আরেকটা ব্যাপার বলি।পশ্চিম য়ুরোপে এসে দেখলাম মেয়েরা সন্তানের মা হতে চায় না। কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। ম্যাটার্নিটি লীভ বোধহয় তিন মাস কি দু মাস এরকম কিছু। তার পরে বাচ্চা কে সামলাবে? ভ্যালিড প্রশ্ন।
এবার অন্য অদ্ভুত একটা সমাজের কথা বলি, যেখানে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো সময় কাটিয়েছি।
আমার পরীক্ষার টাইমে তখন প্রসবের ডেট পড়েছে। সমস্ত প্রোফেসর প্রতিটি পরীক্ষা নিলেন এক মাস আগে শুধু আমার। এবং প্রত্যেকটি প্রোজেক্টের ক্ষেত্রেও তাই। প্রসবের পরে এক বছরের ছুটি প্রাপ্য ছিল, নিই নি সে অন্য কথা।
চাকরি করা মায়েরা ততদিন পর্যন্ত ছুটি পেতেন যতদিন না বাচ্চা ইস্কুলে যাচ্ছে। সবেতন ছুটি। কীরকম একটা বাজে অদ্ভুত সমাজ না? কোনও মেয়েই মা হতে ভয় পায় না, কেরিয়ার নষ্ট হবার প্রশ্নই নেই। ঘরের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেবার ঘটনা নেই, যে বৌ বলবে বরকে — তুমি কেন স্যাক্রিফাইস করবে না বাচ্চার জন্য নিজের কেরিয়ার?
ফলতঃ এদিকে যেটা হচ্ছে স্থানীয় মেয়েরা মা হতে চাচ্ছে না। গরীব দেশের মেয়েদের বিয়ে করে আনছে স্থানীয়রা, তারা মা হতে ভয় পাচ্ছে না, একাধিকবার মা হচ্ছে, ভালো খেয়ে দেয়ে আরামের জীবন যাপন করছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, একজন মেয়ে সন্তানের জন্ম দেবে কি দেবে না, তা তার নিজের পছন্দ।
"জন্ম দেবে না" নামক পছন্দকে আজকাল বেশি করে হাইলাইট করা হচ্ছে, স্বাধীন পছন্দ বলা হচ্ছে। এর পেছনে যে অসাম্যের গল্প রয়েছে সেটা চেপে দেওয়া হয়েছে। তাকে রাষ্ট্র ঠিকঠাক ব্যাকাপ দেয় না।
অন্যদিকে "জন্ম দেবে" টা যে স্বাধীন পছন্দ হতে পারে, সেটা চেপে দেওয়া হয়। কেবলই এটাকে " জন্ম দেবার মেশিন" বলে দাগানোর একটা ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
অ্যাজ ইফ সব মেয়েদের জোর করে বাধ্য করা হয় মা হবার জন্য। এটা ভুল প্রচার। অনেক মেয়েকেই জোর করা হয় যেমন সত্য, তেমনি রাষ্ট্র ঠিকঠাক সহায়তা করলে এই স্বাধীন পছন্দের গ্রাফ বদলে যাবে।