এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব

    pi
    অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ | ৭১০৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ফরিদা | ২০ এপ্রিল ২০২৪ ০৮:০১742842
  • শব্দ তো বোধমাত্র — 
    অবলম্বন সাপেক্ষে তরঙ্গবাহিত 
    যেন চিঠি, তাকে বয়ে নিয়ে যেতে যেতে
    পিওনেরা খুলে দেখে, হাসাহাসি করে। 
    তাই আর সব কিছু বলি না তোমায়
    যদি মাঝপথে অর্থ বদলে গিয়ে অনর্থ ঘটায়। 

    শব্দ বোধমাত্র, তাই দেখ — 
    অক্ষরবাহিত সংকেত শেখার ইস্কুল 
    খুব দ্রুত খুলবে পাড়ায় পাড়ায়।
    দূষণমুক্ত পৃথিবীতে রাত বাড়লে
    আমাদের কথা হবে তারায় তারায়। 
     
  • ফরিদা | ২৭ জুন ২০২৪ ২১:১৩743294
  • ঘুম আসার সময়েই 
    তাক করে পৌঁছবে সে
    একা একা কিছুক্ষণ গুণগুণ করে 
    পিছু পিছু আরও কয়েকটা লাইন —

    কখনও লিখে রাখি
    কখনও স্বপ্ন রঙিন। 
  • ফরিদা | ০৩ আগস্ট ২০২৪ ০৮:৩২743507
  • লেখালেখির সময়

    লেখালেখির সময় এলেই মনে পড়ে
    বাবা কে অনেকদিন ফোন করা হয় নি
    মেশিনে জামাকাপড় কাচতে হবে।
    দাড়িটা আজকে না কাটলেই নয়, 
    এদিকে নখগুলোও বড় হয়ে গেছে।

    জল না পেয়ে বা বেশি জল পেয়ে
    বারান্দার গাছগুলো মৃতপ্রায়

    সদরের ছিটকিনি খোলা রাখা সকাল থেকে
    এখন কাজের লোক ঢুকে পড়লেই —
    লেখালেখির সময় ফুরিয়ে যায়।
  • ফরিদা | ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৭743815
  • ঈশ্বর হওয়ার পাপে 
    প্রতিমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়
    চড়া উজ্জ্বল আলোয়
    ধুনোর ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে গেলেও
    পাতাটি ফেলার নিয়ম নেই — 
    কাপড়ের খুঁট দিয়ে মোছা তো দূরস্থান।

    প্রসাদের থালা থেকে প্রাপ্তি বলতে
    উড়ে এসে বসা মাছির পায়ে যতটুকু উঠে
    এসে বসেছিল ঠোঁটে — লোকে জাগ্রত বলে
    প্রায়শ্চিত্ত সম্পূর্ণ হ'লে উনি ভাসান যাবেন জলে।
  • kk | 172.58.***.*** | ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:৩২743816
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৭ এর কবিতাটা অত্যন্ত ভালো লাগলো।
  • kk | 172.58.***.*** | ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:৫৮743817
  • ফরিদা,
    কয়েকজনের সাথে কবিতাটা শেয়ার করলাম। আপত্তি নেই তো? স্যরি, আগে তোমাকে জিজ্ঞেস করে নেওয়া উচিৎ ছিলো।
  • ফরিদা | ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ০০:২৯743818
  • আরে, এ কী কথা... 
     
    লেখা প্রকাশের পর সে স্বাধীন... যেখানে যেতে চায় যাক, যা খুশি করে বেড়াক,  
     
    অনেকটা সন্তানসম..
  • ফরিদা | ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ০০:১২744107
  • First foggy day of the sesaon,
    Driving plans for office and some reasons.
    FM was there with news going on.

    Some assumptions far and near.
    Scattered like some old pals “wd see u there”.
    I was looking at a distance to see nothing.
    No word said but a bit flattering
    A whip of colour on grey morning
    Suddenly, faded fast flying....

    My defence all gone, at the point of yeild
    A kingfisher just passed my windshield.
  • | 2409:40e0:102a:b623:8000::***:*** | ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৬744120
  • একেক দিন খুব দুঃখ হয়
    __তারাপদ রায়

    একেক দিন হাতে কোন পয়সা নেই বলে
    খুব দুঃখ হয়,
    চারপাশে সবাইকে কেমন সচ্ছল মনে হয়।
    একেক দিন শরীর ভালো নেই বলে
    খুব দুঃখ হয়,
    চারপাশে সবাইকে কেমন সহজ, সুস্থ মনে হয়।

    একেক দিন ভালোবাসার জন্যে দুঃখ হয়।
    একেক দিন ভালো না বাসার জন্যে দুঃখ হয়।
    একেক দিন কোন বন্ধু নেই বলে,
    একেক দিন কোন শত্রু নেই বলে,
    একেক দিন প্রশংসা শুনিনি তাই,
    নিন্দাও শুনিনি তাই,
    একেক দিন খুব দুঃখ হয়।
  • Ranjan Roy | ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ০৫:১৩744137
  • প্রতিমার ঈশ্বর হওয়ার দায় নিয়ে কবিতাটি পড়ে মনে হয়:
    হয়েছে, এটা কিছু  হয়েছে-- কবিতা হয়েছে।
    এমন কবিতা, যার দেখা পেলে বর্তে যাই।
  • ফরিদা | ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:০৭744139
  • রঞ্জন দা,
  • ফরিদা | ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১১744140
  • আগের পোস্ট উড়ে গেল।.. 
     
     
    সিনেমা ভাঙার পরে — 
    নিজের জুতোর দিকে তাকিয়ে হাঁটি। 
    ততক্ষণে, সন্ধ্যার আকাশে সদ্যোজাত চাঁদটি নিয়ে
    কাড়াকাড়ি চলছে দিগন্তে সমুদ্র ও ঝাউবনের।

    বেলাভূমিতে আমাদের কুঁড়েঘরে সামনে
    একটা আলো হাতে নিয়ে পথ দেখছ তুমি —
    উঠকণ্ঠায় শীঘ্র নামে রাত। 
    জোয়ারের সময় হয়ে এল।

    আমিও পা চালাই লেনিন সরণী ধরে —
    সিনেমা ভাঙার পরে। 
  • ফরিদা | ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:২৯744270
  • আর কয়েকদিনের মধ্যেই জানা যাবে, আমরা নেহাৎ উজবুগের মতো —
    যাদের ঘেন্না করেছি, তারা আরও বেশি ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
    যাদের ভয় দেখাতে গেছি, তারা আরও ভয়ানক পরিকল্পনা করেছে।
    যাদের ভিটে মাটি চাঁটি করেছি, তারাই আমার ঘরে আগুন দিয়ে সপরিবার পুড়িয়ে মেরেছে।

    খবরে আরও বিশদে থাকবে —
    তোমায় লেখা শত শত উত্তর না পাওয়া চিঠিরা 
    আচমকা ক্রান্তীয় অরণ্য বানিয়েছে।
    তোমার অপেক্ষায় কাটানো সময়ের ইট কাঠ পাথর
    নিজেরাই গেঁথে গেঁথে বানিয়েছে গৃহহীনের আবাস।
    তোমার জন্য বাজার করে রান্না চাপালাম বলে — আজ পৃথিবীতে কেউ অভুক্ত থাকবে না..

    খুব শিগগিরই এ সব জানতে পারবে সবাই — বিশ্বাস কর। 
  • ফরিদা | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৬:৫৭744279
  • অমিতাভ দা,
  • ফরিদা | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৬:৫৮744280
  • ওই দেখ, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে 
    নতুন ব্যাট নিয়ে পার্কে যাচ্ছি আমরা
    চাঁদা দিয়ে কেনা ক্যাম্বিস বল লুফতে লুফতে
    যেখানে উইকেট পুঁতি, তার পাশেই অন্য একটা দল
    এসে খেলা শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে —
    বলল ওরা নাকি আগে অন্য মাঠে খেলত,
    সেখানে বাড়ি উঠবে বলে মাঠ খুঁড়ে দিয়েছে।

    তাই দেখ, খেলা হচ্ছে মিলিয়ে মিশিয়ে,
    ওদের বাচ্চামতো ছেলেটা, সতু, কী জোরে বল করে — 
    আর লালটু তো বলে বলে ছক্কা হাঁকায়।

    এবার থেকে একসাথেই খেলব আমরা 
    যা টিম হবে না আমাদের! 

    সবই তো স্পষ্ট এঁকেছি দেওয়ালে —

    বড়রা কিচ্ছু বোঝে না —
    এগুলো কে হিজিবিজি বলে। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:১৪744282
  • heart
    ঠিক, না বুঝলে সবই হিজিবিজি।  আর বড়দের এ ব‍্যপারে বড়ই সুনাম। heart
  • ফরিদা | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৫০744294
  • খরগোশ 

    জানো না তো — 
    সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে ‘'খরগোশ” লিখতে হয় 
    তখন সে নিজেই ঝোপ জঙ্গল খুঁজে 
    তোমাকে লুকিয়ে রাখবে,
    অর্ধেকটা গাজরও দেবে
    অথবা কিছু পালং পাতা।
    প্রথমে একটু অস্বস্তি হ'লেও 
    দেখবে আস্তে আস্তে পুরোটা স্পষ্ট হবে। 

    জানো না তো — 
    প্রিয় অক্ষরগুলি খরচ হয়ে গেলেও 
    বাকি মুখচেনা দু'একজন 
    ছোটখাট শুঁড়িপথে সাইকেল রিক্সায় 
    তোমাকে বিনাপয়সায় পৌঁছে দেবে 
    মন্দারমণির এক আশ্রয়ে। 
    দেখবে  কয়েকটা পালং পাতা,
    আধখানা গাজর ঝুলিয়ে সে অপেক্ষারত।

    দিনে একবার “খরগোশ” বা কাছাকাছি কিছু লিখ অন্তত। 
     
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:৫১744299
  • এখন উঠে বসতে চাইলে
    ভূমিকম্প হবে 
    অথবা আমি গুঁড়ো গুঁড়ো
    কিংবা ধ্বংস হবো দুজনেই।
    তার চেয়ে এই ভালো
    মাটির বিছানায় আকাশের মুখোমুখি
    মাটি হতে হতে জেনে নেওয়া
    কিভাবে আমাকে ফুঁড়ে উঠে আসে সবুজ শিস
    শুকনো পাতা উড়ে এসে ঠাঁই নেয়
    বিপন্ন প্রাণী নির্ভার হয়
    এইসব আদিম ছবিতে তাই
    নিমগ্ন থাকি নিজস্ব ক‍্যানভাসে  ...
  • প্রত্যয় ভুক্ত | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:১৮744309
  • শীতের দুপুরের রোদ্দুরের লম্বা লম্বা আঙুল,
    মায়ের হাতের মতো নরম রোদ্দুর।
    যেন এখনি ফর্সা নরম হাতে চেপে চেপে কেউ পরিয়ে দেবে- লাল কালো সবুজ সব কাচের চুড়ি।
    যেন বুনে ফেলবে কাঁটায় হাতমোজা সোয়েটার সব,
    কোলে নিয়ে আমাদের মাথা।
    নীল আকাশে কোথাও মেঘ নেই, চরাচর জুড়ে ঘোরে শুধু রোদ্দুরের আঙুল।
     
    যত বেলা বাড়ে, গোলাপকুঁড়ির মতো আঙুলে হলুদের ছাপ পড়ে।
    কখনো হনুমান টুপি পড়া দাদুর গায়ে জড়িয়ে দেয় চাদরের ওম।
    কখনো সারারাত ফোঁটা ফোঁটা যে রস ঝরেছে খেজুর গাছের বুক থেকে, তাতে জ্বাল দিতে দিতে মিশিয়ে দেয় নিজের সোনালি রং।
    পয়রা গুড়ে আলোর রঙ ধরে।
    কখনো ছাদে কাপড় মেলতে এসে খুলে দেয় ভেজা চুল, পিঠে রৌদ্রের ছায়া পড়ে।
    দুপুরে হেলান দিয়ে পিঠে, বসে থাকে চিলেকোঠায় অনেকক্ষণ, আমরা তখন পরীক্ষার হলে, আপিসে-দেখতে পাই না, কখন রোদ্দুরের রূপোরঙ মিশে যায় মায়ের চুলে দু-একগাছি করে।
    হাত থেকে খসে যায় কুরুশ, পাশে সরিয়ে রাখে নতুন সোয়েটারের আধবোনা প্যাটার্ন।
    নীল আকাশে ডানা ভাসিয়ে ওড়ে চিল, পায়রা, হাঁসেরা 'ভি' লিখে উড়ে যায়- চশমায় ছায়া পড়ে তার।
    ন্যাড়া ছাদে মুকুট পরা রানীর মতো গাঁদাগাছেরা মাথা নাড়ায় উত্তরের বাতাসে।
    দূরে কারো বাড়ির ছাদে লেপের লাল রঙের খোলে রোদ বেড়ালের মতো গুটিসুটি মেরে সেঁধিয়ে যায়,
    টংটং তুলো ধোনার আওয়াজের সাথে পেঁজা পেঁজা তুলোর আঁশেদের ধরার চেষ্টা করে বৃথাই।
    ধুনুরিদের ছাড়িয়ে রাজমিস্ত্রিদের পাতে বেড়ে দেয় ভাত, গরম রোদের হাত।
    প্রজাপতিরা ওড়ে, ডানায় সাদা জেব্রার মতো লাইন আর তলায় হলদে লাল কালো ছিটছিট, প্রেম করে ডালিয়া থেকে চন্দ্রমল্লিকা, কসমস থেকে গ্ল্যাডিওলি।
    দু-এক কলি গুনগুন মিশে যায় লুব্ধ উত্তরের হাওয়ার কানে কানে।
     
     
    ছায়া দীর্ঘ হয়। কম্বলে লেগে থাকে রোদের গন্ধ।তাই নিয়ে রোদ সরে যায়, সরে যায়, সরে যায়....
    ছায়া বিষ্ণুতর হতে থাকে।
  • একক | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:২৬744348
  • ___
     
     
    বালি ১০০ টাকা বস্তা।  স্টোনচিপস হাফ 
    ইঞ্চি ১২০ টাকা 

    দশটায় সাইটে লেবার ঢুকবে -
    রাত দুটোয় সিন্ডিকেটে আটকাবে গাড়ি -

    কবিতা  থেকে মুখ তুলে 
    ছোটা মুমতাজকে একটা 
    ফোন, 

    বাতাসে সিমেন্ট্ 

    মেরে পুঁতে দিলে পড়ে,  
    ওয়াহ্ তাজ বলে যান জাকির হুসেন। 
    Tarak previous bill : 
    Tarak previous payment : 
    Tarak.
  • lcm | ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ ০৬:০০744436
  • পাতাললোক 
    -- --
     
    একটা জিনিস ঠিক ধরতে পারছিলাম না, যে
    ছোটলোক আর বড়লোকের মাঝখানে কারা আছে
    অসীমকে জিগ্গেস করাতে ও বলল -
    ধুর! ছোটলোক মানে অভদ্র,
    আর বড়লোক হল ধনী,
    এর আবার মাঝখান কী?

    তার মানে তুই বলছিস,
    তুই শিওর বলছিস,
    ভালো করে জেনে বলছিস, যে
    একজন একই সঙ্গে ছোটলোক এবং বড়লোক
    দুইই হতে পারে

    আচ্ছা, তাহলে কি
    একজন একই সঙ্গে ইহলোক এবং পরলোক
    দু জায়গাতেই থাকতে পারে?
    বা, একজন ভদ্রলোক
    এই অসহ্য ইতর সমাজে
    দিবালোকে ঘুরে বেড়াতে পারে?

    স্বপন সিগারেট টানছিল,
    আর আমাদের কথা শুনছিল
    থাকতে না পেরে বলে উঠল -
    ভূলোক নিয়ে এত ভেবে কি হবে, যা 
    বরং আমাজন প্রাইমে পাতাললোক দ্যাখ।
  • ফরিদা | ০৮ মার্চ ২০২৫ ০৯:০০744502
  • বেড়ালকে ভালোবেসে কোনও উপকার হয় নি পৃথিবীর।
    যতক্ষণ সে খেলে বেড়িয়েছে  সেরেফ তার ইচ্ছেমতো —
    খুশখুশে ফ্যাক ফ্যাক হাসি চালিয়ে দিয়েছে রেডিওতে।
    “মনের মতো গান শুনছিলেন আপনারা, এখন শুরু হবে — 
    চাষিভাইদের জন্য উনো জমির দুনো ফসল কলকাতা ক য়ে”।
    অর্থাৎ বেড়ালটি পাড়া বেড়াতে গিয়েছে আমার অনিচ্ছায়।

    বেড়ালকে চোখে চোখে রাখি, প্রতিবেশী অভিযোগ জানায়।
    বাড়িতে অশান্তি বাড়ে, গাড়ি চালানর সময় সন্তর্পণে থাকি
    হুটহাট না লাফিয়ে পড়ে সামনের চাকায় বেয়াক্কেলে — 
    এমনিতে ভালো ছেলে, তাও সে লাফিয়ে পড়ে
    ল্যাপটপে 
    গুরুত্বপূর্ণ অফিস মিটিঙের সময়। মনে মনে বিরক্ত হ'লেও
    সে ফেরে না বহুক্ষণ আমার অবসরে। ঘর বার করি বারংবার
    এত অহংকার?  শুধু তার ইচ্ছেমতো খুশি থেকে হেসে?
    হয়ত পৃথিবী জানে তার মানে, আয়ু বাড়ে নিছক ভালোবেসে।
  • ফরিদা | ০৮ মার্চ ২০২৫ ১২:২৯744508
  • সব জেনেশুনেও কুহকে বিশ্বাস রাখি
    মেঘ করলে হাতিরা দল বেঁধে বারান্দায় উঠে আসে। 
    তাই নাইট শোয়ে অর্ধেকটা রেখে আমার কিছুটা
    রাতের ট্রেন ধরবে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার 
    যাতে ভোর ভোর পুরুলিয়া পলাশ।
    ভুল ঠিকানায় চিঠি দিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় থাকবে বাকি অবকাশ। 

    যে কোনও পদার্থের সঙ্গে কথা বলতে শিখেছি
    বুদবুদের মতো ভাষারা জন্মে মিলিয়ে যাচ্ছে আমাজন প্রাইমে।
    স্তব্ধতা ও নীরবতা কে দেখলাম পাড়ার ক্যাফেতে
    দেদার খোশগল্পে মেতে হা হা হি হি অফিস টাইমে।

    এই ভালো, শব্দ নেই, খেলা নেই টিভিতে তেমন
    দিন যায় যাক, আপাতত রাতদুপুর সুন্দরবন।
    ঘুম না ভাঙলে কুহকের গ্রামে যাব,  চক্রধরপুর।
  • ফরিদা | ০৮ মার্চ ২০২৫ ১৬:৪২744511
  •  
    সম্পূর্ণভাবে অন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই 
    আমায় কবিতাগুলো চটপট লিখে ফেলতে হবে।
    সাঙ্ঘাতিক সংক্রামক অন্ধত্বে ডুবেছে দুনিয়া
    আগে খবর আসত দূর থেকে
    আজকাল কাছেপিঠে চেনাশোনারাও
    দেখি লাঠি হাতে পথ হাঁটে।

    বুঝি, আমারও বেশি দিন নেই — 
    অনেক শব্দ আজকাল ঠাহর করতে পারি না।
    উচ্চারিত বা ব্যবহৃত হ’লে 
    লেখায় অন্ধকার নেমে আসে
    বন্ধুরাও ধার দিতে অস্বীকার করছে ঘন ঘন।

    সম্পূর্ণ পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে 
    লেখাগুলো থেকে যাক, যদি ওরা দেখে —
    তখনও যদি সন্ধ্যা হ'লে ঘরে আলো জ্বালে কেউ।

     
  • ফরিদা | ১১ মার্চ ২০২৫ ১২:০৩744525
  • ১১ ই মার্চ ২০২৫ এর জার্নাল
     
    বারান্দায় ইকিড় মিকিড় রোদ 
    ফোন এল, এখনও কোনও খবর আসে নি।
    তবে কি হাতে হাত ধরে বসে থাকব?
    আর কেউ এত সহ্য করত না, আমি বলেই…
    ঠিক আছে রে বাবা, মনে আছে —
    চুনোমাছ পেলে নেব, নয়ত অল্প ট্যাংরা বা পার্শে
    আর কিচ্ছু না।

    বারান্দা ঝাঁট দিয়ে রোদ্দুর ছাতে 
    কাপড় মেলতে গেছে 
    অনেকক্ষণ, আর নামছে না। 


    পরশু দোলযাত্রা
    কালীসায়রের কিষাণ মান্ডিতে কুমড়ো ফুল দর করছিলাম।
    অথবা যোগশিক্ষকের ক্লাসে হাতে পায়ে গিঁট পড়ে যাচ্ছে
    অফিসের মিটিঙের মধ্যে দু'একটা শব্দের আত্মা 
    ভূতের নেত্য শুরু করতে চলেছে যেন —
    এক্ষুণি লিখে ফেলতে হবে ওদের।

    আমি তো পাশ ফিরে ঘুমোতে চাইছিলাম ফের।


    চেনাশোনা অনেকেই নাকি কলমের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে রেখেছে।
    সে কিছুটা লেখে, কলম বাকিটা। 
    পড়লেই বোঝা যায় গানের সঙ্গে যেন আবহ সঙ্গীত মিশে আছে
    জ্যোৎস্নায় ঝাউবনে হাওয়া ও সমুদ্রের শব্দ যেমন।

    আমার একটা বন্ধু কলম ছিল 
    নিয়ে বসলেই হ'ল, সেইই লিখে যেত 
    আমি হাঁ করে দেখতাম,  শুধুই দেখতাম 
    লিখে যেত পাতার পর পাতা, 
    যেন পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে
    শহরের পত্তন অবধি যাবতীয় কথা লিখে দেবে।

    সেও হারিয়েছে কালে কালে — 
    মোবাইলের পর্দায় বাসা বদল হয়ে গেলে। 


    এই বসন্তে লুকোই কোথায়
    শিমূলগুলি বৃদ্ধ হৃদয় 
    রক্তক্ষরণ 

    অযত্ন ভয় উচ্চারণে
    বাতাস যখন ঝাপট মারে
    পাতা ওড়ায়

    উড়ছে আবীর নীল দিগন্তে
    মনে হচ্ছে তুমি আসবে
    সন্ধ্যা হ'লে

    এবার কি আর সঙ্গে নেবে?
    এই বসন্ত আর একটিবার
    গান শোনাবে?
     
  • ফরিদা | ১২ মার্চ ২০২৫ ০৭:২১744535
  •  
    কবিতার ক্ষেত্রফল

    কাকে কী বলব আর —
    আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু বলে —
    অত বড় কবিতা পড়ব কী করে, 
    ছোট ক্ষেত্রফলের কবিতা লিখতে পারিস না? 
    এই যেমন প্রস্থে চার আঙুল, দৈর্ঘ্যে বড়জোর ছয়…

    অত:পর কবিতার যোগফল বিয়োগফল গুণফল
    হিসেব নিকেশ করে শেষ অবধি আমার
    কবিতার দোষফলে যাবজ্জীবন সব্যস্ত হয়।
     
  • ফরিদা | ১৪ মার্চ ২০২৫ ০০:২৪744575
  •  
    আমার ভ্রমণের ট্রেন প্রায় প্রতিদিনই লেটে ছেড়ে 
    পথে আরও দেরি করে অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছয়।
    সমুদ্রের ঢেউগুলি খোঁজে আমায় সারাদিন ধরে
    মেঘের আড়াল থেকে মুখ বার করে কাঞ্চনজঙ্ঘা 
    এমনকি সেই কুকুরটা অবধি ঠিক হাজির হবে 
    যেখানে দেখা হ'ত আমাদের, সকাল ছ’টা বাজলে।
    বৃদ্ধ চা-ওলা একটু ফাঁকা পেলে কথা বলছিলেন 
    একজনের সঙ্গে, যিনি পৌঁছলেন আমার বদলে।

    এক একটা দিনে কয়েকশো মানুষের মতো আমি
    শহরে কাজে যাই, পড়তে গ্রামের স্কুলে সাইকেলে
    ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পার্কে গিয়ে বসি একা একা ও
    বাদাম বিক্রি করি সারাদিন। মার খাই, মরে যাই
    জন্ম নিই তার কিছুক্ষণ আগে। শব্দ হই রঙ হই
    খিদে পেটে ভাতের গন্ধ — বেঁচে থাকতে ভালো লাগে।

  • ফরিদা | ১৪ মার্চ ২০২৫ ০৯:২২744580
  • অচেনা স্মরণসভায় গিয়ে বসে থাকি আমি
    এক কোণে চুপচাপ — 
    কেউ একটুও খেয়াল করে না।
    মুন্ডিত মস্তক কেউ এসে হাত জোড় করে 
    নমস্কার জানালে প্রতি নমস্কার জানাই।

    অনেক ফাঁকা চেয়ার থাকে।
    এক একজন উঠে কিছু বলে
    কেউ চট করে থামে না
    কেউ বলতে শুরু করতে পারে না
    কেউ মাঝপথে কান্নাকাটি শুরু করে।

    আমাকেও অনেকে ডেকেছে মাঝে মাঝে
    খুব আস্তে আস্তে উঠে দু-দিকে মাথা নাড়িয়ে 
    মৃদুস্বরে বলি —
    আমার কিছুই বলার নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন