এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কেরানি ও নিহিলিস্ট

    Sudipta Adhikary লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ৬৯ বার পঠিত


  • Resignation টা দিয়েই বুঝলাম আমি উড়তে পারি!
    অতএব Technopolis-এর ৮ তলা থেকে takeoff করে উড়তে উড়তে বাড়িতে এসে ল্যান্ড করলাম।
    মাকে বললাম, “সোয়েটার-ফোয়েটার যা আছে ঝট করে বার করে দাও”।
    বাবাকে বললাম, “রতন টাটার বাপের সাধ্যি নেই রানা বাঁড়ুজ্জেকে রোজ ১০ ঘণ্টা অফিসে আটকে ২৫০টা করে call নেওয়াবে। আমি চললাম দার্জিলিং, পয়সা ফুরালে ফিরব।”
    তারপর রুকস্যাক গুছিয়ে বাইকে start দিলাম।
    যদিও আমি এখন উড়তে পারি, কিন্তু কী দরকার বাবা! কেউ যদি আবার বাড়িতে গিয়ে “ছেলে তো খুব উড়ছে আজকাল” বলে লাগায়। একেই খচে আছে লোকজন।
    বাড়ি থেকে যখন start করি তখন দুপুর ৩টে, অতএব মালদা পৌঁছতে পৌঁছতেই বেশ রাত হয়ে গেল। সেখানকার বিখ্যাত ধাবার প্রখ্যাত তড়কা আর রুটি খেয়ে মালের খোঁজ করতে শুনলাম, শুধু বাংলা পাওয়া যাবে, বিয়ার-ফিয়ার সব শেষ।
    — “যা গরম পড়েছে স্যার, তার ওপর মামাদের ঘন ঘন রেড। এক কেরেট সিল তা একটু আগে উনাদের নৈবেদ্য করে দিয়েছি।”
    সাড়ে তিনশ কিলোমিটার মোটরসাইকেল ঠেঙিয়ে এসে বাংলু প্যাঁদালে এই আত্মবীক্ষন  tragedy-তে পর্যবসিত হতে পারে বুঝে শোয়ার ব্যবস্থা দেখি।
    ধাবার পিছনে ছোট্ট এক ফালি উঠোন, তারপরই ধান ক্ষেত শুরু হয়ে গেছে। চার পাশের চাপ-চাপ জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে একটি মাত্র ৪০ ওয়াটের ল্যাংটো বাল্ব যথাসাধ্য অন্ধকার দূরীকরণ মানসে অক্লান্ত। উঠোনে ৪–৫টা খাটিয়া পাতা, তারই একটায় Odomos মেখে লম্বা দিলাম। হাঁটু থেকে ঠ্যাংদুটো খাটিয়ার বাইরে ঝুলে থাকল। হোল নাইট ধাবার বাসনের টুংটাং, যাত্রীদের চেঁচামেচি, বাস-লরির শব্দ মৃদু স্বপ্নের মতো কানে আসতে লাগল। বোধহয় ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, কিন্তু হঠাৎ খুব চেনা, প্রাণ-কাড়া একটা গন্ধ নাকে আসতেই চটকা ভেঙে যায়।
    পাশের খাটিয়ায় দেখি ধূম্রজটাজালে আচ্ছন্ন দেবাধিদেব স্বয়ং! এক মুখ জঙ্গুলে দাড়ি। যদিও ক্যালেন্ডার-ফ্যালেন্ডারে তাঁর স্ন্যাপশট যা দেখেছি সবেতেই তিনি ক্লিন-সেভড, কিন্তু সেটা অবাস্তব—কৈলাশে নাপিত কোথায় পাবেন? তাই তো মাথায় জটা। যদিও এনার মাথায় জটা নেই, চ্যাপটা army-cap।
    পড়নে… নাঃ বাঘছাল নয়, পুরোনোটা ছিঁড়ে গিয়েচে বোধহয় নতুন আর করাননি।
    আহা ২৫৮৫টা মাত্র বেঁচে। তাই তেলচিটে ময়লা T-shirt আর ততধিক ময়লা থ্রি-কোয়ার্টার। গলায় সাপ-টাপও দেখলাম না, মেনকা গান্ধীর হুড়ো আছে তো। তবে হস্তে একমেবঃদ্বিতীয় অভিজ্ঞাণ — আট আঙুল লম্বা ছিলিম। পিট পিট করে তাকাতে দেখে বললেন—
    — “কি-ইইই চলে?”
    বোম্-ভোলে! কোন শালা বলে তুমি নেই! তড়বড়িয়ে উঠে বসি।
    — “চলে মানে! দৌড়য় মশাই! একটু নেশা না করলে এই নারকীয় খাটিয়ায় ঘুম আসে!?”
    মুচকি হেসে ছিলিমটা এগিয়ে দিয়ে বললেন—
    — “গাড়িটা বুঝি তোমার? তা কোথ্থেকে আসা হচ্ছে?”
    লম্বা-আ-আ দুটো টান দিয়ে বললাম, “চন্দননগর।”
    — যাবে কদ্দুর?
    — দেখিই, ইচ্ছে তো আছে দার্জিলিং।
    — Bravo! ধক আছে। তা উদ্দেশ্য কী? বেড়ানো?
    — বলতে পারেন। আসলে একটু isolation-এর প্রয়োজন।
    — একাকিত্ব চাও তো দার্জিলিং কেন? সেখানে তো পচা ঘায়ে মাছির মতো ভিনভিন করছে tourist, শালার গরম একটু পড়ল কি পড়ল না—চল্ল বাঁড়া বাঙালি গাঁড় তুলে দার্জিলিং। fucking cancer!
    এ-হে-হে-হে—ভূত-প্রেতের সঙ্গে মিশে মিশে মুখের ভাষাটা একটু ইয়ে হয়ে গেছে। বললাম—
    — আসলে কিছু ঠিক করে বেরোইনি। পাহাড়ে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে হল, তাই ভাবলাম দার্জিলিং…
    — হুম! A bohemian soul, in a need for isolation. Quest?
    Quest?… প্রশ্নটা অনেকক্ষণ ধরে চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুরতে লাগল। Quest?… দিনের পর দিন একটা ৪ ফুট বাই ৪ ফুট cubicle-এ দিনে ১০ ঘণ্টা করে আত্মার বেশ্যাবৃত্তি, আর সপ্তাহান্তে নেশায় ডুব। নিজের অস্তিত্ব ভোলার চেষ্টা করতে করতে একদিন কবে যেন সত্যিই ভুলে গেছি। চামড়ায় কেটে বসা দাসত্বের লাগাম, অপমানের চাবুক, দৈনিক পৌনঃপৌনিকতায় স্বীয় স্বত্তা বিষাক্ত পুঁজরক্তে ভরে গেছে। আরোগ্য চাই প্রভু, আরোগ্য। কিন্তু বলতে গেলে বড্ড নাটকীয় শোনাবে যে।
    রুকস্যাকের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিই। stimulated cannabinoid receptor, সারা দিনের যাত্রার ক্লান্তি, কোমরের ক্র্যাম্প, ছাড়পোকার কামড়, মশার গুনগুন, পচা সারের গন্ধ—সব অনুভূতি আস্তে আস্তে নিভিয়ে দিতে থাকে। তারপর আলোটাও নিভিয়ে দেয় কেউ। পাশের খাটিয়ায় ছিলিমের আগুন মস্ত জোনাকির মতো জ্বলে নিভতে থাকে। রাতের তারারা তাকে সঙ্গ দেয়।



    সকালে breakfast-এর সাথে একটা সাদা খাম এল।
    — ট্রেকার বাবু দিয়ে গেছেন।
    — কে ট্রেকার বাবু!
    — ওই যে দাড়িওলা, কাল রাতে খাটিয়া ভাড়া নিয়েছিলেন। ভোরবেলায় বাস পেয়ে গেলেন, তাই আমাকে বলে গেলেন আপনাকে এটা দিয়ে দিতে।
    — ট্রেকার কী করে বুঝলে?
    — পিঠে ধুমসো ব্যাগ, হাতে লাঠি—ট্রেকারই তো মনে লাগল।
    Breakfast সেরে বিল আনতে বলে খামটা খুললাম। মুখ বন্ধ ছিল না। ভেতরে দেখি একটা ম্যাপ! গোচেলা-পাসের ট্রেক-রুট। ম্যাপের পিছনে লেখা—
    যদি সত্যিকারের isolation চাও তো ম্যাপ আর গাইডের কার্ড রেখে গেলাম। কী খুঁজছ জানি না, তবে পেয়ে গেলেই কিন্তু মজা শেষ।
    ব্যোমকেশ মল্লিক
    বিল-টিল মিটিয়ে দিনের ৩ নম্বর সিগারেটটা ধরাই। একিরে বাবা! Divine Intervention?
    উচ্চমাধ্যমিকে commerce নিয়েছিলাম। ২ বছর ধরে journal, ledger, balance sheet, business organisation, business economics, business maths, business law… মননে যেন ঝামা ঘষে গেছিল। শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে গঙ্গার ধারে এসে বসেছিলাম আমি আর পিকাই। হঠাৎ জামা খুলতে খুলতে পিকাই বলল—
    “চল ওপারে যাই।”
    ওপারে? এই সন্ধেবেলা? সাঁতরে? এর আগে বড়জোর লাল দীঘি পেরিয়েছি। গঙ্গা পেরোতে গিয়ে যদি দমে না কুলোয়? স্রোতে যদি ভেসে যাই? যদি ঘূর্ণিতে পড়ি? আর ওপারে যদি পৌঁছেও যাই, ফিরব কী করে? সাঁতরে যে ফিরব না তা নিশ্চিত। তাছাড়া ব্যাগ, সাইকেল সব পড়ে থাকবে—চুরি গেলে? জোয়ারে ভেসে গেলে? এরকম কোনো প্রশ্ন, কোনো উদ্বেগ মনে জাগার আগেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম দুজনে।
    আজ, এই মুহূর্তে, ম্যাপটার দিকে তাকিয়ে জঙ্গলের বুনো গন্ধ, পাহাড়ের বরফ ছুঁয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস, পচা পাতার ওপর শিশির পড়ার শব্দ যেন রক্তে অনুভব করলাম। তারপর শিলিগুড়ির কলিগ জয়ন্তকে ফোন করলাম। ৮–১০ দিনের জন্য বাইক রাখার জায়গা চাই।



    এখানে সৃষ্টির মহাসমারোহ। এখানে লেগেছে জীবন কার্নিভাল। এখানে প্রকৃতি অঙ্গে তুলেছে বধূসজ্জা। এখানে প্রকৃতি লাজুক হেসেছে।
    এখানে সূর্য, অতৃপ্ত শিল্পীর মতো, না না রং রোধতুলি বোলায় সারাদিন বারে বারে। এখানে চাঁদ, নীলাভ আদর ছড়িয়ে দেয় রাতে। আকাশে তারাদের কিংবদন্তি লেখা হয়। প্রতিটি প্রহর দার্শনিক বিস্ময় জাগিয়ে আসে।
    এখানে পৃথিবীর আদিম শৈশব জেগে আছে। বাতাসে জেগে আছে তার বয়ঃসন্ধির যৌন গন্ধ। এখানে সোচ্চার তার যৌবনের উদ্ধত পর্বত নিশান।
    এখানে নৈঃশব্দ হালে পানি পায় না। সারা দিন সারা রাত অবিশ্রান্ত ঝিঁঝিঁর কোলাহল। যে কোলাহল গভীর নিস্তব্ধতা বুনে চলে। বুনে চলে শব্দ-নৈঃশব্দের আশ্চর্য প্যারাডক্স।
    এখানে, বিশ্বপ্রকৃতির বন্য জঠরে, আমার দ্বিজত্বে অভিষেক হয়।



    ইয়াকসাম থেকে যাত্রা শুরুর পর আজ তৃতীয় দিন। আজ বিশ্রাম।
    West Sikkim-এর ছোট্ট পাহাড়ি মফস্বল ‘ইয়াকসাম’, গোচেলা ট্রেকের starting point। সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা national forest-এর মধ্যে দিয়ে হাঁটা পথ শুরু। ম্যাপ অনুযায়ী প্রথম stoppage সাচেন। তারপর বাখিম, ছোকা, ফেডাং, জোংড়ি, কোকচুরাং, থানসিং, লেমুনে হয়ে গোচেলা পাস। নামগুলো কানে গীতিরস সৃষ্টি করলেও পথ বেশ দুর্গম। যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ৯ দিনের রাস্তা এবং এই পুরো রাস্তায় জনবসতি বলতে প্রায় ৪৪০০ মিটার উচ্চতায় ছোট্ট গ্রাম ‘ছোকা’। সেখানেই প্রথম রাত্রিবাস। পরদিন পাহাড়ি রাস্তায় ফেডাং হয়ে জোংড়ি।
    যাত্রা শুরুর দিককার পাইন-ফার ভরা ট্রপিকাল অরণ্য উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাতলা হতে শুরু করেছিল। এই রাস্তায় শুধু ফুলে ছেয়ে থাকা রডোডেনড্রনের ঝোপ। সে ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গেলে অক্ষমতার ঢোক গিলতে হবে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও স্রেফ “রডোডেনড্রন গুচ্ছ” শব্দঝংকারের ওপর ভরসা করেই থেমেছিলেন। আমিও থামলাম।
    জোংড়ি-টপের উপত্যকা দিয়ে সরু একটা নদী বয়ে গেছে, তার একটু তফাতেই ট্রেকার্স-হাট। কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন প্রকৃতির মাঝে এই মূর্তিমান রসভঙ্গটিকে পছন্দ না হওয়ায় নদীর ধারেই টেন্ট খাটিয়ে ছিলাম কাল সন্ধেবেলা। যদিও এখন পিক সিজন, তবু অদ্ভুতভাবে আর একটাই মাত্র পার্টি ক্যাম্প করেছে দেখলাম রাতে। গাইড-পোর্টার ছাড়া অবশ্য একজনকেই দেখলাম—দূর থেকে মনে হয়েছিল সাদা চামড়া।
    এই altitude-এ মদ্যপান না করাই নিয়ম। কিন্তু এযাত্রায় আমার নিয়ম ভাঙার অঙ্গীকার। অতএব একটা রমের পাঁইটের এক-তৃতীয়াংশ নামিয়ে, পোর্টারের বানানো অখাদ্য খিচুড়ি গিলে, স্লিপিং ব্যাগে ঢুকতেই নক-আউট।
    ভাবিনি ১২টার আগে উঠতে পারব। কিন্তু সকাল সকালই ঘুম ভেঙে গেল। Adrenalin।
    টেন্ট থেকে বেরিয়ে, বর্শার ফলার মতো ঝকঝকে রোদ্দুরে ঝলসে ওঠা এক সার পর্বতশৃঙ্গের দিকে তাকিয়ে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে আবার সেই চেনা গন্ধ নাকে আসে। পিছন ফিরে দেখি কাল রাত্তিরের সেই সাদা চামড়া, মুখ থেকে একটা হাতে পাকানো সিগারেট ঝুলছে।
    — Good morning.
    — Oh! It’s an excellent morning. Would you like a toke?
    প্রত্যাখ্যান সুর কেটে দিতে পারে, অতএব হাত বাড়াই।
    — Sure, thanks.
    — Did you just thank me!
    — Yeah!
    — Why?
    এই মরেছে!
    — Er… because you let me smoke your joint!
    — It’s a bloody “western hypocrisy”, man. Saying thanks for every goddamn insignificant thing. Our great civilisation is like a disease, my friend, and the Orient is catching it up fast. You better watch out.
    যা-আ-আ-ব্বাবা! শালা BJP নাকি! আমার হাঁ বোঝার আগেই দেখি সাহেব পিছন ফিরে জোংড়ি-টপের দিকে হাঁটা দিয়েছে।
    — “Hey man, your joint!” আমি চেঁচাই।
    — Go on, finish it up.
    ঘড়িতে দেখি সকাল ৭.৩০টা। সিগারেটটা অর্ধেকেরও বেশি বাকি। এত সকালে এতটা গাঁজা… বেশ একটু guilty feel হয়। অতএব ঘড়িটা খুলে পকেটে রাখি। তারপর একটা বোল্ডার খুঁজে নিয়ে অদ্ভুত লোকটার কথা চিন্তা করতে করতে নিভে যাওয়া jointটা ধরাই।
    আচ্ছা খ্যাপাটে স্পেসিমেন যাই হোক। আদর্শ পাতা-খোরের মতো চেহারা। দাড়ি, গোঁফ এমনকি মাথার চুল পর্যন্ত কামানো। উঁচু হনু, ভাঙা গাল, চোখের তলায় কালির পোঁচ, চওড়া শক্তিশালী খাঁচা কিন্তু শুকনো শরীরে অত্যাচারের ছাপ স্পষ্ট। Typical বিতশ্রদ্ধ identity-crisis কেস। নামটাও জানা হল না।
    সামনে আকাশের ক্যানভাসে চিত্রিত সার সার পর্বতশৃঙ্গে আলো-ছায়ার স্বর্গীয় পেন্সিল শেড। এর কোনোটা পান্ডিম, কোনোটা কাঞ্চনজঙ্ঘা, কোনোটা কাবরু, কোনোটা ব্ল্যাক পিক, কোনোটা রাংটাং—তবে কোন শৃঙ্গের কী নাম তা বলতে পারব না। তাই এলোপাথাড়ি নামকরণ করে দিলাম। তাতে অবশ্য তাদের কিছু এল-গেল না। সাহস পেয়ে সামনে দিয়ে বয়ে চলা সুন্দরী নদীটার নাম দিলাম “তন্বী”। সেও দেখি পাথর-টাথর টপকে দিব্যি বয়ে চলল। একটু দূরে যে ছোট্ট পাখিটা পাথরের খাঁজে কী যেন খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল, তার নাম দিলাম “টুকি”। আর ওই বিচ্ছিরি ট্রেকার্স-হাটটার নাম দিলাম “কিংকর্তব্যবিমূঢ়”। দিয়ে অপেক্ষা করে রইলাম—কখন ব্যাটা ভেঙে পড়ে।
    ধুৎ! ব্যাটা পাত্তাই দিল না! তারপর “অবকাশরঞ্জিনী” নাম দেব বলে একটা snow-leopard খুঁজতে লাগলাম এদিক-ওদিক। কিন্তু আমার কপালটাই খারাপ—সেবারও সুন্দরবন গিয়ে ৪ দিনের জায়গায় ৭ দিন থেকেও বাঘের লেজের লোমের ডগাটুকুও দেখতে পাইনি। মুন্না দাদা তো সেই দুঃখে আকণ্ঠ মদ গিলে এক বেচারা কুকুরকে কষে কান-মূলে দিয়ে বলে ছিল, “এই শালা! তোর বাপ বাঘকে বলে দিবি, আমরা এসেছিলাম।”
    অবশ্য watch-tower-এ সকলের পূর্বপুরুষের instinct জেগে ওঠায় কিঞ্চিৎ বাঁদরামি হয়ে গেছিল বটে। রেঞ্জার সাহেব তো প্রচণ্ড রেগে বলেছিলেন, “বাঘটা যদি ভদ্রলোকের ছেলে হয় তাহলে অন্তত তিন মাস এঘাটে জল খাবে না।”
    নিজের মনে হাসতে হাসতে অবাক হয়ে যাই। কত দিন এমন অকারণে হাসিনি। কত দিন নিজেকে বন্দি রেখে ছিলাম নির্বোধ প্রকোষ্ঠে। তাই জগতের আনন্দযজ্ঞে আজ আমার স্বনিমন্ত্রণ। আজ ঘাসের এই রাজকীয় কার্পেটে শুয়ে জগতের নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দরাগ আমি আকণ্ঠ পান করি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সাঁঝের আকাশে স্বাতী, অরুন্ধতী, অশ্লেষা, কৃত্তিকা, মৃগশিরা, রোহিণী, বিশাখা, শ্রবণা—সকলে একে একে জেগে উঠে চাঁদের অপেক্ষায় থাকে। প্রসন্নতা চুঁইয়ে চুঁইয়ে মনের কোন অন্তরতম আধারে জমা হয়, পুনঃআবগাহনের প্রতীক্ষায়।



    ট্রেক-রুটে সন্ধ্যার পর সাধারণত কিছু করার থাকে না। চারপাশে নির্ভেজাল ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে। গাইড-পোর্টারদের তাঁবুর পিছন থেকে রান্নার পাঁচ-মেশালি আওয়াজ আর দেশি ডিস্টিলারির কড়া গন্ধ ভেসে আসছে। temperature খুব দ্রুত নেমে গিয়ে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে, অথচ এত তাড়াতাড়ি টেন্টে ঢুকতেও মন চায় না।
    দূরে দেখি হিপি সাহেবের ক্যাম্পের পাশে ছোট্ট একটু বন-ফায়ার জ্বলে ওঠে। এখানে জঙ্গলের কাঠকুটো নিয়ে আগুন জ্বালানো বনদপ্তরের কড়া নিষেধ। কিন্তু এই “middle of nowhere” গহন অরণ্যে কেই-বা দেখতে যাচ্ছে। প্রবল সঙ্গলিপ্সা জাগে মনে। বাবার ক্যাবিনেট থেকে ঝাড়া রাশিয়ান ভদকার বোতলটা ব্যাগ থেকে বার করে ঐ দিকে রওনা দিই।
    — Hi. Would you mind if I join?
    সাহেব মাথায় রিডিং-টর্চ জ্বেলে একটা মোটা বই নিয়ে বসেছিল। পড়ছিল না—একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিল আগুনের দিকে। আমার আওয়াজ পেয়ে বোধহয় কোনো সুদূর নক্ষত্রজগত থেকে নেমে আসে।
    — Oh! Hello! No, no—not at all. Please do.
    — Look, I know we Indians have absolute disrespect for personal space. But I was aching for some company. Hope you like vodka?
    — Ah! It’s Russian—my favourite poison.
    যাক বাবা। আমি গুছিয়ে বসে দুটো পেপার কাপে মদ ঢালি।
    — I’m Rana, by the way.
    — Mich.
    — So Mich, you are from the U.S.A., right? Probably some southern state.
    — Shit man!… you’re good! I’ve never thought somebody from India would recognise my accent.
    হুঁ হুঁ বাবা! কম দিন call-centre-এ পেছন ঘষেছি? তোমাদের সাদাভূত-কালোভূত, বেঁটেভূত-ঢ্যাঙাভূত, খ্যাঁদাভূত-বোঁচাভূত—সব আমার চেনা হয়ে গেছে। New York, L.A., Afro-American, Canadian—সব বুলির বঙ্কিমতা আমার নখদর্পণে। সেটাই জানাতে সাহেব হাসতে হাসতে বলল—
    — So you are one of them? Stealing jobs from us.
    যাঃ যাঃ! ভারী একবারে job-রে। দিনের পর দিন শয়ে শয়ে গান্ডু আমেরিকানকে তাদেরই তৈরি কলকব্জা কী করে নাড়াতে হয় তা ঝুড়ি-কোদাল দিয়ে বোঝাতে হলে কাঁপ তোদের ছটকে যেত। বলি—
    — Believe me, my friend. American ear is too delicate to endure the bottomless stupidity and incessant abuse you have to face in a call-centre. It lacks the “Third World hardship.”
    বলতে বলতে মুখটা সম্ভবত তেঁতকুটে হয়ে গেছিল। সাহেব সেটা লক্ষ করে—
    — So is that why you’re here? An act of futile escape?
    “Futile?” তা হবে। আমি কাঁধ ঝাঁকাই। নিভে আসা আগুনটা উসকে দিয়ে আরও কটা কাঠ চাপিয়ে দিই। সাহেব গাঁজা দিয়ে একটা সিগারেট পাকায়।
    — What are you doing here? What’s your story?
    লাইটারটা অনেক কসরত করে জ্বলে—ঠান্ডায় জমে গেছিল সম্ভবত। Jointটা ধরিয়ে বেশ কয়েকটা টান দিয়ে সাহেব বলে—
    — Nothing unusual man. just another pot headed marican on his quixotic quest, lost in his happy delirium that he'll find his spiritual answers in thousands of years old Hindu Scriptures mainly based on unverifiable speculations and his salvation in the mountains of Himalaya. Which also "happens to be" the dope heaven of India. So his spiritual journey eventually metamorphosed into a psychedelic one. The usual clichè you know.
    -Wow! And I thought you guy's exists only in a back-packer's novel!
    - "Cheer's".সাহেব মুচকি হেসে গ্লাস তোলে।
    - Really man! What makes you guy's so gullible to believe that India is less spiritually fucked up! Is it because we clings on to thousands of years outdated way of life?
    - Because we're scared. We're "shit scared" of this reality as we become more and more aware of it. Nobody is watching over you. Nothing is predetermined. Your every decision, which you are condemned to take will decided your future. Every nanosecond of your conscious moment have immense significance to shape your life. So you run, you run like hell. Because you've got only one shot, there is no coming back, no existence beyond existence, no metaphysical consolation, there's only "Being and Nothingness." And, That means all your runnings, all your desperate pursuits will end up to nothing.
              We're so horror-stuck with this reality we escape to denial. Seek a alternative in ancient scriptures. Seek a sense of purpose, through God. And ultimately blocked with the fundamental  question. If the God exists why faith is the only way to understand Him, why can't we seek Him through question? Is it because there is no viable answer? Is there any real need for this ambiguity? সাহেব jointটা জোরে জোরে টানতে থাকে।
    - Actually, all we wanted to ask, if there is any significance of our minute existence.....Tragedy is somewhere deep down we know the answer. We know.
    - And you think the answer is NO!
    - What do YOU think?
    - Well, what about love? Doesn't it gives life a great purpose to live on?
    - Love? সাহেব হাসে।"As sentient beings we need something more than just basics to live on. We need inspiration to live. So our brain produce some abstract decoys as defence mechanism. Like our ability to love, to appreciate beauty, to create art. Which refrain us from questioning our "existence" which is meaningless. Love, my Friend, is just another shackle which keeps you inside the nature's jail, not an escape route."

                          শালা গাঁজা তো শুনেছি মহাদেবের দেহনিশৃত লতা। সে আবার এতটা negativity পয়দা করে নাকি!
     - Look man! All I think, as we do not know everything, nothing is certain. So it's your right to choose your belief. You can easily believe in a omnipotent, omnipresent God with a divine purpose beyond our comprehension, if it helps you in your life.

    — Lie is a godly comfort, indeed.
    ধ্যাৎতেরি! শালা তোর nihilism-এর নিকুচি করেছে। ধুনকিটা পুরো চটিয়ে দিল। অত purpose জেনে ঘোড়ারডিম আমার হবে কী? খিদে মিটবে?
    — সাব খানা তইয়ার হ্যায়। খা’লো, ঠান্ডা হো যায়েগা।
    — এই যে বাবা, এসো। এত বার এত রূপে তুমি দেখা দাও, তবু লোকে বলে তুমি নেই!
    — জি? কুছ বোলে কেয়া সাব?
    — কুছ নেহি বাবা, চলো। Mich, it’s late—let’s call it a night.
    — G’night.
    সাহেবের হাতটা একবার উঠেই ধপ করে পড়ে যায়। তার অর্ধচেতন শরীরটা পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে পাশে রাখা মোটা বইটাতে হোঁচট খাই—The Philosophical Journey of Mankind, Vol. V, Oxford Publication।
    বাপ্পোঃ!
    — You read some heavy stuff, man!
    — Nah. Just needed something to wipe my ass with.
    শালা, ঝাঁট জ্বলে যায়! বলেই ফেলি—
    — Dude, your cynicism is almost pathological. I’d have it looked at if I were you.
    সাহেব হাসে। হাসতেই থাকে। আমিও হাসি। অন্ধকার নেশাতুর পথে সাবধানে পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে অল্প টাল খেয়ে উপলব্ধি করি—লোকটার এই অস্তিত্ববাদী গোঙানি আমারই একান্ত নরকের খুব চেনা প্রতিধ্বনি!
    “The Unbearable Lightness of Being”—কুন্দেরার নভেল। পড়ে বিশেষ রস পাইনি, কিন্তু title-টা দিনের পর দিন haunt করে গেছে অফিস-ফিরতি night-cab-এর অন্ধকারে, সহ্যাতিরিক্ত মদ কমোডে উগড়ে দেওয়ার পরের ক্লান্ত অবসন্নতায়, উৎসবের ভিড়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গূঢ় প্রেতীত একাকিত্বের উপলব্ধিতে। আমল দিইনি, অস্বীকার করেছি, পালিয়ে এসেছি এই এত দূরে… কিন্তু কপাল!
    জীবনের এই নাছোড়বান্দা attitude-এ ক্ষুণ্ন হয়ে টেন্টে ফিরি। Dinner-এ খিচুড়ি নামক দুঃস্বপ্নের উপকরণ পরিবেশিত হয়। “Materialised dark humour।” দেখে হাসি পায়, খেতে খেতে কান্না গিলি। স্লিপিং ব্যাগে ঢুকতে ঢুকতে ভাবি—আজ থেকে পাঁচ দিন আগেও অফিসের বাথরুমে বসে এবার থেকে অফিসেও গাঁজাটা শুরু করব কি করব না সেই নিয়ে মনে মনে ডিবেট করছিলাম, আর আজ সাড়ে চার হাজার মিটার পাহাড় ভেঙেও সেই একই বিপন্নতা নেশায় ডোবাচ্ছি। মাঝখান থেকে ফালতু বেগাড় দিলাম।
    জীবন নামক এই দুঃখজনক ঘটনাক্রম থেকে পালানোর একমাত্র উপায়—ঘুম। খুব বেশি সাধাসাধি করতে হল না। অবশ্য অজ্ঞান হয়ে গেলাম কিনা বলতে পারব না।



    মহাজাগতিক ঘূর্ণনের ফলে শূন্যে ভাসমান একটি ক্ষুদ্র, এবড়ো-খেবড়ো লৌহগোলকের উঁচু হয়ে থাকা খাঁজের ওপর আকাশগঙ্গার কিনারের দিকের একটি মাঝারি নক্ষত্রের ভিতর ঘটে চলা ক্রমাগত পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে বিচ্ছুরিত আলোর প্রথম আভাস—সেই গোলকের বাসিন্দা দুটি প্রাণকণার চারশো কোটি বছর ধরে বিবর্তিত আত্মসংরক্ষণ চেতনার দ্বারা অভিক্ষিপ্ত সৌন্দর্যবোধকে বাজাতে বাজাতে ক্রমশ ঝালায় তোলে। জীবনের আকুল জিজ্ঞাসাগুলোর প্রতি ব্রহ্মাণ্ডের শীতল উদাসীনতার ভার ঝরে পড়ে বিস্ময়ের আনন্দে—যা এই চেতনার আরও একটি অভিক্ষেপণ। এভাবেই বিবর্তন এগিয়ে চলে স্রেফ চলার আনন্দের উপলব্ধিতে।
    ভোর চারটে তেইশ। গোচেলা টপের ওপর বসে আছি দুজনে। স্তম্ভিত।
    — Hey Mich!
    — Yap?
    — We’re bloody idiots!
    সাহেব হাসে—
    “Fuel up, Sisyphus. Tomorrow you have to push the boulder uphill once again.”
    আমি হাসি। শুনেছি সিসিফাস দিব্যি আছে।

    শেষ
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • %% | 49.206.***.*** | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৯738154
  • ভাল লাগল
  • Sudipta Adhikary | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৫738156
  • অনেক ধন্যবাদ
  • পাঠক | 108.16.***.*** | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২০738171
  •  আচ্ছা 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন