এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   শিক্ষা

  • শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংসসাধন 

    দীপ
    আলোচনা | শিক্ষা | ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বার পঠিত
  • শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংসসাধন!
    শিক্ষকের আর্তনাদ!
     
    লিখেছেন অধ্যাপক পার্থ ঘোষ।
    অনুগ্রহ করে একটু ভাববেন।
    -------------------------------------------------------------------
     
    এক রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর।

    কেন আবার? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোনো বিষয়ে সিঙ্গল মেজর বা অনার্স পড়তে গেলে কত নম্বর লাগবে? না, এগ্রিগেটে ৫০% এবং বিষয়ে মাত্র ৪৫%। কোন প্রাগৈতিহাসিক যুগে এই নিয়ম বলবৎ হয়েছিলো আমার জানা নেই, তবে তখন মনে হয় হাতেগোনা কিছুজন উচ্চমাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশন পেতো।

    তারপর গঙ্গা-যমুনা দিয়ে গ্যালন গ্যালন জল গড়িয়ে গেলো, উচ্চমাধ্যমিক দুই বছর থেকে এক বছর হয়ে ছয়মাসের সেমেস্টারে উপনীত হলো, একটি অন্যতম কঠিন পরীক্ষা থেকে প্রায় সর্বশিক্ষা অভিযানে পর্যবসিত হলো... তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা একটু পুরোনো স্ট্যান্ডার্ডটার উন্নতি করতে পারলেন না। ৪৫%, ভাবা যায়? ঢালাও নম্বর (এবং গ্রেস মার্কিং) এর যুগে, নিদেনপক্ষে ৬০% করা যেত না কি?

    বুঝতে পারছেন না, তাই তো? একটু গুছিয়ে বলি। "তোমরা পরীক্ষাটা দাও, নম্বরের ব্যাপারটা আমরা দেখে নেবো" র যুগে, তলে তলে পড়াশুনোর কি সর্বনাশটা হয়ে গেছে, তা আমরা যারা সিস্টেমের সাথে যুক্ত আছি, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাই। প্রতি বছর, মেজর পড়তে আসা স্টুডেন্টদের মান হুহু করে নেমে যাচ্ছে। যে ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্স অনার্স পড়ে আসা ছেলেমেয়েদের দেখলে সসম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে দিতো অন্যরা, আজ উই আর অন দ্য সেম বোট ব্রো বলে। ওরা জাস্ট পাস করছেনা, করতে পারছে না। একের পর এক সাপ্লির বোঝা জমা হচ্ছে বছরের পর বছর।

    এক্ষুনি তেড়ে আসবেন জানি, ফিজিক্স পড়ে চাকরি কোথায় বলে। সেই বিতর্কে এখন জড়াচ্ছিনা, আগে প্রচুর লিখেছি টাইমলাইনে, পরে আবারও লিখবো।

    আমার কলেজে চাকরির প্রথমভাগে, নিদেনপক্ষে একটা মাপকাঠি করা থাকতো... কারা ফিজিক্স অনার্সে আবেদন করতে পারবে। জেনারেল ক্যাটেগরিতে আমরা ফিজিক্স এবং অঙ্কতে অন্তত ৬০% নম্বর চাইতাম, যেহেতু অঙ্কটা আমাদের বেশ ভালো পরিমাণে লাগে। একদম রিলেটেড সাব্জেক্ট। ২০১৮ তে মাত্র একবারই ফিজিক্সে এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারপরেই উচ্চশিক্ষা দপ্তর নির্দেশ দিয়ে সেটা বন্ধ করে দিলো। স্কটিশ চিরকাল পরীক্ষা নিতো প্রেসিডেন্সির মতো, ওরাও বন্ধ করতে বাধ্য হলো।
    কোভিডের সময়কালে, কলেজকর্তৃপক্ষের আদেশানুসারে নিজেদের মিনিমাম এলিজিবিলিটি ক্রাইটেরিয়া তুলে দিয়ে ইউনিভার্সিটিরটা মেনে চলা শুরু করতে হয়েছিলো। তাও এতদিন একটা লক্ষণরেখা টানতে পারছিলাম, মেরিট ইন্ডেক্স ক্যালকুলেশনে। এগ্রিগেটের বা বেস্ট অফ ফোরের সাথে যোগ করা হতো অঙ্ক আর ফিজিক্সে প্রাপ্ত নম্বর দুই দিয়ে গুণ করে, অর্থাৎ মোট ৮০০-র মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর অনুসারে মেধাতালিকা হতো। তাতে ডাইল্যুশন বা সরলীকরণটা একটু কম হতো, আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ওয়েটেজ বা ভার থাকতো।

    আর এবার? ইউনিভার্সিটির লেটেস্ট অর্ডারটা দেখুন। কোনো কলেজে কোনো কাট-অফ নম্বর রাখা যাবেনা। সেন্ট্রালাইজড পোর্টালে বেস্ট অফ ফোরের সাথে শুধু সাব্জেক্ট নম্বর যোগ করে, সব কলেজের জন্য একই নিয়মে একভাবে মেধাতালিকা হবে। CAP এর অধীনে থাকা কলেজগুলোর মধ্যে কেউ একা যাতে বেশি ভালো স্টুডেন্ট না পেয়ে যায়। আর CAP এর বাইরের কলেজ? স্কটিশ,সেন্ট পলস, ভবানীপুর? তারা মাইনরিটি, ব্যাপার স্যাপার আলাদা। নিজেদের ক্রাইটেরিয়া নিজেরাই ঠিক করতে পারবে।

    এরফলে কি হবে? মনে করুন, একটি স্টুডেন্ট ইংরেজি বাংলা কেমিস্ট্রি বায়োলজিতে বেশি নম্বর পেয়েছে, ফিজিক্সে কম। মেরিট লিস্টে বেস্ট অফ ফোরের জোরে সে এগিয়ে থাকবে, ফিজিক্সে কম পাওয়া সত্ত্বেও। আর অঙ্কতে শুধু (গ্রেস মার্ক সহকারে) পাস করে এলেই হবে, সে সটান চলে আসবে ফিজিক্স মেজর পড়তে। আমরা দাসী-বাঁদী তো আছিই, শুরুর থেকে আবার ডিফারেনশিয়েশন ইন্টিগ্রেশন পড়ানোর জন্য। ওইগুলো না জানলে ফার্স্ট সেমেস্টার মেজরে মেকানিক্স শুরু করবো কিভাবে?

    সাধে কি ভালো কলেজগুলো অটোনমি নিয়ে ইউনিভার্সিটির আওতার বাইরে বেরিয়ে যেতে চাইছে?

    অথচ দেখুন, অপরদিকে শুধু অঙ্ক ফিজিক্সে একটু ভালো নম্বর পেলেও যদি অন্যগুলোতে সে মাঝারি নম্বর পেয়ে এপ্লাই করে, মেরিট লিস্টের পিছনে পড়ে থাকবে। সেন্ট্রালাইজড পোর্টালে দুবার ঘুরে যদি পছন্দসই কলেজ না পায়, ডিমরালাইজড হয়ে হাঁটা দেবে প্রাইভেটে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে।

    অনেক সিট ফাঁকা পড়ে থাকছে, এটাও সত্যি। ফিজিক্স কেমিস্ট্রি অঙ্কের সেই গমগমে ব্যাপারটা নেই। নার্সিং, ফার্মেসি, প্যারামেডিকাল... পড়ে বেরোলেই চাকরি। মেধাবীরা তাহলে যাচ্ছে কোথায়? কোথায় সেই হাওড়া, হুগলী, দুই চব্বিশ পরগণা বা মেদিনীপুর, মালদা-মুর্শিদাবাদের গ্রাম মফস্বলি মুখগুলো? দুচোখে অনাবিল কৌতূহল নিয়ে ভিড় করতো আমাদের মতো কলেজে? কেউ তো চাকরি না পেয়ে বসে নেই। খবরাখবর রাখি তো যথেষ্টই।

    ইনফ্লেটেড সিট ম্যাট্রিক্স, ভুলভাল রেশিও, নিরন্তর নেগেটিভিটি... সরকারি মধ্যমেধা তোষণ নীতি, এর ফলাফল যে কি হবে সেটা দেখে যেতে পারবো আশা করি। আর বারো বছর চাকরি...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন