“ তোমার জন্য ক্রিকেট দেখা,ক্রিকেট খেলা বুঝতে শেখা
তোমার জন্য গণিত খাতায়
নকশা করে দাদা লেখা। “
৮ই জুলাই, রাত ১২টা …..
লেখাটা আজ লিখতে বসলেও গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে। এ তো শুধু গল্প নয়, এ এক রূপকথা, যেখানে আবেগ এর সাথে এসে মিশেছে হার না মানার স্পর্ধা। জানো কিছু কিছু নাম থাকে যে নাম গুলোর আলাদা করে কোন অভিধানগত অর্থের প্রয়োজন হয় না ....
তাইতো বহু বাবা - মা আজও তাদের সদ্যজাত পুত্রের নাম রাখেন ' সৌরভ '।
" তোমার জন্য বইয়ের ভাঁজে
যত্ন করে পেপার কাটিং,
নীল রঙা ওই জার্সি গায়ে
তোমার দুরন্ত ব্যাটিং। "
জানি, অনেকে বলবে ১১৩টা টেস্ট ম্যাচে ৭২১২রান, ৩১১টা odi খেলে মাত্র ১১৩৬৩রান স্ট্রাইক রেট ৭৩.৭এর কাছাকাছি তারপর মাত্র৫৯ টা ipl ম্যাচ খেলে মাত্র ১৩৪৯ রান, এ আর এমন কি কথা ...
তারা তো জানে না সৌরভ এমন এক চরিত্র যাঁকে কিছু স্ট্যাটিসটিক্স এ বেঁধে রাখা যায় না।
মহম্মদ আহাজারউদ্দিন পরবর্তী ভারতীয় ক্রিকেট যখন যে কেউ অধিনায়কত্ব নিতে দশবার ভাববে তখন নির্বাচকদের কাছে তুমি ছিলে সেফেস্ট অপশন। তুমি সফল হলে আবার উঠে দাঁড়াবে ভারতীয় ক্রিকেট আর তুমি ব্যার্থ হলে সব দায় তোমার মাথায় চপিয়ে সরিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হবে বাকিরা।
আর তুমিও অবলীলায় কাঁধে তুলে নিলে অধিনায়কত্বের ব্যাটন। আর সাথে নিলে কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। সেহবাগ কে ওপেনিং এ খেলানো, বারবার হরভজন কে সুযোগ দিয়ে তৈরি করে নেওয়া প্রথম একাদশে এমনকি বারবার ব্যার্থ হওয়ার পরেও সুযোগ দিয়েছিলে ধোনিকে। তুমি দেখিয়েছিলে সামান্য তম সুযোগও অনেক কিছু দেওয়া যায় ভারতীয় ক্রিকেটকে। অস্ট্রেলিয়াকে স্লেজিং এর জবাব ফিরিয়ে দেওয়া স্লেজিং এ, তোমার পক্ষেই সম্ভব।
জানো, অনেকে বলে লর্ডসে তোমার জার্সি ওড়ানোটা তোমার অহংকার এর প্রতীক। আমি অবশ্য তা মনে করিনা, আমার কাছে ওটা ২০০বছরের অপমানের প্রতিশোধের চিন্হ, ব্রিটিশ দুর্গে দাড়িয়ে ভারতবর্ষের জয়গাথার এর থেকে সেরা মুহূর্ত আর কি বা হতে পারে ...???
এত কিছুর পরেও দেখো তোমাকে টেনে নিচে না নামাতে পারলে একদল সভ্য মুখোশ পরা মানুষের রাতের ঘুম হয় না। নাহলে কিনা যেই তুমি বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে গ্রেগ চ্যাপেল কে কোচ করে আনলে কোচের চেয়ারে বসে সেই মানুষটাই তোমার বিরুদ্ধে তৈরি করল চক্রান্তের জাল, আর তার সাথে জুটে গেল এমন কিছু ক্রিকেটার যাঁদের নিজের হতে তৈরি করেছিলে তুমি। নিজের অধিনায়কত্ব কে বাজি রেখে তুমি তাদের সুযোগ করে দিয়েছিলে অথচ সফল হবার পরে তোমার প্রতি সেই কৃতজ্ঞতা বোধ টুকু দেখাতে আজ তাদের কষ্ট হয়। তবে এটাও ঠিক সবাই এক নয়, তাইতো হরভজন, সেওয়াগ বা যুবরাজ সিংয়ের মত প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটাররা আজ ও শ্রদ্ধায় মাথানত করে তাদের প্রিয় দাদির উদ্দেশ্যে।
মনে পড়ে তোমার ২০১১র সেই বিশ্ব জয়ের রাত। জানো ওই মুহূর্তে সারা দেশ যখন মেতে উঠেছিল সেদিনের নায়কদের নিয়ে আমার চোখ সেদিন টিভির পর্দায় শুধু তোমায় খুঁজছিল। জানি, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে বসে তুমিও সেদিন সাফল্যের হাঁসি হেসেছিলে, আর হাসবে নাই বা কেন ...... ধোনি - হরভজন - জাহির সহ সেদিনের একঝাঁক মহাতারকা তো তোমার নিজের হাতে গড়া।
অনেকে ভেবেছিল অন্যায় ভাবে তোমায় অবসরে বাধ্য করে তোমায় মুছে ফেলবে তারা। তারা তো আর জানত না সৌরভের সুভাস আটকানোর ক্ষমতা তাদের নেই, তাই বার বার ফিনিক্স পাখির মত ফিরে এসেছ তুমি। আসলে তারা বুঝতে পারেনি সৌরভ গাঙ্গুলির অনেক কিছু দেওয়া বাকি আছে ভারতীয় ক্রিকেট কে। তাইতো যে বাঙালিকে একদিন অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল indian cricket team থেকে সেই সৌরভ গাঙ্গুলি আজ যোগ্যতম ব্যক্তি হিসাবেই president of board of control cricket in India।
আসলে কি বলতো, কালের নিয়মে সম্রাট বদলায়, ক্রমান্বয়ে সিংহাসনে বসে চন্দ্রগুপ্ত - বিম্বিসার - অশোক। কিন্তু প্রকাশ্যে হোক বা লোকচক্ষুর আড়ালে সবাইকেই মাথা নোয়াতে হয় আচার্য চানক্যদেব এর কাছে।
৫০ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিও ভারতীয় ক্রিকেটের চানক্য - " সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় "। ।
“ যোগ্যতম ব্যক্তি তুমি
তোমার মাথায় ক্রিকেট তাজ
জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিও
বিশ্ব ক্রিকেটের মহারাজ। । “
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।