এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  সমোস্কিতি

  • মাকড়সার বাসা (স্পাই থ্রিলার)

    c
    সমোস্কিতি | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • খবরের কাগজের লোকেরা কায়দা করে যে জায়গাটাকে লুটিয়েন্স ডেলহি বলে, সেটা মোটামুটি দিল্লি শহরের চতুষ্কোণ হৃৎপিণ্ড। পুবে ইন্ডিয়া গেট, পশ্চিমে রাষ্ট্রপতির বাসভবন, দক্ষিণে লোদি গার্ডেন আর উত্তরে কনোট প্লেস -- এই চারটি বিন্দু দিয়ে ঘেরা হাজার খানেক সরকারি বাংলো সমেত আঠাশ বর্গ কিলোমিটার এলাকা থেকে বত্রিশ লক্ষ সাতাশি হাজার দুশো তেষট্টি বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়, একথা ভাবলে কল্পেশের পেট গুরগুর করে। অথচ সে বড় হয়েছে এই শহরেই, এই চতুষ্কোণের ভিতরে ঘটে যাওয়া অজস্র রোমাঞ্চকর গল্প শুনে তার ছোটবেলা কেটেছে। এখনও তার প্রতি রোববার সন্ধ্যে কাটে চিত্তরঞ্জন পার্কে দাদুর কাছে জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে পর্যুদস্ত করার কাহিনী শুনে। তার দাদু অর্থাৎ মায়ের বাবা অবনীমোহন বসু ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্সের জগতে এক বৃদ্ধ শকুন। অবনীমোহন অনেকদিন আগেই অবসর নিলেও জনান্তিকে লোকে বলাবলি করে ইন্ডিয়ান গভমেন্ট বুড়োকে দিল্লিতে রেখে দিয়েছে কেননা বুড়োর মগজ থেকে সব তথ্য এখনও আইবির ডেটাবেসে তোলা সম্ভব হয়নি। এ হেন অবনীমোহনের নাতি ইয়ং অ্যান্ড হ্যান্ডসাম কল্পেশ বসুকে যখন ডিপার্টমেন্ট থারটিনে পাঠানো হল, অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিল। কল্পেশ নিজে নাক দিয়ে ফোঁসফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মেট্রো থেকে নেবে এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে হাজির হয়েছিল ডিপার্টমেন্ট থার্টিনের বাড়ীটার সামনে। কনোট প্লেস জায়গাটা তিনটে কনসেন্ট্রিক সার্কেল দিয়ে ঘেরা। সাতটা রেডিয়াল রোড তিনটে সার্কেলকে সমানভাগে ভাগ করেছে। এর মধ্যে তিন নম্বর ও চারনম্বর রেডিয়াল রোডের মাঝামাঝি মিডল সার্কেলে আইবির ডিপার্টমেন্ট থার্টিন অবস্থিত। বাড়িটা বাইরে থেকে দেখলে একটা আদ্যিকালের সরকারি অফিস ছাড়া কিছুই মনে হয়না, যেখানে ফাইলের ওপর ফাইল আর মাকড়সার জাল জমে আছে। বস্তুতপক্ষে, আইবির অন্দরে ডিপার্টমেন্ট থার্টিনের নিকনেম হল মাকড়ি কা ঘোসলা। অর্থাৎ মাকড়সার বাসা। একতলাটা একটা বিমার অফিস যেখানে, কল্পেশ দেখেছিল, তালা ঝুলছে। সে তালা জন্মে খোলা হবে বলে মনে হয়নি। পাশ দিয়ে একটা রোগা সিঁড়ী উঠে গেছে দোতলায়। সিঁড়ীতে পুরু ধুলো আর অজস্র হাবিজাবি জঞ্জাল। ওপরে উঠে কল্পেশ দেখেছিল গোটা বাড়িটাই আবর্জনার সমুদ্র। কোল্গেটের খাপ, প্লাস্টিকের বাক্স, ফেলে দেওয়া পলিথিন, ভাঙা চিরুনি, মদের বোতল, খাবারের প্যাকেট গোটা বাড়ির অভ্যন্তরে বিন্যস্ত। দোতলা আর তিনতলা জুড়ে ডিপার্টমেন্ট থার্টিন। মাকড়ি কা ঘোসলা। ব্যাস।

    দোতলায় কাউকে না পেয়ে চোরের মতন সিঁড়ী বেয়ে তিনতলায় উঠে সামনের অফিসটায় উঁকি মেরে কল্পেশ মাকড়সার বাসার মাকড়সাটিকে দেখেছিল। টেবিলের ওপর মুখ রেখে ঘুমোচ্ছে অকাতরে। একটা লোক এরকম লোমশ হতে পারে কল্পেশ জীবনেও কল্পনা করেনি, তার ওপর হাট করে দরজা খুলে ডিউটি আওয়ার্সে ঘুম দিচ্ছে, এই কিনা সিক্রেট এজেন্ট বন্ড জেমস বন্ড? সবমিলিয়ে তার মনটা দমে গেল। দরজায় টোকা শুনে মাকড়সার মত চোখেই তাকিয়েছিল সতীশ পট্টনায়েক, তারপর ব্যাঙের মত গলায় জিজ্ঞেস করেছিল কল্পেশ বসু? রাজধানীর ভুয়ো বোম্ব থ্রেট মিশনে সাসপেন্ডেড? দেখি তোমার কাগজ। রাগে গা পিত্তি জ্বলে গেছিল কল্পেশের। এইভাবে কেউ অচেনা লোকের সঙ্গে কথা শুরু করে? কাগজ বাড়িয়ে দিতে দিতে গুমগুমে গলায় বলেছিল, সাসপেন্ড তো হইনি। আমাকে এই ডিপার্টমেন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। একই ব্যাপার, একই ব্যাপার, মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে হাত নেড়ে জবাব দিয়েছিল পট্টনায়েক। তারপর ড্রয়ার টেনে কাগজগুলো গুঁজে দিয়ে বলেছিল, পাশের ঘরে গিয়ে টোকা দাও। একজন সরুমতন ভদ্রমহিলাকে পাবে। উনিই এখানে হেড অফ অপারেশনস। উনি তোমাকে নেক্সট মিশনের জন্য ব্রিফিং দিয়ে দেবেন। যাও ইয়ংম্যান, বলেই টেবিলে পা তুলে চেয়ারে এলিয়ে চোখ বুজে ফেলেছিল সতীশ পট্টনায়েক। কল্পেশ আর কি করে? লোকটার নাকডাকার ক্ষমতায় যুগপৎ অবাক ও বিরক্ত হয়ে ছিটকে বেরিয়ে এসেছিল ঘরটা থেকে। পাশের ঘরের দরজা ঠুকতেই এক পঞ্চাশোর্ধ মহিলা উঁকি দিয়েছিলেন। কল্পেশ সংক্ষেপে জানিয়েছিল ঘটনামালা। মহিলা ফিক করে হেসে ঘরের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরক্ষণেই আবির্ভূত হয়ে কল্পেশের হাতে দুখানা জিনিস ধরিয়ে দিলেন -- একটা ঝাঁটা আর একটা ফাঁকা বালতি। দোতলায় রান্নাঘরটা সাফ করতে হবে। সিঁড়ী দিয়ে নেমে বাঁদিকে। আমি আসছি একটু পরে। দরজা বন্ধ হয়ে গেল। কল্পেশ বোকার মত হাতে বালতি আর ঝাঁটা ধরে দাঁড়িয়ে রইল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:4c1f:4fcc:5117:e9d6:1443:***:*** | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৫৬747250
  • বটে? ইন্টারেস্টিং! চলুক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন