এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অস্থির সময়ের বি এন পি (১)

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ২১ বার পঠিত
  • অস্থির সময়ের বি এন পি। (১)

    লাঠি হাতে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে এখনো চোখ বন্ধ করে খুঁজে পাচ্ছি। পোড়খাওয়া একজন রাজনীতিবিদ। আমার মনে হয় ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিয়ে টিকে থাকতে হয়েছিল বি এন পি কে। চারদিকে একটা গুমোট পরিস্থিতি। স্মার্ট ম্যান মান্নান ভূইয়া এক সময় সব রাজনৈতিক দলের জন্য আইডল ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন বি এন পি আর বেগম খালেদা জিয়ার ছায়াসংগী হিসাবে পাশে ছিলেন। কথার মাধুর্য আর প্রখর মেধাবী সংসদ প্রান হয়ে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, আঃ রাজ্জাককে ডিল করার কারিশমা আমরা দেখেছি যদি ও বর্তমান প্রযন্মের কাছে তা রুপকথার মতো। দেশে জরুরি অবস্থা জারী হলো। মুহূর্তে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে চলে যায় সমস্ত দেশ। প্রতিদিন রাজনৈতিক নেতারা গ্রেফতার হচ্ছেন সেটা হোক আওয়ামী লীগের বা বি এন পি। জামায়াতের অবস্থান তখন আলোচনার পর্যায়ে ছিলো না। মঈন ইউ আহমেদ সামনে আর পিছনে আমেরিকা আর ভারত। সেই রাজনৈতিক কূটকৌশল চলছে। মাইনাস টু ফর্মুলা তখন সরকারের টেবিলে। হাছিনা বিদেশে খালেদা দেশে। হাছিনা দেশে ফিরে আসবে কি না তাই নিয়ে নানা হিসাব নিকাশ চলছে। খালেদা জিয়ার কথা এই দেশ ছাড়া তার কোন বাড়ি নেই। খালেদার আহবানে হাছিনা ফিরে এলো। কিন্তু হিতে বিপরীত হতে শুরু করে বি এন পি র সাথে। দলের সব সিনিয়র নেতারা জেলে। ঠিক এই সময়ে সবচেয়ে করুন পরীক্ষার মুখোমুখি দাড়িয়ে আছে বি এন পি। হোক তা আমেরিকা বা ভারত বা সরকার বা আওয়ামী লীগ। যে মান্নান ভূইয়া ছায়ার মতো খালেদা জিয়ার সংগী ছিলো সেই মান্নান ভূইয়া চক্রান্তে পা বাড়ালো। বি এন পি কে দ্বিখণ্ডিত করে খালেদা জিয়ার উপর চাপ বাড়ছে। মুহুর্তের মধ্যে এলোমেলো হয়ে গেল বি এন পি। মান্নানের সঙ্গে আরো সিনিয়র নেতারা সাথী হলো, বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: সংস্কারপন্থী অংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
    ​অন্যান্য প্রভাবশালী নেতা
    ​আশরাফ হোসেন: তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব এবং সংস্কারপন্থীদের অন্যতম সংগঠক।
    ​জহির উদ্দিন স্বপন: সাবেক সংসদ সদস্য।
    ​সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল: সাবেক সংসদ সদস্য। যারা বর্তমানে তারেক জিয়ার মন্ত্রীসভা উজ্জীবিত করছেন।
    ​সংস্কারপন্থীরা মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
    ​দলের প্রধানের একক ক্ষমতা সীমিত করা।
    ​এক ব্যক্তির এক পদ (অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলে দলীয় প্রধান হওয়া যাবে না) নীতি কার্যকর করা।
    ​দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
    ​তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও প্রভাব দলের ওপর থেকে কমিয়ে আনা।
    সংস্কারপন্থীদের সাথে তৎকালীন স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক হেভিওয়েট নেতা যুক্ত ছিলেন:
    ​সাইফুর রহমান: সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য।
    ​চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী: স্থায়ী কমিটির তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
    ​এ এস এম হান্নান শাহ: (প্রাথমিকভাবে সংস্কারের কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি খালেদা জিয়ার অনুগত মূল ধারায় ফিরে আসেন এবং জোরালো ভূমিকা রাখেন)।
    দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ কারাভোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের প্রভাবে বিএনপি সেই নির্বাচনে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং মাত্র ৩০টি আসন লাভ করে।

    ​ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী এই সময়টি বিএনপির জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা ছিল, যা দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পুর্ব মুহূর্তে মান্নান ভূইয়াকে বহিস্কার করলে ঘটনার ব্যাপকতা বিস্ময়কর ভাবে স্পষ্ট হতে শুরু করে। অসুস্থ কিন্তু তেজী খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে ভরসা করেন বেগম খালেদা জিয়া। লড়াইয়ে টিকে থাকার অদম্য সাহসী নেতৃত্বে অল্পদিনে মুল ধারার বি এন পি সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া শুরু করে। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আর কোকো রহমানকে জেল খানায় রেখে অস্থির সময়ের বি এন পি কে একাই আগলে চলেছেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এরপর শুরু হলো ধানের শীষ আর আসল বি এন পির মালিকানা নিয়ে লড়াই। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে 'আসল বিএনপি' হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। তারা চেয়েছিল 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে। কিন্তু তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রচণ্ড বিরোধিতা এবং আইনি লড়াইয়ের পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশকেই মূল বিএনপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মান্নান ভূইয়া ও তার পক্ষের নেতারা লজ্জাজনক ব্যবধানে নির্বাচনে হেরে গিয়ে প্রমান করে যে, খালেদা জিয়ার বি এন পি কে টেক্কা দেওয়ার যোগ্যতা এখনো কারো নেই। মাত্র ৩০ টি আসনে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বি এন পি কে। আজকে যারা বি এন পির সুবিধাবাদী তারা হয়তো ইতিহাস পড়ে না, দলের ক্রান্তিলগ্নে এদের অনেকেই সেদিন মাইনাস টু ফর্মুলার জোর সমর্থন জুগিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। বিপর্যস্ত বি এন পির পিছনের গল্প গুলো সুমধুর নয়। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, রক্ত, সংগ্রাম, বিশ্বাসঘাতক এর সাথে লড়াই করে আজ এই খানে এসে পড়েছে। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন কে ভুলে যাওয়া মানে ইতিহাসের সাথে প্রবঞ্চনা করা। আজকের এই বি এন পির রক্তের সাথে মিশে আছে অনেক বিপ্লবীর নাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন