এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • টুইট ঘোষণা আর আইনের প্রশ্ন অয়ন মুখোপাধ্যায়

    Ayan Mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৮৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • টুইট, ঘোষণা আর আইনের প্রশ্ন

    অয়ন মুখোপাধ্যায়

    রাজনীতিতে আচমকা ঘোষণা করা কোনো নতুন কিছু ঘটনা নয়। কিন্তু ঘোষণারও একটি আইনি কাঠামো থাকে। সম্প্রতি মমতা ব্যানার্জির ডিএ-সংক্রান্ত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনি প্রশ্নটাই এখন সবার সামনে চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে জানিয়েছেন, বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে। কিন্তু একটি টুইট কি সরকারি সিদ্ধান্ত? সরকারি অর্ডার কোথায় ?মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন উঠছে। এটা কোনো গিমিক নয় তো ?ভোটের আগের কোন চমক নয় তো?

    কারণ প্রশাসনিক বাস্তবতা খুব পরিষ্কার। সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একটি সরকারি আদেশনামা বা গভর্নমেন্ট অর্ডার (GO) জারি করতে হয়। সেই আদেশনামার ভিত্তিতেই রাজকোষ থেকে অর্থ ছাড় করা যায়। অর্থাৎ ঘোষণার সঙ্গে আইনি নথির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

    এখানেই প্রশ্নটা আরও স্পষ্ট । নির্বাচন কমিশন বিকেল চারটেয় সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করে এবং সাড়ে চারটে নাগাদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে । সেই মুহূর্ত থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর । এই আচরণবিধি বলবৎ হওয়ার পরে সরকার সাধারণত নতুন আর্থিক সুবিধা ঘোষণা বা কার্যকর করতে পারে না, কারণ এতে ভোটাররা প্রভাবিত হয়ে যেতে পারে ।

    ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশাসনিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিকেল সাড়ে চারটার আগে কি বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত কোনো সরকারি আদেশনামা জারি করা হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার নথি কোথায়? আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেবল একটি টুইটের ভিত্তিতে কি রাজকোষ থেকে অর্থ দেওয়া সম্ভব?

    বিষয়টি এখানে শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক বিষয়ে ও বটে। কারণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম এবং নথিই শেষ কথা বলে। সুতরাং ঘোষণার রাজনীতি করে চমক থাকতে পারে, কিন্তু অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। নইলে তা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতায় পরিণত হবে।

     এই প্রসঙ্গে আরও একটি বাস্তব দিক আছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ-র প্রশ্ন আদালতে বিচারাধীন। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে এই প্রশ্ন এখন কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যে কোনো ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন।

    তাই সরকারি কর্মচারী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, সেটিকে অযৌক্তিক বলা যায় না। সরকারি কর্মচারীদের মনের মধ্যে প্রশ্ন একটি টুইট কি সরকারি আদেশের বিকল্প হতে পারে? একটি রাজনৈতিক ঘোষণা কি আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কার্যকর করতে পারে? রাজকোষ থেকে অর্থ ছাড় করার জন্য কি কেবল ঘোষণাই যথেষ্ট?

     এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকেই দিতে  হবে। কারণ গণতন্ত্রে ঘোষণার চমকের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো কাগজের স্বচ্ছতা। সরকার যদি সত্যি সত্যিই বকেয়া ডিএ দিতে চায়, তাহলে তার আইনি প্রক্রিয়াও পরিষ্কার করতে হবে।

    রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করা কঠিন এক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জি এক আশা ভঙ্গের নাম। সুতরাং প্রশাসনে বসে নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে সস্তার গিনিক দিয়ে নয় তাই সরকারি কর্মচারীরা সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মনের মধ্যে একটাই প্রশ্নে—মমতা ব্যানার্জির ঘোষণার পরে কি আইনি পদক্ষেপ হয়েছে?, না কি ঘোষণাই আপাতত পুরো ঘটনাটির কেন্দ্র বিন্দু? যার মধ্যে দিয়ে মমতা তার নিজের ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে চাইছেন। সুতরাং উত্তরটা স্পষ্ট হলে বিতর্কও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন