এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  ভ্রমণ   দেখেছি পথে যেতে

  • বেলঘরিয়ায় বিন্দুবাসিনী

    . লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ১৪ অক্টোবর ২০২৪ | ১৯৯২ বার পঠিত
  • এখানে থাকবে আমার সবেমাত্র বেড়িয়ে আসার গল্প।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা : ১২
  • kk | ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ২০:৫৫744121
  • অনেকদিন পরে লেখা এলো। যাক, চলুক। পড়ছি। ভাষা না জেনেও কেউকেউ দিব্যি বেড়াতে পারছেন এটা জেনে কিছুটা স্বস্তি পেলাম মনে।
  • বিন্দুবাসিনী | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩১748522
  • আমরা এতটুকুও অপ্রস্তুত হই না। সটান বলে দিই - পথ হারাইনি, তবে সমুদ্রের কাছে যাবো ভেবেই বাসে উঠেছি কিন্তু ক্রমাগত দূরে এবং আরো দূরে যেতে যেতে এই প্রায় পাহাড়চুড়োয় পৌঁছে গেছি।
    মহিলাটি বলেন — সমুদ্রের কাছে আমি আপনাদের নিয়ে যেতে পারি যদি...
    আমাদের মনে একটু সন্দেহের কুয়াশা ক্ষণিকের জন‍্য এলেও সেটা ভাবে ভঙ্গিতে প্রকাশ না করে সেই মহিলার মুখের দিকে ঐ "যদি"র পেছনে কী আছে সেটা জানবার জন‍্য আগ্রহ দেখাই, মনে মনে ভাবছি হয়ত সামান্য টাকা পয়সা চাইতেও পারে।
    ... যদি আপনারা আমার জন‍্য মিনিট পঁয়তাল্লিশ এইখানে অপেক্ষা করতে পারেন।
    ওহ্! এই কথা? সঙ্গে সঙ্গেই আমরা রাজি। বাসের যত লোকজন ছিল সব কেমন নিমেষে হাওয়া হয়ে গেল। পাহাড় চুড়োর সামান‍্য নীচে সেই জনমানবশূন্য বাসস্টপের বেঞ্চিতে বসে আমরা মানিকজোড় একবার নীচের সেই কৃষ্ণসাগরের দিকে তাকাচ্ছি আর একবার চারপাশের ঝোপঝাড় এবং দূরের বাড়িটাড়ি দেখছি।
    মহিলাটি যাবার আগে বলে গেছেন যে তিনি একটু ওপরে একটা হিপোদ্রোমে যাবেন আর আসবেন।
    আমরা নিজেদের মধ‍্যে আলোচনা করছি যে উনি নির্ঘাৎ একজন জকি, যেরকম রোগা পাতলা হালকা চেহারা! তারপরে ভাবলাম ঘোড়ায় চড়ার সখ আছে, কিংবা এমনও হতে পারে যে হিপোদ্রোমে কেউ চেনা আছে, বা নিজেই চাকরি করেন। এই সমস্ত আলোচনা, গোটা দুয়েক সিগারেটের শ্রাদ্ধ এবং বাসস্টপের দেয়ালে সাঁটা ব‍্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দেখা ইত‍্যাদি করেও সেই পঁয়তাল্লিশ মিনিট আর কাটতেই চায় না। বাসস্টপের দেয়ালের পেছনের দিক থেকে মৃদু হিসির গন্ধও পেলাম। এমন সময়ে আরেকটা বাস এসে উপস্থিত। নিমেষের মধ্যেই তাঁকেও হন্তদন্ত হয়ে আসতে দেখা গেল। ফিরতি বাসে সকলে মিলে উঠে তবে শান্তি।
    তিনি আমাদের নানান জায়গা চেনাতে চেনাতে চললেন। নিজের কথাও বললেন।
    আমার সরাসরি প্রশ্ন — আপনি কি ঘোড়সওয়ার?
    — না! কেন বলুন তো?
    — মানে ঐ তখন হিপোদ্রোমে গেছলেন কিনা।
    — না। আমি পেশায় একজন শিক্ষক। কিন্ডারগার্টেনের। তবে আপাতত আমার কোনও চাকরি নেই। হিপোদ্রোমের পাশে একটা কিন্ডারগার্টেন আছে সেখানেই গেছলাম চাকরির খোঁজে।
  • বিন্দুবাসিনী | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৫748523
  • ক্রমশ বাসে ভীড় বাড়ে, ফের কমে, আবার বাড়ে। আমাদের মধ‍্যে কথাবার্তা কমে যায়, ফের লাস্ট স্টপ, সেই ভার্না রেল স্টেশন। যেখানে আমি সমুদ্রের গন্ধ পেয়েছিলাম আজ সকালে। এখন অবশ্য রেল স্টেশনের গন্ধও পাচ্ছি। এই অদ্ভুত রকমের গন্ধ পাবার ব‍্যাপারটা আজ পর্যন্ত কারওকে বোঝানো সম্ভব হলো না। কারণ এই গন্ধগুলোর সঙ্গে মিল আছে এমন কোনও জিনিস আমার চেনা নেই।
    বাবু একটু ভদ্রতা করে বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে লাঞ্চ করবেন প্লিজ।
    উনি তৎক্ষণাৎ রাজি। আমরা সমুদ্রের দিকে যাবার পথে দেখি বেশ কয়েকটা রেস্টুরেন্ট রয়েছে, আমাদের কোনও বাছবিচার নেই, কিন্তু ওঁর কোনওটাই পছন্দ হয় না, ওঁর পছন্দের খাবার সেই রেস্টুরেন্টগুলোয় পাওয়া গেল না।
    মিনিট দশেক হাঁটার পরেই ডানদিকে তাকালেই দেখা গেল সমুদ্র সৈকত, একেবারে গা ঘেঁষে চমৎকার একটা দোতলে রেস্টুরেন্ট যেটার অধিকাংশই ওপেন এয়ার, এবং ফাইনালি এখানে ঐ মহিলার পছন্দের খাবার পাওয়া যায়।
    এর চেয়ে ভালো আর কীই বা হতে পারে?
    চমৎকার সব স্টেক, নানান রকমের বিয়ার, প্রায় দশ রকমের স‍্যালাদ, যেটা পছন্দ সেটাই নেওয়া যাবে। প্রায় আড়াইটে বাজতে চলল। উনি নিলেন একবাটি মাছের সুপ। ঐটি ওঁর সেই বিশেষ পছন্দের খাবার।
    বড়োজোর কুড়ি মিটার দূরে সমুদ্র। খেতে দেখছি বীচে বেশ কয়েকজন রোদ পোয়ায়, জলেও অনেকে, প্রচুর পাখিও রয়েছে, মোটকথা সমুদ্রকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আজ সেসব হবার নয়।
    ঐ মহিলাটি কীসব যেন নিজের মনে ভাবেন। আমরা তো অনর্গল গল্প করে চলেছি, কিন্তু সেসব কথার মধ্যেই তিনি কেমন যেন অন‍্যমনস্ক।
    হঠাৎ হঠাৎই এমন দুয়েকটা কথা বলে ফেলেন যেটা শুনলে কেউ হয়তো ভাববে মেয়েটার মাথায় একটু ছিট আছে।
    তবে আমি জানি, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে, যে চাকরির সন্ধানে যখন হন‍্যে হয়ে ঘুরতে হয়, তখন এমন সব চিন্তা মাথায় ঘোরে, যে সব সময়ে সামাজিকতা রক্ষা করে কথা বলতে মানুষ ভুলে যায়।
    আসলে বুলগারিয়ায় একজন আনএম্পলয়েড মধ‍্যবয়সী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা — এই ব‍্যাপারটাই হয়ত এখন থেকে তিরিশ বছর আগে অবান্তর ছিল, কিন্তু এখন সেটা বাস্তব।
    টুকটাক খাবার কিছু বেঁচেছিল, সম্ভবত উনি সঙ্গে নিলেন, আমরাও অপচয় করি না পারতপক্ষে। এখন স্টেশনে ফিরে ব‍্যাগ সুটকেস সংগ্রহ করে বাসস্থানে যেতে হবে। স্টেশন অবধি উনিও এলেন।
    এবার একটা ঘটনা ঘটল, যেটা অদ্ভুত।
    ভার্না থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য হবে মাগুরাকা গুহার কাছাকাছি একটা জায়গায়। কদিন পরে সেইদিকের ট্রেনই ধরব। অর্থাৎ দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত থেকে সরাসরি উত্তরপশ্চিম প্রান্তে প্রায় সার্বিয়ার সীমান্তে। তা এই টিকিট যখন অনলাইনে কিনি, সে এক ভয়ানক বিপত্তি হয়েছিল, স্টেশনের নাম মানচিত্রে একরকম আর বুলগেরিয়ান রেলওয়ের লিস্টে অন‍্য রকম। মোটকথা টিকিট কিনবার পরেও মনের মধ‍্যে একটা সন্দেহ ছিল। সেইটে ক্ল‍্যারিফাই করতে টিকিটের প্রিন্টাউট স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে দেখাতে, কাউন্টারের মহিলাটির তো চোখ কপালে, এরকম কোনও স্টেশনের নাম তিনি পুরো কর্মজীবনে কোনওদিন শোনেন নি। তারপরে অনেক বইটই ঘেঁটে, পাশের সহকর্মীকে ডেকে আনলেন। দুজনে মিলে আমাকে এমনভাবে দেখতে লাগলেন, যেন আমার মাথাতেও ছিট আছে এবং সেই সঙ্গে ছাপানো টিকিটটাকেও পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যাচ্ছে না। শেষমেশ ঐ স্টেশনের নাম খুঁজে পেয়েও ঐ দুজনের মনে খুঁতখুঁত। অবশেষে মাগুরাকা গুহার নিকটতম স্টেশন যেটা ওঁরা সঠিক মনে করলেন, সেটি আমার কেনা টিকিটের থেকে আর এক স্টপ দূরে। সেই অতিরিক্ত অংশটুকুর জন‍্য ছোট্ট দুটো টিকিট কেটে নেওয় হলো।
    এবার ঐ মহিলাটি বিদায় নিলেন। অনেক মনোবল উনি জুগিয়েছেন আজ আমাদের, ধন‍্যবাদ দিয়ে শেষ করা যায় না। কিন্তু মাঝেমধ্যে অসংলগ্ন কথা, সে প্রসঙ্গে পরে বলব।
    আমরা ট‍্যাক্সি নিয়ে হোমস্টে অভিমুখে রওনা দিলাম। বিছানায় একটু না গড়ালে আর চলছে না।
    তবে সামনে একটা নাটক অপেক্ষা করছিল। বুলগারিয়ায় বাসস্থান খুঁজে পাওয়াটা যেন ক্রনিক সমস্যা হয়ে উঠেছে আমাদের।
  • পাতা : ১২
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন।