এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ফিল্ডার - ৩ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জুলাই ২০২২ | ৭৩১ বার পঠিত
  • সকাল সাতটা নাগাদ ঘুম ভাঙল টোপাইয়ের।
    দেখল মিনতি আগেই উঠে বসে আছে। বাবাও উঠে পড়েছে। বাইরে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করছে। রুকু আর ভাই সৌমিক এখনও শুয়ে আছে।
    টোপাই তাড়াতাড়ি মায়ের পাশে গিয়ে বসল।
    ----- ' এখন শরীরটা কেমন লাগছে মা ? '
    কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে কিনা।
    ----- ' এখন ঠিক আছি ... জ্বরটা নেমেছে মনে হচ্ছে ... '
    ----- ' নামলেই ভাল। নাহলে অজিতাভ পালের কাছে নিয়ে যাব সন্ধেবেলা। '
    লোকনাথ গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকল।
    ----- ' হ্যা ... আবার জ্বর এলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া উচিৎ ... চারদিকে যা সব হচ্ছে ... অজিতাভ পালের ফি অবশ্য পাঁচশো টাকা ...'
    টোপাই বলল, ' আচ্ছা সে দেখা যাবে'খন ... '

    ' এস বসি আহারে ' - তে ঢুকে টোপাই দেখল
    নীলাঞ্জন আর দীপেন মল্লিক মুখোমুখি বসে গম্ভীর মুখে আলোচনায় ব্যস্ত। দীপেনবাবুর কথা কানে এল ---- ' কাল তা'লে লাঞ্চটা মাঠে পাঠাবার ব্যবস্থা করিস নীলেশকে দিয়ে ... '
    ---- ' হ্যা হ্যা ... ঠিক আছে, চিন্তা কোর না ... লাঞ্চ ঠিক পৌঁছে যাবে ... তুমি টিম সেট কর ঠিকমতো ... '
    ---- ' সেটা তো সন্ময়ের দায়িত্ব ... খেলাটা একদিন এগিয়ে এল ... আর একদিন প্র্যাকটিস পেলে সুবিধে হত .... এই যে ... টোপাই ...এসে গেছিস .... শোন ... একটা মুশকিল হয়ে গেছে ... রবিবার মাঠ পাওয়া যাবে না ... তাই শিবাজী সংঘের সঙ্গে ম্যাচটা কাল হবে ... '
    ----- ' ও আচ্ছা ... '
    ---- ' ওদের গ্রাউন্ডেই খেলা ... শিবাজীর ব্যাটিং
    লাইন খুব পাওয়ারফুল ... সন্ময় আজকের প্র্যাকটিসে সব বুঝিয়ে দেবে ... '
    ----- ' ও আচ্ছা ... '
    ----- ' বারোটার মধ্যে মাঠে পৌঁছে যাস কিন্তু ... আজকে শর্ট সেশান হবে .... '
    ----- ' আচ্ছা ... ঠিক আছে ... '

    নেটে টোপাই বেশ জমাট ব্যাট করল। পরাস্ত হল মাত্র দুবার। বেশ কিছু ভাল অফ ড্রাইভ নিল। এর পর একটা ছোট ফিল্ডিং প্র্যাকটিস সেশান করাল সন্ময়। ওখানে টোপাই প্রায় তিরিশ গজ ছুটে গিয়ে দুটো আকাশচুম্বী ক্যাচ নিল অনায়াস সাবলীলতায়। বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে সন্ময় পরিতৃপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সে জানে এ দুটো ক্যাচ তার দলের আর কেউ ধরতে পারবে না। লো ক্যাচ প্র্যাকটিসে টোপাই দশটার মধ্যে আটটা ক্যাচ তুলল একদম স্বাভাবিক দক্ষতায়। টোপাইয়ের পা দুটো যেন মৌমাছির মতো নাচে ।
    সন্ময়ের মনে এক ঝলক স্নিগ্ধ হিল্লোল বয়ে গেল। তার দলের বোলিং ক্ষমতা যথেষ্ট ভাল। স্পিন পেস দু বিভাগেই। একটু তফাতে সরে গিয়ে সন্ময় আপনমনে চিন্তামগ্ন হয়ে পড়ল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। তার মনে হল এই মশলা যদি সে কাজে লাগাতে না পারে, তার ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। মিডিয়াম পেসার অমিত দত্ত রান আপের মাথায় পৌঁছে গেছে। ছেলেটার আউটসুইং একেবারে মাপা। সন্ময় মনে মনে ফিল্ডিং সাজাতে লাগল। ফার্স্ট স্লিপ থেকে এক্স্ট্রাকভার। স্কোয়্যার লেগ থেকে লং অন ..... লং অনকে এগিয়ে এনে মিড অন করে দেওয়া হল। থার্ড স্লিপকে পাঠানো হল কভার পয়েন্টে ... না না ... ব্যাকওয়ার্ড গালিতে .... '
    দীপেনবাবু বললেন, ' চল ... বাড়ি যাবে তো ... প্র্যাকটিস তো ভালোই হল ... কি বল ? তোমার এবার অনেক দায়িত্ব .... '
    সন্ময় যেন ঘুম ভেঙে উঠল। মাথা নীচু করে কি যেন ভাবতে ভাবতে বলল, ' হ্যা ... তা তো বটেই ... অনেক দায়িত্ব .... একেবারে থার্ডম্যান থেকে ফাইন লেগ পর্যন্ত ... '

    আজ শনিবার। সুন্দর আবহাওয়া। পরিষ্কার আকাশ। বেশ ঠান্ডা পড়েছে আজ। কিন্তু মিনতির গা আবার ছেঁকছেঁক করছে। লোকনাথ কাল রাত্রে একটা থার্মোমিটার কিনে এনেছে। তাতে জ্বর উঠল একশোর কাছাকাছি। লোকনাথ বলল, ' না না .... এসব অবহেলা করা ঠিক না। ঘুসঘুসে জ্বর মোটে পুষে রাখা উচিৎ না ... '
    মিনতি বলল, ' দাঁড়াও ... অত ব্যস্ত হচ্ছ কেন ? আজ তো সবে দুদিন হল ... অন্তত তিনদিন না গেলে ... '
    টোপাই বলল, ' কাল মাঠ থেকে ফিরে আমি তোমাকে অজিতাভ পালের কাছে নিয়ে যাব ... কাল একটা ম্যাচ আছে শিবাজী সংঘের মাঠে... সকাল নটার মধ্যে বেরিয়ে যাব ... '

    উইকেটের দুদিকে সাইট স্ক্রীন লাগানোয় খেলাটা একটা গুরুগম্ভীর মাত্রা পেয়েছে। উইকেটের আড়াআড়ি ঝিরঝির করে হাওয়া
    বইছে। পিচে ভারী রোলার চালানো হয়েছে। ওপর থেকে জমাট শক্ত দেখাচ্ছে। তবে সবে সিজনের শুরু হতে যাচ্ছে। উইকেট পুরোপুরি তৈরি নয়। খেলা গড়ালে পরের দিকে ফাটতেও পারে।
    শিবাজী সংঘ টসে জিতে ব্যাটিং নিল। চল্লিশ ওভারের খেলা। শিবাজী সংঘ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানে ভরা টিম।

    অমিত দত্তর প্রথম বল। অফস্টাম্পের ওপর ফুল লেংথ, ক্রস সিম ডেলিভারি। সামান্য বাঁক নিলো বাইরের দিকে। বিচিত্র ব্যানার্জী প্রতিভাবান ওপেনিং ব্যাটসম্যান। কিন্তু সিজনের প্রথম বল। চোখে বলে হয়নি এখনও। ঠিকই খেলেছিল, কিন্তু ব্যাট নামাতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ দেরি হল। ব্যাটের নীচের দিকের কানা নিয়ে নিল। বিদ্যুৎ গতিতে মাটির ইঞ্চিখানেক ওপর দিয়ে বল বেরিয়ে যাচ্ছিল থার্ড স্লিপ আর গালির মাঝখান দিয়ে। গালিতে দাঁড়ানো একটা ষোল বছরের ছেলে বাঁ দিকে শরীর ফেলল কেউটের ছোবলের মতো। মাটির ওই এক ইঞ্চি ওপরেই বল জমে গেছে টোপাইয়ের বাঁ হাতের পাঁচ আঙুলের আঁকশিতে। উইকেটকিপার প্রদীপ্ত মুকুটি দুহাত তুলে বীভৎস চিৎকার করতে করতে লাফাতে লাগল....... ' হা..উজ ...দ্যাট .... হা....উ...উ ...উ ... হা... উ... উ...... উ .... '
    আম্পায়ার প্রায় দশ সেকেন্ড সময় নিলেন ধাতস্থ হয়ে আঙুল তুলতে।
    সন্ময় কোনরকম অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস না দেখিয়ে হাল্কা পায়ে ছুটে গিয়ে টোপাইকে বুকে জড়িয়ে ধরল। তার যেন আগে থেকেই জানা ছিল যে এমন ঘটবে। তারপর ধীরে সুস্থে ফিরে গিয়ে মিড অফে দাঁড়াল। মাথার টুপিটা ঠিকঠাক করল।
    পরের ব্যাটসম্যান ওদের টিমের ক্যাপ্টেন, শৌভিক রায়। মূলত স্ট্রোক প্লেয়ার। লেগ স্টাম্প গার্ড নিল। চারদিকে তাকিয়ে ফিল্ডিং মেপে নিল। আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে কাঁধ একস্ট্রা কভারের দিকে করে স্টান্স নিল। যেভাবে স্ট্রোক প্লেয়াররা সাধারনত নেয়।
    অমিতের দ্বিতীয় বল .... লেগ অ্যন্ড মিডলে পড়ল। বাঁ পা বাড়িয়ে ফ্লিক করল ব্যাটসম্যান। নিখুঁত টাইমিং। মিড উইকেট দিয়ে চার। মিড উইকেটে কেউ নেই। পরের বল, অমিত অফ স্টাম্পের ওপর থেকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইল।
    বল সুইং করল না। ব্যাটসম্যান একদম বলের লাইনে শরীর নিয়ে গিয়ে দুরন্ত কভার ড্রাইভ মারল। আবার চার।
    সন্ময় ফিল্ডিং-এর কোন পরিবর্তন করল না। পরের বল অফের দিকে ঠেলে একটা সিঙ্গল নিল ব্যাটসম্যান।
    ওভারের পঞ্চম বল। এতক্ষণের নন স্ট্রাইকার এবার বোলারের মুখোমুখি। সোজা বল, লেগ স্টাম্পের ওপর। ব্যাকফুটে খেলতে গেল। প্যাডে লাগল। কোন অ্যপীল হল না অবশ্য। বল পরিষ্কার লেগ স্টাম্পের বাইরে যেত।
    এই ওভারের শেষ বল। সন্ময় অমিতের সঙ্গে রান আপের দিকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতে লাগল। টোপাইকে গালি থেকে সরিয়ে সেকেন্ড স্লিপে নিয়ে গেল। সেকেন্ড স্লিপকে গালিতে পাঠাল।
    ওভারের শেষ বল। অমিতের সর্বোচ্চ গতির খাটো লেংথের ডেলিভারি ... একদম ব্যাটসম্যানের গায়ে। নতুন বল আচমকা গায়ে আসলে ব্যাটসম্যান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। সে চোখ সরিয়ে নিল কিন্তু ব্যাট সরাতে পারল না। ব্যাটের বাইরের দিকের কানায় লেগে বল তিনটে স্লিপের ওপর দিয়ে লোপ্পা হয়ে উড়ে গেল। নিশ্চিতভাবে থার্ডম্যান বাউন্ডারির প্রায় পনের মিটার আগে বলটা পড়বে, তারপর নিরুপদ্রবে গড়িয়ে গড়িয়ে বাউন্ডারি পেরিয়ে যাবে। বাকি স্লিপ ফিল্ডাররা নড়াচড়া না করে কোমরে হাত দিয়ে বলটার দিকে দেখছে। শুধু সেকেন্ড স্লিপ পিছন ফিরে ছুটতে শুরু করল একজন একশো মিটারের স্প্রিন্টারের মতো। রামধনুর মতো বাঁকা রেখায় বল পড়ছে মাধ্যাকর্ষণের সূত্র মেনে। পড়ার পর বাউন্ডারি আর বড়জোর পনের মিটার।
    দৌড়তে দৌড়তেই একটা ক্ষুধার্ত চিতা শরীর ভাসিয়ে দিল হাওয়ায় প্রায় আট ফুট দূর থেকে। বলটা টোপাইয়ের দু থাবায় আটকা পড়ল মাটি থেকে ফুটখানেক ওপরে। ন রানে দুই উইকেট শিবাজী সংঘের।
    উইকেটকিপার এবং বোলারসহ পুরো টিম ছুটল থার্ডম্যানের দিকে একটা ষোল বছরের ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। শুধু সন্ময় রক্ষিত গেল না। আনন্দ উদযাপন শেষ হলে টোপাই সেকেন্ড স্লিপে ফিরে আসার পর সে অলস পায়ে হেঁটে গিয়ে টোপাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তাকে আলতোভাবে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে দীক্ষামন্ত্র দেবার ভঙ্গীতে মৃদুস্বরে বলল, ' মনে রাখিস ... এটাই তোর অস্ত্র ... এই অস্ত্র দিয়েই শত্রুকে পায়ের তলায় নামিয়ে আনতে হবে ... '
    পরের ব্যাটসম্যান তৌফিক আলি মাঠে নামছে। খুব সম্ভবত তৌফিকই শিবাজী সংঘের সেরা
    ব্যাটসম্যান। সে কিরকম খেলবে তার ওপর শিবাজীর ইনিংস নির্ভর করছে।
    আর এক মিডিয়াম পেসার বিতান কাঞ্জিলাল
    ওভার শুরু করতে চলেছে শৌভিক রায়ের বিরুদ্ধে। প্রথম বল .... একদম আলগা ডেলিভারি। অফস্টাম্পের বাইরে রসালো হাফভলি। অন্য ব্যাটসম্যান হলে হয়ত ছেড়ে দিত। কিন্তু শৌভিক ছাড়বার পাত্র নয়। সে বডি শাফল করে ক্রিজের ভিতরে দাঁড়িয়েই চালাল। এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা !
    পরের বলে আবার একটা জোরালো ড্রাইভ মারল। কিন্তু সোজা সন্ময়ের হাতে যাওয়ায় চার পেল না। শটে এত জোর ছিল যে সন্ময়ের হাতে লেগে বাঁ দিকে ছিটকে গেল। সেই সুযোগে একটা সিঙ্গল হল। এবার তৌফিক স্ট্রাইকে এসেছে। সন্ময় জানে শৌভিক যতই
    শট নিক শিবাজীর প্রাণ ভোমরা হল তৌফিক আলি। অসাধারণ প্রতিভা ওর। সমস্যা একটাই। মেজাজ হারিয়ে ফেলে মাঝেমাঝেই। শুধু এই জন্যই, আজ ওর যেখানে থাকার কথা
    সেখানে নেই। সন্ময় জানে ও সেট হয়ে গেলে মারাত্মক। তৌফিক সেট হবার আগেই ওকে তুলতে হবে। নাহলে মুশ্কিল আছে। একাই ম্যাচ নিয়ে চলে যাবে।
    সন্ময় বিতান কাঞ্জিলালের সঙ্গে কি সব আলোচনা করতে লাগল। দীর্ঘ আলোচনার পর বিতানকে কি সব নির্দেশ দিয়ে নিজের জায়গা থেকে ইশারা করে টোপাইকে ডিপ স্কোয়্যার লেগে পাঠাল, বাউন্ডারি লাইন থেকে দশ মিটার ভিতরে। গালিকে নিয়ে আসা হল টোপাইয়ের জায়গায়, মানে সেকেন্ড স্লিপে।
    বিতান দৌড় শুরু করল তৌফিককে বল করার জন্য। শিবাজীর স্কোর দু উইকেটে পনের।
    বিতানের পরের বল বাউন্সার । দারুন একটা ডেলিভারি। গুডলেংথ স্পট থেকে বল উঠল। তৌফিক শরীর সরাতে পারল না। সোজা গিয়ে কাঁধে লাগল। ব্যথায় মুখ কুঁচকে গেল, কিন্তু কারো কোন সাহায্য নিল না। শুধু স্কোয়্যার লেগের দিক থেকে এক পাক পায়চারি করে এল। সন্ময় বুঝতে পারল তৌফিকের ফোকাস নড়ে গেছে। সে একজনকে লং অন বাউন্ডারিতে দাঁড় করিয়ে দিল।
    পরের বল। আবার বাউন্সার ... লেগ স্টাম্পের ওপর। তৌফিক 'টেম্পারামেন্টাল প্লেয়ার '। সে বলটা ছাড়ল না। হুক করল স্কোয়্যার লেগ বাউন্ডারি টপকে দেওয়ার জন্য। সবে উইকেটে এসেছে। টাইমিং হল না। ব্যাট একটু পরে এল। ফলে বল গগনচুম্বী হয়ে ডিপ ফাইন লেগের দিকে যেতে লাগল। টোপাই ডিপ স্কোয়্যারে দাঁড়িয়ে। ওখান থেকে অনেক দূরে। তার কোন দায় নেই। কিন্তু সন্ময় জানে তার দায় আছে। এটাই তার অস্ত্র। সে যাবেই ....
    স্কোয়্যার লেগ থেকে তাড়া খাওয়া হরিণের মতো ছুটতে শুরু করল টোপাই ফাইন লেগের দিকে। অবিশ্বাস্য সে দৌড় দেখতে লাগল ওখানে উপস্থিত সামান্য কিছু মানুষ। সন্ময় অচঞ্চল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। বাতাসে শোয়া অবস্থায়
    একহাতে ক্যাচটা নিল। মাটিতে পড়ার পর গতির ত্বরণে টোপাইয়ের শরীর পিছলে গেল বেশ খানিকটা ‌। তিন উইকেটে পনের ....
    তৌফিক ফিরে যাচ্ছে। সন্ময় জানে ম্যাচ তার পকেটে। কিন্তু সে টোপাইয়ের কাছে আর গেল না। সে ঠিক করেছে, যা বলার খেলার শেষেই বলবে।
    ( ক্রমশ )
    ************************************************************************************

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন