এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিজ্ঞানের অধিকার: পণ্য ও বিজ্ঞান -১

    Pustak Biswas লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪১ বার পঠিত
  • সমাজে বিজ্ঞানকে আমরা মোটামুটি তিন-ভাবে প্রত্যক্ষ করে থাকি।
    ১) বিজ্ঞান-শিক্ষা
    ২) প্রযুক্তি
    ৩) বিজ্ঞান সচেতনতা বা চেতনা

    বিজ্ঞান-শিক্ষা প্রযুক্তিতে নিয়োজিত হয়। প্রযুক্তি পণ্যে নিয়োজিত হয়। পণ্য মানুষের জীবনকে আরামপ্রদ করার কাজে নিয়োজিত হয়। অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, বিজ্ঞানের কাজ হল মানুষের জীবন-যাপনকে সুবিধাজনক ও আরামপ্রদ করে তোলা।

    অনেক সময় মনে হয় যদি পণ্য (দ্রব্য ও সেবা উভয়ই হতে পারে) না থাকত, তাহলে বিজ্ঞানের উপস্থিতিকে ইন্দ্রিয়গোচর করা, একটি দুরূহ বিষয় হয়ে দাড়াত। পণ্যই আমাদের জীবনকে বিজ্ঞানময় করে তোলে। আর এই মর্মে বাজার অর্থনীতিরও বিশেষ গুরুত্ব আছে।

    সমাজে সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, বানিজ্য নিয়ে চর্চা করতে গেলে, সেইসব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হওয়াটা বাধ্যতামূলক না। যেমন আমি সাহিত্যিক না হয়েও গুরুচন্ডালিতে লিখতে পারি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও রাজনীতি করতে পারি। খেলোয়াড় না হয়েও খেলা দেখতে পারি, সমালোচনা করতে পারি প্রয়োজনে খেলতেও পারি।

    অন্যদিকে বিজ্ঞানী না হয়ে বিজ্ঞানচর্চা করতে পারি না। বিজ্ঞান-বিশেষজ্ঞ হয়েও, ইচ্ছামত বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারি না। কারন বর্তমান দিনে বিজ্ঞানের লক্ষ্য হল, পণ্য উৎপাদন। এই উৎপাদন ক্রিয়া, বাণিজ্য, ও সেই পণ্যের উপযোগিতার মধ্যে, একটা ঝুকি বা রিস্ক-ফ্যাক্টর কাজ করে। তাই শুধু উৎপাদন বা বাণিজ্যই নয়, বিজ্ঞানচর্চার মধ্যেও একটা ঝুকি থাকে।

    কিছুদিন আগে, জাভেদ আখতার ও মুফতি সামাইলের মধ্যে একটা হিন্দি বিতর্কসভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়: ঈশ্বরের অস্তিত্ব। বিতর্কে মুফতিজী খুব ইন্টারেস্টিং একটা কথা বলেছিলেন,

    ' আমি বিজ্ঞান মানি, প্রযুক্তি মানি, কিন্তু বিজ্ঞানবাদ মানি না। কারন আমি ঈশ্বর মানি।'

    সমাধান : প্রকৃতির অন্যান্য জীবের থেকে, মানুষ অনেক উন্নত ও ভিন্ন প্রকৃতির জীব। তাই প্রকৃতির প্রাকৃতিক সমাজ থেকে আলাদা হয়ে, মানুষ তার সুবিধামত একটি সমাজ গঠনকরেছে। এই সমাজের বিভিন্ন সামাজিক-উপাদান আছে। যেমন ধর্ম, রাজনীতি, অর্থব্যবস্থা, আইন, ইত্যাদি।

    একইভাবে, প্রকৃতিরও একটি ব্যবস্থাপনা আছে। যাকে আমরা অনেকসময় 'ল অফ নেচার' বলে থাকি। বিজ্ঞানীরা প্রথমে এই ল-অফ-নেচারকে প্রত্যক্ষণ করে। পরে সেই ল-অফ-নেচারকে ব্যবহার করে প্রযুক্তি তৈরি করে। অতএব মৌলিক বিজ্ঞানের মূলকাজ হল, মানবসমাজ ও প্রকৃতির মধ্যে যোগাযোগ সম্পন্ন করা। অন্যভাবে বলতে গেলে বিজ্ঞান হল 'ল অফ নেচার' ও 'ল অফ সিভিলাইজেশন' এই দুইয়ের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম।

    যেহেতু প্রতিটি মানুষ, একই সাথে সমাজবদ্ধ ও প্রকৃতিবদ্ধ জীব। তাই প্রকৃতির সাথে যোগসাধন বা যোগাযোগের অধিকার, প্রতিটি মানুষের জন্মসিদ্ধ মৌলিক অধিকার। যে অধিকার পূরণ করতে গেলে কোন বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র মনুষ্য জন্মই এর জন্য যথেষ্ট।

    উপসংহার : প্রকৃতি, মানুষ, ও পৃথিবীর কল্যানের স্বার্থে, কালবিলম্ব না করে, যত-দ্রুত সম্ভব, বিজ্ঞানবাদের শুভসূচনা করা হোক।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন