এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সরকার নিয়োগ ও গণতন্ত্র 

    Pustak Biswas লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯৫ বার পঠিত
  • আমার এ কথা কিছু উচ্চ-মধ্যবিত্ত মানুষের খুব একটা পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু এটা সত্য যে কনজিউমারিজমের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া পুজিব্যবস্থা, আজ তার শেষ মুহূর্তে এসে দাড়িয়েছে, বিজ্ঞান-সম্মত কারনেই। যা আমার আগের ব্লগ গুলোয় কিছু কিছু বিশ্লেষন করেছি। পৃথিবী আর কনজিউমারিজমের ভার নিতে পারছে না। একথা আমার-আপনার চেয়েও ভাল জানে পুজিপতিরা। আর জানে বলেই এ আসন্ন সংকট, আপনাকে আমাকে বুঝতে দেওয়া হচ্ছে না।

    বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বাইরে উপনিবেশ স্থাপনের কথা বলেছেন। আপনারা শিক্ষিত মানুষ, যদি কোন খবর পান যে আগামী পাচশো বছরের মধ্যে বহির্বিশ্বে উপনিবেশ স্থাপনের প্ল্যান রেডি, তো আমাকে একটু জানিয়ে দেবেন। সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আপনার আমার না হলেও, পুজিপতিদের রাতের ঘুম কেড়েছে। তাদের অস্তিত্ব এখন সংকটে। দেখবেন অনেক অর্থনীতিবিদ বলে থাকে, যে পুজিবাদকে একটা সময় পুজিবাদের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন হয়। কারন পুজিবাদই পুজিবাদকে ধ্বংস করে। এটাই পুজিবাদের চরিত্র। এবং এদের প্রত্যেকের মতে, সেই সময়টা চলে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা সমূহ এর প্রমান। কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাপার যে এর পেছনে থাকা সরল বৈজ্ঞানিক সত্যটা তারা বলে না। সব সময় অর্থনীতির গভির তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করে, এবং প্রমান করে তারা কত পন্ডিত।

    অর্থনীতি এক কথায় ' Human-made Ecosystem '. প্রকৃতির একটা ইকোসিস্টেম আছে। মানুষ প্রকৃতির সমাজে না থেকে, কৃত্তিম একটি সমাজ তৈরি করেছে বলে, নিজেদের সুবিধা মতন একটি ইকোসিস্টেম বানিয়েছে। সেই ইকোসিস্টেমই হল ইকোনমিক্স। মানুষ তার প্রয়োজনীয়তা অনুসারে অর্থনীতি তৈরি করে ও ব্যবহার করে।

    তো যে কারনেই হোক পুজিপতিদের রাতের ঘুম উড়েছে। এখন তারা চাইছে তাদের পুজিকে একটি সুরক্ষিত স্থানে ধরে রাখতে। ব্যঙ্ক, ফিনানসিয়াল সংস্থাগুলি ধ্বংসের মুখে। বিশ্বের তথাকথিত ধনী রাষ্ট্রগুলির ঋণ, মাত্রা ছাড়িয়েছে। যে ঋণ তারা কোনদিন শোধ করবে না, এটা ঋণ-দাতাও জানে, ঋণ-গ্রহিতাও জানে। তো ফিনানসিয়াল সিস্টেমের এই ধ্বংসের মুখে দাড়িয়ে, তারা বিনিময়ের অন্য একটি মাধ্যম খুজছে। এবং সেই মাধ্যমে তাদের পুজিকে কনভার্ট করতে চাইছে। এবং এরই সাথে মাধ্যমটি এমন হতে হবে, যার ভার পরিবেশ নিতে পারবে। কারন সব ঝামেলার সূত্রপাত ঐখান থেকেই। যার কারনে এখন একটি যুগ-সন্ধিক্ষন চলছে সবার অজান্তে। কাউকে কিছু জানতে বুঝতে দেওয়া হচ্ছে না। জানতে তখনই পারবেন, যখন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়ে যাবে। যে বিষয়ে ' দুর্নীতি পুজিবাদ ও উত্তরণ ' শীর্ষক একটি ব্লগে কিছুটা আলোচনা করেছি।

    সুতরাং সমাজের চরিত্রও তাল মিলিয়ে পাল্টাচ্ছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সব বদলাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে বদলাচ্ছে। এই যুগ-পরিবর্তনের সময়ে, এমপ্লয়মেন্ট হিসেবে জনসাধারনের জন্য, সবথেকে সুরক্ষিত এবং ন্যায়-সঙ্গত নিয়োগ হল, সরকারি নিয়োগ। কারন যেহেতু পুজিবাদের চরিত্র পাল্টাচ্ছে, তাই প্রাইভেট নিয়োগ আগের মত সুযোগ সুবিধা দিতে পারবে না। এবং বর্তমানেও দিতে পারছে না। এবার এর কারনগুলো কী? কেন সরকারি চাকরি ভবিষ্যতের পক্ষে সুবিধাজনক হবে? কেন সরকারি ব্যবস্থা গবেষণা ও ডেভলপমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? সেই বিষয় নিয়ে অন্য একটি ব্লগে আলোচনা করা যাবে।

    ' সরকারি চাকরি ', বন্টনের এই ব্যবস্থাটির কথা কিন্তু সারা পৃথিবীর জন্যই প্রযোজ্য। যেহেতু ভারতে আগে থেকে সরকারি চাকরির একটা প্রচলন আছে, সেজন্য এটা ভাববেন না, যে এই কথাগুলো কেবল ভারতের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সবকিছুর মত যুগ-পরিবর্তনের কারনে, এই সরকারি চাকরির চরিত্রও পাল্টাবে। বিশেষ করে ভারতের মত দেশে। সরকারি চাকরি মানে সরকারের সাথে কাজ বা সরকারের পে-রোলে কাজ।

    সরকারি চাকরি ততক্ষণই সুরক্ষিত, যতক্ষণ গণতন্ত্র সুরক্ষিত। অগণতান্ত্রিক সরকারি চাকরি হল প্রাইভেট চাকরির সমান। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যে সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। সেটা সরকারি চাকরির জন্য নয়, সেটা সরকারি চাকরির গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য সম্ভব হয়। বেসরকারি চাকরিতে সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের পরিবেশ থাকে না। তাই বেসরকারি চাকরিতে সুযোগ সুবিধা কম।
     
    অতএব যে দলের এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে, কাজ করার মানসিকতা আছে, সেই দলকে সরকারীকরণের দাবিতে চাপ দিন। প্রয়োজনে রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে চাপ দিন। জনমত গড়ে তুলুন। সরকারি আয়ের আধিনে প্রত্যেকটি নাগরিককে আনার জন্য চাপ দিন। সরকারি পেনশনের অধিনে প্রত্যেক সিনিয়ার সিটিজেনকে আনার জন্য চাপ দিন। বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থের জন্য চাপ দিন। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প-গুলিকে ভিক্ষাবৃত্তি না বলে, সেগুলিকে কিভাবে একটি সম্মানজনক আয়ের ব্যবস্থা হিসাবে রূপায়িত করা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা ও ব্যবস্থা তৈরির জন্য চাপ দিন। যুবক-যুবতি সহ সব-বয়সের বেকারদের, যোগ্যতা অনুসারে সরকারি আয়ের অধিনে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ দিন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন