এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চারটি মেয়ের গপ্পো 

    Srimallar লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ মার্চ ২০২৬ | ৬০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • সোনামণি হারিয়ে গিয়েছিল। ঝড়ে আম কুড়োতে কুড়োতে, সেই যে ঝড়ের পছন্দ হ’য়ে গিয়েছিল সোনামণিকে— তারপরে আর ঝড় কোনওদিন সোনামণিকে ছেড়ে দেয়নি। সোনামণি সংসার পাতলো ঝড়ের সঙ্গে। ঝড় বড় মাতাল। সারাদিন শুধু নেশা। নেশা। নেশা। সোনামণির বরের চোখ বিকেলের আকাশের অপ্রিয় রঙের মতো। সোনামণির রান্নার হাত মরা বেড়ালের গন্ধের মতো। সারা পাড়া ছড়িয়ে যেতে থাকে। যা কেউ পছন্দ করে না, মুখেও তোলা যায় না। সোনামণির রান্না সোনামণিকে একাই খেতে হয়। সোনামণির বর সোনামণির রান্না খায় না। আসলে রান্নার মধ্যে রান্নার লেশ মাত্র থাকে না। রান্না ব্যাপারটা অনেকের কাছেই অলীক। কিন্তু কিছুতেই সোনামণি বিশ্বাস করতে চাই না যে, সে ভাল রান্না করতে পারে না।
     
    চন্দনা একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আবোল-তাবোল বলতো। অনেকদিন পরে যখন দেহ ব্যবসায় নামল, তখন বুঝতে পারল, জীবনকে একভাবে যারা দেখেছে, তারা অনেক পিছিয়ে থেকে গেছে। জীবনের কোনও সংজ্ঞা হয় না। অনেক রাতে দূরে কুকুর ডাকতে থাকে। ফোন আসে।— ‘কাল সকাল দশটায় আসছি। ভালো ক’রে সেজে থাকবেন।’ স্বপ্ন আসে। মেঘ আসে। চোখের নীচে, চোখের আরও আরও আরও নীচে, মশারা দৌড়োতে থাকে। ঘুম আসে না। ঝগড়া মাথার মধ্যে ঘর বানাতে থাকে। আস্তে আস্তে ভোর হয়। পাখিরা ডাকে। দিন শুরু হয়। ফোনের ওই প্রান্তে থাকা মানুষ ঘরের ভেতর চ’লে আসে। শুরু হয় অন্য জীবন। চন্দনা সুখ নেয়। কষ্ট হয়। শেষমেশ মুখে হাসি ফুটে ওঠে। হাতে কিছু টাকা এলে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজেকে সুখী মনে হয়।
     
    কলি জানত, সময়কে পোড়ানো যায়। সময় পোড়াতে পোড়াতে কেমন একটা গন্ধ আসে। পাশে ঘুমিয়ে থাকা ভাইকেও আদর করতে ইচ্ছে করে। যেন নিজেরই সন্তান। যেন নিজের গর্ভেই তাকে ধারণ করেছিল। একটু সন্ধের দিকে চায়ের দোকানগুলোয় ভিড় বাড়তে থাকে। ভিড় বাড়ে। বিক্রি হয়। সবই হয়। শুধু দুঃখ মোছা যায় না। আনন্দ আসে চোখে মুখে আতঙ্ক নিয়ে। শুধু দুঃখের মুখে সাহসিকতার ছাপ। সে কাউকে ভয় পায় না। মনে হয়, আকাশ-মাটি-আগুন-জল সবকিছু দুঃখের নিজের সম্পত্তি। যেন সৃষ্টির প্রথম থেকেই সবকিছু তারই ছিল। আনন্দকে পাত্তা পর্যন্ত দেয় না আমাদের এই দুঃখ। কলি জানে, কোন কথায় মিষ্টতা আছে। যখন ভেতরে ভেতরে বন্যা হয়, তখন কলি সময় এবং শুধু সময়কে সময় দিতে থাকে। কলি জানে, কলি জানত— সময় কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না।
     
    সে এক মিঠি ছিল। রসগোল্লা দেখলেই সন্দেশের কথা ভাবত। আর সন্দেশকে দেখলেই দেশের বাড়ির কথা। অনেকের দেশ ছিল না। অনেকের বাড়ি ছিল না। কিন্তু মন ছিল। তেমনি এই মিঠি। পাহাড় টপকাতে টপকাতে, রাস্তা ভুলতে ভুলতে– একদিন এসে প’ড়েছিল কোনও একটা রাস্তায়। রাস্তা ভুলেই রাস্তায় এসেছিল। তখন চাঁদ উঠেছে। সূর্য ছুটি নিয়েছে সারাদিনের সমস্ত কাজ অকাজের পরে। হারিয়ে যাওয়া, শুকিয়ে আসা, ঝাঁপ দিতে গিয়েও বেঁচে যাওয়া— এমন অনেককেই মিঠির মধ্যে পাওয়া যাবে। জোনাকির মতো সে জ্বলত। এখনও জ্বলছে। সন্ধেবেলা-সকালবেলা-দুপুরবেলা, যে কোনও সময়েই পাখির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকত মিঠি। বাঘ এলো। আক্রমণ করলো। রক্ত। রক্ত। রক্ত। সক্কলে ভয়ে পালালো। হারিয়ে গেল মিঠি। ঝড় তো আর ব’লে এসেছিল না। কী আর করা যাবে? নিয়ে গেল, নিয়েই গেল। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন