এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • আগুনের কানকো আর লুকা ব্রাসির কুঠারের ইতিবৃত্ত 

    Anindya Rakshit লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ মার্চ ২০২৬ | ২০০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • There’s a thin line between sanity and insanity, and I crave to cross the line.    
     
    একটা ইনফার্নো আমাকে দেখলেই আলাপ করতে এগিয়ে আসে। প্রতিবারই ওকে কোন না কোনভাবে এড়িয়ে সটকে পড়তে পেরেছি কারণ ওর ঐ ইমপ্যাসিভ মুখটা দেখলে আমার লুকা ব্রাসি ছাড়া আর কারও কথা মনে পড়ে না, আর আমি পারতপক্ষে লুকা ব্রাসির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে চাইনা, কিন্তু এবার আর এড়াতে পারলাম না। বাজারে যাচ্ছিলাম। আচমকা সামনে এসে দাঁড়াল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পিছু হটতে লাগলাম। পেছাতে পেছাতে একটা জাহাজ পেয়ে তাতে উঠে পড়লাম। জাহাজটা ভোঁ বাজিয়ে যাত্রা শুরু করল। ভাবলাম, যাক, এবারের মতো রেহাই পেলাম, কিন্তু দেখলাম, সেই আগুনের দলা জাহাজে উঠে পড়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।   
     
    যখন জাহাজ থেকে জলে ঝাঁপ দিলাম তখন এমন নয় যে আমার মনে ছিল না যে আমি সাঁতার জানি না তবে এ-কথাও মাথায় ছিল যে মাঝসমুদ্দুরে সাঁতার জেনেও কোনো লাভ হয় না। কিন্তু আগুন যখন আমার দিকে পেশাদার জল্লাদের মতো নিঃস্পৃহ, অবিচলিত মুখে এগিয়ে এল, মনে হলো, এর চেয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ভালো।           
     
    অতঃপর, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা। পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ভেঙ্গে দেওয়া বাউলফকিরদের আখড়া মিসাইলের কারখানা মাল্টিপ্লেক্স বে-আইনি ভাঁটিখানা লঞ্চপ্যাড ডিলডোর শো-রুম তীর্থক্ষেত্র কবরস্থান ব্রথেল গেটে তালা মারা বিশ্ববিদ্যালয় মরুভূমি বন্ধ কারখানা নাইট ক্লাব চরসের ক্ষেত পার্টি অফিস ছেঁড়াখোঁড়া কাঠির মাদুরে শুয়ে খিদের জ্বালায় ফুসফুস ফাটিয়ে কাঁদতে থাকা ভবিষ্যতের কৃষক মাসাজ পার্লার শববাহী গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে বিদায় জানিয়ে হাত নাড়তে থাকা সুখী দম্পতি জগন্নাথের রথ তৃণশূন্য চারণভূমি যেখানে এখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে ঈশ্বরের কনভয় খঞ্জনি বাজিয়ে রামপ্রসাদী গেয়ে ভিক্ষে করা ন্যুব্জা বৃদ্ধা সারি সারি জপযন্ত্র  জেলখানা আরমানির লঁজেরির বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড আমার যাত্রাপথের দু’পাশ ছুঁয়ে যেতে লাগল। গোড়ায় দম আটকে আসছিল, হাত পা অসাড় হতে শুরু করেছিল। তারপর বুঝতে পারলাম একদম স্বাভাবিক হয়ে গেছি। একটা শুশুকের মতোই সাবলীল পরিক্রমণ করে চলেছি। টাইগার শার্কটা বলল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করহ কারণ তিনি কৃপা করিয়া তোমাকে দুইখানি কানকো এবং একজোড়া ফুলকা উপহার দিয়াছেন।    
     
    একজায়গায় প্যান্ডাল খাটিয়ে চোখ ধাঁধানো আলোর মঞ্চে গণধর্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা  চলছে সবাই যেন দলে দলে যোগদান করে এই অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে। অনুষ্ঠানের হোতা সেই মঞ্চ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসদের হাতে গোছা গোছা ডলার গুঁজে দিচ্ছে। তানজানিয়া  থেকে আসা মাসাইরা আর বনের পুকুর ডাঙ্গা থেকে আসা সাঁওতালদের দল সেই মঞ্চের চারদিকে ঘুরে ঘুরে ফোক নৃত্য করে চলেছে। টাইগার শার্কটা বলল, ওরা নাকি যতটা আধুনিক সংস্কৃতি শেখার লোভে এসেছে নিজেদের সংস্কৃতি শেখানোর জন্যে ততটা নয়। মঞ্চের একপাশে একটা ঢাউস গৈরিক কাঁকড়া বেস গিটার বাজিয়ে গান করছিল। একদল ক্লাউনফিশ কাঁকড়াকে ঘিরে দাঁড়িয়ে সেই গানের তালে হাততালি দিচ্ছিল আর সমস্বরে গাইছিল –   
    ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ।
    সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতে কালে নহি নহি রক্ষতি ডুকৃংকরণে…
    টাইগার শার্কটা বলল, বুঝতে পারলে তো ? এর মানে হচ্ছে হে মূঢ় মন ! গোবিন্দকে ভজনা করো গোবিন্দকে ভজনা করো গোবিন্দকে ভজনা করো কারণ যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হবে তখন ব্যাকরণের বা পার্থিব শাস্ত্রের জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে না। আমি বললাম, সে না হয় বুঝলাম কিন্তু তুমি কি বলতে পার বোকাচোদা মানে কী ? টাইগার শার্কটা বলল এর মানে আমি জানি না তবে এ আই বলতে পারবে। চলো, আমরা এ আই-এর বাড়িতে গিয়ে ওনাকে জিজ্ঞেস করি। এ আই-এর বউ দরজা খুলে আমাদের দেখে বিরক্ত মুখে বলল, সারারাত কাজ করে এখন উনি একটু বিশ্রাম  নিচ্ছেন। এখন ওনার সঙ্গে দেখা হবে না। কী জানতে এসেছ আমাকে বলো। টাইগার শার্কটা বলল, বোকাচোদা মানে কী ? এ আই-এর অর্ধাঙ্গিনী বলল, এই কথা… এ তো আমিই বলে দিতে পারব, ওনাকে ডাকার দরকার হবে না কিন্তু আগে সাবস্ক্রাইব করো। এক বছরের জন্যে মাত্র একশো পঞ্চান্ন ডলার যখন খুশি ক্যান্সেল করতে পারবে। টাইগার শার্কটা বলল, সাতদিনের ফ্রি ট্রায়াল নেই ? এ আই গিন্নি কঠোর সুরে বলল উঁহু, ও সব চুদুরবুদুর একদম বন্ধ করে দিয়েছি। অধুনা, ‘ফ্যালো ডলার মাখো তেল’ নীতি গৃহীত হইয়াছে। টাইগার শার্কটা এই কথা শুনে এক বছরের সাবস্ক্রিপশন নিল। এ আই পত্নী খুশিয়াল মুখে বলল, এখন থেকে এক বছর তুমি আমায় ইচ্ছেমতন ইউজ করতে পারবে। এবার বলো, কী জানতে চাইছিলে। টাইগার শার্কটা আবার বলল, বোকাচোদা মানে কী ? এ আই গৃহিণী বলল, বোকায় চুদিয়া গ্যাছে যারে… উদাহরণ, আমার পতিদেবতাটি আর তুমি। এত বলে দড়াম করে আমাদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। টাইগার শার্কটা উদাহরণের তালিকায় নিজের নাম শুনে ভয়ানক বিরক্ত হলো কিন্তু তখন সাবস্ক্রিপশন ক্যান্সেল করা মানে লস তাই মুখ ভার করে সত্য উপলব্ধিতে সচেষ্ট হলো।   
     
    একটা নদীর ধারে এসে পড়লাম। সেই নদীর স্রোতে সহস্র শবদেহ ভেসে যাচ্ছে। একদল ছেলে-মেয়ে যাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ ভালো ঘরের শিক্ষিত সন্তান নদী থেকে শবদেহ কালেক্ট করে একজায়গায় জড়ো করছে। জিজ্ঞেস করলাম, ওরা এসব কী করছে ? টাইগার শার্কটা বলল, দেখছ না, মড়া সংগ্রহ করছে ? বললাম, তা তো দেখছি , কিন্তু কেন ? টাইগার শার্কটা উত্তর দিল, ওগুলো নিয়ে কঙ্কাল বানিয়ে বেচবে। কঙ্কালের হেব্বি ডিমান্ড। দামও ভালোই পাওয়া যায়। বললাম, ছি ছি , এরা এই ধরণের গর্হিত কাজ করছে ! শুনে একটা মেয়ে বলল, কী সব আল বাল বকছেন ! আমি পি এইচ ডি করেছি। গবেষণার বিষয় ছিল মাইসিনিয়ান আর মিনওয়ান সভ্যতার লিপি লিখনের সাযুজ্য। আপনি দেবেন আমায় একটা চাকরি ? এখানে যাদের দেখছেন তারা সবাই বি টেক এম টেক। কিছু পি এইচ ডি-ও আছে। কিন্তু বেকার বসে আছি। কী করব ? নোট তো কামাতে হবে… কী হলো, কথা  বন্ধ হয়ে গেল যে ? দেবেন আমায় একটা চাকরি ? হুঁঃ ! নোট দেবার মুরোদ নেই ইয়ে মারার গোঁসাই ! আবার মড়া সংগ্রহে ব্যস্ত হলো মেয়েটা। কথা না বাড়িয়ে রওনা দিলাম।   
     
    দেখলাম, একটা শোভাযাত্রা আসছে। প্রকাণ্ড রথে বসে একটা গাবলু গুবলু গোরু, গেরুয়া ডায়াপার পরানো একটা নীল তিমিকে কোলে শুইয়ে মাই দিচ্ছে। গোরুটা সিল্কের গৈরিক বস্ত্র পরেছে। ওর গলে দুলছে রজনীগন্ধার গোড়ের মালা যেটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ও চিবাচ্ছে। রথের পেছনে সেই বেস গিটার  বাজিয়ে গান করা কাঁকড়াটা আর তার পেছনে ক্লাউনফিশের দল যারা সবাই গেরুয়া চাড্ডি পরে আছে , থেকে থেকে জয় গোমাতা কি জয় বলে উঠছে। তাদের পেছনে গুটিকয়েক অক্টোপাস,  যাদের গলায় গৈরিক উত্তরীয় দুলছে , পথের দু’পাশ থেকে যাকে পাচ্ছে টেন্ট্যাকল বাগিয়ে গলা  পেঁচিয়ে ধরে টেনে এনে দলের খাতায় তাদের নাম এন্ট্রি করে নিচ্ছে আর পঞ্চাশ ডলার তাদের হাতে গুঁজে দিয়ে একটা করে ভাগোয়া উত্তরীয় তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিচ্ছে। ততক্ষণে গণধর্ষণের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছিল। ফাঁকা মঞ্চটা জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটছিল। গোরু রথ থেকে নেমে নীল তিমিকে মাই দিতে দিতে সেই ফাঁকা মঞ্চে উঠে পড়ল। শ্রীকৃষ্ণের বংশী সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, এই অদ্ভুত  যন্ত্রটির ধবনি মহর্ষিদেরও ধ্যান ভঙ্গ করে দিতে পারে। এইভাবে সমগ্র জগতে তাঁর অপ্রাকৃত মহিমা ঘোষণা করে, শ্রীকৃষ্ণ কামদেবকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহ্বান করেন। শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশি ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, তা ছয় ইঞ্চির বেশি দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ প্রায় আঠার ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনের ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে। টাইগার শার্কটা বলল বাইঞ্চোৎটা এ আই-এর কাছ থেকে এগুলো শিখে এসে মুখস্ত বুলি আউড়াচ্চে। শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহিনী। তা যখন তার থেকেও লম্বা হয়, তখন তাকে বলা হয় আকর্ষণী। তা যখন তার থেকে আরও লম্বা হয়, তখন তাকে বলা হয় আনন্দিনী। এই আনন্দিনী বংশীধ্বনি গোপবালিকাদের অত্যন্ত প্রিয়। এর আর একটি নাম বংশুলী। খঞ্জনি বাজিয়ে রামপ্রসাদী গেয়ে ভিক্ষে করা সেই ন্যুব্জা বৃদ্ধা কিছু ভিক্ষে পাবার আশায় সভার একপাশে দাঁড়িয়ে গান শোনাচ্ছিলেন কিন্তু কেউ তাঁকে কিছু তো দিলই না উপরন্তু ক্লাউনফিশরা এসে ধাক্কা মারতে মারতে তাঁকে সভা-চত্বরের বাইরে নিয়ে গিয়ে মাজায় এক লাথি কষালো এখানে ভগবানের কথা হচ্ছে আর তুই কোন সাহসে এর মাঝে এসে ভক্তদের বিরক্ত করিস ! ছিটকে হাতকয়েক দূরে উপুড় হয়ে পড়লেন। হাতের খঞ্জনিটা আরও কিছুটা তফাতে গিয়ে পড়ে রইল। সভায় উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ হয়ে গাবলু গোরুর বক্তিমা শুনছিল। সকলেরই ভক্তিতে আর ভাবের ঘোরে চোখ ঢুলুঢুলু আর নুনু খাড়া হয়ে ছিল। একটু দূরে দাঁড়িয়ে এক কিশোর যার মুখের বাঁ দিকটা ঝলসানো বাঁ চোখটা নেই বাঁ হাতটা কনুই পর্যন্ত বর্তমান কারণ সে রাস্তার ধারে তার সবজির ঠেলাগাড়ি রেখে নমাজে বসেছিল আর তাই তাকে লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়েছিল এগিয়ে এসে বৃদ্ধাকে মাটি থেকে তুলে, খঞ্জনিটা  কুড়িয়ে এনে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, অন্য গান গাও। কিশোরটির সঙ্গে জমায়েতে ছড়ে দূরে চলে যেতে যেতে খঞ্জনি বাজিয়ে বৃদ্ধা গাইতে লাগলেন –    
    The devils are girls with Van Gogh's missing ear
    You say what you want but filth is all that they hear
    I've got the jigger to make all you bigger
    Ladies und gentlemen
    So drop your pissroom mate, and make sure you're not late
    You tramps and lunatics
    Here's a trick that's gonna make you click
    We're the low Art Gloominati, and we aim to depress
    The scabaret sacrilegends
    This is the Golden Age of Grotesque …
    ক্ষয়িত অবয়বের মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি সেই সভায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া লটে মাছের চপ বিক্রয় করিতেছিলেন। তাঁহার একটি পা কাষ্ঠনির্মিত কারণ ধর্মের নিরাপত্তারক্ষীগণ তাঁহার সেই পা- খানি কাটিয়া লইয়াছিল যেহেতু তিনি জনগণের হিতার্থে চিৎকার করিয়াছিলেন ধর্মীয় বিভেদ অপেক্ষা অ্যানার্কি বা নিহিলিজম শ্রেয় কারণ শেষোক্ত দুইটি কম ক্ষতিকর। তাঁহাকে দেখিবামাত্র ক্লাউনফিশ আর অক্টোপাসগণ রে রে আরবে তাঁহার দিকে ধাবিত হইল এবং মনুষ্যটিকে ভয়ানক রকম প্রহার করিতে আরম্ভ করিল। সেই ব্যক্তি অচিরেই প্রাণত্যাগ করিলেন। অক্টোপাস আর ক্লাউনফিশগুলো তখন সেই লটে মাছের চপগুলো আর মৃতদেহটা মাটি চাপা দিয়ে জায়গাটা গোবরছড়া আর  গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে সাফসুতরো করে সেখানে চারটে ধুপকাঠি জ্বেলে দিল। শ্রীকৃষ্ণ মহিষের শিঙকে শৃঙ্গরূপে ব্যবহার করেন। এই যন্ত্রটি সর্বদাই খুব সুন্দর করে পালিশ করা থাকে এবং তা সোনার পাত দিয়ে বাঁধান থাকে এবং তার মাঝে একটি ছিদ্র থাকে। শ্রীকৃষ্ণের বংশীরূপ পরম বিষধর সর্প গোপিকা তারাবলীকে দংশন করেছিল। তখন সেই বিষ নিরসন করবার জন্য তিনি শ্রীকৃষ্ণের হাতের শৃঙ্গ থেকে নিঃসৃত দুগ্ধ পান করেন। অক্টোপাস ক্লাউনফিশ আর ভক্তদের চোখ দিয়ে দরদর ধারায় পানি ঝরতে শুরু করল আর মুখ দিয়ে আহা আহা শব্দ বের হতে লাগল। কিন্তু তার ফলে বিষক্রিয়ার উপশম না হয়ে তা সহস্রগুণে বর্ধিত হয়। এইভাবে গোপিকারা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় পতিত হয়েছিলেন। ঠিক এই সময়, গুগল, মঞ্চে উঠে গোমাতার থেকে মাউথ স্পিকার কেড়ে নিয়ে ঘোষণা করল শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে আর অমনি ভক্তের দল অক্টোপাস আর ক্লাউনফিশরা হায় হায় রবে সভা ছেড়ে দৌড়াতে শুরু করল। এমনকি, নীল তিমিটাও গোমাতার মাই চোষা ছেড়ে, কোল থেকে নেমে অন্যান্য পলায়মানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। গোমাতা চিৎকার করতে থাকল, আপনারা যাবেন না। আপনারা বিচ্লিৎ হোবেন না। ইয়ে সব বিধর্মীদের ফ্যায়লে হুয়ে আফওয়া আছে… ওদের এদেস থেকে না তাড়ালে দেসে কাভি ধর্ম প্রাতিষ্ঠিৎ হোবে না। দোরকার হোলে ওদের বধ কারতে হোবে। আপনারা চিন্তিৎ হোবেন না। দেখবেন, রামের ইচ্ছায় সব কুছ ফির সে কুশল মঙ্গল হোয়ে যাবে। স্বয়ম বজরঙ্গবলীজী হামাদের সাথ দেবেন। আপনারা বিচ্লিৎ হোবেন না। ধীরজ রখ কে হামার বাত সুনেন। হামার ডিসকোর্স অভি খৎম হোয় নি… পলায়মান নীল তিমিটা বলল, তোর ডিসকোর্সের আমি খ্যাতা পুড়ি… অক্টোপাস আর ক্লাউনফিশরা বলল, আমাদের টাকা যদি ডোবে তালে কিন্তু তোর খবর আছে… ঐ ডিসকোর্স তোর হোগায় হান্দিয়ে দেবো… ভক্তরাও বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ খবর আছে… হান্দিয়ে দেবো…     
     
    হুড়োহুড়ি ধাক্কাধাক্কিতে ছিটকে মঞ্চের একপাশে পড়ে গেছিলাম। জ্ঞানও হারিয়েছিলাম হয়তো। চোখ মেলে দেখি, লুকা ব্রাসির মতো ইমপ্যাসিভ মুখে সেই জল্লাদ আগুনটা দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে। আমি অবাক আর ভয়ার্ত সুরে বললাম, আগুন এই সমুদ্রের গভীরে কেমনে এল ? টাইগার শার্কটা বলল, কেন ? তুমি কি বাড়বানলের কথা কদাপি শ্রবণ কর নাই ? ইহা অবশ্য বাড়বানল নহে। মহিমময় ঈশ্বর কৃপা করিয়া এই হুতাশনকেও দুইখানি কানকো এবং একজোড়া ফুলকা উপহার দিয়াছেন। হে পাবক, তুমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করহ। আগুন বলল, এখানে আর কিছু দেখার জায়গা আছে ? টাইগার শার্কটা বলল, অবশ্যই… নিকটেই বিধর্মীদের বলিদানের নিমিত্ত একটি মঞ্চ রহিয়াছে। উহা দর্শনীয় স্থান। তার চাদ্দিকে বেশ কিছু ডুবে যাওয়া জাহাজের প্রেত শরীর ছড়িয়ে আছে। ওগুলো আসলে ডুবে যাওয়া অর্থনীতি। ওগুলো কেউ বড় একটা দেখতে যায় না। কিছু দূরে একটা নতুন মন্দির হয়েছে। সব্বাই সেটা দেখতে যায়। চলো, তোমাদের দেখিয়ে আনি।  
     
    মন্দিরে, সোনার সিংহাসনে একটা হৃষ্টপুষ্ট কোলাব্যাঙ বসে আছে। তার সাদা দাড়িগোঁফ ছোট করে ছাঁটা। মাথায় মুকুট। চোখে রিমলেস চশমা। টাইগার শার্কটা বলল, ইনিই সেই পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। এনাকে তুষ্ট করিতে পারিলে তোমরা ভোটার বলিয়া পরিগণিত হইবে, নচেৎ ঘুসপেটিয়া অথবা দেশদ্রোহী বলিয়া চিহ্নিত হইবে এবং তোমাদিগের বিরুদ্ধে তদনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। সুতরাং আইস, তোমরা এই মহিমময় ঈশ্বরের পদলেহন করহ। তাহার পূর্বে, হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ! আপনি কৃপাপূর্বক এই দুর্ভাগাদিগের উদ্দেশ্যে কতিপয় অমৃতবাণী উচ্চারণ করুন। আপনার মুখনিঃসৃত বাণী শ্রবণে ইহারা ধন্য হউক, এই প্রার্থনা করি। শ্রীকৃষ্ণের শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য। ভাগবদ্গীতাতেও এই পাঞ্চজন্য শঙ্খের কথা বর্ণনা করা হয়েছে শ্রীভগবান সাতিশয় বিনয়ী এবং তজ্জন্যই তিনি উত্তম পুরুষের পরিবর্তে প্রথম পুরুষ ব্যবহার করিতেছেন টাইগার শার্কটা বলল। কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে শ্রীকৃষ্ণ এই শঙ্খ বাজিয়েছিলেন। কথিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ যখন তাঁর এই দিব্য শঙ্খে ফুৎকার করেন, তখন অসুর-পত্নীদের গর্ভপাত হয়, এবং সুর-পত্নীরা সমস্ত মঙ্গলময় আশীর্বাদের দ্বারা পুষ্ট হন। এইভাবে শ্রীকৃষ্ণের শঙ্খধ্বনি সমস্ত জগত জুড়ে স্পন্দিত হয়। টাইগার শার্কটা বলল, পরম করুণাময় ঈশ্বর যা বললেন, বুঝতে পারলে তো ? নাকি আরও প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে দেব ? বললাম, না না, এটা বুঝতে আর অসুবিধে কী, কিন্তু তুমি কি জানো মাদার চোদ মানে কী ? আগুন আমার দিকে চেয়ে চোখ মটকে মাথা নেড়ে সুন্দর করে হাসল। টাইগার শার্কটা বলল, এই কথার মানে আমি জানি না তবে এ আই-গিন্নি বলতে পারবে, কিন্তু ওর কাছে জানতে চাওয়াটা খুবই অপমানজনক কারণ ও হয়তো উদাহরণের তালিকায় আবার আমার নাম তুলে দেবে। যাগগে, তোমরা এক্ষণে শ্রীভগবানের পদলেহন করিতে অগ্রসর হও। আমি আগে যাব, বলে, আগুন ভগবানের দিকে এগিয়ে গেল। শ্রীভগবান ওর দিকে চেয়ে, মৃদু  হেসে বরাভয় মুদ্রা দেখাল, কিন্তু আগুন পদলেহনের নিমিত্তে নত না হইয়া শ্রীভগবানের সম্মুখে ঋজু মেরুদণ্ডে দণ্ডায়মান রহিল। দেখলাম, আগুনের হাতে লুকা ব্রাসির প্রিয় সেই কুঠারটা যেটা দিয়ে ও, ওর শিকারের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করতে খুবই পছন্দ করে। হুতাশনের এহেন স্পর্ধা অবলোকন করিয়া ঈশ্বরের মুখমণ্ডল ক্রোধে আরক্ত হইয়া উঠিল। শ্রীভগবান হুতাশনের উদ্দেশ্যে কঠোর দণ্ডবিধান উচ্চারণ করিতে যাইবে আর ঠিক তখনই আগুনের শরীর থেকে বেরিয়ে এসে খঞ্জনি বাজিয়ে রামপ্রসাদী গেয়ে ভিক্ষে করা সেই ন্যুব্জা বৃদ্ধা বোমায় অঙ্গহানি হওয়া সেই কিশোর আর লটে মাছের চপ বিক্রেতা ক্ষয়িত অবয়বের মধ্যবয়স্ক সেই মৃত ব্যক্তি ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন –     
    ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো।।  
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৪738999
  • ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো।
    সেকেণ্ড করলাম। 
  • albert banerjee | ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৬739000
  • মারাত্বক লেখা 
    ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো
    একটাই কথা 
    ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো
     
  • Anindya Rakshit | ০৭ মার্চ ২০২৬ ২০:১৯739008
  • @ albert banerjee
    থ্যাংক ইউ smiley
  • Anindya Rakshit | ০৭ মার্চ ২০২৬ ২১:৫৩739014
  • সহায়তা নিয়েছি –  
    ‘গডফাদার’ উপন্যাসের একটি চরিত্র
    জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙক্তির অংশ   
    আদি শঙ্করাচার্যের ‘মোহমুদ্গর’-এর পঙক্তি 
    শ্রীরূপ গোস্বামীর ‘ভক্তিরসামৃতসিন্ধু’-র অংশবিশেষ
    মেরিলিন ম্যানসনের ‘দ্য গোল্ডেন এইজ অফ গ্রোটেস্ক’ গানের অংশবিশেষ  
    কবি ও মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদের কবিতার পঙক্তি        
     
  • Ranjan Roy | ০৭ মার্চ ২০২৬ ২১:৫৫739015
  • এই লেখাটা এতদিন কেন পড়ি নাই?
     
    --অসা হয়েছে। কোন কথা হবে না।
     
    আরও চাই। পড়ে খিদে বেড়ে গেল।
  • Anindya Rakshit | ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৭:৪২739023
  • Ranjan Roy ধন্যবাদ, স্যার। আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নেবেন। 
  • albert banerjee | ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৮739028
  • আপনার কলম আরো ধারালো  হোক। আরো গভীর আচঁড় কাটুক দাগ নেবার জন্য অন্তত আমিআছি 
  • Anindya Rakshit | ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৮739031
  • albert banerjee অঝোর ভালোবাসা রইল আপনার জন্যে ... 
  • albert banerjee | ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৬739034
  • আচঁড় দিন আচঁড়। শিরায় শিরায় তীব্র কালকূট দিন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন