শীতের দুপুরের রোদ্দুরের লম্বা লম্বা আঙুল,মায়ের হাতের মতো নরম রোদ্দুর।
যেন এখনি ফর্সা নরম হাতে চেপে চেপে কেউ পরিয়ে দেবে- লাল কালো সবুজ সব কাচের চুড়ি।
যেন বুনে ফেলবে কাঁটায় হাতমোজা সোয়েটার সব,
কোলে নিয়ে আমাদের মাথা।
নীল আকাশে কোথাও মেঘ নেই, চরাচর জুড়ে ঘোরে শুধু রোদ্দুরের আঙুল।
যত বেলা বাড়ে, গোলাপকুঁড়ির মতো আঙুলে হলুদের ছাপ পড়ে।
কখনো হনুমান টুপি পড়া দাদুর গায়ে জড়িয়ে দেয় চাদরের ওম।
কখনো সারারাত ফোঁটা ফোঁটা যে রস ঝরেছে খেজুর গাছের বুক থেকে, তাতে জ্বাল দিতে দিতে মিশিয়ে দেয় নিজের সোনালি রং।
পয়রা গুড়ে আলোর রঙ ধরে।
কখনো ছাদে কাপড় মেলতে এসে খুলে দেয় ভেজা চুল, পিঠে রৌদ্রের ছায়া পড়ে।
দুপুরে হেলান দিয়ে পিঠে, বসে থাকে চিলেকোঠায় অনেকক্ষণ, আমরা তখন পরীক্ষার হলে, আপিসে-দেখতে পাই না, কখন রোদ্দুরের রূপোরঙ মিশে যায় মায়ের চুলে দু-একগাছি করে।
হাত থেকে খসে যায় কুরুশ, পাশে সরিয়ে রাখে নতুন সোয়েটারের আধবোনা প্যাটার্ন।
নীল আকাশে ডানা ভাসিয়ে ওড়ে চিল, পায়রা, হাঁসেরা 'ভি' লিখে উড়ে যায়- চশমায় ছায়া পড়ে তার।
ন্যাড়া ছাদে মুকুট পরা রানীর মতো গাঁদাগাছেরা মাথা নাড়ায় উত্তরের বাতাসে।
দূরে কারো বাড়ির ছাদে লেপের লাল রঙের খোলে রোদ বেড়ালের মতো গুটিসুটি মেরে সেঁধিয়ে যায়,
টংটং তুলো ধোনার আওয়াজের সাথে পেঁজা পেঁজা তুলোর আঁশেদের ধরার চেষ্টা করে বৃথাই।
ধুনুরিদের ছাড়িয়ে রাজমিস্ত্রিদের পাতে বেড়ে দেয় ভাত, গরম রোদের হাত।
প্রজাপতিরা ওড়ে, ডানায় সাদা জেব্রার মতো লাইন আর তলায় হলদে লাল কালো ছিটছিট, প্রেম করে ডালিয়া থেকে চন্দ্রমল্লিকা, কসমস থেকে গ্ল্যাডিওলি।
দু-এক কলি গুনগুন মিশে যায় লুব্ধ উত্তরের হাওয়ার কানে কানে।
ছায়া দীর্ঘ হয়। কম্বলে লেগে থাকে রোদের গন্ধ।তাই নিয়ে রোদ সরে যায়, সরে যায়, সরে যায়....
ছায়া বিষ্ণুতর হতে থাকে।