মণীশ রায়ের ভূত জোৎস্নায় ছাদের রেলিংয়ে শুয়ে আকাশের দিকে চেয়ে খুশিতে পা নাচায়… : সুষুপ্ত পাঠক
বুলবুলভাজা | অপার বাংলা | ১১ আগস্ট ২০১৫ | ১৫৮৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ২৯
বাবা একদিন মরে পরে রইলেন চেয়ার মধ্যে। যে কাঠের চেয়ারটায় রোজ বসে থাকতেন বারান্দা, একদিন দেখা গেলো মাথাটা হেলে আছে চেয়ারের কাধে, মুখ দিয়ে ফেনা গড়াচ্ছে…। খুব বড় আয়োজন করে বাবার কুলখানি করলেন বড় ভাই। আমাদের ডালডা আর তেলের কারখানাটা বড় ভাইই চালান। ভাবী আমাদের এখানে থাকতে চান না বলে উত্তরায় ফ্ল্যাট কিনে ভাই-ভাবী সেখানেই থাকেন। এই বাড়িতে এখন আমি একা। পুরো একটা বাড়িতে একা থাকতে আমার একটুও একা লাগে না। কেন লাগে না জানি না। স্বপন যে ঘরটাতে ফাঁস দিয়েছিল সেঘরটা তালা দেয়া থাকে। মাঝে মাঝে খুলে ভেতরে ঢুকি। চেষ্টা করি স্বপনের কোন অস্তিত্ব অনুভব করতে। আজ ২২ বছর স্বপন নেই! মণীশ জ্যাঠার যেমন বয়স আটকে আছে মহাকালের ফ্রেমে, স্বপনও সদ্য যৌবনের চেহারা নিয়ে এ্যালবামে আটকে আছে। কি অদ্ভূত, মণীশ জ্যাঠা এ বাড়ির মায়া আজো কাটাতে পারলেন না কিন্তু স্বপনকে কতদিন প্রত্যাশা করেছি শুধু একবার দেখবো…। কিন্তু স্বপন যে দূর কোন দেশের অধিবাসী। স্বপন চলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি…।
পুত্রশোক : সুষুপ্ত পাঠক
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ২৪ অক্টোবর ২০১৫ | ১৩১৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৪
লোকমান বুকের ভেতরটা বাষ্প হয়ে উঠে। সমস্ত দুনিয়াটাকে তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে হয়। এই আকস্মিকতা সে মেনে নিতে পারে না। বেপারী সাবে কেমতে মরে হ্যায় না মাত্র আইল হজ থিকা? মরণের তো একটা রকম আছে? এইটা কুনু কথা হইল? এইসবই যেন লোকমানকে জব্দ করার ফন্দি! শামসুদ্দিন দেখো কেমন ধোয়া ইস্তারি করা পাঞ্জাবী পইরা চইলা আসছে! দুনিয়ার সব মানুষ বেপারী সাবের মৃত্যুকে কী সুন্দর মেনে নিচ্ছে। অথচ লোকটা এই তো সক্কাল বেলা কইল, বিকালে আহিস, তর কথা শুনুম নে…। এখন লোকমানের কথাগুলি কে শুনবো?... বেপারী সাব আপনের পোলায় আমারে একটা ট্যাকাও দেয় নাই। উল্টা গাইল পারছে। দুইটা মানুষ কি খাইয়া বাচি কন দেহি! খালি আপনের ফিরনের আশায় বাইচ্চা আছি কোন মতে… তিনমাসের ঘর ভাড়া বাকী, ঘরে একটা খওন নাই…।