল রেকর্ড ভেঙ্গে!
আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিলাম। একটা পথরেখা তাই আসতে আসতে ফুটে উঠতে থাকলো সহনাগরিকদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেবার প্রশ্নে। আমরা কি এবার সেই পথে দলমত নির্বিশেষে নামবো না? নামা আমাদের নৈতিক দিক দিয়ে উচিত। হয়তো অনেকেই এই প্রশ্নটি নিয়ে ভিন্ন মত। নানান বিতর্কও আসবে। তবে নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বোধ হয়, হঠাৎ 'অপর' হয়ে যাওয়া মানুষগুলির পাশে দাঁড়াতেই হবে আমাদের। আজ না হয় কাল।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।