এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বঙ্গদেশের ইংরেজ 

    কালের নৌকা লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ আগস্ট ২০২৫ | ৩১ বার পঠিত
  • শিক্ষিতই হোক আর অশিক্ষিত। মোটামুটি ভাবে বলা যায় বাঙালি মাত্রেই মনে করে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনই শিক্ষার প্রধান মাপকাঠি। এবং শিক্ষিতের সবচেয়ে বড়ো পরিচয়। এই মনে করার বিষয়ে আবার হিন্দু মুসলিমে অগাধ মিল। সেই অগাধের থেকে ‘অ’ টুকু বাদ দিয়ে ‘গাধ’ -র শেষে একটি আকার জুড়ে দিলেই বাঙালির দৃষ্টিতে ইংরেজি না জানা বাঙালির আসল পরিচয়। দেশ ভাগ হয়ে গেলে কি হবে। এই বিষয়ে দুই দেশের বাঙালিরই এক রা। ফলে কে আর বাঙালির সমাজে গাধা পরিচয়ে পরিচিত হতে চায়? ফলে কেউই যে ‘গাধা’ নয়। অন্তত পক্ষে সেইটুকু প্রমাণ করতেই বাঙালি শৈশবের একেবারে গোড়া থেকেই নিজের সন্তানকে ইংরেজি শেখানোর জন্য আদাজল খেয়ে উঠেপড়ে লেগে যায়। বাঙালির ধর্ম যাই হোক। যে, যেখানেই থাকুক। যে সম্প্রদায়েরই মানুষ হোক। এবং আস্তিক কিংবা নাস্তিক। শিক্ষার মাপকাঠি হিসাবে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিতে বাঙালি মাত্রেই একমত। কবি যদিও বলেছিলেন, ‘বাঙালির ঘরে যত ভাইবোন এক হউক এক হউক এক হউক’। বাঙালি, কবি’র সেই ডাকে কর্ণপাত না করুক, বাঙালির সেই এক রা। বাঙালির ঘরে যত ভাইবোন ইংরেজিতেই দক্ষ হউক দক্ষ হউক দক্ষ হউক।

    তা সেই বঙ্গদেশের ইংরেজদের হাতে কোটি কোটি বাঙালি আজ শতকের পর শতক ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা তো কম অর্জন করলো না। বাংলায় থাকতে হলে, উঠতে ইংরেজি। বসতে ইংরেজি। অনেকেই শোনা যায় ঘুমের ঘোরেও ইংরেজিতেই স্বপ্ন দেখে থাকেন। তা দেখুন। সাহেব মেমেদের ভাষা বলে কথা। প্রকৃতির ডাকে আধুনিক বাঙালির কথায় কথায় ‘পটি’ করার কথা না হয় বাদই দিলাম। কথা হচ্ছে, ইংরেজি ভাষায় এই বিপুল পরিমাণ দক্ষতা নিয়ে বাঙালি করছেটা কি? কেন? আমেরিকা চলে যাচ্ছে। ওদিকে ইউরোপ আছে। মিডলইস্ট আছে। নয়তো ব্যাঙ্গালোর চলে যাচ্ছে। নিদেন পক্ষে নিউটানের আইটি হাবে গিয়ে কড়া নাড়ছে। সত্যিই শিক্ষায় দীক্ষায় বাঙালি কিন্তু সকলের আগে। এত বেশি পরিমাণে নেসফিল্ডের গ্রামার জানা মাথার সংখ্যা খোদ বিলাতেও নেই বোধহয়। হবে নাই বা কেন? এমনিতেই ওরা জনসংখ্যায় বাঙালির অনেক পিছনে। তারপর নিজের মাতৃভাষায় তাদের নেডফিল্ড না পড়লেও চলে যায়। কিন্তু বাঙালির চলে না। চলবেও না। শিক্ষার যেটি মাপকাঠি। সেই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হলে নেসফিল্ডের গ্রামার তো জানতেই হবে। না’হলে তো গোড়ায় গণ্ডগোল। ফলে বাঙালিকে বিশুদ্ধ গ্রামার জেনে বিশুদ্ধ ইংরেজি উচ্চারণে বিশুদ্ধ ইংরেজি বলার ক্ষমতাই অর্জন করতে হবে সকলের আগে। আর সেই দক্ষতাটুকু অর্জিত হয়ে গেলে বাঙালিকে আর পায় কে? সমাজে শিক্ষিত পরিচয়ের বরমাল্য গলায় ঝুলিয়ে সর্বত্র পুজ্যতে তখন ‘ইংরেজি জানা’ বাঙালি!

    সর্বত্র পুজ্যতে সেই ‘ইংরেজি জানা’ বাঙালি তারপর কি করছে। সমাজ কিন্তু আর সেই খোঁজ নিতে যাবে না। সমাজ আদৌ দেখতে যাবে না, সর্বত্র পুজ্যতে সেই ইংরেজি বিশারদ বাঙালি বিশ্বমানবের হাতে নতুন কোন প্রযুক্তিটি তুলে দিচ্ছে। নতুন কোন দর্শনের শক্তি জুগিয়ে দিচ্ছে। নতুন কোন সাহিত্যধারার জন্ম দিচ্ছে। নতুন কোন শিল্পকলাকে বিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। নতুন কোন সমাজবাস্তবতার ভিত্তি তৈরী করার রূপরেখা তৈরী করছে। নতুন কোন বিজ্ঞানের হদিশ দিতে পারছে। নতুন কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের আলো বিকিরণ করছে। নতুন কোন শিল্প বাণিজ্যের পথ খুলে দিতে পারছে। কিংবা নতুন কোন অর্থনীতির মডেল উদ্ভাবন করতে পারছে। না, সেই সব বিষয়ে বঙ্গ সমাজের কোন কৌতুহল কিংবা আগ্রহ রয়েছে বলে এযাবৎ কোন ইতিহাস নেই। বাঙালি নতুন কিছু দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। বাঙালি ইংরেজি ভাষায় নোট মুখস্থ করে করে যাবতীয় বিষয়ে মুখস্থ পণ্ডিতিতেই অধিকতর বিশ্বাসী। এবং কায়মনবাক্যে উৎসাহী। বাঙালির যাবতীয় উদ্যোম তাই নকল করায়। আর সেই নকল করতে গেলেই বাঙালির হাতে সবচেয়ে বড়ো এবং একমাত্র অস্ত্রটিই হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন। সেই দক্ষতাটুকু অর্জিত না হলে বাঙালি নকল করবে কোন উপায়ে? নকল না করতে পারলে, আর বাঙালি কেন? এই বিরাট বিশ্বে নকল করার বিষয়ে এমন ওস্তাদ জাতি কি আর একটিও রয়েছে? মনে তো হয় না। আর সেই নকল করার স্বার্থে ইংরেজির মতো কার্যকরি ভাষা কিন্তু বিশ্বে আর দুটি নেই। ফলে বাঙালির পরম সৌভাগ্য, সাগরপারের ব্রিটিশরাই বাঙালিকে পরাধীন করে রেখেছিল। পর্তুগীজ বা ওলন্দাচরা করেনি। করলে পৃথিবীর প্রায় সব কিছুই নকল করা বাঙালির পক্ষে এত সহজ হতো না। আরও বেশি কাঠখড় পোড়াতে হতো। একটি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে ফেললেই অত বেশি কাঠখড় পোড়াবার প্রয়োজন হয় না। সবকিছুই এক ইংরেজি দিয়েই নকল করে নেওয়া যায়। আর নকল করার শক্তিতে বিশ্বাসী একটি জাতির কাছে নকল করার সেই সর্বশক্তিমান আয়ুধ ইংরেজিই যে ধ্যানজ্ঞান হবে এ আর বিচিত্র কি?

    ©কালেরনৌকা ২৮শে আগস্ট ২০২৫
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন