রবিবার, ১০ জুলাই
-----------------------------
ভোর চারটেতে ঘুম ভাঙ্তেই কানে এলো দমফাটা বৃষ্টির আওয়াজ। নিতান্তই শহীদ মার্কা মুখ করে তৈরী হওয়া । (এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, ঐ টিপিকাল উত্তরভারতীয় ছোলে, রাজমা, মিক্স্ড ভেজ, আলু গোবি ইত্যাদি ডিনার আইটেমকে যতই গাল দিন না কেন, পরের দিন ভোরে উঠে যদি আট ঘন্টার বাস জার্নি থাকে, তবে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কেন, সেটা দেখা হলে বলে দেবো )। `বাজার কলকাতা' থেকে কেনা অতীব বিশ্রী একটা রেনকোট পরে, পিঠে পাঁচ কেজির বোঝা নিয়ে বাস স্টেশনে দেখা দিলাম। দেখি সবেধন নীলমণি সরকারী বাসটিকে ঘিরে লোকজন হিপোপটেমাসের ধৈর্য্য নিয়ে ভিজছে, ড্রাইভার কনডাকটর কারুরই দেখা নেই। অবস্থা বেগতিক দেখে বেসরকারী বাসেই সওয়ার হওয়া গেলো। সে বাস ছাড়লো পৌনে ছটার সময়। ততক্ষণে বৃষ্টি শেষ।
অ্যাভোমিনের প্রভাবে ঢুলতে শুরু করেছি, এমন সময় বাসটা ঘপাৎ করে থেমে গেলো, কপাল পুরো সামনের রডে। জায়গাটা সম্ভবতঃ দেবপ্রয়াগের আগেই। কানডাকটর সাহেব মুখ ফিরিয়ে বললেন, নাস্তা কর লো। বাস থেকে নামতে যেতেই একপাল লোক ঘিরে ধরল, `ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা ' স্টাইলে কড়ে আঙুল উঁচিয়ে । আমি ভাবলাম এ বোধ হয় উত্তরখন্ডের নতুন অভ্যর্থনা প্রথা। আমিও সেরকম করতে সামনের লোকটা খপাৎ করে আঙুল পাকড়ে বললো আ যাইয়ে সাহাব। কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম এরা সব হোটেলের দালাল, হোটেলে যে ইউরিনাল আছে তার জীবন্ত বিজ্ঞাপন। মনিষীবাক্য বৃথা হবার নয়ঃ যাবৎ বাঁচি তাবৎ শিখি।
পথিমধ্যে আর কোনো ব্রেক নেই। মানে দেওয়া হল না। মাঝখানে এক জায়গাতে রাস্তার ধারে জে সিবি মেশিন ইত্যাদি। ফলে ওয়ান ওয়ে। সেখানে প্রায় এক ঘন্টা আটকা পড়ে, যখন পেরোচ্ছি, তখন দেখি বাসের চাকার বাইরে রাস্তার ক্লিয়ারিং বোধ হয় কুল্লে দু ইঞ্চি। নিচে অলকনন্দা,বর্ষার জল পেয়ে একেবারে খুশ মেজাজে ছুটছে।। সেখানে হৃদি যত খুশি ভেসে যাক (গোঁসাইবাবুর কলম অক্ষয় হোক, উনি বড় হয়ে দারোগা হোন ), হৃদি+শরীর একসাথে ভাসলে একটু চাপ।
যখন মনে হল রাস্তা আর ফুরোবে না, গোঁ গোঁ করে বাস অলকনন্দা ছেড়ে অনেকটাই উপরে উঠে এলো। এপাশের পাহাড়ের ঢালটা অল্প সুগম হল, দু চারটে বাড়িঘর, হোটেলওয়ালাদের ডাক, রাস্তার মোড় । যোশীমঠ বা জ্যোতির্মঠ।