এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এখন কি দারুণ ভুলে যেতে পারি আমরা। 

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বার পঠিত
  • এখন কি দারুণ ভুলে যেতে পারি আমরা।

    আদালতে অজস্র ঘটনার স্বাক্ষী হতে হয় আমাদের। এসব দেখতে দেখতে আমাদের ও অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে। এখন আর প্রথমদিকের মতো মায়া হয় না, কারণ এসবের ফলাফল হরহামেশাই দেখতে হয়। ফৌজদারি মামলার বিচারে পারিবারিক কারণে মামলার সংখ্যা ভয়াবহ প্রায়। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা, নারীর কথিত স্বাবলম্বী তকমা, পারিবারিক কুশিক্ষা, রুচিবোধ, শিক্ষা নামের কুশিক্ষা, নিজেকে সবার চেয়ে উন্নতর চিন্তা ভাবনা, পাশ্চাত্য সমাজের সাথে তাল মেলানো, সর্বোপরি একটা অশুভ প্রতিযোগিতাই প্রধানতম উপকরণ বলে ধরে নেয়া যায়। আর এসবের চাপ এসে পড়ে আদালতের ঘাড়ে। নীলফামারি আদালতে আমার সামনে ঘটে যাওয়া একটা সাম্প্রতিক ঘটনা কেন জানি নতুন এক অভিজ্ঞতার খোরাক হয়ে যায় আমার কাছে। কম বয়সী এক নারী কাঠগড়ায় দাঁড় হয়ে পুরো আদালতের পরিবেশকে বাজারের মতো বানিয়ে ফেলতে সময় নিলো না। সম্ভবত যৌতুকের নারী শিশু নির্যাতন মামলা। নারীর চুলে পাশ্চাত্যের ছাপ, যেটাকে ছোট ছাট বলে। মেহেদী /সোনালী রঙের ছাপ। ব্যস্ত নদীর ছলছলে স্রোতের মতো ফ্যানের বাতাসে ভাসছিল। দেখতে সুশ্রী (কথিত ফর্সা বর্ণ), সরু চোখ, বাশীর সুরের মতো চিকন নাক। কিন্তু হালকা রঙের লিপস্টিক মাখা ঠোঁটের ফাক গলে যে শব্দগুলো অটোমেটিক রাইফেল এর বের হচ্ছিল তা হয়তো আমেরিকার হাতেও এত উচ্চ মানের অস্ত্র নেই। তার অভিযোগ ও খুব উড়িয়ে দিচ্ছি না, তার কথিত মতে তার স্বামী নাকি হোটেলে কার সাথে রাত কাটিয়েছে, তার খোঁজ খবর নেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। স্বামীর সহিত আপাতত সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় নি। তালাকের বিষয় টা ও নিশ্চিত নই। আদালতের সিনিয়র আইনজীবীরা খুব চেষ্টা করে ও থামাতে পারছে না। এবার তার স্বামীর দিকে উঁকি দিলাম। শান্ত সুবোধ চেহারা, ২৫/৩০ এর যুবক। পোশাক এ আহামরি চাকচিক্য নেই, বলা যায় সেকেলে টাইপের। তবে তাদের বিবাহকালীন চয়েজ সঠিক ছিলো না যে তা নিশ্চিত। বাঘিনীর সহিত বাঘ মানায়। মেষ বা গাধা নয়। যাইহোক। অভিযোগ গুরুতর। ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি সামলাতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে। পিছনে একটা কন্যা শিশু সারাক্ষণ কান্না কাটি করছে। আনুমানিক এক বছর বয়সী। বারবার বাচ্চাটি সেই নারীর দিকে যাচ্ছে। বুঝলাম বাচ্চাটি সেই নারীর। আমি তার সন্তানকে নিয়ে কি করবো? আমি কি ব্যাশ্যামি করে তার বাচ্ছাকে লালন পালন করবো? আমাদের সবাই প্রতি তার আবেদন। তখন আদালতের পরিবেশ অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। বাচ্চার কান্না অন্তত সবার বুকে খঞ্জর দেয়, অন্তত যাদের সন্তান আছে তারা বুঝতে পারে শুধু। বারবার বাচ্ছাটাকে সরিয়ে দিচ্ছিলো। সবাই, আদালত ও বলছে বাচ্চাকে কোলে নিতে। কিন্তু না। সে ছুড়ে ফেলতে চায়। সংসার করতে যে রাজী নয় তা শতভাগ নিশ্চিত। বাচ্চাটাই তবে কি কাল সাপ হয়ে দাড়াচ্ছে? উত্তর হ্যাঁ। নারী চায় না, এই জঞ্জাল বহন করে বেড়াতে, এখনো যা সৌন্দর্যের ভান্ডার রয়েছে তা আরও অন্য পুরুষকে ঘায়েল করতে যথেষ্ট। সম্ভবত সেই পুরুষ ও নিস্তার চায়। কিন্তু মানবিকতা ফুরিয়ে গেছে হয়তো। কাঠগড়া থেকে লম্বা দৌড় দিয়ে নারী চলে যায়। পুরুষ ও সটকে পড়ে এক ফাঁকে। বাচ্ছাটা দৌড়ে কাউকে ধরে ফেলতে পারে না। গলগল করে চোখের পানি দিয়ে আদালত ভিজিয়ে দিয়ে অভিশাপ দিচ্ছে আমাদের। বাচ্ছাটা কাকে ক্ষমা করবে? সেই উত্তর আমাদের কাছে নেই। এসব আমাদের ব্যথিত করে, আমরা আবেগ তাড়িত হই। আমরা আবারও সব কিছু ভুলে যাই অতঃপর। জহির রায়হানের সেই বিখ্যাত কথা গুলো যেমন, প্রথম প্রথম কাউকে মরতে দেখলে ব্যথা পেতাম। এখন রোজ রোজ লাশ নামাই। কবর খুড়ি। আর ব্যথা পাই না, হয়তো অনুভূতি গুলো ভোতা হয়ে গেছে তাই।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন