এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সিঙ্গুর ও মিডিয়া

    Pustak Biswas লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৩৩ বার পঠিত
  • সিঙ্গুরে সভা করে, প্রধান মন্ত্রী দুটো কাজ করে দিয়ে গেলেন। বাংলার এক দল সাংবাদিক, শিল্প নেই শিল্প নেই করে মাঠে নেমে গেল। আর এক দল মানুষ, শিল্প চাই শিল্প চাই করে মাঠে নেমে গেল। আস্তে আস্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে কাজে লাগান হবে। আমি কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন ব্লগের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি, যে বিপদটা কোথায়। আমার আগের ব্লগগুলো দেখে নিতে পারেন, প্রথম ব্লগটা বাদ দিয়ে। কারন ওটা অন্য বিষয়ের উপর লিখেছিলাম। বাকি ব্লগ-গুলোতে এই বিষয়টি বার বার, বিভিন্ন দিক থেকে বোঝাতে চেয়েছি। সেই কথাটি আরো এক বার বলব। কারন বিপদটা যে কতটা ভয়ঙ্কর, অনেকেই বুঝতে পারছেন। আবার অনেকেই বুঝতে পারছেন না, সেই জন্য।

    অনেকে বলছেন বিপদ আসছে বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু কী হতে চলেছে? বোঝা যাচ্ছে না। ডট গুলোকে ঠিক মেলান যাচ্ছে না। এসব মানুষ অনেকাংশে কনফিউজড। তাদের উদ্দেশ্যে বলব। ডট কানেক্ট করার জন্য, সবগুলো ডট থাকার প্রয়োজন আছে। ডট যদি মিসিং থাকে, তাহলে কানেক্ট করবেন কী করে?

    বিজেপির এই বাংলা দখলের মূল উদ্দেশ্য হল, ইনভেস্টমেন্টের নামে সাধারন মানুষের জমি দখল করার অভিযান চালান। মোদি সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি, অর্থ-ব্যবস্থাকে একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একের পর এক পুজি দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। শুধু বিদেশী ইনভেস্টমেন্ট নয়, দেশীয় শিল্পপতিরাও বিনিয়োগ কমিয়ে আনছে, পুজি বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের মোট ওয়ার্ক ফোর্সের মধ্যে মাত্র 10% মানুষের আয়, প্রতি মাসে 25 হাজার টাকা বা তার বেশি (সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ব্যবসা, প্রফেশন সমেত); [সূত্র: PLFS report, Govt. of India]। সেরা পাঁচ ভারতীয় IT কোম্পানির বর্তমান আর্থিক বছরে, এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট প্রকৃত নিয়োগ হল 17 জন ( মোট নিয়োগ 25,833 - মোট ছাটাই 25,816 = 17 জন; সূত্র: Economic Times)। এই বাস্তবতার মধ্যে দাড়িয়ে, বেশিরভাগ যেসব ক্ষেত্রগুলিতে ইনভেস্ট করা হচ্ছে, সেগুলি হল, প্রাকৃতিক সম্পদ, সরকারি সম্পদ(অর্থাৎ সরকারি সংস্থার বেসরকারীকরণ), সাধারন মানুষের জমি।

    সাধারন মানুষের জমি আধিগ্রহণের ক্ষেত্রে, জমি অধিগ্রহণ করে, ব্যাপক শিল্পায়ন বা ম্যানুফ্যাকচারিং সেভাবে হচ্ছে না। সেখানে রিয়েল-এস্টেট, বন্দর, মাইনিং, পাওয়ার প্রযেক্ট, এই ধরনের শিল্প হচ্ছে। না হলে প্রচুর জমি অধিগ্রহণ করে, ফেলে রাখা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলি মনোপলি গোছের। এইসব দ্রব্য বা সার্ভিস-গুলি ছাড়া, বর্তমানে আপনার আমার জীবন অচল। এই ক্ষেত্রগুলি থেকে আসা প্রতিটি পণ্য, বর্তমান দিনের জন্য অত্যাবশ্যক পণ্য এবং এগুলি বেশিরভাগ প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে ধ্বংস করে তৈরি হয়। যেহেতু এই ব্যবসাগুলি মনোপলি গোছের, তাই এইসব ব্যবসা ও সম্পদ কেন পুজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে? এমনও নয় যে পুজিপতিরা এইসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করলে বিনিয়োগ বন্ধ থাকে। কারন এই ধরনের প্রতিটি পণ্য অত্যাবশ্যক পণ্য, তাই সরকারি বিনিয়োগ হয়। সরকারি বিনিয়োগ হলে কিছু সরকারি চাকরি হয়। এবং সরকার এইসব পণ্যের দাম, সাধারন মানুষের স্বার্থে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। সরকার ব্যর্থ হলে, আপনি সেই সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে পারেন। ভোটাভুটি করে সরকার বদল করতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সেই দায়বদ্ধতা থাকে না, তাদের থাকে মালিকানা। যেহেতু প্রতিটি পণ্য অত্যাবশ্যকীয়, তাই পুজি-মালিক যে দামে বিক্রি করবে, যত চড়া দামই হোক না কেন, আপনাকে আমাকে সেই দামেই কিনতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বেসরকারি বিনিয়োগ হল, শোষণের অস্ত্র। যা বিজেপি সরকার ক্রমাগত করেই চলেছে। সম্প্রতি ইন্ডিগোর কারনে বিমান যাত্রা যেভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল এবং বেসরকারি বিমান কোম্পানিগুলি যেভাবে লুঠ করেছিল, একটি জলন্ত উদাহরন। এইভাবে একের পর এক বিমান, বন্দর, রেল, বিভিন্ন সরকারি কোম্পানি -র বেসরকারীকরণ করেই চলেছে। যেগুলি এখনও বেসরকারি হয়নি, সেগুলিকেও বেসরকারীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এই কারনে গণতন্ত্র, ভোট-ব্যবস্থা, ও সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

    বেসরকারি নিয়োগে কখনই এমপ্লয়মেন্ট বাড়ে না, বরং কমে। কারন এই প্রতিটি ক্ষেত্র মনোপলি গোছের, তাই প্রতিযোগিতা না থাকার জন্য, নিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। অন্য দিকে পুজিপতিরা নিজেদের মুনাফা বাড়ানোর জন্য কস্ট-কাট করে। যার ফলে নিয়োগের সংখ্যা ও বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়। শুধু মনোপলি ব্যবসা নয়, বর্তমানে দেশের খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য, যেসব ক্ষেত্রগুলি মনোপলি নয়। সেসব ক্ষেত্র-গুলিতেও ভীষণভাবে কস্ট-কাট করা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি ক্ষেত্রে মহিলাদের উপর যৌন নিপীড়ন একটি গুরুতর সমস্যা। যা নিয়ে বিশেষ কারো মাথা ব্যাথা নেই। এই অত্যাচার কায়িক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কায়িক শ্রমের ক্ষেত্র-গুলিতে হয়, শ্রমের শোষণ। আর সাদা কলারের ক্ষেত্র-গুলিতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে হয় শ্রমের শোষণ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে হয় শ্রম ও যৌন-শোষণ। অনেক সময় পুরুষ কর্মী ছাটাই করে, মহিলা কর্মী নিয়োগ করা হয়, বা পুরুষ কর্মীর থেকে, মহিলা কর্মীর বেতন বাড়ান হয়, এই যৌন শোষণের কারনে। এবং সেই নিপীড়িত মহিলারা মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, একটা সামান্য চাকরি বাচানোর জন্য। এই মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের পরিবারকেও এই দুঃখের কথা বলতে পারে না। মোদি সরকারের আমলে, এই শোষণ বেড়েই চলেছে।

    এর বাইরে কৃষি সম্পদ দখল। যা এখনও দখল হয়নি। কিন্তু বিজেপি প্রবলভাবে চেষ্টা করছে, বিভিন্ন উপায়ে এই কৃষি ব্যবস্থাকে, পুজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। যে কারনে নতুন কৃষি-আইন আনা হয়েছিল। যেহেতু আইনটি সরকার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তাই এখন তারা বিভিন্ন উপায়ে এই কৃষি ব্যবস্থাকে করায়ত্ত করতে চায়। সেজন্য তারা উত্তর ভারতের বাহুবলী কালচারকে নিয়ে আসতে চায়। আজ বিজেপির কাছে, পুজি-মালিকদের পর, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হচ্ছে এইসব বাহুবলীরা। বিজেপি শাসিত রাজ্যে, এই বাহুবলীদের দাপটে সাধারন মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, মেয়েরা বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পায়। সবথেকে মজার ব্যাপার হল, বিজেপি নেতৃত্বের চোখে এই দুষ্কৃতিরা অপরাধী নয়। এবং এটাকে ওরা প্রকাশ্যে বলে ও জাস্টিফাই করে। ওদের মতে এরা হিন্দু-রক্ষক দল। তাই ঐ রাজ্যগুলিতে কোন মহিলা নির্যাতিত হলে, তারা থানায় রিপোর্ট করতেও ভয় পায়। ধর্ষণ করার পর এদেরকেই বিজেপি নেতারা ফুল দিয়ে বরণ করে।

    এইভাবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলাকে ধ্বংস করে, সেইসব কৃষি-ব্যবস্থাকে হাত করে নেওয়া যায় ও নেওয়া হয়। এটি একটি কৌশল। কৃষিজমি ছাড়া, বাস্তু-জমিও দখল করার কৌশল আছে। আমরা আগেও দেখেছি, বিভিন্ন গো-বলয়ের রাজ্যগুলি থেকে দুষ্কৃতিরা এ রাজ্যে এসে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, লুঠ চালায়। বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে, এ সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। কারন কম দামে জমি দখল করার জন্য একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়। দেখা যায় যখনই কোন জায়গায় বেসরকারি সংস্থা জমি অধিগ্রহণ করে। সেই অঞ্চলে একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়। এবং অনুন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। যার ফলে মানুষ কম দামে জমি দিতে বাধ্য হয়।

    এছাড়া বিজেপি যে যে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে, সেই রাজ্যে কিছু দিনের মধ্যে শ্রেণী বৈষম্য বেড়ে গেছে। ধর্মে ধর্মে বৈষম্য, জাতিগত বৈষম্য, ধনী-গরিব বৈষম্য, ইত্যাদি। সম্প্রতি দেখেছেন বেলডাঙায় সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা। এর পিছনে কি প্রোপাগ্যান্ডা আছে, তার মধ্যে যাচ্ছি না। কিন্তু এই ঘটনার অন্য একটি দিকও আছে,

    .......শহুরে একদল সাংবাদিক মুখে ক্রিম, পাউডার মেখে, দামি জামা কাপড় পরে; গায়ে ধুলো মাখা একদল বিপদগ্রস্থ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌছালে, সেই প্রান্তিক মানুষগুলো এই শহুরে সাংবাদিকদের কতটা গ্রহণ করতে পারবে? অন্যভাবে বলতে গেলে, প্রান্তিক মানুষগুলি, এই সাংবাদিকদের, তাদের সমব্যথী হিসাবে গ্রহণ করতে পারছে না। রোজ সন্ধ্যায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুখে ক্রিম-পাউডার মেখে টিভিতে ডিবেট শো বসান লোকগুলোকে, প্রান্তিক মানুষেরা আর বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রতিটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে ও কেন্দ্রে, এই ধরনের সাংবাদিকতাই চলে। অর্থাৎ এক প্রবল শ্রেণী সংঘাত। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, সাংবাদিক-কে তাদের একজন মনে করতে পারছে না। তারা মনে করছে সাংবাদিকের স্বার্থ আলাদা, তাদের স্বার্থ আলাদা। বিজেপি আসলে এই সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। বলা ভাল, এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলা হবে। এটি মানুষের ঐক্য ভেঙে দেওয়ার একটি কৌশল।

    যেহেতু বিজেপির অর্থনীতি ব্যর্থ হয়েছে। দেশে বেকারত্ব সর্বকালের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছেছে। অন্যদিকে চরম মুদ্রাস্ফীতি। একের পর এক বেসরকারীকরণের নীতি। ব্যর্থ বিদেশ নীতি। এই সময়ে টাকার মূল্য, প্রতি এক ডলারে 91.83 টাকা। কয়েক রাজ্যে ভোট আছে বলে টাকার দাম এই রয়েছে। ভোট চলে গেলে 110 পার হয়ে গেলেও অবাক হবেন না। বর্তমানে কেন্দ্র সরকারের মোট ঋণ প্রায় 200 লক্ষ-কোটি টাকা। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প তলানিতে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা তলানিতে। জনগনের সঞ্চয় নেগেটিভ। সব মিলিয়ে এমন এক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে এই ধরনের ব্যবসা ছাড়া, অন্য কোন ব্যবসা লাভ-জনক নয়। সেজন্য বিজেপি সরকার, তার বন্ধু শিল্পপতি মহলকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য, এই ধরনের সুযোগ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। মোদি সরকার তৈরি হওয়ার কিছুদিন পর, যখন বেসরকারীকরণের নীতি নেওয়া হচ্ছিল। তখন নোবেল-জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করেছিলেন।

    বর্তমানে বাংলার উর্বর জমি, ভৌগলিক গুরুত্ব, এইসব ব্যর্থ শিল্পপতিদের কাছে, সোনার চেয়ে কোন অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেজন্য তারা মিডিয়ার একাংশকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। এর পর বিজেপি ক্ষমতা দখল করতে পারলে, বাকি সব মিডিয়া ও পুরো ইকোসিস্টেম এই কাজ করবে। সারাদিন শুধু হিন্দু-মুসলমান করে, পুরো রাজ্যকে দাঙ্গার দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। গদি মিডিয়া তো দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করবে না। আলোচনা করলে মোদি সাহেবের গদি থাকবে না। তখন এদের কাজ হবে, সারাদিন বসে বাংলায় শিল্প নেই শিল্প নেই করা। মিথ্যা কথা বলা, যা এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। আর বাইরের পুজি এনে, বিভিন্ন জায়গায়, তাদের মালিকদের জন্য জমি কিনে কিনে ফেলে রাখা। সর্বপরি একটা জমিদারি ব্যবস্থা তৈরি করা। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন কানুন সব পাল্টে নেবে এবং প্রতিদিন পাল্টানও হচ্ছে।

    এর সাথে এখন মিডিয়ার সামনে বিভিন্ন মানুষকে দিয়ে বলান হচ্ছে, বাংলায় শিল্প চাই শিল্প চাই। এর ফলে ভয়ঙ্কর একটা ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে। এর পর সরকারি প্রকল্পগুলি বন্ধ করে, আস্তে আস্তে পুরো ব্যবস্থাটা বেসরকারীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যে কথা আমি আগেও বলেছি। বেসরকারি পুজির অনুপ্রবেশ ঘটলে, সেই এলাকার উন্নয়ন বন্ধ হয়। এবং একটি অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, পুরো ব্যবস্থাকে পুজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিজেপি যদি বাংলা দখল করতে সক্ষম হয়, তখন এই কথা বলে জাস্টিফাই করবে,

    ......আপনারাই তো এতদিন শিল্প শিল্প বলে চেচিয়ে ছিলেন। তাই এখন শিল্পের জন্য জমি দখল হচ্ছে।

    আর এই কারনেই প্রধান মন্ত্রী সিঙ্গুরে কারখানা তৈরির কথা বলেনি। যদি বলে দিত, তাহলে এই শিল্প চাই শিল্প চাই বলে হাওয়াটা তৈরি করা যেত না। একের পর এক গদি মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে মাঠে নামান যেত না। কেবল সিঙ্গুরেই নির্দিষ্টভাবে একটা শিল্পের দাবি থাকত। কিন্তু সিঙ্গুরেই বিষয়টাকে আটকে না রেখে, পুরো বাংলার জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হল। কারন জমি দখল হলে তো পুরো বাংলাতেই হবে। শুধু সিঙ্গুরে হবে না। যার মূল উদ্দেশ্য শিল্প নয়, জমি দখল করে জমিদারি করা। কারন বিজেপি শাসিত রাজ্য-গুলোতে এটাই হচ্ছে। বাংলায় আরো অনেক হাই-স্কেলে হবে। কারন বর্তমানে দেশের যা অর্থনৈতিক অবস্থা বানিয়ে ছেড়েছে এই কেন্দ্র-সরকার, তাতে কেউ শিল্প করার অবস্থাতেও নেই। আর এই জন্য বিজেপির বাংলা দখল করা এত প্রয়োজন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন