এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ভজো | 24.*.*.* | ১৪ জুন ২০১৪ ০৩:৩১642488
  • বাজার থেকে ফিরে ভজো দেখল ছোটমামু এসছে। ছোটমামু র দুই ছেলে। বেনো আর কাত্তিক। ভজোর ল্যাপটপ টা কাত্তিকের দখলে।
    বেনো কাঁদছে। তার মধ্যেই টপাটপ দুটো কলা খেয়ে ফেলল। তিনটে রসগোল্লা। কান্না থামিয়ে এবার ব্যাট বল খুঁজতে খাটের তলায় ঢুকেছে। ছোটমামু একটা চেয়ার টেনে বসে হরিদেবপুরের গল্প জুড়েছে। এবার ঝড়ে সব আমের মুকুল ঝড়ে গ্যাছে। ফোন এলো। হ্যা কে বলছেন ? কৃত্তিকা। ও বল। কী খবর ? বায়োলজি নোটস তো ? আছে। নিয়ে নিস। ফোন রাখতেই মা রান্নাঘর থেকে। কে রে ? ঘোষেদের মেয়ে টা নাকি ? হ্যা। নোটস। ওই করো। সবাইকে সব বিলিয়ে দাও। স্নানে যাবার সময় হলো তো নাকি ? খেতে দাও। বেরোবার আগে স্নান করব। এবার মামু। তা ভাগ্না পড়াশোনা কেমন চলছে। ওইচলছে । মন দিয়ে পড় মন দিয়ে পড়। কাত্তিক গেম খেলছে। দুবার হ্যাং করলো। দেবে দেবে অফ করছে। বেনো এদিক ওদিক বল ছুঁড়ছে। একটা আরশোলা দৌড়ে শোবার ঘরের দিকে চলে গ্যালো। ভজোর একটু খিদে খিদে পেয়েছে। বেশি না। বেড়ে দিতেই বসে পড়ল। ছোটমামু বলে যাচ্ছেন খেতে খেতে। দামু সান্যাল মারা গ্যাছে। গলায় গোদ হয়েছিল। বা সেরকমই শুনলো ভজো। খেতে খেতে। মুসুর ডালে এটা কী। ওহ আরশোলা। ডিম অদ্ধেক খেয়ে পাশে রাখে। বেনো এসে দাঁড়ায়। মামু জিগান ডিম খাবি নাকি ? এই বেনো টা তোর মতই ডিমের পোকা হয়েছে হে হে। অদ্ধেক টা সাবার করে চলে যায় বেনো। ছ্যারাব্যারা করে মিটিয়ে উঠে পরে ভজো। সোজা ছাদের ঘরে। ল্যাপটপ এখন পাওয়া যাবে না। বরং একটু ঘুমিয়ে নিক। বেনো চেঁচাচ্ছে নীচে। শনপাপড়ি খাবে। দরজা আগলে বিড়ি ধরায় একটা। পুকুরপাড়ের জানলা টা খুলেদেয়। বেউনি বুড়ি ঘাটে বসে। গুরাকু ঘষছে আর গুরাকু ঘসছে। আর হয়ে শুয়ে থাকে খানিক। গোটা দুই রিং ছাড়ে। পায়ের কাছে একটা দাশ-মুখার্জি। একটু ঠেলে সরিয়ে একটা পেন্নাম করে নেয়। দরজায় ঠকঠক। কাত্তিক। ও ভজো দা। তোমার কাছে নতুন আনন্দমেলা আছে। না নেই। ভূগোল পড়বি তো বল। কাত্তিক পালায়। দরজা লাগিয়ে আবার একটা বিড়ি ধরায়। সুতো মুখে ঠেকছে | পেঁচিয়ে নিল খানিক | পুকুরপাড়ে বোকা দার গলা | শ্যামবাজারে সকালে কে মরেছে | বততিরিশ বাস | টিপিন কারি রাস্তায় গড়াগড়ি | আলুর তক্কারি আর রুটি চারটে | টুসটুসি বৌদি এই নিয়ে পাঁচবার ও মা তাই নাকী গো বল্লো | বিছানায় এসে বসে ভজো | দেয়ালে পিঠ এলিয়ে দেয় | পাখাটায় বহুত ঝুল পড়েছে | আসতে ঘুড়লেই গায়ে এসে পরে | ডান পায়ের বুড়ো আর পাশের আঙ্গুল দিয়ে রেগুলেটর বাড়িয়ে দেয় | ঝুলগুলো দুরে পরতে থাকে | একটু কাত হয়ে শোয় | ঘড়ি দেখে | পাঁচটায় বেড়োতে হবে | খামচে খাতা টা কাছে নিয়ে আসে | পা চিমটে করে বই |প্রণাম করে | একটু উইধুই করে পিঠের তলা থেকে পেন বেরয় | তো হচ্ছে সমাকলন | আশীষ দা বাড়ি থেকে ১৬ র দাগ অবধি করে নিয়ে যেতে বলেছিলো | চারটে বাকি | দরজায় শব্দ | কাত্তিক | পিসি ডাকছে | যা আসছি | দু ঢোক জল খায় | কানে আওআজ | ভজো ওই ভজো | জলের জাগ টা চাপা দিতে গিয়ে চলকে গেল | দের দু গেলাস মত ছিলো | তোষক টা টেনে একটু ঝুলিয়ে দিলো ভজো | ওতেই যা শুকোবে | ছিটকিনি তুলতে তুলতে আবার পুকুর পারে টুসটুসি বৌদি কাকে যেন অমা তাই নাকী গো | আবার নীচ থেকে ওই ভজো বলি ভাই টা এদ্দিন বাদে এসচে আর ছাদের ঘরে কী বিদ্যাসাগর হচ্ছে শুনি | চানে যাচ্ছি | কোচিন আছে | অ |
  • ভজো | 24.*.*.* | ১৫ জুন ২০১৪ ০৪:০৩642493
  • পায়খানার মগ স্নানের বালতিতে | তুলে কোণের দিকে ঠেলে দেয় | শাওয়ার চালায় | ছির ছির করে ছিটকে এদিক ওদিক জল পরে | বালতি থেকে পাঁচ মগ ঢেলে গা ফা মুছে বেরোবার আগে হিসি পায় | হিসি করে আরও দুমগ ঢেলে গামছা জড়িয়ে বেরয় | জামা ফামা পরে বেরোতে আরও পাঁচ মিনিট | ব্যাগ নিতে উঠতে হলো | পুকুড়পারের জানলা টাও টেনে দিলো | অতসিদি আপিস থেকে ফিরছে | ঘড়ি দেখে, সাড়ে পাঁচ টা | ওহ, তাড়াতাড়ি ফিরল | রাস্তায় বেড়িয়ে দেখে হালকা মেঘ মত করেছে কোনার দিকে | সে যাই হোক | বেলঘরিয়া স্টেশন অবধি হাঁটতে থাকে | পাঁচটাকা বাঁচে | এক বান্ডিল
    ননী বিড়ি কিনে ছটা বারোর লোকালে ঝুলে পরে | আজ একটু ভেতর ঘেঁষে দাঁড়ায় | গেল হপ্তায় পোস্টে বারি খেয়ে দুটো ছেলে টসকেছে | দমদম ছাড়ার পর একটা মুশকো লোক দরজা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় | মুশকো টার পরনে হাফ হাতা সাদা শার্ট |কাঁধের কাছে জীনস এর তাপ্পি | বোতাম দিয়ে আটকানো | বোতামে লেখা চয়েস জীনস | কোমরে বেল্ট এর প্লেট টা দেখা যাচ্ছে | একটা বলদের মাথা | নাকী মোষ | লেখা জিমজিম | লোকটার পায়ে সাদা চপ্পল | বাঁ পায়ের চপ্পলের মাথায় কী লেগে রয়েছে | ওহ গোবর | উল্টো ডাঙায় নেবে যায় মুশকো টা | এবার ট্রেন একটু গতি নেয় |
  • ভজো | 24.*.*.* | ১৫ জুন ২০১৪ ২২:৪৯642494
  • ঘচ ঘচো ঘচ ঘচো করে বেগ নেয় ট্রেন টা | প্লাটফর্ম ছাড়ার একটু আগে একটা ছোলাঅয়ালা লাফিয়ে পাদানিতে জায়গা করে নেয় | ছেলেটির মুখ ভর্তি বসন্তের দাগ | ছোলা বিক্কিরি না করে সেও দরজা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে পরে | ঘ্যাঁশ ঘ্যাঁশ করে ট্রেন চলতে থাকে | যেন বান্ডিল বান্ডিল কাগজ একসঙ্গে কাটছে | বান্ডিল বান্ডিল | একটা উমনো মত বৌদি আর ট্যাঁকে একটা বাচ্চা ভীড়ের মধ্যে ও দাদা কত নম্বর দিল | এখনো দেয়নি | ঘিপ ঘাপ ট্রেন চলছে | তারপর ঘোঁশ ঘোঁশ ট্রেন চলছে | তারপর ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘোঁচ ঘঁচের ঘঁচেরঘঁচের ঘঁচের ঘঁচেরঘঁচের ঘঁচের ঘঁচের ঘঁচের ঘঁচের ঘঁচের ঘঁচের ঘিটা ঘিস্স স্স্স্সস্স্স্স | পাঁচ নম্বর | হুটুপুটির মধ্যে হাঁটতে থাকে ভজো | ছোলাঅয়ালা ছেলেটা কাকে ডাকছে মান্কু মান্কু |
  • ভজো | 24.*.*.* | ১৮ জুন ২০১৪ ০১:২৬642495
  • দু নম্বর দিয়ে বেড়িয়ে কচুরির দোকানে দুটো কচুরি খেল। আশীষ দার ওখান থেকে বেরোতে বেরোতে খিদে পায়। তরকারী টা পচা মনে হলো। দাম মিটিয়ে বল্লো আপনাদের তরকারী পচা। দোকানি বলল বললেই হলো। জল গড়িয়ে খেয়ে সুরেন্দ্রনাথের দিকে হাঁটা লাগালো ভজো | রাস্তার মুখে দুটো ভ্যান তেরছা হয়ে আটকে। উল্টোদিকে একটা বাস | তার পাশ থেকে মুখ বাড়িয়ে একটা মিনি। মিনিটার সাড়েদু ফুট মত বেরিয়ে আছে বাসের পাশ থেকে। মিনি আর একটা ভ্যান মুখোমুখি। ভ্যান এর গায়ে লেখা মা তারা সার্ভিস। মধ্যে মধ্যে এঁকে বেঁকে ভজো জায়গা করে নেয়। রাস্তা পেরিয়ে গলির মুখে পরতে দেখে কৃত্তিকা আগে আগে হাঁটছে। একটু আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকে ভজো। তারপর জোরে জোরে হাঁটতে থাকে। উল্টো ফুট দিয়েপেরিয়ে আশীষ মল্লিক এখানে অঙ্ক ফিজিক্স লেখা বাড়িটায় ঢুকে যায়। বাকিসবাই এসে গ্যাছে। মতি র উল্টো চটি কাত হয়ে পরে। ললিত একটু সরে জায়গা দেয়। আশীষ দা একবার মাথা তুলে সেই দেরী করে এলি। প্রবলেম দিয়েছি। টুকে নে । আশীষ বৌদি ঘরে আসে। লাল ম্যাক্সি। শুনছ আমাকে একবার বেরুতে হবে। ছোটনের পিটি। কেডস বলেছিলাম। ওহ বেশ, এই কেও দরজা দিয়ে দে। এখনি কি আমি কি এভাবেই ? ওহ তাহলে যখন বেরোবে বোলো। আশীষ বৌদি ঘরে ঢুকে যায়। কৃত্তিকা ঘরে ঢোকে। ভজোর দিকে তাকায়। ভজো লেবুর খাতাথেকে টোকে । মঞ্জু ঘরে ঢুকে একবার আলনায় ব্লাউজ খোঁজে আবার ঘড়ি দেখে। আবার আলনা থেকে শাড়ি টেনে নিয়ে ম্যাক্সির ওপর জড়াতে থাকে। ফোন বেজে ওঠে। কে মুকুন্দ। তোমার দাদা এখন ছাত্র পড়াচ্ছে। হ্যা বলেছিত এখন স্টুডেন্ট দের আসার সময়। একটু রাত করে ফোন কোরো। নানা দশটার আগে। বেশ দশটাতেই কোরো। ফোন রেখে একবার ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। চুল টেনে একটা নুটি মত খোঁপা করে। গম্ভীর হয়ে বেরিয়ে এসে এই কেও এসে দরজা টা টেনে দিয়ে যাও। প্রতিক ওঠার চেষ্টা করে। রতন তার আগেই উঠে পরে।
  • ভজো | 24.*.*.* | ২৩ মার্চ ২০১৫ ২২:২২642496
  • রতনের প্যান্টের পেছনে পিঠে চুন লেগে। প্রতীক একিরে এতো চুনকাম বলে থাবরে দেয়। রতন এই শালা আস্তে বলে। খ্যা খ্যা হয় একটু। আশীষদা আঃ বলে আবার হোমটাস্ক দেখতে থাকে। কৃত্তিকা ডটপেন চেবায়। ভজো হিসেব করে দেখে বাকিরা তার চে দুটো প্রবলেম বেশি করেছে। যাগ্গে। গলা টা শুকনো। পেছন ঘষে একটু কোণের দিকে রাখা জলের বোতল টা টেনে নেয়। বোতলের গায় ভিজে কাপড় জড়ানো। ঠান্ডা থাকে। এট্টা বিড়ি তে টান দিলে ভালো হত। থাক আশীষ বৌদি আবার হুট দিয়ে ফিরবে কখন।
  • ভজো | 24.*.*.* | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০০:২৫642497
  • জল টা গন্ধ। আবার নদ্দমা লীক করেছে। আশীষদা কে বলে লাভ নেই। আগে ফিল্টার থাকত। এখন ভেতরের ঘরে। এই এবার এদিকে মন দে। বারোর দাগের টা তো সবাই ভুল করেছিস। আর তুই, ভজোর দিকে ফেরে আশীষদা। বাড়ির কাজে এত ফাঁকি দিলে হবে। একটু এদিক ওদিক তাকায় ভজো। খাতায় পেন চলতে থাকে। টিউবের পাশ থেকে মেটে টিকটিকি টা বেরোলো। বাঁ দিক ঘষে ঘষে এগোচ্ছে। হলুদ টিকটিকি টা সরছে। আবার কাটাচ্ছে। চাপলো চাপলো। নাহ বেড়িয়ে গেল। কৃচ কৃচ কৃচ। আবার চাপলো। দরজায় ঘ্যাটাস হয়। প্রতীক উঠে যায়। আশীষ বৌদি ফিরলো। হয়েছে ? আর ভুল হবে ? প্রতীক আর কৃত্তিকা একসঙ্গে বলে বুঝেছি। লেবু টিকিটিকি দেখছে। আশীষ বৌদি কাটিয়ে চলে যায়। সাড়ে চারশো নিলো। বল কী ! তাও দর-দস্তুর করে। ভজো খাতায় টুকতে থাকে।
  • ভজো | 125.*.*.* | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১৭:৩০642498
  • ঘন্টা দেড় হ্যাতর প্যাতর করে সবাই গা তুলে দেয়। আশীষ বৌদি আবার দরজা ধরে দাঁড়িয়ে। তোদের কতবার বলেছি চটিজুতো একজায়গায় ছাড়বি। কৃত্তিকা ওমনি এটা আমার না বৌদি ভজোর চটি ভজো এই ভজো। পা গলিয়ে বেরিয়ে আসে ভজো। রাস্তায় ভীড়। চার নম্বরে দিয়েছে মনে হয়। মাঝে মাঝে ছয়েও দেয়। এগোতে এগোতে সবাই কেটে যায় আর ঢাকায় পরোটার গন্ধ আসে কোদ্দিয়ে। চার নম্বরেই দিয়েছে যাক। আঁচিলপাঁচিল ভিকিরি টাও বসে। কেষ্ট কাকু চলে গ্যালো। অনেক পয়সা। ডেথ সাট্টিফিকেট বারোশ। ট্রেন ঢুকলো। ভজো গিয়ে ফাঁকা ধাপি তে একটু বসে। বারো মিনিট দাঁড়াবে। এই কটা লোক। হুরোহুরি না হলে দেখে মজা নেই। কেষ্ট জানলা দিয়ে খপরের কাগজ গলিয়ে দাঁড়িয়ে। দুটো পুটুস পুটুস মেয়ে আগে চড়তে গিয়ে একটা বেগুনমাসির কনুই খেল। মহিষ হালদার রড ধরে কাকে একটা তেরে খেস্তাচ্ছে। ছোলাঅয়ালা বাচ্চাটা গোলে গেলো মাথা নীচু। ভজো জল খেল খানিক। মুখে চোখে থাবা থাবা। দরজার পাশ ঘেঁষে একটা ঝুড়ি। সাবুর পাঁপড়। দাঁতের ফাঁকে চেপে চেপে বসে। থুথু করে ফেলে দেয় ভজো। উল্টো ডাঙ্গা ঢুকছে।
  • b | 135.*.*.* | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:৩৯642499
  • ভজোর লেখাটা বেশ চিনি চিনি মনে হচ্চে। সাউন্ড এফেক্টগুলাও।
  • de | 69.*.*.* | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:০৪642500
  • হ্যাঁ - চেনা তো! ঃ)
  • ভজো | 53.*.*.* | ২৪ মে ২০১৬ ১৯:১৮642489
  • পাড়াতে ঢুকে দেখে রাঘবেন্দ্র পাগল | হেডমাস্টার ছিলো বেলঘোরের কোন ইস্কুলে | হালদারদের ময়লাফ্যালা থেকে প্যাকেট তুলে খাবার খুঁজছে হ্যালোজেনের আলোয় | ছোট ছেলে চন্দনদা কর্পোরেশনে। চন্দনের বৌটা চাম্পি | বাড়ির সামনেটা জল জল হয়ে আছে কেন কে জানে। মামা ফেটে গ্যাছে নিশ্চই। বার চারেক কড়া নাড়ল। কোনো সাড়া নেই | কী মশা ! একটু এদিক ওদিক হেঁটে আবার কড়া নাড়লো। মা বধায় বেড়িয়েছে। ভাঁটুল দের জানলায় গিয়ে আওয়াজ দিলো। মাসিমা তো এত্তুন কেত্তন শুনতে গেলেন। ঘোষবাড়ি। চাবি তো দে যান নি। ভাঁটুলের বোন টা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে। ভেতরে আসতে বললো না। জল কাদা বাঁচিয়ে ধাপিতে বসলো ভজো। কানের কাছে দুটো মশা বো বো করছে। মারতে গিয়ে থাপ্পড় খেলো। আবার ঘুরে গিয়ে ঘাড়ের পেছনে বসেছে। একটু কামড়াতে দিলো। তারপরেই চটাস। ততক্ষণে পায়ের পাতায় একটা। দুবার থপথপ করলো। ভেলী দেখছে দূর থেকে। ভেলীর এক কান কাটা। ভজো কে দেখে লেজ নেড়ে নেড়ে কাছে এলো।
  • ভজো | 53.*.*.* | ১৬ জুলাই ২০১৬ ০৩:০৬642490
  • ভেলির গলায় একটা চিরকুট। চিরকুটে কিছু লেখা। অন্ধকারে পরিস্কার না। হ্যালোজেনটা টিমটিম। দেশলাই বাক্সে মাত্র দুটো কাঠি। ভাঁটুলদের জানলায় পর্দা ঝুলছে। আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে পর্দায় আগুন ধরিয়ে দিলো ভজো। তারপর ভেলির কান ধরে টেনে তুলে আলোর কাছে এনে চিরকুটটা পড়লো

    : ন টা ষোলোর ডানকুনি লোকাল। হল্ট। সবুজ পলিথিন।

    ভেলি আগুনের তাপে কেউ কেউ করছিলো। হাতে কামড়াতে এলো। চিরকুট আগুন পর্দা শুদ্ধু তাকে ভাঁটুল দের ঘরের ভেতর ছুঁড়ে দিলো ভজো। চুপচাপ এসে ধাপিতে বসলো। এতক্ষণে নিশ্চই কেত্তন ভেঙ্গে গ্যাছে। খিদে পাচ্ছে। ভাঁটুলের মা আর বোন চিল চিল্লৌত জুড়েছে। তবু যদি শালা মশা একটু কমতো।
  • ভজো | 53.*.*.* | ১৬ জুলাই ২০১৬ ০৩:৩৪642491
  • ঘরে ঢুকতে দেরি হলেও ফ্রিজে রাখা রসগোল্লা খেতে দারুন। মা আবার দরজায় দাঁড়িয়ে ওমা একি দৌড়ঝাঁপ করছে। ভাত টা বসানো। তরকারি গরম করতে দিলো ভজো। পেলু ফোন করলো তার মাঝে। পোস্সু খান্নায দুফুরের শো। ওদিকে ভাঁটুলের মা বোন ঘ্যানঘ্যান করছে। দমকল এসেছিলো তারাগেই নিবে গ্যাছে। ভেলি আর ভাঁটুলের মায়ের একটা হাত সেদ্ধ। তরকারি -ভাত ঢেকে নিয়ে চিলেকোঠা উঠে এলো ভজো। ভোরব্যালা আবার লাইসায়েন্স। বিড়ি টেনেই ঘুমুবে। ম্যাগাজিন গুলো ঘেঁটে ঘেঁটে পচে গ্যালো। তরকারি যে নুন নেই। ওবেলা খেলো কি করে। ধুর আবার কে নুন আনবে। জল ফল খেয়ে বিড়ি ধরালো। কাই কিচির থেমেছে নীচে। জানলা দিয়ে পুকুরের ওপাশের ল্যাম্প পোস্ট। একটু পাতা নড়ে না। বিড়িটা দেয়ালে ঘষে মাথার ওপর বালিশ ঢেকে শুলো ভজো। কোত্থেকে একটা মশা আছে।
  • ভজো | 52.*.*.* | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২১:০৮642492
  • ঘুমটা ফ্ট করে ভেঙ্গে গ্যালো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট প্রতিক্রিয়া দিন