তখন ছিল গভীর রাত। সারা পৃথিবী হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলো।
চাঁদ ক্লান্ত মুখে নক্ষত্রমন্ডলীর সঙ্গে দুর্দশার আলোচনায় মুখর।
আমি তোমাকে খুঁজছিলাম। কোনোদিন কি খুঁজে পাবো?
তোমার সঙ্গে নীরব আলোচনায় কেটে যায় কতো আলোকবর্ষ সময়।..
অজস্র বিতর্ক, কাটাছেঁড়া
একসময়ে তুমি নীরব হয়ে যাও।
আর আমার মস্তিষ্কের উপশিরায় শুরু হয় বিষাক্ত যন্ত্রণার দৌরাত্ম্য।
তারপর আবার সব অন্ধকার।
সব নিস্তব্ধ।
শুধু লোলুপ শৃগালের দল ছিঁড়ে খেতে থাকে সভ্যতার মরদেহ।
মৃত্যুহীন, দরিদ্রের যন্ত্রণাকাতর আর্তনাদ আবার মাথা কুটে রাজপথে ফিরে যায়।
পুঞ্জীভূত ক্ষোভ সম্পদের স্তুপ হয়ে জমতে থাকে প্রগতির প্রহরীদের কুঠুরিতে।
আহত মনে প্রশ্ন জাগে,
তোমায় কি আর কোনোদিন খুঁজে পাবো?
তারা কি একাই দোষী?
যদি তুমি প্রশ্ন করো,
আমি কী করেছি?
কতোবার নিশ্চিন্ত জীবনের হাত ছেড়েছি?
কতোবার গলা তুলেছি নৃশংস উল্লাসের কন্ঠস্বরকে ছাপিয়ে? কতোবার ভেবেছি তোমার মতো করে?
না, কোনো উত্তর তার নেই আমার কাছে।
তাও জানতে ইচ্ছা করে
খাপছাড়া বিশ্বাস, নিভৃতযাপনের লোলুপতা আর একরাশ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে।...
জানতে ইচ্ছে করে
যদি কখনো কোনো রক্তিম অপরাহ্নে
শাসন-শোষণ বর্জিত একখন্ড জমিতে দাঁড়াতে পারি
যদি দিগন্তে অস্তগামী সূর্যের অন্তিম কিরণের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে পারি
---"ফিরে এসো আগুন,
ফিরে এসো তোমার বহ্নিজ্বালার পবিত্রতা নিয়ে।
আর একবার! ফিরে এসো এই শৃগালসভ্যতার ছাইচাপা আস্তাঁকুড়ে
তোমার স্ফুলিঙ্গ ভাই-বোনদের সঙ্গী করে ঝাঁপিয়ে পড়ো আরো একবার।
তখনও কি খুঁজে পাবো তোমায়?
খুঁজে পাবো?
নাকি বিরুদ্ধ চক্রান্তের করাল কালো ছায়া ঢেকে ফেলেছে তোমার অগ্নিভ অস্তিত্ব?
আমি আর কখনো তোমায় খুঁজে পাবো না?
তাই না?
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।