নাগরিক যাচাইয়ের ছোট ছোট গল্পঅয়ন মুখোপাধ্যায়
১. সন্দেহ
আজ রাষ্ট্র আমার দিকে তাকিয়ে বলল—
আপনি কে?
আমি একটু অবাক হলাম।
কারণ গত নির্বাচনে
এই রাষ্ট্রই আমাকে খুঁজে বের করেছিল।
আমার বাড়ি পর্যন্ত এসেছিল।
চা খেয়েছিল।
হাত জোড় করে বলেছিল—
ভোটটা কিন্তু দেবেন।
আজ সে বলছে—
প্রমাণ দিন আপনি আছেন।
রাষ্ট্রের স্মৃতি
মাঝে মাঝে খুবই দুর্বল হয়।
২. লাইন
ব্লকের সামনে আজ লম্বা লাইন।
একজন বললেন—
এই লাইনে দাঁড়ালে কি নাগরিক হওয়া যায়?
পিছন থেকে আরেকজন বললেন—
না,
এই লাইনে দাঁড়ালে শুধু বোঝা যায়
রাষ্ট্র আপনার ওপর একটু সন্দেহ করছে।
৩. কাগজ
রাষ্ট্র কাগজ খুব ভালোবাসে।
সে বলে—
আপনার জন্মের কাগজ আছে?
আপনার বাবার জন্মের কাগজ আছে?
আপনার দাদুর জন্মের কাগজ আছে?
আমি বললাম—
আমার দাদু তখন চাষ করতেন।
কাগজ নয়।
রাষ্ট্র একটু ভেবে বলল—
তাহলে সমস্যা আছে।
৪. অফিসার
অফিসার খুব শান্তভাবে বললেন—
ভয় পাবেন না।
এটা শুধু যাচাই।
আমি বললাম—
কি যাচাই?
তিনি বললেন—
আপনি এখানকার কি না।
আমি বললাম—
আমি এখানেই জন্মেছি।
তিনি বললেন—
সেটা তো আপনি বলছেন।
রাষ্ট্র সাধারণত
মানুষের কথায় খুব কম বিশ্বাস করে।
৫. ইতিহাস
ইতিহাস বইয়ে লেখা আছে—
ভারত বর্ষ স্বাধীন দেশ।
আজ ব্লকের সামনে দাঁড়িয়ে
একজন বৃদ্ধ বললেন—
“স্বাধীন হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু নাগরিক হওয়ার পরীক্ষা
এখনও চলছে।”
৬. ভোটার তালিকা
গত বিশ বছর ধরে
আমার নাম ভোটার তালিকায় আছে।
হঠাৎ একদিন
রাষ্ট্র খুব ভদ্রভাবে বলল—
আপনার নামটা একটু সন্দেহজনক।
আমি বললাম—
তাহলে এতদিন
আপনারা কাকে ভোট দিতে বলছিলেন?
রাষ্ট্র একটু চুপ করে রইল।
৭. শেষ কথা
শেষে আমি রাষ্ট্রকে বললাম—
আপনি এত সন্দেহ করছেন কেন?
রাষ্ট্র বলল—
এটা আমাদের নতুন অভ্যাস।
আমি বললাম—
তাহলে একদিন
আপনি নিজেকেও জিজ্ঞেস করবেন—
আপনি সত্যিই রাষ্ট্র তো?
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।