নিরাপদ জ্যান্ত লাশঅখিল রঞ্জন দে
শহরে আজ উৎসবের স্তব্ধতা,
খুনিরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে হাঁটে—
অথচ হুকুম হয়েছে:
সাধারণের বাইকের চাকা যেন না ঘোরে,
গতিই নাকি আজ সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রদ্রোহ!
অন্দরমহলে আজ অদৃশ্য সেন্সরের নজরদারি,
নিজের ছায়াকেও আজ ‘বহিরাগত’ সন্দেহ হয়;
রাজা বললেন, "রক্তের টান ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর,
স্বজন আজ বারণ—
নিরাপদ থাকতে হলে আজ থেকে তোমরা কেবল
একে অপরের ‘ভোটার’!
ছায়া যাতে শরীর ছেড়ে না পালায়—
রাজা তাই সূর্যটাকেই আজ আকাশ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন;
এখন জমাট অন্ধকারে আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে আছি—
আর রাজা বলছেন, "দেখো, আজ থেকে তোমাদের কোনো শত্রু নেই!"
পায়ের তলায় শিকল নেই, অথচ আমাদের নড়াচড়া আজ নিষেধ—
কারণ স্থির থাকতে পারাই নাকি এই রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ নাগরিকত্ব।
আমরা যারা অনেকদিন আগেই মরে গিয়েছি,
তারা এই জমাট অন্ধকারেও সমস্বরে হাততালি দিচ্ছি—
কারণ দৃষ্টিহীন মানুষের কাছে তো সুড়ঙ্গের শেষ বলে কিছু হয় না!
রাজা বললেন, "ঘরে খিল দাও,
সুরক্ষা দিচ্ছি নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের।"
আমরা মৃত মানুষগুলো উল্লাসে হাততালি দিলাম,
কারণ অন্ধকারের চেয়ে নিরাপদ আড়াল তো আর হয় না!
চোর ধরতে না পেরে এখন গৃহস্থই গারদে,
একেই কি বলে গণতন্ত্রের এই ‘নিশ্চল’ শুদ্ধিকরণ?
মশা মারতে কামান তো অনেক হলো— এবার তবে হৃৎপিণ্ডটাই উপড়ে নাও;
রক্তহীন লাশের শরীরে তো আর মশার কোনো অধিকার থাকে না!
নগরী আজ নিরাপদ—
কারণ এখানে জ্যান্ত মানুষের কোনো শব্দ নেই,
কেবল আছে হুকুমের প্রতিধ্বনি
আর হুকুম পালন করা কয়েকটা জীবন্ত লাশের সারবাঁধা ভিড়।
!
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।