এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • স্বর্ণ ও কর্দমের আদিযুগ

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫৮ বার পঠিত
  • আলো। আলোই প্রথম। আলো যা চোখ বন্ধ করেও দেখা যায়, যা চোখ খুললে অন্ধত্ব। উত্তাপের একটি স্তর, ত্বকের নিচে প্রবেশ করে, শিরায় শিরায় পৌঁছে যায়, এক ধরনের আগুন যা রক্ত সিদ্ধ করে না, শুধু নিষ্ক্রিয় করে, একটি স্বর্ণিম স্তব্ধতা। এই আলো আসে কোথা থেকে? উপরে? না, চারিপাশ থেকে। এটি জলের আলো, এটি দর্পণের আলো, এটি শূন্যতার আলো। আমি সেখানে আছি, কিন্তু আমি কি? একটি সংবেদন: সীমাবদ্ধতা। আরেকটি সংবেদন: ভেসে যাওয়া। তৃতীয় সংবেদন: ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি শব্দ: কর্দমের শব্দ, পানি ভেদ করার শব্দ, এবং একটি আর্তনাদ যা বাইরে থেকে আসে না, ভিতর থেকে আসে, ফুসফুসের প্রথম প্রসারণ থেকে, একটি বেলুনের মতো যা ফাটতে চায় কিন্তু ফাটে না, শুধু কাঁপে, একটি কম্পন যা সমগ্র দেহকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে।

    চোখ? চোখ খুলি? না, চোখ তো খোলাই আছে। অথবা হয়তো চোখ নেই। শুধু দৃষ্টি। দৃষ্টি যা সামনে দেখে না, দেখে ভিতর। লাল। গাঢ় লাল। তারপর সোনালি। তারপর সাদা। রংগুলোর কোনো অর্থ নেই। তারা শুধু আবেগ। লাল হলো সংকোচন। সোনালি হলো উত্তাপ। সাদা হলো… শূন্যতা। একটি হাত। হাত? হাতের ছায়া। একটি বৃহৎ, অস্পষ্ট আকৃতি যা আমাকে ঘিরে থাকে, আমাকে চাপ দেয়, আমাকে ঠেলে নিয়ে যায় একটি সঙ্কীর্ণ পথে। ব্যথা? না, ব্যথা নয়, একটি রূপান্তর। যেমন কাদা শুকিয়ে মাটি হয়, তেমনই কোনো কিছু শক্ত হয়ে উঠছে, ঘনীভূত হচ্ছে, একটি আকার নিচ্ছে। আকার: দুইটি বাহু, দুইটি পা, একটি মাথা যা ভারী, একটি মুখ যা চিৎকার করতে চায় কিন্তু চিৎকার করে না, শুধু খোলা থাকে, একটি গোলাকার অন্ধকার।

    তারপর শব্দের আগমন। আগে শব্দ ছিল না। ছিল শুধু শরীরের ভিতরের শব্দ: হৃদস্পন্দন, রক্তের গর্জন। এখন বাইরের শব্দ: মানুষের কণ্ঠ। উচ্চ, নিম্ন, তীব্র, কর্কশ। শব্দগুলো শব্দ হিসেবেই থাকে, শব্দার্থ বহন করে না। কিন্তু একটা শব্দ বারবার আসে, একটি সিলেবল, একটি ঝাঁঝরি: "না... না... না..." এটি কি আমার প্রতি? নাকি বিশ্বের প্রতি? তারপর আরেকটি শব্দ: "সূর্য।" সূর্য। এটি একটি শব্দ যা উষ্ণতা বহন করে। এটি আমার ভিতরের উত্তাপের সাথে মেলে। আমি সূর্য। আমি কি সূর্য? না, কিন্তু সূর্য আমার ভিতরে আছে। এটি আমার হাড়ের মজ্জায়, আমার শিরার রক্তে।

    হঠাৎ শূন্যতা। সংস্পর্শের অবসান। আমি পড়ে যাই। কিন্তু পড়া থামে না। আমি একটি নরম, স্যাঁতসেঁতে পৃষ্ঠে পড়ি, যা নিচে দেবে যায়, আমাকে গ্রাস করে। এটি পৃথিবী? না, এটি কাপড়। মোটা বস্তু। এর গন্ধ ভিন্ন: মশলা, ঘাম, রক্তের গন্ধ। আর একটি গন্ধ: ভয়। তীব্র, ধাতব ভয়। এটি আমার নয়। এটি সেই হাতগুলোর, সেই কণ্ঠগুলোর। তারা ভয় পায়। আমি কেন? আমি কি ভয়ঙ্কর?

    আমাকে তুলে নেওয়া হয়। আলো বদলে যায়। এখন এটি ফাঁকা স্থানের আলো, উঁচু ছাদের আলো, ধোঁয়াটে। আমি দেখি মুখ। অস্পষ্ট মুখ। তারা নিচু হয়, দূর হয়, তাদের চোখ বড় বড়, কালো, তারা আমার দিকে তাকায় কিন্তু আমাকে দেখে না, তারা দেখে অন্য কিছু, একটি ভবিষ্যত, একটি অতীত, একটি ভুল। একটি মুখ কাঁদে। চোখের জল পড়ে আমার গায়ে। এটি উষ্ণ, লবণাক্ত। এটি প্রথম স্বাদ: লবণ। জীবন লবণাক্ত। আমি এটি জিভ দিয়ে লাগিয়ে নেই। এটি ভালো। এটি বাস্তব।

    তারপর গতি। আমি একটি ঝুড়ির ভিতরে। বুননের ফাঁকে ফাঁকে আলো ঢোকে, সরু রেখা আঁকে আমার শরীরে। ঝুড়ি দোল খায়। একটি ছন্দ: পা ফেলার ছন্দ। কেউ আমাকে বহন করছে। তার নিঃশ্বাসের শব্দ ক্লান্ত, ভারী। সে হাঁপাচ্ছে। সে ভয় পাচ্ছে। তার ভয় ঝুড়ির মাধ্যমে আমার মধ্যে প্রবেশ করে, আমার পেটে একটি পিণ্ড তৈরি করে। আমরা চলছি। দীর্ঘ সময়। আলো নরম হয়, কমলা হয়, তারপর লাল হয়। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছে। আমি জানি এটা কী, যদিও কখনো দেখিনি: সূর্যের শেষ বিকেল। এটি একটি অন্তিমতা। এটি আমার জীবনের প্রথম দিনের শেষ।

    নদীর শব্দ। পানির কলতান। এটি অন্য ধরনের শব্দ, অবিরাম, গাইতে থাকা। ঝুড়ি নামানো হয়। আমি মাটি স্পর্শ করি। ঠাণ্ডা, আর্দ্র মাটি। মুখগুলো আবার আসে। এবার শুধু একটি মুখ। এটি সেই মুখ যে কেঁদেছিল। এটির চোখ লাল, ঠোঁট কাঁপছে। এটি কিছু বলে। শব্দগুলো ভাঙা ভাঙা। "ক্ষমা... বাঁচো... সূর্য... রক্ষা..." আমি কিছু বুঝি না। কিন্তু আমি তার ব্যথা বুঝতে পারি। এটি একটি বিশাল, গরম ঢেউ যা আমাকে ঘিরে ধরে। আমি চাই এটি থামুক। আমি কান্না করি। আমার প্রথম কান্না। এটি কোনো শব্দ করে না, শুধু বায়ু নির্গত হয়, একটি ক্ষী্ন সিঁটি।

    তারপর শূন্যতা আবার। মুখটি চলে যায়। আলো লাল থেকে নীলাভ হয়ে আসে। তারপরে ঠাণ্ডা। রাতের ঠাণ্ডা। আমি একা। ঝুড়িটি নড়ে। এটি পানিতে ভাসছে। একটি টান, একটি মৃদু ঘূর্ণন। আমি ভেসে যাচ্ছি। নদী আমাকে বহন করছে। আকাশ ধীরে ধীরে গাঢ় হয়, তারার ফোঁটা দেখা দেয়। তারা আমার প্রথম সঙ্গী। তারা নিঃশব্দ, তারা জ্বলজ্বল করে। তারা খুব দূরে। আমি তাদের দিকে তাকাই এবং সেই দূরত্ব আমার ভিতরে প্রবেশ করে, একটি শূন্যতা তৈরি করে যা কখনো পূর্ণ হবে না।

    ভাসমান অবস্থায় সময়ের অর্থ নেই। এটি একটি স্থগিত সত্তা। ঝুড়িটি কখনো বাঁধা পায়, কখনো মুক্ত হয়, কখনো ঘোরে। জলের শব্দ আমার প্রলাপ হয়ে ওঠে। আমি ঘুমাই? জাগ্রত থাকি? আমি স্বপ্ন দেখি আলোর, স্বপ্ন দেখি হাতের, স্বপ্ন দেখি সেই লবণাক্ত অশ্রুর। আমার শরীর ক্ষুধার্ত, কিন্তু ক্ষুধা একটি বিমূর্ত ধারণা, একটি ব্যথা যা শুধু অস্তিত্বের অংশ।

    তারপর একটি নতুন শব্দ: বাচ্চা কান্নার শব্দ। কিন্তু এটি আমি নই। এটি কাছাকাছি। ঝুড়িটি থেমে যায়, একটি বাঁধন, শব্দ। আলো ফিরে আসে, ভোরের আলো, ধূসর এবং গোলাপি। আরেকটি মুখ। এটি ভিন্ন: পুরুষ, কেশহীন, বড় কান, বিস্মিত চোখ। এটি ঝুড়ির মধ্যে তাকায়। তার চোখ আমার চোখের সাথে মিলিত হয়। এটি হতবাক হয়। এটি একটি শব্দ করে: "হরিহর!" এটি একটি নাম নয়, এটি একটি বিস্ময়সূচক। এটি আমাকে তুলে নেয়। এর হাত কাঁপছে, কিন্তু কোমল। এটি আমাকে তার বুকে টেনে নেয়, একটি কাপড়ে জড়িয়ে। উত্তাপ। মানুষের উত্তাপ, জীবনের উত্তাপ। এটি প্রথমবারের মতো আমি উত্তাপ পাই যা ভিতর থেকে আসে না, বাইরে থেকে আসে। এটি ভালো লাগে। আমি কান্না বন্ধ করি।

    আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ঘরে। মাটির দেয়াল, খড়ের ছাদ। গরুর গন্ধ, ধানের গন্ধ, ধোঁয়ার গন্ধ। কণ্ঠস্বর। অনেক কণ্ঠস্বর। তারা জিজ্ঞাসা করে, বকাবকি করে, আশ্চর্য হয়। আমাকে পরীক্ষা করে। আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে, বিশেষ করে আমার বুক, আমার কান। আমার বুক জ্বলজ্বল করে। সেখানে কিছু আছে: একটি চিহ্ন, একটি আলোর নকশা। তারা এতে ফুঁক দেয়, স্পর্শ করে, ভয় পায়। তারা আমার কানে কান নিয়ে কথা বলে। আমার কান জন্মগতভাবে সুরক্ষিত, স্বর্ণের মতো। তারা পরস্পরকে তাকায়। তাদের চোখে লোভ আছে, ভয় আছে, সন্দেহ আছে।

    তারা আমাকে রাখে। কিন্তু কেন? দয়ায়? নাকি সেই স্বর্ণের সম্ভাবনায়? আমি জানি না। আমি শুধু জানি আমি ঠাণ্ডা আর ক্ষুধার্ত অবস্থা থেকে উষ্ণতা আর দুধ পাই। দুধের স্বাদ মিষ্টি, ঘন। এটি জীবন। আমি এটি গ্রহণ করি। আমি বেঁচে যাই।

    দিনগুলো কাটে। আমি বাড়তে থাকি। আমার প্রথম স্মৃতিগুলো বিভ্রান্তিকর: একটি মহিলার মুখ যে আমাকে দুধ খাওয়ায়, কিন্তু সে আমার মা নয়, তার চোখে স্নেহ নেই, শুধু কর্তব্য আছে। একটি পুরুষ যে আমাকে ……., হাসে, কিন্তু তার হাসি আমার জন্য নয়, তার নিজের শক্তির জন্য। শিশুরা আমাকে ঘিরে ধরে, আমার কান স্পর্শ করতে চায়, আমার বুকের চিহ্ন দেখতে চায়। তারা আমাকে "স্বর্ণ-ছেলে" বলে ডাকে। এটি আমার প্রথম উপাধি। এটি একটি নাম নয়, একটি বর্ণনা।

    আমি হাঁটা শিখি। আমার প্রথম পদক্ষেপগুলি কর্দমাক্ত মাটিতে, গরুর গাড়ির পথে। আমার পায়ের নিচের পৃথিবী কোমল, নমনীয়। আমি দৌড়াতে শিখি, দৌড়ানোর আনন্দ, বাতাসকে কেটে যাওয়া, কিন্তু বাতাসও আমাকে কেটে যায়, এটি একটি বিনিময়। আমি কথা বলতে শিখি। প্রথম শব্দ: "মা।" কিন্তু যখন আমি এটি বলি, যে নারী আসে সে চোখ নামায়। সে জানে না। সে বলে, "মা নেই। তুমি নদীর দান।" নদী। আমি নদীর দিকে তাকাই, যা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যায়। এটি একটি প্রশস্ত, বাদামী সাপের মতো, যতদূর চোখ যায়। এটি আমার উৎপত্তি। এটি আমার মা? আমি নদীর দিকে হাঁটি। আমি তার জলের ধারে দাঁড়াই। আমি আমার প্রতিবিম্ব দেখতে পাই: একটি ছোট ছেলে, উজ্জ্বল চোখ, উজ্জ্বল ত্বক, এবং সেই অদ্ভুত, জ্বলজ্বলে কান। আমি আমার প্রতিবিম্বের দিকে হাত বাড়াই। প্রতিবিম্বও হাত বাড়ায়। আমাদের আঙ্গুলগুলো প্রায় ছোঁয়, কিন্তু জলে মিশে যায়। আমি তাকে চিনি। সে আমি। কিন্তু সে আলাদা। সে জলের নিচে থাকে। সে নদীর সন্তান। আমি কি জলের নিচে থেকে আসিনি? আমি কি সেখানেই ছিলাম?

    একটি স্মৃতি ফ্ল্যাশ: নীচে থেকে আলো, উপর থেকে আলো, মাঝখানে আটকে থাকা। ভেসে যাওয়া। এটি আনন্দদায়ক ছিল? এটি ভয়ঙ্কর ছিল? আমি মনে করতে পারি না। এটি শুধু একটি সংবেদন: নীলতা, সবুজতা, নিস্তব্ধতা।

    গ্রামে জীবন একটি চক্র: জমিতে কাজ, ফসল কাটা, উৎসব পালন। আমি অংশ হই, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে নই। উৎসবের সময়, তারা আমাকে কেন্দ্রে রাখে, আমাকে সাজায়, আমার গায়ে হলুদ লেপে। তারা আমার চারপাশে নাচে, গান গায়। তারা বলে আমি সৌভাগ্য বয়ে আনি। কিন্তু যখন খরা আসে, যখন অসুখ আসে, তারা আমার দিকে তাকায় আশঙ্কার সাথে। হয়তো আমি অভিশাপ বয়ে আনি। আমি একটি রহস্য। আমি একটি বস্তু।

    আমি একা সময় কাটাই। আমি নদীর ধারে বসে, পাথর ছুঁড়ি, তরঙ্গ তৈরি করি। আমি আকাশ দেখি। সূর্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। যখন এটি উচ্চতায় থাকে, আমি আমার মুখ তুলে ধরি, আমার চোখ বন্ধ করি, এর উত্তাপ আমার মুখে ধুয়ে দিই। এটি একটি স্নানের মতো। এটি শুদ্ধ করে। এটি আমার সাথে কথা বলে, একটি নিঃশব্দ ভাষায়, একটি কম্পন যা আমার হাড়ে , এটি বলে, "তুমি আমার। তুমি আলোর।" আমি বিশ্বাস করি। সূর্য আমার একমাত্র নিশ্চয়তা।

    একদিন, একটি দল আসে। তারা গ্রামের লোক নয়। তারা সৈনিক, তাদের চামড়ার বর্ম, তাদের ধাতব অস্ত্র। তারা একটি রথে করে আসে। রথটি সাধারণ নয়, এটি কালো, এর চাকায় লৌহের শিকল। তারা একটি হারানো রাজকুমারের সন্ধান করছে, তারা বলে। তারা প্রতিটি শিশু পরীক্ষা করে। তারা আমার কাছে আসে। তারা আমার দিকে তাকায়, বিশেষ করে আমার বুক, আমার কান। তাদের নেতা, একটি কঠিন মুখওয়ালা মানুষ, আমার চিবুক ধরে, আমার মুখ ঘুরিয়ে আলোর দিকে রাখে। তিনি কিছুক্ষণ দেখেন। তিনি তার সঙ্গীদের দিকে তাকান। তারা মাথা নাড়ে। তিনি আমাকে ছেড়ে দেন। "না," তিনি বলেন। "এটা নয়। তবে... অদ্ভুত।" তিনি জিজ্ঞাসা করেন আমি কোথা থেকে এসেছি। গ্রামের প্রধান নদীর কথা বলেন, ঝুড়ির কথা বলেন। সৈনিক ভাবেন। তিনি একটি স্বর্ণমুদ্রা বের করেন, আমার হাতে দেন। "ভাগ্যবান হও, স্বর্ণ-ছেলে," তিনি বলেন। তারপর তারা চলে যায়।

    আমি স্বর্ণমুদ্রাটি ধরে রাখি। এটি ভারী, গরম। এটি আমার প্রথম সম্পদ। এটি আমার। কিন্তু এটিও আমাকে বিভ্রান্ত করে। তারা কি খুঁজছিল? সেই হারানো রাজকুমার কে? কেন তারা আমাকে দেখে মনে করল আমি সে নই, তবু "অদ্ভুত"? আমার বুকের চিহ্নটি খোঁচা দেয়, একটি মৃদু স্পন্দন।

    সেই রাতে, আমি স্বপ্ন দেখি। আমি একটি প্রাসাদে, মার্বেলের মেঝে, স্তম্ভগুলো সোনায় মোড়া। একজন মানুষ সিংহাসনে বসে আছেন, তার মুকুট সূর্যের মতো জ্বলজ্বল করছে। তিনি আমার দিকে তাকান। তিনি হাসেন। তিনি বলেন, "আমার পুত্র।" কিন্তু আমি দৌড়াতে পারি না, আমার পা ভারী। আমি কাঁদি। তিনি উঠে আসেন, কিন্তু যখন তিনি কাছে আসেন, তখন তার মুখ বদলে যায়, এটি সেই সৈনিকের মুখ হয়ে যায়, তারপর গ্রামপ্রধানের মুখ হয়ে যায়, তারপর সেই মুখ হয়ে যায় যে আমাকে ঝুড়িতে রেখেছিল, কাঁদছিল। শেষ পর্যন্ত, এটি সূর্য হয়ে যায়, একটি জ্বলন্ত গোলক যা আমাকে গ্রাস করে। আমি জেগে উঠি, ঘর্মাক্ত। আমার বুক জ্বলছে। আমি নদীর দিকে হাঁটি। জলে, আমার প্রতিবিম্ব একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, বর্ম পরিহিত, একটি তরবারি হাতে। আমি চমকে পিছিয়ে যাই। প্রতিবিম্ব বিলীন হয়ে যায়। আমি শুধু একটি ছেলে।

    দিনগুলো আরো কাটে। আমি শক্তিশালী হই। আমি অন্য ছেলেদের সাথে কুস্তি করি, আমি তাদের পরাজিত করি সহজেই। আমার শক্তি অস্বাভাবিক। আমি একটি গাছের ডাল ভাঙতে পারি যা অন্যরা পারবে না। আমি একটি বলকে এত দূরে ছুড়ে দিতে পারি যে এটি দৃষ্টির বাইরে চলে যায়। গ্রামবাসীরা শ্রদ্ধার সাথে তাকায়, কিন্তু ভয়ও করে। তারা আমাকে দূরে রাখে।

    একবার, একটি বন্যার সময়, নদী তার পাড় ভাঙে, একটি ঘর গ্রাস করে। একটি শিশু ভিতরে আটকে আছে। স্রোত প্রচণ্ড। কেউ সাহায্য করতে চায় না। আমি নদীতে ঝাঁপ দেই। জল ঠান্ডা, ধাক্কা দেয়। কিন্তু আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করি। আমি ঘরে পৌঁছাই, ছাদের কাঠ ধরি। শিশুটিকে পাই, তাকে আমার কাঁধে তুলি। আমি ফিরে যাই, স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটি। আমার পেশী জ্বলে, কিন্তু আমি থামি না। সূর্য তখন মেঘের আড়ালে, কিন্তু আমি এটিকে আমার ভিতরে অনুভব করি, আমাকে ঠেলে দেয়। আমি তীরে পৌঁছাই। লোকেরা চিৎকার করে, শিশুটিকে নিয়ে যায়। তারা আমাকে ঘিরে ধরে, আমার পিঠ চাপড়ায়। কিন্তু তাদের স্পর্শে আমার গায়ে জ্বালা করে। তাদের চোখে আমি যা দেখি: বিস্ময়, কিন্তু সীমিত বিস্ময়। যেন তারা বলে, "এটি স্বাভাবিক, সে স্বর্ণ-ছেলে। সে মানুষের চেয়ে বেশি।" আমি মানুষের চেয়ে বেশি? তাহলে আমি কী?

    ঘটনার পর, একজন বৃদ্ধা, দাওয়ায় বসে কাটা সেলাই করা, আমাকে ডাকে। আমি তার কাছে যাই। তিনি আমার মুখের দিকে তাকান, তার চোখ কুসংকারে ঢাকা। তিনি বলেন, "তুমি ভালো করেছ, ছেলে। কিন্তু মনে রেখ, নদী যা দেয়, নদী তা ফিরে নেয়। তুমি তার ঋণ শোধ করেছ। এখন সে তোমাকে শান্তিতে রাখবে। কিন্তু অন্য ঋণ আছে, যেগুলো দেখা যায় না।" আমি জিজ্ঞাসা করি কী ঋণ। তিনি শুধু মাথা নাড়েন, তার হাত দিয়ে আমার কান স্পর্শ করেন। তার স্পর্শ ঠাণ্ডা, মৃতপ্রায়। "এগুলো শোনার জন্য," তিনি বলেন। "কিন্তু কি শুনবে? পূর্বজন্মের চিৎকার? ভবিষ্যতের ক্রন্দন?" তিনি দূরে সরে যান।

    আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু তার কথা আমার মধ্যে আটকে থাকে, একটি কঙ্কর যা পাকস্থলীতে থাকে।

    আরেকটি দিন, এক সন্ন্যাসী আসেন, তার শরীর ছাইতে ঢাকা, তার চোখ জ্বলজ্বল করে। তিনি গ্রামে ভিক্ষা চান। যখন তিনি আমাকে দেখেন, তিনি স্থির হয়ে যান। তিনি আমার দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি আমার চারপাশে ঘুরে দেখেন, একটি গুঞ্জন করেন। তিনি বলেন, "কর্মফল। মহান কর্মফল। তুমি পূর্বে একজন যোদ্ধা ছিলে, একজন দানবীর। তুমি দান করেছিলে, তাই এখন তোমার স্বর্ণ। তুমি শুনতে পেতে, তাই এখন এই কান। কিন্তু দানের প্রতিদান আছে। যিনি দেন, তিনি ঋণী হয়ে যান। কারণ গ্রহীতা তার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তুমি কি প্রস্তুত সেই ঋণ শোধ করতে?" আমি বলি আমি কিছুই দিইনি। আমি শুধু একটি শিশু। তিনি হাসেন, একটি করুণ হাসি। "তুমি তোমার পূর্বজন্ম দান করেছ। তুমি তোমার নিয়তি দান করেছ। এবং কারো জন্য অপেক্ষা করছ, যিনি আবার নেবেন।" তিনি চলে যান, তার পিছনে ছাইয়ের একটি রেখা রেখে।

    সন্ন্যাসীর কথা আমাকে তাড়া করে। আমি কি পূর্বজন্মের কথা বিশ্বাস করব? আমি কি কখনো অন্য কেউ ছিলাম? আমার স্বপ্নগুলো... সেই প্রাসাদ, সেই সিংহাসন... তারা কি পূর্বজন্মের ঝলক? আমার বুকের চিহ্ন কি তারই নিদর্শন?

    এক রাতে, আমি আকাশের দিকে তাকাই। তারা মিটমিট করছে। তারা কোন বার্তা পাঠায়? আমি দেখার চেষ্টা করি: তারা কি একটি প্যাটার্ন তৈরি করে? একটি চাকা? একটি ধনুক? একটি ব্যক্তি? আমি কিছুই দেখি না। আমি শুধু অসীমতা দেখি, একটি কালো গর্ত যা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে অনুভব করি, সেই অসীমতার মধ্যে উধাও হয়ে যাই। আমি মাটিতে ঝাঁপ দেই, ঘাস ধরি, শিকড় ধরি। পৃথিবী কঠিন, বাস্তব। এটি আমাকে ধরে রাখে।

    সূর্য আবার ওঠে। এটি একটি নতুন দিন। কিন্তু এই দিনে কিছু আলাদা। বাতাসে একটি উত্তেজনা আছে, দূর থেকে ধ্বংসের গন্ধ। আমি নদীর ধারে যাই। সেখানে, জলে, একটি মৃত মাছ ভাসছে, তার চোখ সাদা, তার আঁশ নিস্তেজ। নদীর কিনারে, গাছের গায়ে, একটি পতাকা আটকানো, ভেঙে যাওয়া চাকার টুকরো। যুদ্ধের চিহ্ন। যুদ্ধ দূর নয়। গ্রামে আলোচনা: রাজারা লড়ছে, সাম্রাজ্যের জন্য, সিংহাসনের জন্য। আমাদের গ্রাম নিরপেক্ষ, কিন্তু নিরপেক্ষতা কোন সুরক্ষা নয়। সৈন্যরা আসবে, তারা খাদ্য চাইবে, তারা সম্পদ চাইবে, তারা জীবন চাইবে।

    আমি আমার স্বর্ণমুদ্রাটি মনে করি। এটি লুকানো আছে। এটি একটি সম্পদ। এটি হয়তো আমাকে রক্ষা করবে। অথবা হয়তো এটি আমাকে বিপদে ফেলবে। আমি জানি না।

    আমি নদীর কাছে বসে থাকি। আমি আমার প্রতিবিম্বের দিকে তাকাই। এটি এখন আর শিশু নয়, এখনও পুরুষও নয়। এটি একটি সন্ধিক্ষণ। আমি সূর্যের দিকে তাকাই। এটি এখনও উচ্চে, এখনও শক্তিশালী। আমি আমার চোখ বন্ধ করি, এর দিকে আমার মুখ রাখি। এটি আমাকে বলে, "ভয় পেও না। তুমি আমার। তুমি আলোর। আলো কখনো মরে না। এটি শুধু রূপ বদলায়।"

    আমি প্রশ্ন করি, "আমি কী রূপ নেব?"

    সূর্য উত্তর দেয় না। এটি শুধু জ্বলতে থাকে, একটি নিঃশব্দ, চিরন্তন শিখা।

    আমি উঠে দাঁড়াই। আমি গ্রামে ফিরে যাই। পথে, আমি একটি সাপ দেখি, তার চামড়া খসে পড়ছে, নিচে একটি নতুন, চকচকে চামড়া দেখা যাচ্ছে। এটি নিজেকে মোচড় দেয়, পুরানোটি ত্যাগ করে। এটি বেঁচে থাকার জন্য এটি করে। আমাকেও কি ত্যাগ করতে হবে? আমার এই চর্ম, এই গ্রাম, এই জীবন? কিন্তু কোথায় যাব? নদী আমাকে এনেছে। নদী আমাকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোন দিকে?

    আমি একটি সিদ্ধান্ত নিই। আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যাব। আমি যোদ্ধা হব। কারণ যুদ্ধে, সেখানে পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ নয়, শুধু শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে, আমি আমার নিজের হয়ে উঠতে পারি, আমার নিজের নাম তৈরি করতে পারি, আমার নিজের গৌরব অর্জন করতে পারি। সূর্য আমাকে শক্তি দেবে। আমার জন্মের রহস্য হয়তো তখন প্রকাশ পাবে, অথবা চিরকাল গুপ্ত থাকবে। কিন্তু অন্তত আমি কাজ করব। আমি লড়াই করব।

    আমি আমার জিনিসপত্র গুছাই: একটুখানি খাবার, একটি ছুরি, সেই স্বর্ণমুদ্রা। আমি গ্রামের দিকে শেষবারের মতো তাকাই: কুঁড়েঘর, মাঠ, সেই বৃদ্ধা এখনও দাওয়ায় বসে আছে, সেই শিশু যাকে আমি বাঁচিয়েছি এখন দৌড়াচ্ছে। তারা আমার নয়। তারা কখনোই ছিল না। আমি একজন অতিথি ছিলাম, একটি বিস্ময়। সময় চলে যাওয়ার।

    আমি নদীর ধারে যাই, সেই স্থানে যেখানে আমাকে পাওয়া গিয়েছিল। আমি জল স্পর্শ করি। এটি ঠান্ডা। আমি জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি আমাকে পাঠিয়েছ? তুমি কি আমাকে ফিরে নেবে?" নদী কোন উত্তর দেয় না। এটি শুধু প্রবাহিত হয়, সবসময়ের মতো।

    আমি পিছনে ফিরে তাকাই না। আমি পথে চলি, সূর্যের দিকে, যেখানে ধোঁয়া উঠছে, যেখানে লড়াইয়ের আওয়াজ আসছে, যেখানে ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে, একটি খোলা ক্ষত, একটি উন্মুক্ত আকাশ, একটি অনামী, সুবর্ণ অন্তহীন সম্ভাবনা।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:4c8e:d999:7467:422e:e98d:***:*** | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৫738048
  •  ভালো লাগলো।
  • albert banerjee | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৯738049
  • অনেক ধন্যবাদ 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন