এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • থ্যাংক ইউ 

    Saheli Bandyopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ৩৫৪ বার পঠিত
  • আজ রাখিবন্ধন।। দাদাদের নিয়ে কতগুলো বিক্ষিপ্ত ছোট ছোট গল্প।।। দাদা আমাদের জীবনে একটি বিশাল বড় অংশ। .সে নিজের দাদাই হোক বা পাড়াতুতো দাদা | নিজের দাদাও কি সব সময়ে সত্যিকারের দাদা হয়ে উঠতে পারে নাকি কোনো সময়ে পথ চলতি লোকও নিজের দাদার ভূমিকা নেয় ? কতগুলো ছোট ছোট ঘটনা লিপিবদ্ধ করলাম কয়েকটি সত্য ঘটনাবলম্বনে ....

    প্রথম গল্প : থ্যাংক ইউ স্যার---না ...মানে...থ্যাংক ইউ দাদা -----

    বিকেল প্রায় পাঁচটা l রিনি পার্কস্ট্রিট থেকে হাওড়া গামী বlসে চড়ে পড়লো। এই সময়ে অনেক অফিসই ছুটি হয়, তাই মারাত্মক ভিড় বাসে। রিনি কোনো মতে এদিকে ওদিকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লো। সারাদিন অফিসে তার অত্যন্ত পরিশ্রম গেছে, মাথাটা টিপটিপ করছে। পিছন থেকে একটা প্রায় পঞ্চাশ বছরের লোক বিচ্ছিরি ভাবে রিনিকে ঠেলছে। এই স্পর্শগুলো সহজেই মেয়েরা বুঝতে পারে, এতো ভিড়, কোথাও যে সরে দাঁড়াবে তার জায়গা নেই। বাসে ট্রামে এগুলো আজকাল গা সওয়া ব্যাপারে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে সানগ্লাস পরে স্মার্ট মুখের একটি ছেলে পাশে এসে দাঁড়ালো, বোধহয় এখুনি উঠেছে বাসে। " হ্যালো, শুনছেন, রিনি একটু চমকিত, চেনা নেই শোনা নেই, হঠাৎ করে ডাকলে কেমন অস্স্বস্তি হয়।। ছেলেটা আবার ডাকলো, " হ্যালো, সিস্টার শুনছেন, সরি কিছু মনে করবেন না, আপনার জামার ফিতেটা বেরিয়ে গেছে, একটু ভিতর করে নেবেন। " ওহ, রিনি এতক্ষণ খেয়ালই তো করে নি, অন্তর্বাসের ফিতেটা এই ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদিতে কিভাবে বেরিয়ে গিয়েছিলো। রিনি তাকিয়ে দেখলো, ছেলেটার দৃষ্টিতে কোনো প্রলোভন নেই, বরঞ্চ একটা নির্ভরতা, একটা আশ্বাস।।। ছেলেটা আবার পিছনে তাকিয়ে পঞ্চাশ বছরের লোকটির তাকিয়ে হুঙ্কার ছাড়লো।।। দাদা একটু সোজা হয়ে দাঁড়ান প্লিজ, সামনে লেডিস আছে, বলে নিজেই সে লোকটির সামনে এসে রিনিকে গার্ড করে দাঁড়ালো। ঠিক যেন দাদা, রিনির নিজের দাদা নেই, কিন্তু ছোটবেলার জেঠতুতো বড়দার কথা মনে পড়ছ।। ঠিক ওই রকম লম্বা, স্মার্ট। পরের স্টপেজে লোকটা নেমে গেলো আর তার পরের স্টপেজে ছেলেটাও। রিনি ওর নাম জানে না, তাই ডাকতে গিয়েও গলার কাছে আটকে গেলো কথাটা…থ্যাংক ইউ স্যার---না ...মানে...থ্যাংক ইউ দাদা -----

    দ্বিতীয় গল্প : থ্যাংক ইউ টুলুদা
    রিনি হাওড়া থেকে বর্ধমান ডেলিপ্যাসেঞ্জেরি করে পার্কস্ট্রিট এর একটা অফিসে কাজ করে। এই কলকাতা রোজ রোজ যাতায়াত করে অফিসে চাকরি করার ব্যাপারটা রিনিদের ফ্যামিলিতে প্রথমে কেউ মেনেই নিতে চাই নি, কি করে ফিরবে, কত দেরি হবে আসতে, এত সকালে বেরোলে সারাদিন খাবে কি ? শেষমেশ রিনির মা পাড়ার একটি ছেলেকে জোগাড় করে ফেললো, রিনি তাকে ডাকনামে টুলুদা বলে ডাকে, রিনির থেকে প্রায় দশ বছরের বড় হবে। রিনি যায় ফার্স্ট ট্রেন এ, হাওড়া থেকে ফেরার সময় ট্রেন ধরে সন্ধে ৬ টায়। বর্ধমান পৌঁছতে পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যায়। টুলুদার সঙ্গে ফিরলে একটু সুবিধা, আরো অনেকে থাকে টুলুদাদের গ্রুপ, সবাই মাইল সারা পথটা তাস খেলে, গান বাজনা করে। সেদিন মুষলধ|রে বৃষ্টি নেমেছে, লাইন দেখতে না পাওয়ার জন্য ট্রেন খুব আস্তে চলেছে। আবহাওয়া খারাপের জন্য টুলুদার গ্রুপের কিছু ছেলেপিলে আজ নেই, বোধহয় আগের ট্রেনেই কেটে পড়েছে। কয়েকটা নতুন ছেলে উঠেছে, যাদেরকে আগে কোনোদিন দেখেনি রিনি। মেয়ে বলতে সেদিন ওই কামরায় বিশেষ কেউ নেই রিনি ছাড়া, ওই দিকে দুজন বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন চোখে হাই পাওয়ারের চশমা দিয়ে। নতুন লোকগুলো খুব খারাপ দৃষ্টিতে রিনিকে গিলছে, রিনির একটু ভয় ভয় লাগছে। টুলুদা বোধহয় আঁচ করতে পেরেছে ব্যাপারটা - "এই যে-- তুই আরো সীটের ভিতরে ঢুকে গিয়ে বস " বলে নিজে সীটের সামনের দিকে আরো খানিকটা এগিয়ে গেলো টুলুদা। এখন লোকগুলো রিনিকে দেখতে পাচ্ছে না আর রিনিও লোকগুলোকে না। কিন্তু একটা অশাস্তি ঘিরে ধরেছে। টুলুদা দেখি কাকে ফোন করে কি সব বলছে --- খানিকক্ষণ পরে দেখি ওপাশের কামরা থেকে আরো কতগুলো ছেলেপিলে এসে হাজির, হ্যাঁ, এরা টুলুদার বন্ধুবান্ধব, আগেও দেখেছে রিনি। ছেলে গুলো এসে হাঁকডাক করতে লাগলো --" চল চল তাস খেলা হোক এক রাউন্ড।। ট্রেন যা আস্তে আস্তে চলছে---- ও ভাইরা তোমরা কোথায় যাচ্ছ আগে দেখি নি তো এই কামরায়--- এই কামরায় আমরা প্রতিদিন থাকি--- সব ভাই বোন সব একসাথে যাওয়া আসা করি বুঝলে ? " লোকগুলো আস্তে আস্তে সরে পড়ছে রিনি বুঝতে পারলো। রিনি মনে মনে বিড়বিড় করতে থাকল--- থ্যাংক ইউ টুলুদা। .থ্যাংক উ ..

    *আমার গল্পে রিনি বারবার নানা চরিত্রে ফিরে আসে
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন