এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • কু-ঝিক-ঝিক --ঝিক

    pi
    অন্যান্য | ০৬ মে ২০১১ | ২৮৫৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • rupankar sarkar | 180.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ০২:১২469397
  • না: কু ঝিক ঝিক...টইয়ের জন্য বড় চাপ আসছে। তবে বলেই ফেলি -

    সালটা উনিশশো আটাত্তর। কোরোমন্ডল এক্সপ্রেস চেপে চার বন্ধু চলেছি দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে। অমন ঝাঁ চকচকে ট্রেন আগে দেখিনি, তখন মাত্র কিছুদিন চালু হয়েছে। তিনটে মোটে স্টপ ছিল সেকালে, ভূবনেশ্বর, ভিজেয়ওয়াড়া, ম্যাড্রাস। হ্যাঁ তখন ম্যাড্রাসই বলত, চেন্নাই চেনা নাই ছিল।

    গোটা তিনেক কামরা পরে, এক দাদা, বৌদি আর দাদার শাশুড়িও যাচ্ছেন ঐ দিকেই। উদ্দেশ্য, দক্ষিণীতীর্থ। ভেতরে গতায়াতের পথ আছে, ভেস্টিবুল। বৌদি বলল, সকাল হতেই চলে আসবি, আর ঘণ্টা খানেক পর পর মুখ দেখিয়ে যাবি। কেন, সে কথা জিজ্ঞেস করতে মুখে দুটো সন্দেশ ঠুসে দিয়ে বলল, আমার কাছে চার জনের মত স্টক নেই, তাই।

    সকালে যেতেই আলুর দম পরোটা ধরিয়ে দিয়ে সামনে বসা স্মিতহাস্যমুখ প্রৌঢ়কে বলল, আমার দেওর, ব্যাঙ্কে চাকরি করে। দারুন অভিনয় করে, খুব ভাল হাত দেখে - আমি বললাম, ওর কথা শুনবেননা, আমার তিরিশ চল্লিশটা গুণ আছে, মোটে তো দুটো বলল। ভদ্রলোক বললেন, বুঝেছি, তবে বাকিগুলো থাক এখন, আমার হাতটা একটু দেখুন তো -

    বৌদি বলল, জানিস, উনি কলকাতা আর ম্যাড্রাস দুটো ইউনিভার্সিটিতে ইংরিজী পড়ান, একটার আবার হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট। প্রৌঢ় হেসে বললেন আমারও অনেক গুণ, উনিতো মাত্র একটা বললেন। যাক একটা কথা বলুন তো, আমি ছুটি পাব কবে? আর তো টানতে পারছিনা। এরা দুটো ইউনিভার্সিটির একটাও আমাকে ছাড়তে রাজি না।

    আমি বললাম, আমাকে দ করে 'তুমি' বলুন। আমিও ইংরিজীর ছাত্র, ধরুননা আপনারই ছাত্র ছিলাম, কয়েক বছরের তো তফাত। আর আমি কোনও জ্যোতিষি টোতিষি নই, সবে একটা বেনহ্যামের বই কিনে নাড়াচাড়া করছি। উনি বললেন, তবু - আমি বললাম,যতটুকু শিখেছি, তাতে আপনার ছুটির তো কোনও লক্ষণ দেখছিনা। জীবনের শেষ পর্যন্ত কর্ম। উনি বললেন, শেষটা কবে? আমি বললাম, আমার অতদূর বিদ্যে নেই।

    প্রৌঢ় জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কোন দিকে বেড়াবেন? বললাম, সে লম্বা ট্যুর। অন্ধ্র দিয়ে শুরু, ম্যাড্রাস হয়ে কেরালা ঘুরে, কর্ণাটক দিয়ে আবার ম্যাড্রাসে শেষ। উনি বললেন, আমার তো জ্যোতিষশাস্ত্র জানা নেই, তবু বলব, আপনারা ঠিক উল্টো পথে যান। এ সময়ে দক্ষিণে ভীষণ ঝড় তুফান হয়। অন্ধ্র থেকে শুরু করলে ঝড় যাবে আপনার পেছনে তাড়া করে কিন্তু কর্ণাটক দিয়ে শুরু করলে আপনি যাবেন ঝড়ের পেছনে।

    সে সময়ের কেউ থাকলে জানেন সে বছর ঝড়ে অন্ধ্র-তামিল কোস্টে কত হাজার লোক মারা গেছিল। আমরা
    নির্বিঘ্নে ঝড়ের পেছন পেছন ঘুরলাম। যা তান্ডব দেখলাম, তা বর্ণনার অতীত। তবে আমাদের কোনওরকমের অসুবিধা হয়নি। জেনেছিলাম, স্যারের সঙ্গে ফেরার সময়ও কাছাকাছি। বললেন ফেরার ট্রেনে দেখা হয়ে যেতেও পারে। ভাগ্যিস দেখা হয়নি, ভাগ্যিস -

    বাড়ি ফিরে টেবিলে রাখা দু-এক দিন আগের খবরের কাগজের প্রথম পাতায় চোখ আটকে গেল। সেই কোরোমন্ডল এক্সপ্রেসেই কোলকাতা ফিরছিলেন উনি। মাঝ রাস্তায় অন্য গাড়ি ধরতে হল। সে গাড়ি লাইনেও চলেনা, রাস্তা দিয়েও না। ছুটি -ছুটি -ছুটি -
  • Nina | 68.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ০৫:৪৪469398
  • রুপঙ্করবাবু, দারুণ ! আরও দু একটি কু ঝিকঝিকের গপ্প হোক, প্লিজ !
    এবার দেশে গেলে আপনার কাছে হাতটা দেখাব---এতদিনে নিশ্চই বিদ্যে অনেক এগিয়েছে---আমার ছুটির দিনটিও বলে দিতে পারবেন।
  • rupankar sarkar | 180.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ০৬:৪৩469399
  • Nina, - বালাই ষাট। অমন কথা বললে টই থেকে পালিয়ে যাব। ক্রোনোলজিকালি ছুটি হবে, আমার হবে অনেক আগে। ইন ফ্যাক্ট, কিছুদিন আগে প্রায় হয়েই গেছিল, গেটে দারোয়ান আটকে দিল।
  • M | 59.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ০৭:৫১469400
  • আম্মো ছুটি চাই, জার্নি আর পোষাচ্ছে না।এদিকে আমার হাত দেখে সহযাত্রী বলে দেছে আমি নাকি পুতির ঘরের নাতি ও দেখবো।আর নিজে নাকি ষাট বছর বয়স হবে কি পট করে নেমে যাবে। সেটার কারন হচ্ছে নাকি আমার প্যাঁচালো মন আর তার সাদা সফেদ মন।:X
  • til | 210.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ১০:০৭469401
  • বড়ম,
    সহযাত্রী কি ঘরের লোক না পরের ছেলে?
    (কেন, কি জন্য জিজ্ঞাসা করিলাম তাহা ব্যাখ্যা করিতে অপারগ!)
  • M | 59.*.*.* | ১২ মে ২০১১ ১৩:৪৮469402
  • তিল.................:)))
  • b | 117.*.*.* | ১৬ মে ২০১১ ১৯:৩৫469403
  • ট্রেনের গল্প? চোখ বুজলেই তো দার্জিলিং-এর টয় ট্রেনের এনজিন এর বাঁশি, কেউ গম্ভীর ভেঁপু, কারোর তীখ্‌ন চিৎকার। বন্ধুদের সাথে আলোচনা করি, প্রথম এঞ্জিনটি পুংলিঙ্গ বলেই স্থির, কেন, কে জানে? সকাল ন'টায় নিউ জলপাইগুড়ির ট্রেন,দশটায় কার্শিয়াং প্যাসেঞ্জার, খুদে খুদে মালগাড়ির দল একেবরে চলে আসতো বিজনবাড়ির রোপওয়ের দোরগোড়ায়। বিকেলে, অনেক দুর থেকে শুনতে পেতাম বি' ক্লাস এনজিন-এর হোঁসফোঁস আওয়াজ,অকারণ হুইসল, ঘুম জোড়বাঙলো থেকে একটানা উৎরাই ভেঙ্গে ঘরমুখী ইস্কুলের ছাত্রের মতো হল্লা করতে করতে নেমে আসছে।আর সকালে? কঠোর বিকল্পের পরিশ্রম নেই, কঠোর বিকল্পের পরিশ্রম নেই, এই মন্ত্র আওড়াতে আওড়াতে, গম্ভীর ভাবে চড়াই উঠতো সে। পাশ দিয়ে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি, বাস, ট্রাক চলে যেত। তার অবিশ্যি দৃকপাত নেই। "হাথি চলে বাজার মে কুত্তা ভুখে হাজার'।
  • nk | 151.*.*.* | ২৩ মে ২০১১ ২৩:৫৬469404
  • পাইয়াছি রে পাইয়াছি। এই তো সেই রেল!!!!
  • nb | 14.*.*.* | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৪১469405
  • লোকাল লেডিস কামরা~~~~~~~~~~~~~~~

    ঐ আসছে ক্যাটারপিলার !কোমর দোলাতে দোলাতে। রোজদিন রিয়া টেনশন ফ্রি হয় এ ভাবে !! এরপর তো যুদ্ধ শুরু। ঐ এল। ওঠা গেলো। মহিলা কামরা। একটি ছোটখাটো প্রমিলা রাজ্য বল্লেও কম বলা হয়। আপাত শ্রেণি বিভাজন আছে কিন্তু আধিপত্য উচ্চবর্গের হাতে নেই। স্কুলের দিদিমনিরা সংখ্যায় বেশী। নরেন্দ্রপুর, গড়িয়া, থেকে বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, ডানকুনি। কোথায় নয়? উত্তর থেকে দক্ষিন, পুব থেকে পশ্চিম ; মেন থকে কর্ড সব লাইন। কখনো গঙ্গা পেরিয়ে, কখন ভ্যান রিক্সায়, ট্রেনের আগু পিছু সব কিছু চেপে হাঁপাতে হাঁপাতে ট্রেন ধরা। তবুও যথেষ্ট সেজেগুজে পরিচ্ছন্ন হয়ে আসেন। পোশাক নিয়ে অনেক হাল্লা চিল্লা পেরোতে হয়েছে তাদের। কেউ নড়াতে পারেনি। দিদিমনিদের দেবী ভাবের ধাচা থেকে বেশ ভালই মুক্ত হতে পেরেছেন নতুন প্রজন্ম। বসে কেউ একটু ঝিমিয়ে নেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা অব্দি ঘোড় দৌড়। রান্নার লোক থাকলেও বাচ্চার টিফিন, নিজের টিফিন, বরের টিফিন। এখন খাওয়া তখন খাওয়া বন্দোবস্ত করা। অদিনের সব কিছুর ব্যবস্থাপনা করে রেখে আসা। ফিরতে ফিরতে তো সেই সন্ধ্যে। সুতরাং একটু খানি চোখ বোজা। কেউ কেউ আবার বই খুলে বসেন। এই তো দিনে একটুখানি নিজের মত করে সময় পাওয়া। কখন দেড়, কখন দুই ঘণ্টার যাত্রা। কেউ কেউ আবার এই সময় টুকু নিজের খাতা খুলে বসেন। কোথায় কবে কি করলেন। বর কবার বিদেশ গেলেন, ছেলে কত টাকা রোজগার করে, সে বছর ক টাকা বর ইনকামট্যাক্স দিয়েছে। তা নিয়ে আবার মজাও কম হত না। এই রকম লোকদের খচাতে জুড়ি ছিলনা সুমির। 'তারপর কি হল বলুন না সীমাদি। ছেলের জন্য পাত্রি পেলেন, কোটিপতি, ইঞ্জিনিয়ার ?' তিনি অতি উৎসাহে বলতে লাগলেন বর এবং ছেলের খতিয়ান। আর তারপর পিটপিট করে হাসতে লাগলো আশপাশ।

    তা সে দিদিমনিদের ওপর আবার অনেকে মহা খচা। 'এই এসেছেন ~ এখনি শুরু হবে কোথায় নামবেন, কোথায় নামবেন। ' দোষ নেই এতক্ষনের যাত্রা বসতে তো হবেই। কোন কোন যাত্রি সহৃদয়। উদ্যোগী হয়ে বল্লেন কোথায় নামবেন। কেঊ কেঊ কিছু বললেন না। কিন্তু টুক করে পরের স্টেশনে নেমে গেলেন। সিটটি হয়ত পাওয়া গেল না।

    সাড়ে দশটার ট্রেনে থাকে সবজি মাসিরা। ভোর চারটের উঠে বেরোতে হয়। তারপর শেয়ালদায় সবজি বিক্রি। অসব সময় কিছু বলার জন্য ব্যস্ত। হয়ত সারা দিনের ক্লান্তি। তবে প্রায় ই সবার সঙ্গে উচ্চকিত। দিদিমনিরা জায়গা পাননি দাঁড়িয়ে আছেন। চুল উড়ে যদি কোন কারনে গায়ে লাগে তাহলে খুব রাগ হয় মাসিদের। এ নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে বলে বসল হয়ত' জানি জানি ব্যাগ দুলিয়ে কোথায় যাও ! 'সব্বনাশ ! তারপর আর মুখ খোলে কেউ ? ভদ্রলোকের নিকুচি করেছে। পুরো আকুপাংচার ভদ্রতার মানদণ্ড। জেনারেল কামরায় থাকলে দেখা যাবে সঙ্গে একটি প্রেমিকপ্রবর বর নয়, আশনাই -এর রকম সকম দেখলেই বোঝা যায়। চোখে মুখে লজ্জা। এরপর উঠবে সকালের খাবার। সেই কোন রাতে উঠে কোনোমতে দৌড়ে বেরিয়ে আসা। কারো কারোকে আবার এর মধ্যে রান্না বান্না করে রেখে আসতে হয়। মুখে চা ছাড়া কোন কিছু দিয়ে আসা হয় না। তাই খাওয়া। পরোটা, আলুর দম, ডিমের ঝোল কখনো কখনো। সঙ্গে জল ও নিয়ে আসে ভেন্ডার ছেলেটি। শেষে মিষ্টি। খুব যত্ন করে খাওয়ায় ছেলেটি। সবাই মিলে হই হই, যেন যৌথ পরিবার খেতে বসেছে। এটাই হয়ত সারাদিনের পুষ্টিকর খাওয়া ! তারপর সারা পরিবার কে খাইয়ে কি আর জোটে। বাড়ি পৌঁছেই তো ঘোড় দৌড় শুরু হবে। ফুলওয়ালি ও ব্লাউস মাসিদের আবার কাজে ও বসতে হয় বাড়ি গিয়ে। দশটি টি ব্লাউসে বোতাম লাগালে এক টাকা। দশটি মালা গাথলে এক টাকা। তখন বাড়ির কন্যা সন্তানটিকে রান্নার হাল ধরতে হয়। তাই কখন কখন ট্রেনে বসেই হাত চলতে থাকে। অবিকেলের ট্রেনে থাকে শেয়ালদার দিদিরা। দাঁড়াতে হবে স্টেশনের বাইরে খদ্দের ধরার জন্যে। ভেতরে গেলে পুলিশের ঝামেলা। তাদের মুখে সব সময় একটি সংকুচিত ভাব। সিঁথিতে এক ঢাল সিদুর। নিপুন শাঁখা পলা। মলিন একটি ব্যাগ। কথা খুব কম বলে। ঝামেলা হলে অন্যকথা। তখন রণরঙ্গিণী। আর আছেন সুনিপুন নারী সাজে মানুষ। দঙ্গল বেধে ওঠেন। চুন থেকে পান খসার দরকার নেই, এমনিতেইরাখে হরি মারে কে। ভয়ে কাঁটা। বসার জায়গা দিয়ে নিশ্চিন্ত।

    অপূর্ব মানুষের অবিরাম চলা। মনে হয় সমস্ত সমাজটা যেন এক কামরায় ঢুকে গেছে। শ্রেণিহীন রেলের কামরা। ছোট্ট একটি বাংলা। ভারতবর্ষ ছোট হয়ে জায়গা খুঁজে নিয়েছে।

    ~~~~~~~
  • pi | 72.*.*.* | ০৮ জানুয়ারি ২০১২ ০১:০২469407
  • দশটি ব্লাউসে বোতাম লাগালে এক টাকা। দশটা মালা গাঁথলে এক টাকা।
    এখনো এই রেট ?
  • Subrata Goswami | ২০ মার্চ ২০১৫ ১৯:৫৬469408
  • বর্ধমান থেকে ট্রেনে বাড়ি ফিরছি একদিন। সাড়ে সাতটা মতন বাজে তখন। মাঝখানের কোনো একটা স্টেশন থেকে দুজন অন্ধ মানুষ উঠলেন। দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী বা ভিস্যুয়ালি চ্যালেঞ্জড এর গুরুগম্ভীর আঁতলামোয় না গিয়ে অন্ধই বলছি। আমার মনে হয়না যে অন্ধ শব্দটায় কোনো অপমান লুকিয়ে আছে। বরং ওসব গুলো বলে তাঁদের কাছে এমন একটা উপলব্ধি পৌঁছে দেওয়া হয় যে,"তুই কানা, আমি জানি, তাও বলছিনা। আমি কত মহান দেখলি?"।  যাই হোক দুজন অন্ধ মানুষ উঠলেন সেটা পরে দেখেছি। আগে তাঁদের গান কানে এল। "ও মঞ্জরী ও মঞ্জরী, আমের মঞ্জরী"। কোনো কোনো সময় কোনো কোনো সুর বড্ড মরমে ঠেলা দেয়। স্বপ্নে পাওয়া কামিনী ফুলের গন্ধের মত। আমি একবার পেয়েছিলাম। খুব রোম্যাণ্টিক আড়মোড়ায় ঘুম ভেঙে দেখলাম কাকা বগলে পণ্ডস এগজোটিকা পাউডার লাগাচ্ছে। মরমি স্বপ্নের পণ্ডশ্রম জ্বালা ধরিয়েছিল সেদিন। তবে এদিনটা অন্যরকম লাগছিল। দারুন ভাবে কানে নিচ্ছিলাম গানটা, প্রাণেও। ওঁদের একজন একজায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুটো সাইকেলের বেলের বাটিকে মঞ্জিরার মত করে বাজাচ্ছিলেন। বেশ বাজাচ্ছিলেন। শুধুমাত্র ওই দুটো বাটি দিয়ে সেকেণ্ড পাঁচেকের একটা রিদিমিয় ইণ্টারলিউডও বাজালেন। আর আরেকজন গাইতে গাইতে ভিক্ষে করছিলেন। সে আমার চেনা। গান থামিয়ে উজবুকের মত জিজ্ঞাসা করার মুড হলনা সেদিন, "আরে তুই বছর পঁচিশেক আগে উল্টোডাঙ্গা অঞ্চলে ভিক্ষে করতিস না? তোর বাবার কাঁধ ধরে? তারপর কদিন একটা মেয়েকে নিয়ে আসতিস...কে ওটা বোন?"।  তবে জানতে যে ইচ্ছে হচ্ছিলনা, এমনটা নয়। অনুমান করে নিলাম ওর বাবা আরো বৃদ্ধ হয়েছেন বা মারা গিয়েছেন। বোনের বিয়ে হয়েছে হয়ত। অনুমান করলাম ওর হয়ত একা চলার সাহস নেই। তাই সাহস হিসেবে আরও একজন না দেখতে পাওয়া মানুষকে নিয়ে ভিক্ষেয় বেরিয়েছে। এমনিতে আমি ভিক্ষে দিইনা। মনেহয় কিপটেমিটা একটা কারন। বাকি কারন খুঁজতে হবে। এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। তবে আমাদের ট্রেকবই-এ যেদিন মিলনদার লেখায় পড়লাম,"ভিক্ষাবৃত্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়", সেদিন থেকে বলার মত একটা কারন আমার স্টকে থেকে গেল। অন্যকাউকে নয়। নিজেকে। তারপর থেকে ভিখিরি দেখলেই আমার মিলনদার মুখটা মনে পড়ে। তবে এদিন দিলাম। ভাবলাম এই মানুষগুলো এটা না করলে বাঁচবেন কী করে। দু-টাকার একটা কয়েন দিলাম। দেওয়ার পরমূহুর্তেই মনে পড়ল ডানকুনি লাইনে একদিন এক কর্ডলেস ট্র্যাক সিঙ্গারকে দশ-টাকা দিয়েছিলাম। সেটাকে সেদিন ভিক্ষে মনে হয়নি। ভিক্ষে দিচ্ছি মনে হয়নি বলেই হয়ত দশটাকা দিয়েছিলাম। কী মনে হয়েছিল তাও মনে করতে পারলামনা। তবে এদিন টাকাটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেদিনের টাকা দেওয়ার পাশে একটা ছাপ লেগে গেল। আর ওই যে ভেবেছিলাম,এই মানুষগুলো এটা না করলে বাঁচবেন কী করে, ভুল ভেবেছিলাম। আমাদের পুরোনো পাড়ার দীনু। এঁদের মতই অন্ধ। যেকোনো মূহুর্তে যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে দীনুকে  "কটা বাজে" জিজ্ঞাসা করলে ও চোখ বন্ধ করে নির্ভুল সময় বলে দিতে পারে। দীনুকে অন্ধ মনে করিনা বলেই বোধহয় "চোখ বন্ধ করে" কথাটা লিখে ফেললাম। দীনু একটা ধূপকাঠি কারখানায় কাজ করত। ধূপ গুনে প্যাকেটে ভরত।  ডিউটি টাইমের বাইরে ওদের থেকেই ধুপ কিনে বাইরে বেচতো। এখন কী করে জানিনা। তবে দীনু ভিক্ষে করেনি কখনো। 
  • একক | 24.*.*.* | ২০ মার্চ ২০১৫ ২১:১২469409
  • কুঝিকঝিক করে কি টেরেন রা চলে আজকাল ? সব দেখি ঘোঁত ঘোঁত ধরফর ঘ্র্যাসঘ্রিচ ঘঃ ঘঃ করা ট্রেন। বরং বারো চোদ্দ বচ্ছর আগের শেষ চড়া একটা ধীর লয়ের কুঝিকঝিকের কথা বলি।

    হলো কী হাতে ট্যাহাপহা না থাগলে যা হয়। মুঠো যায় বন্ধ হয়ে আর চোখ যায় খুলে। রাঁচি এক্সপ্রেসের ভাড়া গোনা অসম্ভব বুঝে চার বন্ধু মিলে লোকাল পাল্টে পাল্টে রাত এগারোটায় বর্কাখানায় গিয়ে হাজির। কী খিদে পেয়েছে ! সেই দুপুরে রাম কিনতে খড়গপুরে গিয়ে কী ছাইপাঁশ খেইচি সব হজম। একটা কুকুর-গার্ড শুন্য স্টেশনে বসে আছি। তার ওপর টয় অনবরত বলে যাচ্ছে .....বিহারে কিন্তু আইন আদালত বলে কিছু নেই, আমাদের এত রিস্ক নেওয়া উচিত হয়নি ইত্যাদি। শেষ অবধি তাকে বাকিরা মিলে ব্যাপক ভয় দেখানো হলো আর একটা কথা বললে কেলিয়ে জাঙ্গিয়া কেড়ে নেওয়া হবে। তখন এটা খুব চলত। কাওকে জাঙ্গিয়া কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখালে সে চুপ। দলবেঁধে বেড়িয়ে স্টেশনের বাইরে থেকে রুটি তক্কারি খেয়ে ও রুটিতক্কারিখোরতোলাবাজদর্শন করে আসা গেল। কাটটা ফাট্টা টেবিলে রাখা। সে গপ্প অন্য কোথাও।

    তা, খেই দেই এসে দেকি আরও ছ জন লোক জুটেচে গোটা স্টেশনে। বিরাট ব্যাপার। পাঁচজনের একটা আদিবাসী মেয়ে-বুড়ির দল। তাদের সঙ্গে পোঁটলা, ঝুরি। আর আমাদের গা ঘেঁষেই একজন লাল পাগড়ি পরা গোঁফ পাকানো গুন্ডাপ্রতিম মানুষ বসে। ভয়ঙ্কর কঠিন চোখ মুখ করে ট্রেন আসার লাইনের দিকে টেরিয়ে আচে। টয় আবার একদফা ঘ্যান ঘ্যান শুরু করলো। বোলা থা উস টাইম। চোপ শালা !! জাঙ্গি........চুপ।

    ট্রেনে উঠেই হেঁটে হেঁটে বেড়ানো কারো স্বভাব। যেমন ডনি। প্রচন্ড জরুরি দুটো চক্কর মেরে এসে বলল : উত্তেজনা উত্তেজনা !কেও কোত্থাও নেই ! গোটা ট্রেন আমাদের। আমি একটা অস্ফুট বাল বলে রিফার বানানোয় মন দিলুম। উল্টোদিকেই সেই মেয়ে দের দলটি বসে। গন্ধ ও দর্শনে মালুম হলো ঝুরি ও পোঁটলা ভর্তি শুকনো তেঁতুলের মত জিনিশগুলো মহুলের ফুল। ঠিক কোনাকুনি পরের খোপটাতেই জানলার ধারে সেই লাল পাগড়ি। পা তুলে কটিন দিষটি দিয়ে বাইরের অন্ধকার দেখচে। শুধু প্রিয় একবার কোঁচকানো ভুরু কুঁচকে রেখেই বল্লো : কিন্তু সবাই এখানেই জুটলো কেন ? [হতভাগার মধ্যে তখন থেকেই গোইন্দা হবার পূর্বলক্ষণ প্রকাশ পাচ্চিলো ]।

    ঝিক ঝিক ট্রেন চলেছে। চলেছে তো চলেছেই। আমরা নীহারিকা চানাচুর খেয়ে শেষ করলুম। প্রিয়র বান্ধবীর দেওয়া। তাই চানাচুর টার নাম ওটাই রাখা হয়েছিল। সব কিছুর নাম রাখার নেশা ছিল আমাদের। যেমন চলন্ত দরজায় দাঁড়িয়ে রামে চুমুক দিতে দিতে অন্ধকার টার নাম পাগলা বাপি অন্ধকার। কামরার ভেতরেও প্রায় অন্ধকার। দুটি বাল্ব অনেকটা দুরে দুরে জ্বলছে। থ্যাপলা থ্যাপলা আলো। জরসর হয়ে বসে থাকা মেয়েদের দলের খুব নীচুস্বরে কথা। ডনি একবার এগিয়ে গিয়ে আলাপের উত্সাহ দেখিয়েছিল। আমার এর আগে ঔরন্গার কেস খেয়াল ছিল। নিরুত্সাহ গলায় বল্লুম : এসব সত্যজিতগিরি না মারালেই নয় ? সে প্রতিশোধস্বরূপ বাকি রাম টা স্যাট করে মেরে দিলো।

    এই আরকি। চলি চলি। উষ্ণ বাতাসের ঝাপট মুখে এসে লাগে। টয় ঘ্যানঘ্যান করে পাগড়িওয়ালা কে নিয়ে। প্রিয় একবার একপাশে টেনে নিয়ে গিয়ে বলে কিভাবে নীহারিকার বুকে হাত রাখতেই একবার কলিং বেল এ আমার সাধ না মিটিলো বেজে উঠেছিলো। ফ্যা ফ্যা করে হাসতে হাসতে হঠাত নজর যায় বাইরের অন্ধকারে বাছুর লেভেলে একঝাঁক চোখ। হরিণ ফোরিন হবে। আমরা চুপ করে যাই অনেকক্ষনের জন্যে। ঘ্যাতর ঘ্যাতর ঝিস ঝিকিত ঘ্যাত ঘ্যাতর ট্রেন এগোয়। খেয়াল না করলে খেয়ালও পরেনা। ঘন্টা তিন কেটে গেছে হয়ত। একটা ঢিবিমত জায়গায় ট্রেন থামে। মহুলওয়ালি দের দল নেবে যায়। লালপাগড়ি ওয়ালাও। টয় ও নাবে। টিপিকাল বদভ্যেস, স্টেশন এলেই জল খোঁজে। ডনি একটু গলা তুলে বলে......আরে রাম আছে তো ! পাত্তা দেয় না। আমরাও। স্টেশনের দিকটায় তাকাতেও ভালো লাগছিলো না। উল্টো দরজায় বসে ছিলুম তাই। কোত্থেকে একটা হই চৈ শব্দ আসে। কান দিই না। আর তাছাড়া সে অন্য গপ্প।
  • Phaltu | 176.*.*.* | ২১ মার্চ ২০১৫ ০০:২৫469410
  • এবার এককের জাঙ্গু খুলে নেওয়া হবে, অন্য গল্পের নামে তিনটে গাজর ঝুলিয়ে দেবার জন্যে
  • একক | 24.*.*.* | ২১ মার্চ ২০১৫ ০০:৫৮469411
  • আমার ধারণা সেই গল্প গুলো আগে কোথাও না কোথাও বলেছি :) এই অংশটা জাস্ট পাউরুটির অলস ফুটোগুলো একসঙ্গে জুড়ে নেওয়া হলো। লীম লিখেছেন না, পাউরুটি মানে অনেএএক গুলো ফুটো যারা ময়দা দিয়ে জোড়া। সেইরম :D
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন