এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • জামায়াতের কার্যকরী নির্বাচনী কৌশলে দেশের বাছাইকৃত এলাকায় চমকের গল্প।

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৭ বার পঠিত
  • জামায়াতের কার্যকরী নির্বাচনী কৌশলে দেশের বাছাইকৃত এলাকায় চমকের গল্প।

    সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী জামায়াতের কথা পুরনো গল্প। প্রায় শতবছরের পুরনো দল হিসাবে অন্তত তিন বার নিষিদ্ধ হবার পর ও নানা কলা কৌশল ও পরিকল্পনায় নিজেদের টিকিয়ে রাখতে নানা মুখি সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা নিতে হয়েছে। আজো তার ব্যতিক্রম নয়। গতকাল হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ক্ষমতার খুব নিকটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখার ও যথেষ্ট কারণ ও ছিলো। কখনো প্রধান বিরোধী দলের বেঞ্চে না বসতে পারার আক্ষেপ ও ছিলো দীর্ঘদিন ধরে, যা প্রথম বার পুরন হতে চলেছে। এবার মুল আলোচনায় আসি। জামায়াতের প্রাপ্ত আসনের দিকে এবার নজর রাখি। নিচের ম্যাপে যা স্পষ্ট হতে বাধ্য। ভারতের শরীর ঘেষা এলাকা গুলোতে জামায়াতের সফলতা চমকপ্রদ অজানা রহস্যের বিষয়। আমি নিশ্চিত নই তবে আমি হয়তো তাদের ধারণার খুব কাছাকাছি যেতে পেরেছি। স্বীকৃত ধনাঢ্য দলটি ভোটের বাজারের দখল টা হাতছাড়া করতে চাইবে না। স্বাভাবিক ভাবে আমরা জানি যে উত্তরের এলাকা ও সীমানা ঘেষা এলাকা গুলো সবসময়ই উন্নয়নে অবহেলিত যার ফলে সেখানকার মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয় এবং গরীব মানুষের মনে আল্লাহ ভীতি সবচেয়ে বেশি হয়। জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে কেউ মনে করি না। টাকা আর ধর্ম। অভাবী মানুষের কাছে দুটোই সমান লোভনীয়। যা বি এন পির নীতিনির্ধারণী মহলের মাথা মোটা চিন্তার নাগালের ভেতরে কখনো ছিলো না। ছিলো না গবেষণা, প্রস্তুতি কিংবা ধারণা।  গড়পড়তা পুরনো ধ্যান ধারণা নিয়ে পড়ে থাকা বি এন পি তাই এসব এলাকায় লজ্জাজনক ব্যবধানে পরাজয়ের মুখ দেখে।  জামায়াতের চক্ষু সেখানেই ছিলো। একটা দলের পরিকল্পনা থাকাটা জরুরি, যা বাস্তবায়ন করতে হয়। নির্বাচনের আরও অনেক আগে থেকে এসব এলাকায় জামায়াতের শান্ত, মাথায় টুপি পরা নামাজ পড়া কর্মী বাহিনী এবং বিশেষ করে মহিলা কর্মী রা দিনরাত তাদের মিশনে অজস্র সময় কাটিয়েছে। নারী ভোটারদের কাছে জান্নাতের লোভনীয়া সুযোগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান এবং টাকা পয়সা সহ উপহার সামগ্রী দিয়ে আস্থার যায়গা বানানোর অনেক পরে বি এন র নেতা কর্মী রা এসব সাধারণ মানুষের কাছে যেতে পেরেছিল যা খুব একটা ফলদায়ক হয়নি। আমরা যদি খেয়াল করি সমাজের উন্নতির রমরমা যেখানে, শিক্ষিত মানুষের হার বেশি যেখানে, অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বি এলাকায় জামায়াতের এই ধর্ম আর টাকার ফর্মুলা ফলপ্রসূ যে হবে না তা জামায়াতের জানা ছিলো তাই সেসব এলাকায় জামায়াতের টার্গেট ছিলো না ফলে সেসব এলাকায় তারা কম লব্দি করেছে বা লব্দি করেও ভালো ফল পায়নি।  এই রাজনৈতিক জ্ঞান চর্চা দোষের নয়। পলিসিতে পাপ নেই। রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য যদি ক্ষমতা হয় তাহলে খেলার মাঠে সব কিছু হালাল।
    আমি যদি এবার সেই এলাকার নাম গুলো আরেক বার স্বরন করে দেই তাহলে আসে নীলফামারি, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুস্টিয়া, ঝিনাইদহ,  সাতক্ষীরা, যশোর, চাপাই, জয়পুরহাট,  গাইবান্ধা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। প্রায় সবগুলোই সীমান্ত এলাকায়, অনুন্নত, সহজ সরল, অভাব, প্রান্তিক কৃষক, ধর্মভীরু মুসলমান দের বসবাস। এবার পাঠক মিলিয়ে নিতে পারেন।  নির্বাচনের পুর্বের দুটো রাত ছিলো টাকা দিয়ে ভোট কেনার রাত। ঠাকুরগাওয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে ধরা পড়ে গেলে হইচই পড়ে যায় মিডিয়াতে। একে একে খবর আসতে থাকে আরও কয়েকটি জেলায়। জামায়াতের টাকা দিয়ে ভোট কেনার এই অসাধু খবর জামায়াতের জন্য একটা খারাপ ন্যারেটিভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ততদিনে জামায়াতের কার্য সিদ্ধি হয়েছে। যার ফলস্বরূপ এসব এলাকায় লুফে নেয় তাদের পরিকল্পনা। গরীব, অসহায় মানুষের কাছে নগদ টাকা আর জান্নাতে যাওয়ার সহজ উপায় হাতছাড়া করতে লোভ সংবরণ করতে না পারায়, তার প্রতিদান ভোটের বাক্স ভরে দিয়েছে জনগণ।  জামায়াতের এই আইডিয়া বিজ্ঞানীর কাছে চির কৃতজ্ঞ জামায়াত। যদি ও এটাই তাদের সফলতার প্রধান কারণ নয়। কিন্তু অবহেলা করার ও উপায় হয়তো নেই। দ্বিমত থাকতে পারে কারো কিন্তু যুক্তির বিচারে আমি অবিচল। প্রমানিত বিষয়, হয়তো জামায়াত ও মুচকি হেসে গোপনে গুপ্ত সুখ অনুভব করতে চাইবে।
    # লতিফুর রহমান প্রামাণিক
    লেখক, আইনজীবী।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন