এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নী'অ ঘরণী 

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৫১ বার পঠিত
  • সেই বারান্দা থেকে নিচে নামি না বরং নামা আর ওঠা এক হয়ে যায় আমার শরীর একইসঙ্গে ওপরে আর নিচে থাকে সময় যখন গুলিয়ে যায় মাধ্যাকর্ষণও তার খেলা বদলায় তখন সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ আমাকে অতীতে ফেলে দেয় আবার ভবিষ্যত থেকে টেনে আনে আমি হাঁটতে থাকি এক পায়ে গতকাল আরেক পায়ে আগামীকাল আর মাঝখানে আমার শরীরটি দুলতে থাকে কোনো দোলনায় কোনো নৌকায় কোনো শূন্যে

    পায়ের তলায় মাটি জল নেই আছে শুধু এক ধরনের কাঁচের মতো স্বচ্ছ স্তর যার নিচে আমি দেখি অনেকগুলো জীবন ভেসে বেড়াচ্ছে একটাতে আমি শিশু আরেকটাতে আমি বুড়ি আরেকটাতে আমি মৃত আরেকটাতে আমি এখনো জন্মাইনি আমি সেই কাঁচের ওপর পা ফেলি কাঁচ ফাটে না বরং আমার পায়ের ছাপ হয়ে যায় সেই ছাপ থেকে গাছ গজায় ডালে ফল ধরে সেই ফল খাই আমার শৈশবের মতো আমার হয়ত মায়ের দুধের মতো প্রথম চুম্বনের মতো শেষ নিঃশ্বাসের মতো

    সে দাঁড়িয়ে আছে দূরে কোনো এক জায়গায় যাকে আমি চিনি অথচ নাম দিতে পারি না নাম দেওয়ার অধিকার নেই আমি কেবল দেখতে পাই তার চোখের পাতা দুটো একটু নিচু হয়ে আছে সে ঘুমিয়ে পড়বে সে জেগে আছে দুটোই একসাথে আমি কাছে যাই দূরত্ব কমে না দূরত্ব নিজের ভিতর সন্তান ধারণ করে আরও দূরত্বের জন্ম দেয় আমি থমকে দাঁড়াই ভাবি দূরত্বটাই হয়তো আমাদের সন্তান দূরত্বটাই আমাদের বংশ দূরত্বটাই আমাদের উত্তরাধিকার

    বুড়ি একবার একটি পাথর দেখিয়েছিলেন পাহাড়ের চূড়ায় পাথরটিতে খোদাই করা ছিল এক অদ্ভুত নকশা কখনও সাপের মতো কখনও মাছের মতো পাখির মতো মানুষের মতো বুড়ি বলেছিলেন এই নকশা সময়ের ভাষা সময় নিজেকে এই রকম করে লেখে আমি বুঝতে পারিনি এখন দেখি আমার শরীর জুড়ে সেই একই নকশা বয়ে গেছে আমার হাতের রেখা কপালের ভাঁজ চোখের নিচের কালি সব মিলেমিশে সেই প্যাটার্ন তৈরি করছে প্যাটার্ন পড়ার চেষ্টা করি শুধু অক্ষরগুলো পাল্টে যায় প্রতিবার চোখ ফেরাতেই

    এক বাজারে গিয়ে দাঁড়াই বাজারটি শহরের কোনো এক প্রান্তে যেখানে সবজি আর মাছ আর মসলা আর কাপড় আর গয়না একসাথে বিক্রি হয় অথচ বিক্রেতাদের মুখ দেখে মনে হয় তারা সবাই একই ব্যক্তি মুখোশ বদলায় আমি এক বিক্রেতার কাছে জিজ্ঞেস করি এটা কোন শহর বলে শহরের নাম প্রতিদিন বদলায় মহাভারত কালকে ফেসবুক গুগল ম্যাপ বলি এসব নাম আমি চিনি না সে বলে তুমি চিনবে না তুমি নিজেই একটি নাম যার অর্থ কেউ বোঝে না

    বাজার থেকে এক মুঠো চাল কিনি চালের দানা গুনতে গুনতে দেখি প্রতিটি দানার গায়ে লেখা একটি করে অক্ষর সেই অক্ষরগুলো সাজিয়ে পাই একটি বাক্য আমি কখনো ভালোবাসিনি আমি কখনো ঘৃণা করিনি আমি কেবল দেখেছি আমি চালের দানা মুখে দেই চিবিয়ে খাই অক্ষরগুলো পেটের ভিতর গিয়ে জ্বলতে থাকে আগুন হয়ে যায় সেই আগুন ভিতর থেকে পোড়ায় সেই দহনকে উপভোগ করি দহনের ভিতর দিয়ে পবিত্রতা আসে

    একটি ছেলে এসে দাঁড়ায় তার হাতে মোবাইল ফোন ফোনটা বেজে চলেছে ফোন রিসিভ করে না তাকিয়ে থাকে আমার দিকে বলি ফোন বাজছে সে বলে ওটা ফোন নয় হৃদয় বলি হৃদয় আবার বাজে কি সে বলে বাজে যখন কেউ কাছাকাছি আসে আমি কি কাছাকাছি বলে তুমি এত কাছে যে তুমি আমার ভিতরে আমি সেই ছেলের চোখে তাকাই দেখি তার চোখের মণিতে মুখ প্রতিবিম্বিত হচ্ছে অথচ সেটা আমার মুখ নয় সেটা তার মুখ ভাবি এই প্রতিবিম্বের খেলায় কে কাকে দেখছে আমি কি তাকে সে আমাকে দেখছে নাকি আমরা দুজনেই কাউকে দেখছি না

    স্বামীদের কথা মনে পড়ে তাদের একজন একবার একটি যন্ত্র এনেছিল সময় মাপা যায় আমার হাতে দিয়ে বলেছিল ধরো তুমি এখন সময়ের মালিক যন্ত্রটি হাতে নিয়ে দেখি এতে কোনো কাঁটা নেই ডায়াল কোনো সংখ্যা নেই আছে কেবল ফাঁকা জায়গা আমি আঙুল রাখি আঙুল অদৃশ্য হয়ে যায় আরেক আঙুল রাখি সেও অদৃশ্য হয়ে যায় ধীরে ধীরে সমস্ত হাত অদৃশ্য হতে থাকে যন্ত্রটি ফেলে দিই মাটিতে পড়ে ভেঙে যায় টুকরো থেকে এক ঝাঁক প্রজাপতি উড়ে বেরিয়ে আসে আকাশে মিলিয়ে যায় আমি ভাবি এটাই সময়ের সত্য রূপ কখনো মাপা যায় না উড়ে যায় চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় ফাঁকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকি

    ফিরি বাড়ি বলতে একটি ঘর চার দেওয়ালে আয়না লাগানো আয়নাগুলোতে নিজেকে দেখি কয়েকশো বার কয়েকহাজার বার সব আমাকে একসাথে দেখতে পারি না সবগুলো আমিই একই সময়ে নড়াচড়া করে মাথা ঘুরিয়ে ফেলি চোখ বন্ধ করি খুলে দেখি আয়নাগুলো এখন ফাঁকা তাতে কোনো প্রতিবিম্ব নেই আছে কেবল ফাঁকা কাঁচ সেই কাঁচে মুখ ঘষি ত্বকের তেল লেগে আয়নাগুলো মেঘলা হয়ে যায় সেই মেঘলায় আঙুল দিয়ে লিখি আমি আছি আমি ছিলাম আমি থাকবো লেখাগুলো শুকিয়ে যায় অদৃশ্য হয় আমি জানি তারা আছে দেওয়ালের গায়ে সময়ের গর্ভে

    সে মধ্যরাতে অথবা মধ্যরাত নয় ভোররাতে অথবা ভোর নয় গভীর রাতে আমি জানি না ঘড়ি নেই সময় নেই আসে তার আসার শব্দ নেই পায়ের আওয়াজ নেই কেবল এক ধরনের গন্ধ চন্দনের গন্ধ অথবা চন্দন নয় বৃষ্টির গন্ধ অথবা বৃষ্টি নয় মাটির গন্ধ সেই গন্ধ অনুসরণ করি নাকে টেনে আমার নাসারন্ধ্র দিয়ে মগজে যায় মগজ থেকে হৃদয়ে হৃদয় থেকে শরীরে সেই গন্ধে মেতে থাকি ই গন্ধে ভেসে যাই আমি সেই গন্ধের ভিতর ছুঁতে চাই ছোঁয়া যায় না গন্ধ কখনো ধরা যায় না

    বিছানায় আজ রাতে কে আছে কে নেই জানি না চোখ মেলি দেখি পাশে একটি শূন্যতা যার আকার মানুষের মতো উষ্ণতা মানুষের মতো নিঃশ্বাস মানুষের মতো সেই শূন্যতাকে জড়িয়ে ধরি শূন্যতা সাড়া দেয় না কেবল শূন্য থেকে যায় বলি কেন সাড়া দাও না শূন্যতা বলে আমি তোমার কল্পনা আমি কাঙ্খা আমি তোমার ব্যথা আমি সাড়া দিলে বাস্তব হয়ে যাই আমি মরে যাই বলি তাহলে তুমি মরো না থাকো যেমন আছো শূন্যঅধরা থেকো অপূর্ণ থেকো অসম্পূর্ণতাই আমার প্রাপ্তি

    বুড়ির শেষ কথা ছিল মাটির নিচে অনেকগুলো ঘর আছে মানুষ বাস করেকোনো জানালা নেই দরজা নেই তবু তারা আলো দেখে তারা আলো নয় অন্ধকার দেখে অন্ধকার তাদের চোখ জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই ঘরগুলো কোথায় বুড়ি হেসে বলেছিল এই মাটির নিচেই তোর পায়ের তলায় তখন মাটি খুঁড়েছিলাম পাইনি এখন বুঝি মাটির নিচে মানে অন্য মাটি অন্য গ্রহ অন্য আকাশ অন্য সব

    এখন একটি নদীর ধারে বসে আছি নদীটি বইছে উল্টো দিকে জল ওপরে উঠছে নিচে নামছে না নদীর নাম জিজ্ঞেস করি মাঝি বলে এই নদীর নাম কালী অথবা গঙ্গা অথবা গঙ্গা নয় সময় বলি সময় আবার নদী হয় কি মাঝি বলে সময় সব হয় পাথর হয় গাছ হয় পাখি হয় মানুষ হয় আবার নদী হয় নদীতে হাত ডুবাই হাত শুকিয়ে যায় আমি জল তুলতে চাই জল কখনো ওঠে না নিচেই থাকে সেই জলের দিকে তাকাই জলের ভিতর তার মুখ ভাসছে চিৎকার করে বলি বেরিয়ে এসো বলে আমি বেরোতে পারি না আমি জল আর জল কখনো শুকায় না কেবল বাষ্প হয় আকাশে ওড়ে আমি বলি তাহলে ওড়ো আকাশে সে বলে ওড়ার সময় এখনো আসেনি বলি কখন আসবে বলে যখন তুমি আর তাকাবে না আমার দিকে

    তাকানো বন্ধ করি না শুধু চোখ বন্ধ করি চোখের পাতার ভিতরেও তার মুখ আছে কপালে হাত দিই কপালের ভিতরেও তার মুখ আছে ক চেপে ধরি বুকের ভিতরেও তার মুখ আছে ভাবি এই মানুষটি কোথায় নেই শরীরের কোন কোষে কোন অণুতে কোন পরমাণুতে সে লুকিয়ে নেই তাকে বার করতে চাই অস্ত্রোপচার করে বের করতে চাই অস্ত্রোপচার মানে কাটা খোঁড়া নিজেকে শেষ করা আমি শেষের পথে যাই না বরং তাকে নিয়ে বাঁচি বুকের ভিতর পাথর বানিয়ে

    সকালে এক পাখি এসে বসেছিল জানালায় ঠোঁটে একটি চিঠি চিঠিতে লেখা কিছুই ছিল না শুধু দাগ কয়েকটি দাগ সেই দাগ বুঝতে চেষ্টা করি দাগগুলো নড়াচড়া করে বর্ণমালা তৈরি করে বলে যা খুঁজছ তা নিজেই আমি চিঠি ছিঁড়ে ফেলি টুকরোগুলো বাতাসে উড়ে ঘুরতে ঘুরতে মিলিয়ে যায় আকাশে আকাশের দিকে তাকাই আকাশ আজ ধূসর মেঘ নেই বৃষ্টি নেই রোদ আছে কেবল ধূসর এক বিস্তীর্ণ ধূসর যা আমাকে গ্রাস করে নেয়

    হাতের পানের দাগটি এখন কপালে চলে গেছে কখন গেছে জানি না আয়নায় দেখি কপালের মাঝখানে একটি লাল দাগ তৃতীয় চোখ যেন কোনও তান্ত্রিক আঁচল কোনও অভিশাপ সেই দাগ ঢাকতে চাই চুল ফেলে দেই দাগ ঢাকে না চোখ বন্ধ করি দাগ দেখতে পাই জিজ্ঞেস করি তুমি কী দাগটি বলে আমি তোমার প্রথম দেখার চিহ্ন আমি তোমার শেষ নিঃশ্বাসের স্বাক্ষর তোমার ভালোবাসার প্রমাণ দাগটিকে চুম্বন করি দাগটি ফুলে ওঠে লাল থেকে নীল হয় নীল থেকে কালো হয় কালো থেকে স্বচ্ছ হয় স্বচ্ছ থেকে অদৃশ্য হয় হাত বুলাই কপালে দাগ নেই কপাল মসৃণ কিছু ছিল না যেন কোনোদিন কাউকে দেখিনি যেন কোনোদিন ভালোবাসিনি আমি ভয় পেয়ে যাই দাগ ফিরিয়ে আনতে চাই ডাকি দাগ দাগ দাগ দাগ ফিরে আসে না

    সবাই মিলে ঘিরে ধরে বলে আমরা তোর জন্য একটি নতুন শহর বানাবো যেখানে তোর সব ইচ্ছে পূরণ হবে আমি বলি আমার একটাই ইচ্ছে তারা বলে কী বলি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা বলে এটাই ইচ্ছে আমি বলি হ্যাঁ তারা চলে যায় শহর বানাতে আর ফেরে না তাদের অপেক্ষায় বসে থাকি একা একা অপেক্ষা করতে করতে ভুলে যাই কীসের অপেক্ষা ভুলে যাই কেন এখানে বসে আছি ভুলে যাই আমি কে

    এক বৃদ্ধা এসে আমার পাশে বসে তার মুখ দেখে মনে হয় সে আমি নিজেই বৃদ্ধা বলে আমি তোর গল্প জানি বলি আমার গল্প কী বৃদ্ধা বলে তুই একজন রাজার স্ত্রী ছিলেন পাঁচ রাজার স্ত্রী ছিলেন তুই অরণ্যে বাস করেছেন তুই অপমানিত হয়েছেন তুই প্রতিশোধ নিয়েছেন তুই স্বর্গে গেছেন তুই মর্ত্যে ফিরেছেন তুই আবার অরণ্যে গেছেন বলি এসব সত্যি না মিথ্যে বৃদ্ধা বলে সত্যি মিথ্যে একই জিনিস তুই শুধু গল্প হয়ে আছি বলি তাহলে এই গল্পের শেষ কোথায় বৃদ্ধা বলে গল্পের শেষ হয় না গল্প কেবল মাঝখানে ঘুরতে থাকে যেন একটি চাকার মতো একটি কুণ্ডলীর মতো একটি সাপের মতো যে নিজের লেজ খায়

    বৃদ্ধার হাত ধরি তার হাত শীর্ণ শুকনো কাগজের মতো সেই কাগজে কিছু লিখতে চাই কলম নেই রক্ত নেই আঙুল কামড়ে রক্ত বের করি সেই রক্তে লিখি হাতের তালুতে লেখা শুকিয়ে যায় অদৃশ্য হয় বৃদ্ধা বলে কী লিখলি বলি লিখেছি তাকে ভালোবাসি বৃদ্ধা বলে সে কে জানি না বৃদ্ধা বলে তাহলে কী ভালোবাসলি বলি নামহীনকে ভালোবাসা বৃদ্ধা চলে যায় তার পথ ধুলো উড়ায় সেই ধুলো চোখে পড়ে অন্ধ হয়ে যাই অন্ধ অবস্থাতেও তাকে দেখি দেখার জন্য চোখ লাগে না লাগে মন আর মন চিরকাল থাকবে

    অন্ধ হয়ে ঘুরতে থাকি এক শহর থেকে অন্য শহরে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে তুমি কে আমি সেই নারী যে একবার দেখেছিল এক পুরুষকে যে দাঁড়িয়েছিল এক পথের মোড়ে তাকিয়েছিল একবার আমার দিকে নাম জানত না আমি আর আমি জানতাম না তার নাম মানুষ বলে তাহলে এত বছর কেন ঘুরছি বলি আমি তার নাম খুঁজছি মানুষ বলে নাম না জানলে কীভাবে খুঁজবে বলি নামহীন জিনিস - খুঁজতে হয় নামহীন পথে নামহীন ভাষায় নামহীন চোখে মানুষ চুপ করে যায় বুঝতে পারে না আমিও শুধু হাঁটতে থাকি হাঁটতে থাকি হাঁটতে থাকি

    সময়ের এক কোণে একটি ঘড়ি পাই থেমে আছে কাঁটা দুটো একটার ওপর আরেকটা পড়ে আছে তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেছে তারা কখনো আলাদা হবে না ঘড়িটি কানে দি শব্দ নেই মৃত ঘড়িটি বুকের ভিতর রাখি ঘড়িটি চলতে শুরু করে তার টিক টিক শব্দ আমার হৃদয়ের স্পন্দনের সাথে মিশে যায় বুঝতে পারি সময়ের আসল রূপ সময় বাইরে নয় ভিতরে ঘড়ির কাঁটায় নয় হৃদয়ের স্পন্দনে সেই স্পন্দন গুনতে থাকি এক দুই তিন চার পাঁচ ছয় সাত আট নয় দশ এগারো বারো তেরো চৌদ্দ পনেরো ষোলো সতেরো আঠারো উনিশ বিশ একুশ বাইশ তেইশ চব্বিশ পঁচিশ ছাব্বিশ সাতাশ আটাশ উনত্রিশ ত্রিশ একত্রিশ বত্রিশ তেত্রিশ চৌত্রিশ পঁয়ত্রিশ ছত্রিশ সাঁইত্রিশ আটত্রিশ উনচল্লিশ চল্লিশ একচল্লিশ... সংখ্যাগুলো মিলিয়ে যায় একসময় আমি কেবল শব্দ শুনি টিক টিক টিক টিক টিক টিক টিক টিক সেই টিকে আমি খুঁজি তাকে সেই টিকেই আমি বাঁচি

    শেষ পর্যন্ত পৌঁছাই একটি মাঠে একটি মাত্র গাছ দাঁড়িয়ে গাছটিতে একটি দোলনা দোলনায় কেউ নেই দোলনা দুলছে আমি দোলনায় বসি দোলনা আমাকে নিয়ে উড়ে যায় আকাশে নিচে তাকাই দেখি পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে মানুষগুলো পিপীলিকার মতো বাড়িগুলো দানার মতো নদীগুলো সুতার মতো আমি চিৎকার করি পড়ে যাচ্ছি কেউ শোনে না দোলনা ছেড়ে দিই দোলনা ফিরে যায় গাছে আমি পড়তে থাকি শূন্যে পড়তে পড়তে মনে পড়ে প্রথম দেখা সেই প্রথম আলো সেই প্রথম দৃষ্টি চোখ বন্ধ করি খুলি দেখি আমি আবার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বারান্দার রেলিং ধরে নিচের পথে সে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের দৃষ্টি মিলিত হয় আমি হাসি সে হাসে। আমরা জানি এই দৃশ্য কতবার দেখেছি কতবার দেখবো তবুও প্রতিবার নতুন প্রতিবার প্রথম শেষ প্রতিবার

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন