এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুর্নীতি পুজিবাদ ও উত্তরণ

    Pustak Biswas লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৫ বার পঠিত
  • বর্তমানে এক কথায় দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?

    দুর্নীতি বলতে মূলত অর্থনৈতিক দুর্নীতি বা অনৈতিক অর্থ বন্টনকে বোঝায়। অনৈতিক-ভাবে শুধু অর্থই নয়, মেধারও বন্টন হয়। এই বন্টন সম্ভব হয়, মেধার স্বীকৃতির মাধ্যমে। কয়েকটি সংস্থা যাকে বলবে মেধাবী, সেই ব্যক্তিকেই সবার মেধাবী বলে মানতে হবে। যে বিষয়ে তারা বলবে গবেষণা করতে, কেবল সেই বিষয়েই গবেষণা করতে হবে।

    অর্থনৈতিক দুর্নীতি, অর্থ-বন্টনের সাথে জড়িত। অর্থ সঞ্চয় করা যায় এবং পুনর্বিনিয়োগ করা যায়। অর্থ বা ফিনান্সের প্রকৃতি হল পরিমানগত। অপরদিকে মেধার প্রকৃতি হল গুণগত। যেমন একজন উচ্চ-শিক্ষিত ব্যক্তি মোটা মাইনের চাকরি করে, তার উচ্চ মেধার কারনে। অন্য দিকে একজন স্বল্প-শিক্ষিত শ্রমিক, কম বেতনে কাজ করে, তার স্বল্প মেধার কারনে। সুতরাং অর্থ দিয়ে মেধাকে পরিমাপ করা যায়। আবার এই অর্থই মানুষের নুন্যতম চাহিদাগুলি মেটাতে সাহায্য করে। একই সাথে ধনী ব্যক্তিদের পুজিও তৈরি করে।  অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে অর্থ, মানুষের নুন্যতম চাহিদা, মেধা ও পুজি বা সঞ্চয়-কে এক মাত্রায় এনে দাড় করায়। এবার ক্ষিদে পেটে কতটা মেধার চর্চা সম্ভব, তার বিচার আপনাদের উপরই ছাড়লাম।

    বর্তমান বিশ্ব-পুজিবাদের দুনিয়ায়, অর্থনীতি বা অর্থব্যবস্থা, অন্যভাবে বললে সম্পদের বন্টন ব্যবস্থাকে, ধ্বংস করার খেলা শুরু হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সাধারন মানুষের সঞ্চয় আস্তে আস্তে কমবে। ফলে সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় ও লেন-দেনের ক্ষমতাও কমবে।

    সমাজ বিজ্ঞানে বলা হয়, সমাজের অন্তর্গত প্রত্যেকটি ব্যক্তি পরস্পরকে প্রভাবিত করার মধ্যে দিয়ে সমাজবদ্ধ থাকে(প্রত্যেকে একে-অপরকে প্রভাবিত করতে চায়)। এই প্রভাবিত করার ক্ষমতা, এতদিন ছিল অর্থ-ক্ষমতা। অর্থ-ক্ষমতা ধ্বংস হলে, তার জায়গা নেবে পেশি-ক্ষমতা বা পেশি-শক্তি। কিন্তু কথা হল, পুজিবাদ-উত্তর যুগে, এই পেশি-শক্তির ঠিকাদার কারা হবে?

    প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা : এই পুজিবাদ-উত্তর যুগে যাদের হাতে, সবথেকে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তির মালিকানা থাকবে, তারাই সর্বেসর্বা হবে। যেমন সারাবিশ্বে পুজিপতিদের ভূ-সম্পদের উপর নজর। যার কথা আমি ' বিজেপি বাংলা দখল করলে, বাঙালির জমির অধিকার থাকবে না ' শীর্ষক একটি ব্লগে আগেই লিখেছি। এর সাথে বিভিন্ন যুদ্ধ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, AI এর ওপর বিনিয়োগ। যে সব প্রযুক্তি মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। সেই সব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, এই কারনেই বেড়ে চলেছে।

    পুজিবাদ-উত্তর যুগ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী : প্রাক-পুজিবাদ যুগে মধ্যবিত্তরা ছিল, জমির মালিক ও শ্রমিকের মধ্যবর্তী একটি শ্রেণী। এই মধ্যবিত্তরা শ্রমিক নিয়ন্ত্রনে ব্যবহৃত হত। এখন এই মধ্যবিত্তদের নিয়ন্ত্রন করার জন্য, প্রযুক্তি চলে এসেছে। সুতরাং পুজিবাদ-উত্তর কালে মধ্যবিত্তের সংখ্যা কমবে, কারন তাদের প্রয়োজনীয়তাও কমবে। যা আমাদের দেশসহ অনেক দেশেই শুরু হয়ে গেছে।

    জনসংখ্যা, শ্রমশক্তি বনাম পেশিশক্তি : সমাজ বিজ্ঞান অনুসারে ক্ষমতা হল, সমাজের প্রত্যেকটি ব্যক্তির, একে অপরকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা। যেমন ধনী, নির্ধন প্রতিটি ব্যক্তি চায়, অন্য সকল ব্যক্তির ওপর প্রভাব বা ক্ষমতা বিস্তার করতে। মেধা-শক্তির মাধ্যমে, অর্থ-শক্তির মাধ্যমে, পেশি-শক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা বিস্তার করা যায়। 

    যুদ্ধ বা দাঙ্গা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যে পরিস্থিতিতে পেশিশক্তি সবথেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যার কারনে পুজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলি যুদ্ধ-প্রযুক্তির ওপর বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। মানব-বিহীন স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধে রোবোটিক্স, অটোমেশানের গুরুত্ব বাড়ছে। এবং দেশ ও বিশ্বে বিভিন্ন অছিলায় যুদ্ধরূপী একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মেধাশক্তি হারছে, অর্থশক্তিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলে পেশিশক্তি বিনিময়ের মাধ্যম হয়ে উঠছে। যেমন ইজরায়েল। পেশি-শক্তির বিনিময়ে খাদ্য, পেশি-শক্তির বিনিময়ে বাসস্থান, পেশি-শক্তির বিনিময়ে যৌনতা -হল ভবিষ্যতের বন্টন ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থার মাধ্যমে মেধাকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। মানব শরীরকে দূষনহীন যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

    এই কারনেই জমিদার, ঋণগ্রস্থ কৃষক, গ্যাংস্টার ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক নতুন সমাজ আসন্ন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন