সংক্ষেপে বেশ ভাল বলেছেন। আচ্ছা , তিন ক্ষেত্রেই কি আপার কাস্ট হেজিমনিটা বজায় আছে? @মানালী ম্যাডাম?নিশ্চয়ই। তবে প্রথমটার কথা বলতে পারবো না। যদি বলেন অর্থের সঙ্গে কাষ্ট হায়ারার্কির সম্পর্ক আছে তবে প্রথমটায় আপার কাষ্টের লোকজনও যেতে পারে। রিসেন্টল পড়লাম বিহারে মহাদলিত বৃদ্ধাকে ওপেন রাস্তায় দাহ করতে হয়েছে। কারণ মরদেহ দলিতের বলে শ্মশান নিয়ে যেতে ঝামেলা। পুলিশ সেই দর্শকের ভূমিকাতে। যাকগে, আমাদের পশ্চিমবঙ্গ হচ্ছে সিউডো-লিবেরাল (তবু কিছুটা আছে বলে রক্ষে নিঃসন্দেহে) নাহলে দীপ্সিতা ধরের থেকে মীনাক্ষী মুখার্জী কোনভাবে এগিয়ে তা আমার ক্ষুদ্রমস্তিষ্কে বোধগম্য হয় না। কোনো রইচই করা উপন্যাসের নায়ক দেখবেন অনন্য চ্যাটার্জী, অভ্রময় ব্যানার্জী এইসব। তবে ধনের ক্ষেত্রে বলবো ব্রিটিশরা আসার পরেই ঘেঁটেছে এটা কিছুটা। আগেও বলেছি নবজাগরণের যুগে মানুষ বিখ্যাত হতো বিদ্যাগুণে আর বিত্তগুণে। প্রথম প্রতিশ্রুতিতে লক্ষ্য করে দেখেছেন অবশ্যই, ভবতোষ মাষ্টার ইংরেজী শিক্ষিত বলে চাকরির জন্য নবকুমার তার কাছে পড়তে যেতো। তো নীলাম্বর বাড়ুয্যে বলছেন, "কালে কালে কী হলো! শুদ্দুরের কাছে বামুনের ছেলে বিদ্যা নিতে যায়! "
আবার সত্যবতীরা কলকাতায় এসে বিপুল সম্পত্তি দেখলো দত্তগিন্নীদের। তারা স্বর্ণবণিক, নাতির অন্নপ্রাশনে দেড়হাজার লোক খাওয়ায়, সোনার মোহরে দক্ষিণা দেয়। তার পায়ের কাছে বসে চক্রবর্তী গিন্নী পান সেজে দেন। সেই মহাবাক্যই প্রমাণিত -- "মুদ্রা সর্বশক্তিমান"। হুতোমের নকশাতেও সেই 'ক্ষুদ্র নবাব" যার সিল্কের চাপকান আর সোনার গয়নাগাটি দেখে রাজার ব্যাটা মনে হয়। পরে জানা গেলো এটি তেলির নাতি। তো কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত হয়ে তথাকথিত কাষ্ট হায়ারার্কি কিছুটা ভেঙে যায়। ব্রাহ্মণের একাধিপত্য গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী ও জাতি উঠে আসে অর্থ ক্ষমতায়। আবার দেখুন, নীলদর্পণের উড সাহেবও দেওয়ানকে মারতে মারতে বলেন, "তুমসে না হোবে, তুমার কাম নেহি আছে বাবু, এ ক্যাওটকা (ক্যাওড়া বা নীচ গোত্রভুক্ত) কাম আছে।" দেওয়ান উঠে ধুলো ঝেড়ে বলছে, "হুঁ বাবা, অ্যাদ্দিনে ক্যাওট হয়ে গেছি কাজেকর্মে। নইলে এতো জুতো মোজার লাথি কি হজম করতে পারে কায়েতের ব্যাটা?"
অর্থাৎ নীচ জাতি মানেই মনে প্রাণে নীচ হবে। নীলকরদের কুকর্ম অবশ্য তারা কেউই করতো না। বরং ক্ষেত্রমণির মতো সাহসিকতার পরিচয়ও পাওয়া যায়। যাকগে। ব্রাহ্মণ্যবাদ বা পরিবারতন্ত্র একটা ফিউডাল ব্যাকগ্রাউন্ডের রোগ। এ সারতে অনেক দেরী আছে। ব্রাহ্মণের ছেলে হলেই যে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন পারবে এর কোনো মানে নেই। ব্রহ্মকে অর্জন করা কঠিন। সেটা তারা জানতেন বলেই পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রেখে ক্ষমতা ও ধনসম্পদের ভাগ পেতে ক্ষমতার সঙ্গে আপোস করে নেন। তারপর উৎপল দত্তের কথা অনুযায়ী, "বাবু আর বামুন, এই দুই হলো ভাঙা মঙ্গলচন্ডী।"
প্রকৃত ব্রাহ্মণ একজন চন্ডাল, সাঁওতালও হতে পারে। যে অন্যায় সহ্য করে না, সত্য বলতে পারে ও লোভ করে না।
আনন্দং ব্রহ্মণো বিদ্বানঃ বিভেতি কদাচনঃ। যিনি আনন্দকে প্রকৃতই জ্ঞানলব্ধ করেছেন, তিনি কিছুতেই ভীত হননা। যিনি একমুঠো ভাত আর জীর্ণ বস্ত্রেই সোজা দাঁড়িয়ে বলতে পারেন "অনাচার করো যদি, ছাড়ো তবে রাজার গদি।"