এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বাঙালি "ভদ্দরলোক"-এর হিসেব তোলা থাক

    দাশু লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ মে ২০২৬ | ১২৪৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৫ জন)
  • ২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফল যাই হোক, ইতিহাসের পাতায় তা বাঙালি জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হয়ে থাকবে। সময় পাল্টায়, শাসক পাল্টায়, কিন্তু জাতির বিপদের দিনে "ভদ্দরলোক" শ্রেণির সুবিধাবাদী চরিত্র বদলায় না। হ্যাঁ, ব্যঙ্গার্থেই শব্দটিকে ‘ভদ্রলোক’ না লিখে ‘ভদ্দরলোক’ লেখা হয়েছে। কারণ এদের ভদ্রতার নিচে লুকিয়ে থাকে প্রবল জাতি ও শ্রেণি বিদ্বেষ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) এর নাম করে বাঙালির ওপর যে সরাসরি আক্রমণ নেমে আসছে, তা বোঝার জন্য বিরাট পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন ছিল না। মাত্র কয়েকমাস আগেই বিহারে এই প্রক্রিয়ায় কী করা হয়েছে তা জানা ছিল। আসামে এই পদ্ধতিতেই ডি-ভোটার করে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। বাংলায় এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা গেল এক বিভীষিকাময় মৃত্যুমিছিল, হয়রানি আর ডি-ভোটার হওয়ার তীব্র আতঙ্ক। তা সত্ত্বেও বাংলার ভদ্রলোক সমাজের একাংশকে দেখা গেল "রোহিঙ্গা" তাড়ানোর এক পৈশাচিক ও অশ্লীল উদ্‌যাপনে মেতে উঠতে। দিল্লির তৈরি করা এই "রোহিঙ্গা" বা "অনুপ্রবেশকারী" ন্যারেটিভের আড়ালে আসলে যে কোনো সাধারণ বাঙালিই - বিশেষ করে মুসলিম বা নিম্নবর্গীয় মানুষ আক্রমণের শিকার হচ্ছে, সেটা ভদ্রলোকরা বুঝেও বুঝলো না।

    মণিপুর যখন জ্বলছে এবং কেন্দ্র যখন সেখানে নীরব দর্শক, তখন বাংলার রাজপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি দেখে যারা ‘হিংসাহীন’ ভোটের স্বপ্নে বিভোর হয়, তারা আসলে সাংস্কৃতিক হীনম্মন্যতায় ভুগছে। লুঙ্গি পরে আসা ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া কিংবা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হুমকি দেওয়াকে এরা ‘শৃঙ্খলা’ হিসেবে দেখে। এই শ্রেণিটি যখন পহলগামে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে মারা বা অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পুশ-ব্যাক করার ঘটনায় বলে যে নিশ্চয়ই কোনো গোলমাল আছে—কই আমার তো কিছু হয়নি, তখনই বোঝা যায় এদের "মেরুদণ্ড" আগেই দিল্লির কাছে বন্ধক দেওয়া।

    কারা এই বাঙালি ভদ্রলোক? ঐতিহাসিকভাবে দেখলে বাংলার নবজাগরণের লিবারেল ধারার বিপ্রতীপে দাঁড়িয়েছিল সমাজের এক প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। স্রেফ হিন্দুত্বের গন্ডিতে এদের মাপা ভুল হবে। রাধাকান্ত দেব থেকে শুরু করে পরবর্তীতে যদুনাথ সরকার বা রমেশচন্দ্র সেনের মতো বুদ্ধিজীবীদের একাংশ সবসময়ই এক ধরণের গোঁড়া ও রক্ষণশীল আধিপত্য বজায় রাখতে চেয়েছেন। দেশভাগের সময় এদের ভূমিকা ছিল ন্যক্কারজনক। শরৎ বসু ও সোহরাওয়ার্দীর "স্বাধীন অখণ্ড বাংলা"র প্রস্তাব যখন এল, তখন হিন্দু মহাসভার ছাতার তলায় জুটে গেলেন একদল শিক্ষিত ভদ্রলোক। এদেরই নেতা বিজেপির আরাধ্য শ্যামাপ্রসাদ। এদের বিরোধিতার মূলে ধর্মীয় বিদ্বেষ যতটা ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল শ্রেণিবিদ্বেষ। তারা ভয় পেয়েছিলেন যে অবিভক্ত বাংলায় ক্ষমতা উচ্চবর্ণের হাত থেকে নিম্নবর্গীয় ও মুসলিমদের হাতে চলে যাবে। যোগেন মণ্ডলের মতো হিন্দু দলিত নেতাদের পিষে দিতে এরা দু'বার ভাবেননি। দেশভাগ-পরবর্তী বামপন্থী জমানাতেও মরিচঝাঁপির ঘটনায় এই ভদ্রলোকদের ‘হিরন্ময় নীরবতা’ প্রমাণ করে দিয়েছিল যে যুগ বদলালেও এদের শ্রেণি-চরিত্র বদলায় না। আজ এরা বিজেপি কিংবা সিপিএম সহ বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে থাকলেও মানসিকতায় এরা সেই পুরনো ‘দিল্লিপন্থী’ শোষক।

    এদের সন্তানরা আজ হয় বিদেশে নতুবা ভিনরাজ্যে করপোরেট চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলার অর্থনীতি বা সমাজ নিয়ে এদের কোনো প্রকৃত দায়বদ্ধতা নেই। এরা কলকাতাকে স্রেফ একটি 'বৃদ্ধাশ্রম' হিসেবে দেখাতে চায়। এদের নিজেদের "সেফটি নেট" তৈরি আছে বলেই বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসা এনআরসি বা জাতিবিদ্বেষের খাঁড়া এদের বিচলিত করে না।

    এই আপাত তৃণমূল-বিদ্বেষ আসলে একটি মোড়ক মাত্র। একটু খুঁড়লেই দেখা যাবে এর তলায় জমে আছে কয়েক স্তরের কুৎসিত ঘৃণা।

    আরজিকরের ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গর্হিত অপরাধ। কিন্তু এই ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে যে ‘নারী নিরাপত্তার’ ন্যারেটিভ মিডিয়া এবং বিজেপি তৈরি করল, তাতে বাঙালি ভদ্রলোক শ্রেণি বুঝে বা না বুঝে পা দিল। এই ইস্যুটিকে ব্যবহার করে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ যেভাবে তৃণমূল-বিরোধী থেকে প্রকারান্তরে ‘বাঙালি-বিরোধী’ অবস্থানে চলে গেলেন, তা দেখার মতো। অথচ তথ্য বলছে অন্য কথা। এনসিআরবি (NCRB) তথ্য অনুযায়ী কলকাতা এখনও ভারতের নিরাপদতম শহরগুলির তালিকায় শীর্ষে। কিন্তু এই তথ্যকে ধামাচাপা দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হলো যাতে দিল্লির শাসনকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে দেখানো যায়।

    বাঙালি মুসলমান ছিল মূলত হিন্দু ব্রাহ্মণ জমিদারের অধীনস্থ প্রজা। আজ যখন প্রান্তিক মানুষের হাতে সরাসরি ভাতার অর্থ পৌঁছায় বা তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটে, তখন ‘ভদ্দরলোক’ সমাজের আতে লাগে। ‘ভাতা বনাম কর্মসংস্থান’-এর মেরুকরণের যে ন্যারেটিভ বামপন্থীরা তৈরি করেছেন, তা আসলে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন দক্ষিণপন্থা। এরা মনে করে উন্নয়ন মানেই কেবল চকমকে আইটি পার্ক আর শপিং মল। তাই সাধারণ মানুষের হাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছালে এরা তাকে 'অপচয়' বলে গালমন্দ করে। মেহনতি বাঙালির নুন-ভাতের সংস্থান এদের চোখে 'খয়রাতি', কারণ এদের করপোরেট মগজ বাংলার কৃষিভিত্তিক বা ক্ষুদ্র শিল্পের স্বাবলম্বনকে স্বীকার করতে চায় না। উদারীকরণের সুযোগ নিতে না পারার যাবতীয় হতাশা এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটি উগরে দিচ্ছে সেই প্রান্তিক বাঙালির ওপর যারা তৃণমূলের ভোটার।

    হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি ন্যারেটিভ প্রচারের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আজ বাংলা মিডিয়া। অন্য কোনো অ-বিজেপি রাজ্যে নিজের ভাষার মিডিয়াকে এমন আত্মঘাতী ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। এই মিডিয়াই শিক্ষিত বাঙালির ড্রয়িংরুমে বসে থাকা সাম্প্রদায়িকতাকে ‘বৈধতা’ দিচ্ছে।

    এই লেখাটি তৃণমূলের কোনো ‘রিপোর্ট কার্ড’ নয়। তৃণমূলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ বা স্থানীয় মাস্তানি নিয়ে প্রতিবাদ করা প্রত্যেক বাঙালির অধিকার ও কর্তব্য। কিন্তু সেই দুর্নীতির বিরোধিতার নামে যারা বাঙালির জাতিসত্তাকে দিল্লির আধিপত্যবাদের কাছে বিকিয়ে দিতে চায়, তারা আসলে জাতির শত্রু। যে ভদ্রলোক শ্রেণি আজ হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের জয়ধ্বনি দিচ্ছে, তারা ভুলে যাচ্ছে যে ইতিহাস কোনো বিশ্বাসঘাতককে ক্ষমা করে না। বাঙালির ওপর আক্রমণের দিনে যারা তথাকথিত ‘ভদ্রতা’র দোহাই দিয়ে নীরব থেকেছেন বা আক্রমণকারীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন, তাদের বিচার হবে ইতিহাসের কাঠগড়ায়।

    মেহনতি বাঙালির খাতায় হিসেব তোলা থাকল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২০:১২740402
  • "‘ভাতা বনাম কর্মসংস্থান’-এর মেরুকরণের যে ন্যারেটিভ বামপন্থীরা তৈরি করেছেন, তা আসলে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন দক্ষিণপন্থা। এরা মনে করে উন্নয়ন মানেই কেবল চকমকে আইটি পার্ক আর শপিং মল। তাই সাধারণ মানুষের হাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছালে এরা তাকে 'অপচয়' বলে গালমন্দ করে। "
     
    এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে বলবো লাস্ট পনেরো বছরে পবর সিপিএম একেবারে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। আমি যখন ছোট ছিলাম, বা যদ্দিন কলকাতায় ছিলাম, ততোদিন অবধি সরকারি সাবসিডি বা রিলিফ বা স্কিম ছিল বামপন্থীদের চোখের মণি। আজকাল আর গণশক্তিতে হাজার হাজার লেখা বেরতো সাবসিডিকে জাস্টিফাই করে। যদ্দুর জানি, এখনও অন্যান্য যে দুয়েকটা রাজ্যে সিপিএম বা সিটুর যে অল্প ইন্ফ্লুয়েন্স আছে, যেমন কেরল আর তামিল নাড়ু, সেখানেও বামপন্থীরা সাবসিডির পক্ষে তর্ক করে। পবর বামপন্থীরা কিভাবে তিনোদের সাবসিডির বিপক্ষে বলে, আর কিভাবে বিজেপিকে ভোট দেয় (বামের ভোট নাকি রামে যায়), এই দুটো আমার বোঝার বাইরে। অবশ্য লাইফে অনেক কিছুই বুঝি না, তার সাথে এই দুটো যোগ করে নি আর কি।
  • দাশু | ০১ মে ২০২৬ ২০:৩৮740404
  • dc: তৃণ ভাতাকে ভিক্ষা বলাটা শুরু কিন্তু সিপিএম এর নেতারাই করেছিল। পরে হুড়কো খেয়ে ন্যারেটিভ বদলায়। আর ভাতা বনাম কর্মসংস্থান এর বাইনারি তো এখনও বলে। যেন ভাতা দিলে সরকার কর্মসংস্থান এর দায়মুক্ত হয়ে যায়।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২০:৫৫740407
  • অথচ বামপন্থী সরকারের বেসিক ফিলোসফিই তো হলো যতোদিন না ভারতে ক্যাপিটালিস্ট কাঠামোর অবসান হচ্ছে ততোদিন সরকার মানুষকে রিলিফ দেওয়ার কাজ করবে আর বামপন্থীরা, যাকে বলে, মাছের মধ্যে জলের মতো মিশে থাকবে। মানে এরকমই জানতাম।
  • X | 103.*.*.* | ০১ মে ২০২৬ ২১:১২740410
  • "এরা মনে করে উন্নয়ন মানেই কেবল চকমকে আইটি পার্ক আর শপিং মল।" dc কে ক। এটাই আজকের সিপিএম এর যারা এখনো গলা ফাটাচ্ছে সোশাল মিডিয়ায় এবং মূলত কর্পোরেট জবে আছে- এবং বিশ্বাসে বৌদ্ধ
  • Debanjan Banerjee | ০১ মে ২০২৬ ২১:১৬740411
  • একদম ফাটাফাটি লেখা
  • | ০১ মে ২০২৬ ২১:২৯740412
  • লেখাটা বেশ ভাল। মোটামুটি একমত শুধু ভাতা অংশটুকু বাদে। আমাদের এখানে মানে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে প্রতিটা জনসভায় বা পাড়া মিটিঙে বলেছে কোন চলতি ভাতা বন্ধ করা হবে না। বার্ধক্যভাতা যেটা এখন ১০০০/ করে, সেটা ৬০০০/ কিরবে। এছাড়া বিদ্যুতের বিল প্রথম ১০০ ইউনিট ফ্রি, ২০০ ইউনিট অর্ধেক দামে। তৃণমুলের প্রচার ছিল সিপিএম বা বিজেপী এলে যুবসাথী আর লক্ষীর ভান্ডার বন্ধ করবে। বিজেপীর প্রচার ছিল সব ভাতা ডবল করবে। বিদ্যুতের দামটা কেন ভর্তুকি হিসেবে দেবে ভাতা হিসেবে নয় সেটা সিপিএম আর লিবারেশান দুই পার্টির প্রতিনিধিরাই ব্যখ্যা করেছে। ভাতা যে বন্ধ করা হবে না সেটা ওদের মূল বড় ইস্তাহারেও ছিল।
     
    দাশুকে প্রশ্ন তাহলে কি অন্যত্র ভাতাকে ভিক্ষা বলেই প্রচার হয়েছে? কোন কেন্দ্র জানতে আগ্রহী থাকলাম। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের বন্ধ করে দেবে বলার একটা মানে বুঝি।
     
    আমাদের কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত ইস্তেহারের ছবিটা জুড়ে দিলাম।
     
  • দাশু | ০১ মে ২০২৬ ২১:৩৪740413
  • দ: ওপরের কমেন্টে দেখুন লেখা আছে শুরু করার কথা। তারপর হুড়কো খেয়ে বয়ান বদলানো। আপনি বলছেন এখনকার কথা। সে তো বিজেপির সংকল্প পত্রেও একগাদা ভাতার কথা আছে। আমার প্রশ্ন বামপন্থীদের হুড়কো খেতে হবে কেনো? এগুলো তো খুবই বেসিক। বৌদ্ধ সিপিএমের এই কিছু বছর আগেই ভাতাকে ভিক্ষা বলার প্রমাণ চাইলে নেট ঘেঁটে নিজেই পেয়ে যাবেন।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২১:৩৬740414
  • X, আপনি যেটা কোট করেছেন সেটা দাশুবাবুর লেখা, কাজেই ক ওনার প্রাপ্য :-)
  • Sara Man | ০১ মে ২০২৬ ২২:০৮740419
  • সোজাসাপটা ভালো লেখা। প্রথম দিকে বামপন্থী সমাজ মাধ্যমজীবীরা ভিক্ষা ভিক্ষা করে ভাতা পলিসিকে ছিঁড়ে খাচ্ছিল এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চরম অপমান করছিল। এখনও তাদের মনোভাব একই আছে, সাময়িক (হুড়কো?) চুপ করেছে। কারণ দলটা আর সর্বহারার দল নেই, (যা আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি)। এরা প্রায় পুরোপুরি সাদা কলারের নাক উঁচু বোদ্ধা, যারা ঘামের গন্ধকে ঘেন্না করে। বর্তমান নেতৃত্বের আর দেওয়ার কিছু নেই, যতদিন না সমাজ আবার নতুন তরুণ নেতা তৈরি করছে।
  • Sara Man | ০১ মে ২০২৬ ২২:১০740420
  • এই ভিক্ষা ভিক্ষা চীৎকারের সমতুল্য হল, প্রথম দিকে 'সার ভালো, ম্যাম খারাপ' প্রচার।
  • ভাতার সরকার | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২২:৪৩740424
  • এই নিন। 'ভাতার সরকার'।
    এবারে আগেরবারের চেয়ে কম হলেও এই ভাতাকে কটাক্ষ এসেইছে।
     
    এর আগে তো দু টাকার চালকেও রোশনারা মিশ্ররা ভিক্ষা বলেছিলেন। ভিক্ষার চালে ছেয়ে গেছিল। এঁরা বামপন্থী?
  • 'পশ্চাতমুখী' ভাতা | 223.*.*.* | ০১ মে ২০২৬ ২২:৪৮740425
  • এই নিন। এটাও মীনাক্ষী, এবারে। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে পশ্চাতমুখী বলল। আর বাকি যা সরকারি প্রকল্পের উদাহরণ দিল, সেগুলো যেন করা হচ্ছেনা। দ লিখলেন, আগেও লিখেছিলেন বলে মীনাক্ষীর কিছু বক্তব্য ভাল করে শোনার চেষ্টা করছিলাম। চিন্তাভাবনায়, তার বহি:প্রকাশে ক্ল্যারিটির বেশ অভাব।
     
  • | ০১ মে ২০২৬ ২৩:০৫740426
  • দাশু,
    আচ্ছা আগের কথা। হ্যাঁ সে তো গুরুতেই উচ্চশিক্ষিত অসভ্য পিটি বহুবার ভিক্ষা বলেছেন। রাজদীপ ইত্যাদিরাও। সে জানি।
    সে আমি কাউকেই কোন দলকেই দারুণ আদর্শবাদী কিস্যু মনে করি না। ভোটের সময় লেসার এভিল খুঁজি। আপাতত বামজোট (লিবারেশান সহ) লেসার এভিল।
     
    যিনি লাফিয়ে লাফিয়ে নানা লিংক টিংক দিচ্ছেন তাঁকে বলার ছিল যে তিনি একটা স্ট্যান্ডার্ড নিক নিচ্ছেন না। ভবিষ্যতে কোন বক্তব্য রেফার করতে চাইলে করা যাবে না। সম্ভবত সেটা চাইছেনও না। তো এটা নিজের বক্তব্যের দায় ভবিষ্যতে নেবার অক্ষমতা বা অনিচ্ছা। সময় সুযোগ হলে আপনার লিংক খুলে দেখব নাহয়। আপাতত আমি আপনার টার্গেট পাঠক নই।
  • প্রকৃত পশ্চাদমুখিতা | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২৩:২১740427
  • বউয়ের থেকে টাকা নিলে সমস্যা হয় বামপন্থীদের?
     
    নানা জায়গায় দেওয়াল লিখন, ফেসবুকেও সিপিএম কভার ফোটো করে রেখেছে, বয়ফ্রেন্ডের চাকরির জন্য পরিবর্তন আনুন। এই সেই সিপিএম, যেখানে মহিলারা সংসার চালিয়েছেন, পার্টনার, স্বামী হোল্টাইমার। সেটাও নর্ম হওয়া ভাল না, কিন্তু এই বয়ফ্রেন্ডের চাকরি হলে বিয়ে করা যাবে, এটাকে প্রোমোট করা আরো রিগ্রেসিভ ভাবনা।
     
    এছাড়াও, এই ভাতা, বিশেষ করে বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনোদের বহুবার বলতে শোনা গেছে, চাকরির পরীক্ষা দেওয়া, ফর্ম তোলা, পরীক্ষার প্রস্তুতি, ব্যবসার সুবিধা, এসবের জন্য ভাতা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেও টাকা জমিয়ে মেয়েদের নিজস্ব উদ্যোগের কথা বলা হয়। এগুলো কেমন করে 'বামপন্থী'রা ট্যুইস্ট করে?
     
    এছাড়াও সবলা, স্বনির্ভরতা নানা প্রকল্প রয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পব একটানা শীর্ষস্থানে, সেও কেন্দ্রীয় সরকারের মানদণ্ডেই। যা কিছু ভাল বা মন্দের ভাল বা অন্তত ঠিকঠাক সেসব আক্রমণ না করে, সরকারের খামতির জায়গাগুলো নিয়ে সঠিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারল না। শিক্ষায় দুর্নীতি করে করে এত মামলা মোকদ্দমা করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই পিছিয়ে দিল, এমনকি চাকরি ছিনিয়ে নেওয়া নিয়েও বিকাশ ভট্টাচার্যরা উল্লাস করেছেন, মানুষ কি এসব বোঝেনা নাকি ভুলে যায়?
    অথচ বাংলা মাধ্যমের হাঁড়ির হাল, স্কুল কলেজের পড়ার কোয়ালিটির দৈন্যদশা, সেনিয়ে আন্দোলন কই? তা হবেই বস কেমনে, সেসব শিক্ষকেরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে সরকার ফেলার আন্দোলনে ব্যস্ত। এইসব শিক্ষকেরা স্কুল কলেজের হাল ফেরানোয় নিজেরা কী দায়দায়িত্ব বা আন্দোলন করেছেন, বামপন্থীদের সমর্থনে, একটু জানা যাবে?
    বেসরকারিকরণ তো সেই বাম আমল থেকে, সেই ট্র‍্যাডিশনকে এরা আরো পাতালে নামাল।
    বাম আমলে সুপারিশ, চিরকুট চাকরিও যেন সব লোকে ভুলে গেছে! এমন বিষয়ে পিছনে লাগতে যায়, যেখানে নিজেদেরই পোঁদে গোলাভরা গু!
     
    যাইহোক, দাশুবাবুর লেখাটি খুবই যথাযথ লেগেছে।
     
  • সিএস | 2405:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২৩:২৩740428
  • এখানে এককালে লিখতেন, সিপিএমের সমর্থক, টেকনিকাল লাইনের লোক, পিটি ইত্যাদিদের থেকে একটু উচ্চস্তরের, তো তার ফেবু পাতায় দেখেছিলাম, বড় পোস্ট, যে ওনারা এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলবে কিন্তু তার সাথে স্বনির্ভরতা প্রকল্পকে মিলিয়ে উন্নততর স্কীম দেবেন। কেন দেবেন, কারণ, এইসবই তো মায়েদের জন্য আর ওনারাই তো বাংলার মা !

    পড়ে টড়ে খানিক খুক খুক করে হাসলাম। আচ্চা, এই ব্যাপার, সবই করবে এখনকার নকল করে, টিএমসি যা করছে সবি, শুধু উন্নততর হওয়ার ইচ্ছে যায়নি দেখছি। এতদিন এসবের নিন্দেমন্দ করে ভোটের সময় বুঝতে পেরেছে যে মমতা যে ব্যবস্থাটা তৈরী করেছে সে বড়ই আঁটো, তাকে অত সহজে ভাঙা যাবে না, তাই নকল করা হচ্ছে। ভাজপাও একই জিনিস বুঝেছে, তারাও তাই ভাতার পথে সঙএ প্রভূত শয়তানি।

    কিন্তু সিপিএম এটা মনে হয় পুরো বোঝেনি যে তাদের যে ভাতের লড়াই সে বস্তুটি টিএমসির মাছ - ভাতের লড়াইয়ের মধ্যে অলরেডি ঢুকে আছে, ভাত তো সেখানেও। তো লড়াইটা যে আইডেন্টিটির হচ্ছে তার সাথে পুরো খাপ খাওয়াতে পারেনি, অন্তত এবারে।
  • বক্তা ও বক্তব্য | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০১ মে ২০২৬ ২৩:৩০740429
  • রেফার করতে হলে বক্তব্য রেফার করুন। ব্যক্তি নিয়ে আগ্রহ কেন? এই সাইটে নানাজনেই নান্য নিকে লেখেন, আপনার নামও 'দ' নয় নিশ্চয়। এখানে চারটি পোস্টে চারটি বক্তব্য রাখলে পোস্ট রেফার করে বলুন। সেই বক্তব্য একজনের না চারজনের তাতে কিছু আসে যায়না। এক্ষেত্রে একজনেরই ধরুন। তাতেই বা কিসের সমস্যা।
    আপনি কোন বক্তব্য রেখেছেন, তার বিপরীতে তথ্য, যুক্তি আছে, কাউন্টার করলে সেই নিয়ে করবেন, আলোচনা চাইলে তাই। আপনি কেন 'টার্গেট' হতে যাবেন, একেবারেই নয়। আপনার এবং অন্যান্যদের বক্তব্য প্রসঙ্গে কথা এসেছে। লিনক, নেতানেত্রীদের বক্তব্যের রেফারেন্স। সেটা তো শুনতেই বলতে হবে, ধরে ধরে খামোখা লিখতে যাবই না কেন। লিনকে সমস্যা থাকলে নিজেই খুঁজে নিতে পারেন, চাইলে। খুঁজে পাননি বলেছেন, চেয়েছেন বলেই দেওয়া। ব্যক্তি আপনার সঙ্গে শত্রুতা করে টার্গেট করা নয়। বিশেষত আপনার মূল বক্তব্যে যেখানে একমত যে ভাতা টার্গেট করা সঠিক নয়।
  • Jayanta Chatterjee | 2405:*:*:*:*:*:*:* | ০২ মে ২০২৬ ০০:৩২740430
  • খুব ভালো এবং যুক্তিপূর্ন লেখা | সিপিএম এর পক্ষে আর উঠে আসা সম্ভব নয় যতক্ষণ না এই ফেবু নেতাদের জায়গায় নিচের তলা থেকে নেতৃত্ব উঠে আসছে | তবে খুব ভালো হবে যদি বিজেপির জায়গায় বিরোধী দল বা জোট হিসেবে কংগ্রেস এবং বামেরা উঠে আসে |
  • বিকাশ অন সেন্ট্রাল ফোর্স | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ০২ মে ২০২৬ ২০:২৮740449


  • এই ভোটে স্টেট মেশিনারি বনাম বাঙালি লড়াইতে কে কোন্ দিকে ছিল সেই হিসেব হবে।
  • মদ্যবিত্ত | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ০২ মে ২০২৬ ২০:৩০740450


  • এটাও থাক।
  • হীরেন সিংহরায় | ০২ মে ২০২৬ ২০:৪৮740452
  • অসাধারণ। ৬ দেওয়া যায় না বলে ৫ দিতে হলো
  • X | 103.*.*.* | ০৩ মে ২০২৬ ০০:৩৮740461
  • একটা জিনিস বেশ হঠাৎ খেয়াল করলাম- এস এস সি দুর্নীতি বা শিক্ষকদের চাকরি হারানোর ইস্যু টা কোথাও চোখে পড়লনা - অসংখ্য সরকারি স্কুল উঠে যাওয়া সকলের গা সওয়া হয়ে গেছে বোঝা গেল - স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তো আর জি করের বাইরে কারো কোন মাথা ব‍্যথাই নেই।
  • বিকাশ উকিল | 2602:*:*:*:*:*:*:* | ০৩ মে ২০২৬ ০৩:৪৪740462
  • যারা এখানে আলোচনা করছেন তারা অনেকেই উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত। শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের সংস্থান তারা নিজেরা করতে পারেন। তাই ওই দুটো নিয়ে আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক।
     
    ভাতাটাও উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের শ্রেনীস্বার্থের জন্য ভাল। কাজের লোকের মজুরীর একটা অংশ সরকার দিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু একশ দিনের কাজ যেমন লোকের যোগান কমিয়ে দেয় সেটা হয়না। কিছু কম টাকায় লোক পাওয়া যায়, কেননা ভাতা এতটা নয় যে একেবারে কাজ না করলে চলবে। তাই উচ্চবিত্ত ভাতার ভক্ত, কিন্তু কর্মসংস্থান পছন্দ করেনা।
     
    শ্রেনী ঘৃণা কথাটা ব্যবহার করছি না। কিন্তু সেটাও আছে। কাজের লোক যদি লিখে পড়ে চাকরি করবে তাহলে বাবুদের সেবা করবে কারা?
  • X | 103.*.*.* | ০৩ মে ২০২৬ ০৭:৩৬740463
  • শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের সংস্থান এর বিষয় টা আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়- সাধারণ দাবি হিসেবে বলা হচ্ছে - ভোট তো শুধু উচ্চ/ মধ্য বিত্ত দেয় না - হয় তো সিপিএম সচেতন ভাবেই এসএসসি ইস্যু এড়িয়ে গেছে। বিজেপি এক কোটি চাকরি দেবে বললেও নিজেরাও জানে যে সেটা জুমলা।
    দশ বিশ বছর আগে কর্মসংস্থান একটা বড় টপিক ছিল- এখন তার বদলে কে কত ভাতা দেবে সেই প্রতিশ্রুতি- এটা অবশ্যই একটা বড় পরিবর্তন। শহরাঞ্চলে গিগ ইকোনমি কিছুটা আছে- কিন্তু ছোট বা মাঝারি শিল্পের খুব প্রয়োজন- কিন্তু কোন দলই প্র‍্যাক্টিকাল কিছু বলেনি এটা নিয়ে
  • banu | 2a0f:*:*:*:*:*:*:* | ০৩ মে ২০২৬ ০৯:০৬740464
  • হেডিং দেকে ভাবনু যারা মুসলিম লিগের পাশে দাঁড়িয়ে দেশভাগ চেয়েচিল আর এই ভোটে জঙ্গিদলের সঙ্গে জোট করিচে তাদের কতা বুঝি। পড়ি বুঝনু তা নয়।
  • কুণাল ঘোষ | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ০৩ মে ২০২৬ ০৯:২৬740465
  • কোন দেশেই বা শুধু উচ্চ বা মধ্যবিত্ত ভোট দেয়? উচ্চবিত্তরা আমাদের পোষে ওই জন্যেই। বাকীদের ভুলিয়ে ভালিয়ে উচ্চবিত্তদের স্বার্থ যেন নিজেদের স্বার্থ বলে মেনে নেয়।
     
    সিপিএম কি রাজনৈতিক দল নয় নাকি যে অন্যরকম করবে?
  • হ্যাঁ | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৩ মে ২০২৬ ১০:৫৫740466
  • বাঙালি ভদ্দরলোকরা খুবই চালু জাত। নিজেরা ইউরোপ আমেরিকা বাঙ্গালোর দিল্লিতে আখের গুছিয়ে নিয়েছে। এবার রাজ্যে ছোটলোকরা মারামারি করে মরুক। ভদ্দরলোকদের ছেলে মেয়েরা আইবি স্কুলে পড়ে চলে যাবে হার্ভার্ড আর আইআইটি, ছোটলোকরা সারাজীবন ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে।
  • যাহহ | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৩ মে ২০২৬ ১৪:৪৭740481
  • সিপিএম এর লোকজনও বর্ণহিন্দু ভদ্দরলোকদেরই গাল দিচ্ছেন যে!
     
    রাজদীপের লেখা।
     
    'মেসেজের তোড়ে ইনবক্স খোলা যাচ্ছে না। টুংটাংয়ের ঠেলায় মিউট করতে বাধ্য হয়েছি। প্রতি মেসেজই ঘুরেফিরে সেই একই প্রশ্ন, " বিজেপি আসছে না, আপনি শিওর? ", এতজনকে এক এক করে একই উত্তর দেওয়া ক্লান্তিকর। তাই ওয়ালেই লিখি। দেখুন, আমি কোন বাকসিদ্ধ মহাপুরুষ নই। গণৎকারও নই। তবে তথ্যের ভিত্তিতে নির্মোহ অ্যাসেসমেন্ট খানিক করতে পারি বলেই ধারণা। ২১ এবং ২৪ য়ে তাইই করেছিলাম। এবারেও তাই করেছি। এবং আমার অ্যাসেসমেন্ট আবারও বলছি, এইরকম - ১) বিজেপি জিতছে না। সম্ভবত, আশির ঘরও পেরোচ্ছে না। ২) বামপন্থীরা ভোট শতাংশ বাড়াতে চলেছে এবং তারা সম্ভবত শূন্য থাকছে না। সম্ভবত বললাম এই কারণেই, শূন্যের গেরো কাটার বিষয়টি নির্ভর করছে তাদের কর্মী সমর্থকরা ১৯, ২১ এবং ২৪ য়ের মতন নিজেদের দলকেই আবারও ব্যাক স্ট্যাব করছেন কিনা আর করলেও সেটার গভীরতা কতটা, তারওপর।
    তবে, বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ধরণের উদ্বেগ আশঙ্কা আমি আগে দেখিনি। বিজেপি আসতে পারে এই সম্ভাবনটিই এই রকম আশঙ্কার কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিজেপি ৮০ পেরোনোর বস্তুগত পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও এহেন হাওয়া তবে উঠলো কী করে? এর উত্তর রয়েছে বাংলার সমাজ কাঠামোর শ্রেণী বিভাজনে। পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার অনুপাতে নগণ্য হলেও, সামাজিক পুঁজির জোরে মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, বর্ণহিন্দু শ্রেণী বায়বীয় বাবল তৈরীর যোগ্যতা রাখে বেশী। মূলত ডিএ অসন্তোষ এবং মুসলমানবিদ্বেষ জনিত কারণে এই শ্রেণীটি বেশ কয়েক বছর ধরেই বিজেপির বিশ্বস্ত মিত্রে পরিণত হয়েছে। এরা এতদিন বিজেপিকে ভোট দিতেন নিঃশব্দে। এবারেও কমবেশি তাইই দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনোত্তর এক্সিট পোল প্রোপাগান্ডা, আর্মি, সাঁজোয়া গাড়ি ইত্যাদির আবহ এদের খুল্লামখুল্লা হতে ভরসা যুগিয়েছে। বিজেপি এলো এলো রবটি, খেয়াল করুন, দেখবেন এই অংশ থেকেই আসছে। এমন না যে এরা সম্প্রতি বিজেপি হয়েছেন। এরা বিজেপিই ছিলেন বিগত বেশ কয়েক বছর। কেউ লাল জামা পরে থাকতেন, কেউ বা অরাজনীতির মুখোশ পরে থাকতেন। এখন এরা এগুলি খুলে ফেলেছেন। বিজেপির দিক থেকে দেখতে গেলে প্রকৃত অর্থে বিজেপির পক্ষে সুসময় ছিল কিন্ত ২০২১। তারা আসলেই সেসময় জেতার জায়গায় ছিল। ২০২৬ য়ে সে তুলনায় বিজেপির পক্ষে জেতার কোন বস্তুগত পরিস্থিতিই নেই। কেবলমাত্র মধ্যবিত্ত বর্ণহিন্দুর ডিএ ক্ষোভ আর ইসলামোফোবিয়ায় সুড়সুড়ি দিয়ে আর যাইহোক বাংলায় জেতা যায় না। উপরন্তু এসআইআর বিজেপির পক্ষে বুমেরাং হয়েছে। ফল বেরোলে তা বোঝা যাবে। ভোটের শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার যে অঙ্ক বিজেপি বা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র মধ্যবিত্ত বর্ণহিন্দু কষেছে, আমার অ্যাসেসমেন্ট, ফল বেরোলে দেখা যাবে ওই বৃদ্ধির একটি বড় অংশই আসলে প্রান্তিক নিম্নবর্গ মানুষের এসআইআর জনিত হয়রানির বিরুদ্ধে রেফারেন্ডাম। যা প্রকৃত পক্ষে বিজেপি বিরোধী জনমত। যাইহোক, আর তো কয়েকটি ঘন্টা। তারপরেই দেখা যাবে আমার কথা মিললো কি মিললো না। ততক্ষণ, ধৈর্য্য ধারণ করা ছাড়া তো বিশেষ কিছু করণীয় নেই। হ্যাঁ, " শওকত মাছচোর " লুপে শুনতে পারেন। টেনশন কম হবে।'
  • r2h | 134.*.*.* | ০৫ মে ২০২৬ ০৪:৫৬740515
  • হাহা, হীরেনবাবু তো নিকটজন, ধরাছোঁয়ার মধ্যে। অমর্ত্য সেনকে নিয়ে লোকে বলে উনি কী জানেন, বিদেশে থাকেন, উনি এত কথা বলেন কেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
    যতই উনি প্রতীচি ট্রাস্ট টাস্ট করুন না।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন