এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' (প্রথম পর্ব)

    শুভদীপ
    অন্যান্য | ২২ মে ২০১৪ | ১২৩২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ১৮:১৪636615
  • ‘একটি কুঁড়ি দুটি পাতা রতনপুর বাগিচায়
    কোমল কোমল হাত বাড়িয়ে লছমী আজও তোলে...’-- হেডফোনে গান টা শুনতে শুনতেই পস করতে হলো। স্টেশনের মাইক্রোফোনে একটা ঘোষণা হচ্ছে -- ‘অনুগ্রহ করে শুনবেন, ১৩১৪৯ আপ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস নয়টা বেজে ত্রিশ মিনিটে শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে পৌঁছবার সম্ভাবনা রয়েছে’। ‘ধ্যার বাল’ মেজাজ টাই খিঁচড়ে গেল। সকাল আটটায় ট্রেন ঢোকার কথা, তারও আগে থেকেই ঘুম ঘুম চোখে জংশনে এসে দাঁড়িয়ে। কিন্তু ট্রেন আসার নাম গন্ধ নেই। অপেক্ষা করতে করতে এক কাপ চা, দুটো সিগারেট ধ্বংস হয়েছে। ওদিকে দেখে নিয়েছি পাশের দোকানে গরম গরম লুচি ভাজা হচ্ছে। ট্রেন না আসা অবধি সেগুলোর সদব্যবহার করা গেল।
    অবশেষে কুঝিকঝিক করে প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে ট্রেন বাবাজী এলেন। এস-৮ বগি তে উঠতেই দেখি শান্তনুদা ফোনে চার্জ দিচ্ছে এবং তার সাথে সাথে সমানে ফেসবুকও করছে। পাশে সেই পরিচিত দাঁতক্যালানো হাসি, কে আর ! অবিন’দা। জিষ্ণু অ্যাস ইউসুয়াল সীটে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। খবর পেলাম ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান আর ভারতের নেশনবিল্ডিং এ মেদিনীপুর জেলার ভুমিকা নিয়ে কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা না কি কাল রাত থেকেই চলছিল, সাথে সাথে এটাও জেনে গেলাম যে বগির শেষের দিকে বেশ ভাল এক ‘মামণি’ আছে, তাকে সাত না সাড়ে সাত কত নম্বর দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই ট্রেন শহরের মায়া কাটিয়ে ঢুকে পড়লো চা-বাগান আর জঙ্গলে ঘেরা সেই আলো-আঁধারির মায়ারাজ্যে। সেই কত চেনা রহস্যময়ী ডুয়ার্স, পাখীর নীড়ের মত চোখ না তুলেও যে নীরবে জিজ্ঞাসা করতে ভোলে না – ‘এতদিন কোথায় ছিলেন কাকা ?’।
    সেবক ছাড়াতেই জঙ্গলের বাতাস এসে লাগলো মুখে, ট্রেন তখন চলছে ঢিমেতালে, হয়তো অবিনদা কে কয়েকটা ছবি তোলার সুযোগ করে দিতেই।
    ‘যেথায় সন্ধ্যে ছটার আগে
    হাঁচতে গেলে টিকিট লাগে
    দুচ্ছাই সেই শহর ছেড়ে
    পালাচ্ছি সই অনেক দূরে
    কুঝিকঝিক কূজিয়ে গাড়ী
    দিচ্ছে অচিন রাজ্যে পাড়ি’—হঠাৎ ই অবিন’দার ডাকে আনমনা ভাব টা কেটে গেল – ‘সিগারেট দে একটা’।
    পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে জঙ্গল, চা বাগান, ঘরবাড়ী, সর্ষে ক্ষেত, ট্রেনের দিকে সকৌতুকে তাকিয়ে থাকা নেপালী ভাইবোন। এদিকে ট্রেনের ভেতরে গলা চড়ছে। মেদিনীপুরের জঙ্গল এরকম ঘন কি না, এই অঞ্চলের আদিবাসী দের উন্নয়নের মডেল কি হওয়া উচিৎ, ম্যানুফ্যাকচারিং না সার্ভিসেস এই সব নিয়ে তুমুল তর্কের মাঝেই হঠাৎ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে মন কেমন করে ওঠা। ‘যঁহা গম ভি না হো, আঁসু ভি না হো’ গুনগুন করে উঠলো কে একজন। পাশের কম্পার্টমেন্টে অন্ধ ভিখিরির গলায় উঠেছে ভাওয়াইয়ার সুর। বাইরে ঝিঁঝিঁ ডাক, ট্রেনের শব্দের সঙ্গে মিলে সে এক অনবদ্য সারেগামাপা।
    নিউ মাল জংশনে ট্রেন থামতেই অবিন’দা তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে লাফাতে নেমে গেল। ফিরে এল এক ঠোঙ্গা ধোঁয়াওঠা সিঙ্গাড়া নিয়ে। ততক্ষণে সত্যিই পেটের মধ্যে ডুয়ার্সের হাতী ডন মারা শুরু করেছিল। কাজেই সিঙ্গাড়া পাতে পড়তে না পড়তেই উড়ে গেল। ট্রেন আবার চলতে শুরু করেছে। পরের স্টেশন, এবং আমাদের গন্তব্য, আমার কবেকার চেনা-- সেই দলগাঁও।
    [চলবে]
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ২০:০৩636618
  • 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' ( দ্বিতীয় পর্ব)
    ‘এলেম নতুন দেশে এ এ এ’—আমার ফোনে এই গান টাই বাজছিল এবং আমার তিন সঙ্গীর মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারছিলাম, দুপাশের সবুজ ভেলভেটে মোড়া চা বাগান আর সেই ভেলভেটের ওপর রোদছায়ার খেলা দেখে ওদের মনেও একই গান বাজছে। জয়বীরপাড়া টী এস্টেট, ছোটবেলার গরমের ছুটি গুলো যে ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়ে কেটেছে, আবার সেই চা বাগান, সেই বাগান ঘেরা কোয়াটার্স, সেই কারখানার সাইরেন, সব মিলিয়ে আবার নতুন করে পুরনো ঘরেই ফেরা।
    ‘ফার্স্টক্লাস ব্যবস্থা, শুধু বাথরুম টাই যা একটু...’
    ‘ফাঁকা কোয়াটার্সে কে আর গীজার, কমোড সাজিয়ে বসে থাকবে ?’
    ‘না তাও...’
    ‘হুঁ ! ক্যালকেসিয়ান !’ – আমার যেন এই জায়গার সামান্য সমালোচনাও বরদাস্ত হচ্ছিল না।
    শান্তনুদার ফুট কাটা ‘আমি তো ভাই গ্রামের ছেলে, কিন্তু কলকাতার ছেলেপিলে রা...’
    ‘তুমি থামো তো বাঁড়া, তোমাদের মেদিনীপুরে তো চা বাগান ও আছে’
    ইত্যাদি ইত্যাদি
    সন্ধ্যায় কাঠকুটো জড়ো করে আগুন জ্বেলে দিয়েছে শীতদা, শীত বরাইক। আমাদের কাছে মোটামুটি দেবদূত। নইলে কে আর এই ভরসন্ধ্যেবেলা বারবার ডিম ভুজিয়া, কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে আসতো ? শান্তনুদা আর জিষ্ণু বাড় খেয়ে রেড ওয়াইন কিনতে গিয়ে পচা করমচার রস কিনে এনেছে। আমরা ফালতু ঝুঁকি না নিয়ে বৃদ্ধ সন্ন্যাসী তেই ভরসা রেখেছি। গনগনে আঁচে আগুন জ্বলছে, আবছা আলো তে দূরের ঝাকড়া গাছ টা কে মনে হচ্ছে ওঁত পেতে থাকা ভাল্লুকের মতো। গ্লাসের লালচে তরল আগুনের রঙ মেখে অলৌকিক রূপ নিয়েছে। অবিনদা বুঁদ হয়ে একের পর এক ছবি তুলে চলেছে।
    ‘আমার একটা ভাল ডিপি তোলো না। ’ অনুযোগ করল জিষ্ণু
    ‘হ্যাঁ রে ! ডিপি তোলাতেই তো এসেছিস !’
    ‘আর কী ?’
    ট্রেনে শুরু হওয়া বিতর্কের রেশ তখনো শেষ হয়নি। গলা আরও চড়ছে, খেয়ালই করিনি, এই এলাকার লোকজন আটটা বাজতে না বাজতেই বিছানা নেয়। মাঝে মাঝেই আমায় সাবধান করতে হচ্ছে ‘একটু আস্তে’
    । হঠাৎ দেখি অন্ধকার থেকে একটা ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে !! ‘আপলোগ ইতনা শোর কিউ মচা রহে হো?’
    ‘ইয়ে মেরেছে’- আমি চাপা গলায় বললুম।
    অবিনদার ততক্ষণে জানা হয়ে গেছে এই আগন্তুক কারখানায় সিআইটিইউ সদস্য।
    অবিনদার দিকে ঘুরে বললাম ‘বোতল টা সাইড করো, দেখতে পেলে কিন্তু নড়বে না’
    ‘ছিঃ ফিউডাল মেন্টালিটি’ – ততক্ষণে নতুন খুঁজে পাওয়া কমরেডের জন্য একটা পেগ তৈরী হয়ে গেছে।
    ওদিকে জিষ্ণু চেন্নাই এর পার্ক, চিড়িয়াখানা সম্পর্কে কিছু বলার চেষ্টা করছে। মাফলার টা জড়িয়ে এগিয়ে গেলাম কালো অন্ধকার টার দিকে।
    সামনে দিগন্তবিস্তৃত চা বাগান, তার সবুজ গালিচার ওপর কালো চাদর টেনে ঘুমিয়ে পড়েছে। দূরে যক্ষপুরীর মতো একলা দাঁড়িয়ে রয়েছে কারখানা। এই অঞ্চলের কুকুরগুলোও মনে হয় সন্ধ্যে না হতেই ঘুমিয়ে পড়ে। কান পাতলে শোনা যায় শুধু ঝিঁঝিঁর কনসার্ট – একটানা, একঘেয়ে। মাথার ওপর কে যেন টাঙিয়ে দিয়েছে এক স্বর্গীয় চাঁদোয়া, এই এলাকায় রাতের তারারা বিজলীবাতির আড়ালে ঢাকা পড়ে না।
    ঐ তো সপ্তর্ষিমন্ডল। ঐ ধ্রুবতারা। ওটা কালপুরুষ না !
    ছোটবেলা লোডশেডিং হয়ে গেলে চলে যেতাম ছাদে। তখনও ইনভার্টার এর ধাক্কায় লোডশেডিং তার বনেদিয়ানা হারায় নি। লোডশেডিং এর রাতে, ছাদে মাদুরের ওপর শুয়ে ভূগোল বই তে পড়া তারা, তারামন্ডল আর রাশি গুলো খোঁজার কম্পিটিশন হতো। বাবা একবার কোথা থেকে যোগাড় করে নিয়ে এল একটা স্কাই ম্যাপ। তার পর সেই যে একবার উল্কাবৃষ্টি হলো। আজকাল আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব কষ্টে শুকতারা টা দেখা যায় হয়তো। রবি ঠাকুর বেঁচে থাকলে কি লিখতেন ‘দাও ফিরে সে আকাশ, লও এ স্কাইস্ক্র্যাপার’ ?
    দূর থেকে কারা যেন আমার নাম ধরে ডাকছে। তাকিয়ে দেখি এসব ভাবতে ভাবতে কখন অনেক দূরে চলে এসেছি। কোয়াটার্সের সামনে তিন চারটে মোবাইলের আলো, নিজের মোবাইলের আলো জ্বেলে জানান দিলাম – এই যে এখানে। এই অঞ্চলে আবার সন্ধ্যের পরে নাকি মাঝেমাঝেই হাতী চলে আসে। গণেশবাবাজীর সঙ্গে মুলাকাত করার আইডিয়া টা একদমই লোভনীয় হবে না, বিশেষত যখন দেব এর মতো দৌঁড়বার স্কিল এবং দম কোনটাই আমার নেই। একটু জোরেই হাঁটা দিলাম -- ‘আসছি’
    [চলবে]
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ২০:০৪636619
  • 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' (তৃতীয় পর্ব)
    .
    “ঘরে যত লোভী ছিল লুচি-মন্ডা’র/ কাজিরাঙা গিয়ে তারা দেখে গন্ডার”
    কাজিরাঙা নয়, কাছেই জলদাপাড়া, সেখানেই যাওয়ার কথা গন্ডার দেখতে। সক্কাল সক্কাল গাড়ী আসতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘুম থেকে উঠে রেডি হতে সর্বজনীন ল্যাদ।
    “অ্যাই শালা, ওঠো রেডি হও”
    “সবাই রেডি হোক, আমি সবার শেষে উঠবো, আমি অনেক রাতে ঘুমিয়েছি”
    “রাত তিনটে অবধি ফোনে ভাটাতে কে বলেছিল ?”
    “আমি ছুটি কাটাতে এসেছি, আমি যতরাত অবধি কথা বলবো, তুই বলার কে ?” ইত্যাদি ইত্যাদি
    পাঠককুল কে জানিয়ে রাখা ভাল যে ঘুম থেকে ওঠা নিয়ে এই নাটক রোজ সকালে এমনকি রাতেও হয়েছে। কাজেই সেটার বিবরণ দিয়ে পাঠককে বোর করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।
    আপাতত প্রথম গন্তব্য ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ। সেখান থেকে একটু ভুটান ছুঁয়ে আসা।
    জয়গাঁ মোটামুটি বর্ধিষ্ণু শহর। রাস্তায় গাড়ী এবং মানুষের ভিড়, চারদিকে দোকানপাট। গত সরকারের আমলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল একে পুরসভায় উন্নীত করার, এখনো কোনো ঝামেলায় ঝুলে আছে সে সিদ্ধান্ত।
    কদিন আগেই জলপাইগুড়ি তে একটা বিস্ফোরণ হয়ে গেছে, তাই ভুটান-সীমান্ত সীল হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। তবে এসে দেখি তেমন কোন সমস্যা নেই। জয়গাঁ পেরিয়ে গাড়ী বর্ডার টপকে টুপ করে ঢুকে পড়লো বজ্রবিদ্যুতের দেশ ভুটানে। আমার তিন সঙ্গী মোটামুটি থ।
    “সে কি ! পাসপোর্ট-ভিসা কিসসু লাগলো না ?? গাড়ী তো চেক ও করলো না”
    আবেগ-ভেজা গলায় আমিও বলে উঠলাম “বিশ্বের সমস্ত বর্ডার ই এরকম হওয়া উচিৎ”
    ভুটানে ঢুকতেই কেমন একটা বিদেশ বিদেশ ফীল আসা শুরু হলো। একটু দূরেই নোংরা, ঘিঞ্জি, ভীড়ে ঠাসা জয়গাঁ, আর বর্ডার পেরোতেই ছিমছাম, ছবির মতো সাজানো ফুন্টশোলিং (বা উচ্চারণ যাই হোক না কেন)।
    ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, জামাকাপড় সবেতেই এদের অ্যাস্থেটিক সেন্সের স্পষ্ট ছাপ।
    “মেয়ে গুলো দেখতে কি দুর্দান্ত রে ! ভাবছি কথা বলে আসি”
    আমি আর শান্তনুদা গেছিলাম কুমীর-ঘড়িয়াল দেখতে। বাকি দুজন তখন সামনের পাহাড়, তার পাশের খরস্রোতা নদী, আর নদীর ধারে ঝলমলে পোষাক পরা ভুটানি মেয়ে দেখছে।
    “হ্যাঁ যা না, কুকরি দিয়ে ইয়ে কেটে ঘরে ফুলদানি তে সাজিয়ে রাখবে”
    ফুন্টশোলিং এসেছিলাম বছর পনের আগে। আবছা মনে পড়লো, কাছাকাছি একটা মনেস্ট্রী থাকার কথা। ড্রাইভার রামকুমার’দা জানালো আমাদের পরবর্তী গন্তব্য সেখানেই।
    একসময় ভারতের এক বিরাট অংশে হইহই করে ছড়িয়ে পড়া বৌদ্ধধর্ম কালক্রমে কিছু নিজের দোষে এবং কিছু বাইরের আক্রমণে মোটামুটি লোপ পেয়ে গেছিল উপমহাদেশের সমতল এলাকায়। এই অঞ্চলের বৌদ্ধধর্ম তিব্বতি বজ্রযান বৌদ্ধধর্মকে অনুসরণ করে। [ইয়ে আমি ইতিহাসবিদ নই, ছোট বা বড় ভুল কিছু লিখে থাকতে পারি, খিস্তি দেবেন না]।
    এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই পৌঁছে গেলাম মনেস্ট্রী তে। দূর থেকেই রঙ বেরং এর ঝান্ডা দেখা যাচ্ছিল, তাতে অপরিচিত লিপি তে মন্ত্রতন্ত্র লেখা, যতদূর জানি দুষ্ট আত্মা কে দূরে রাখার জন্য এগুলো টাঙানো হয়। মনেস্ট্রীর একপাশে খাড়াই খাদ, নীচে ফুন্টশোলিং শহরটাকে মনে হচ্ছে কে যেন ঝুলন সাজিয়েছে, কুয়াশার জন্য ভাল ছবি এলোনা।
    “হ্যাঁ হ্যাঁ ওখানে দাঁড়িয়ে থাক, ছবি তুলবো, ধুর সরে গেল”
    কি ব্যাপার ! পেছনে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম, আসল টার্গেট ছিল আমার একটু পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ফেমিনিন জেন্ডার। এখানকার নয়, টুরিস্ট, কোলকাতার ও হতে পারে।
    জুতো খুলে মনেস্ট্রী তে ঢুকলাম। [মন্দির, মসজিদ, মনেস্ট্রী তে জুতো চুরি যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর একটা ভাল ট্যাকটিক শিখেছি, জানতে চাইলে চ্যাটে ধরবেন, বলে দেবো]।
    চাতালের ওপরে বেশ ভীড় হয়ে গেছে টুরিস্ট দের, - বাঙালী, তামিল, জার্মান; অনেকেই হাত দিয়ে গোল ড্রামের মত যন্ত্রটা ঘোরাচ্ছে, টুংটাং আওয়াজ ভেসে আসছে ঘন্টার, হাল্কা ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরে শিরশিরে ভাব, ভেতরে কমবয়েসী সন্ন্যাসী দের গলায় সুর উঠেছে-- ‘ওম মণি পদ্মে হুঁ’।
    আস্তে আস্তে বেরোচ্ছি, পাশ থেকে ডাক এলো, দেখি বাকিরা গিয়ে উঠেছে পাশেই একটা উঁচু ঘাসজমি-র প্ল্যাটফর্মে। “ওদিকটায় ওঠার জায়গা আছে”
    হুঁ, অতোটা কে ঘুরবে ? নিজের ফীটনেস দেখানোর জন্য উঠে গেলাম এদিক দিয়েই হাঁচোড় পাচোড় করে।
    তারপর একটু সুখটান, এদিক ওদিক পোস দিয়ে ফটোসেশন। সেসব ছবি তো আপনারা দেখেইছেন।
    .
    ততক্ষণে পেটে ড্রাগন গর্জন করা শুরু করেছে, তবে একটা নামজাদা রেস্তোঁরায় ঢুকে কি পরিমাণ ঠকলাম এবং তার বিল মেটাতে জয়গাঁ এসে এটিএম এ কতোক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হলো, সেসব বলে গল্পের বহর বাড়াবো না, বুঝে নিন।
    বেরিয়ে আসছি, পথে দেখা যাদবপুরের কিছু চেনা লোকজনের সাথে। সৌরভের বাড়ী আলিপুরদুয়ার, ওর বাড়ি কে বেস করে এরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
    এই যাহ, নদীটার পাশে তো নামা হলো না।
    “চল চল, ওদিকে জলদাপাড়ায় রিপোর্টিং টাইম হয়ে গেল। নদী কাল জয়ন্তী তে গিয়ে দেখিস। ”
    অতঃপর, ফিরতি যাত্রা। এবার যাবো মাদারিহাট, সেখানে আমাদের জলদাপাড়ায় ঢোকার পাস নিয়ে অপেক্ষা করছেন লক্ষ্মণ কাকু, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    [চলবে]
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ২০:০৫636620
  • ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ (চতুর্থ পর্ব)
    অবশেষে জলদাপাড়া। মাদারিহাটে এসে লক্ষণকাকুর থেকে পাস নেওয়া হয়ে গেছে। এরপর নিজেদের গাড়ী কে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি। জঙ্গল সাফারির জন্য আলাদা গাড়ীর বন্দোবস্ত। শুরুতেই হলো বিপত্তি। পাসে যে গাড়ীর নম্বর লেখা আছে, সেই নম্বরের গাড়ীর কোনো পাত্তাই নেই। এদিকে বাকি গাড়ী গুলো বোঝাই হয়ে গেছে, এখুনি রওনা হবে। খোঁজ নাও খোঁজ নাও। শেষে দেখা গেল, যেই গাড়ী টায় কোনো নাম্বারপ্লেট ই নেই, সেটাই আমাদের জন্য বরাদ্দ !! ‘বাহ, ভিআইপি !’
    ‘হ্যাঁ, কিন্তু এখানকার গাড়ী গুলোর ছিবড়ের মতো অবস্থা। গরুমারার সাফারি গুলো অনেক ভাল’- জ্ঞান ঝেড়ে দিলাম আমি।
    সাফারি ঢুকে পড়েছে জঙ্গলে। সবাই যে যার পোসিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। গাইডের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে চারদিকে। এদিকে ধুলো খেয়ে সবার ভুরু-চুল সাদা। আমি আবার আমার টুপি খুঁজে পাচ্ছিনা, ঠান্ডার হাত থেকে কান জোড়াকে বাঁচাতে মাফলার টা দিয়েই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।
    “ঐ যে ঐ যে একটা হাতী”
    জিষ্ণুর কথায় সবাই সেদিকে তাকালাম, জঙ্গল থেকে একটা ছোটো হাতী বেড়িয়ে আসছে, পিঠে মাহুত।
    “তোর আবার হাতী দেখে কি হবে !! তোর তো চাই সিংহ”
    “টু বি মোর অ্যাক্যুরেট, বাচ্চা সিংহ”
    “কাকা এখানে বাচ্চা সিংহ আছে ? আমাদের এই বন্ধুর সেটা না হলে চলে না”
    গাইডকাকা কি বুঝলেন কে জানে, গুটখা-চর্চিত দাঁত বের করে একটা লালচে হাসি ছুঁড়ে দিলেন।
    গাড়ী এগোচ্ছে ধূলিধূসর রাস্তা দিয়ে। পাশে কখনো বড় গাছের জঙ্গল, কখনো বা বাদাবন। মাঝে মাঝে একেকটা ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ আসছে। নীচ দিয়ে কুলকুল শব্দে বয়ে যাচ্ছে জল। এখনো অবধি কয়েকটা বাঁদর, হরিণ আর ময়ূর ছাড়া বিশেষ কিছুই চোখে পড়েনি। এদিকে সূয্যিমামা অস্ত যাচ্ছেন।
    “এহহ, আলো কমে আসছে, এরপর গন্ডার দেখতে পেলেও ভাল ছবি আসবে না”
    সামনেই একটা ওয়াচ টাওয়ার। কিন্তু তার কিছু আগেই সব গাড়ী গুলোর জটলা। কি ব্যাপার !!!
    গাইড আঙ্গুল তুলে দেখালেন, কিছুটা দূরে জঙ্গলের সবুজের ভেতর একটা কালো ছোপ। এবং সেটা নড়ছে। গাড়ী টা একটু এগোতেই দেখতে পেলাম একটা গন্ডার। বড্ড আফশোস হতে থাকলো- একটা দূরবীন আনা হয় নি।
    পরের ওয়াচ টাওয়ার এর নীচে পৌঁছেছি, হঠাৎই দেখি বাকি গাড়ীর লোকজন হৈহৈ হুটোপাটি করে গাড়িতে উঠছে। কি ব্যাপার ! বাঘ পড়েছে না কি !! অনেক কষ্টে উদ্ধার কর গেল, হলং এর বনবাংলোর পাশে বাইসনের পাল দেখা গেছে। গাইডকাকু নীচুস্বরে গালি দিচ্ছিলেন হৈহৈ-পার্টি দের, “জঙ্গলে এসে চেঁচামেচি করছে। চেঁচামেচি করবি তো পিকনিক কর গিয়ে, সাফারি তে এসেছিস কেন ?”
    আমিও সুরে সুর মেলালাম। আর বহুদিন পুরোনো ট্রেকিং এর অভিজ্ঞতা থেকে জঙ্গলে এসে কি কোড অফ কনডাক্ট ফলো করা উচিৎ, তা নিয়ে জ্ঞান দেওয়া শুরু করলাম।
    “হুহ, বিজ্ঞের বিচি !” কে বললো কথাটা ??
    হলং এর বনবাংলোর পাশে একটা ছোটো নালা রয়েছে। তার ওপারে লবণ ডাঁই করে রাখা। ওখানেই সূর্যাস্তের সময় জন্তু-জানোয়ারেরা জল খেতে আসে।
    পৌঁছে শুনি হৈহৈ-পার্টির কেরামতি দেখে বাইসন বাবাজীরা কেটে পড়েছেন। তাদের মনে মনে প্রচুর খিস্তি দিয়ে এদিকসেদিকের ফটো তোলা হতে লাগলো। জিষ্ণু আবার একটি মেয়ে কে দেখে নিয়েছে এবং অবিনদার ক্যামেরা তে আপ্রাণ জুম করে তার ছবি তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
    আমি এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। পাশে একটা ক্যালকেশিয়ান গ্রুপ দাঁড়িয়ে এবং তাদের একজন ডুয়ার্স নিয়ে যা খুশী তাই বলে যাচ্ছেন। জ্ঞান দেওয়ার অভ্যাসবশত আমিও সেখানে ঢুকে পড়লাম। সেই সুবাদে জিষ্ণুর নজরে পড়া মেয়েটির সাথেও কথা হয়ে গেল। ওদের বালিগঞ্জে বাড়ী, চার-পাঁচ দিন হলো এই এলাকায়। ডাক নাম মামণ, অন্তত তার মা তো তাকে সেই নামেই ডাকছিলেন।
    ওপাশে আরেকটি দল, কি ভাগ্য করেই এসেছেন, হলং এর বনবাংলো তে ২দিনের জন্য আস্তানা গাড়ার সুযোগ পেয়েছেন। গত সন্ধ্যায় জানালার পাশে বসে কি কি জন্তু দেখেছেন, তার গপ্পো শোনাচ্ছেন। হেব্বি হিংসে হলো, নাহ ও গল্প শুনবো না।
    আবার একটা হৈচৈ। তবে এবার খুব তাড়াতাড়িই সেটা বদলে গেল ফিসফিসানি তে। একটা বাইসন দেখা যাচ্ছে দূরে। দর্শকদের সবাইকে বলা হলো মাটিতে বসে পড়তে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বন্ধ করতে। মুহুর্তে পুরো পিকনিকের মেজাজ উধাও, সবার নিঃশ্বাসের শব্দই শুধু শোনা যাচ্ছে, আর মাঝে মাঝে ক্যামেরার শাটারের আওয়াজ। জঙ্গলের থেকে উঁকি মারছে আরও বাইসন – একটা, দুটো, তিনটে, চারটে...
    কে আবার ক্যাদ্দানি করে ফ্ল্যাশ মেরে দিল একটা। ব্যাস, বাইসনের দল সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েছে। ফিসফিস করেই যতটা গালি দেওয়া যায়, দেওয়া গেল সেই ভোগাস-ভন্ডুলি কে। যাই হোক, মিনিট দুয়েকের মধ্যেই বাইসনেরা ভয় কাটিয়ে এগিয়ে এলো, ছবি-তোলন-প্রয়াসী দেরও মুখে হাসি ফুটলো।
    জঙ্গলযাত্রা আজকের মতো শেষ। সূর্য অস্ত গেছে, চারদিকে ঝিঁঝিঁ ডাকা শুরু হয়েছে। চারদিকের সবুজ রঙে কালো কালো ছোপ ধরেছে, ধীরে ধীরে সেই ছোপ গুলো গাঢ় হবে, শেষে পুরো জঙ্গলটাই চলে যাবে অন্ধকারের চাদরের তলায়। এদিকে আমাদেরও ডাক দিচ্ছে জয়বীরপাড়ার কোয়ার্টার, চা গাছের হালকা গন্ধ, Bonfire এর আমেজ, মাঝে শুধু একবার থেমে সন্ধ্যের জ্বালানি তুলে নেওয়া বাকি !!

    [চলবে]
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ২০:০৭636621
  • “তেলেনাপোতা আবিষ্কার” (পঞ্চম পর্ব)
    আজ জয়বীরপাড়া ছেড়ে চলে আসবো। পরের গন্তব্য বক্সা-জয়ন্তী।
    এদিকে সাতসকালে উঠে তৈরী হওয়া নিয়ে গুঁতোগুঁতির পুনরাবৃত্তি।
    ‘আমার দেরী হবে, তোমরা বেড়িয়ে যাও, আমি পরে বাস-ট্রেন যা হোক ধরে চলে যাচ্ছি’
    ‘হুঃ তাহলে যেন আমাদের আগে পৌঁছবে !’
    ওদিকে গাড়ী এসে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক হাঙ্গামার পরে মোটামুটি এক-দেড় ঘন্টা দেরীতে বেরোলাম আস্তানা ছেড়ে। মালপত্তর সব গাড়ীর পেছনে ভরে, পথে আবার নামো সাথী।
    .
    কাল-পরশু রোদের দেখা মেলেনি, কিন্তু আজকে মেঘের আড়াল থেকে সূয্যিমামার মুচকি হাসি দেখা যাচ্ছে। তার সঙ্গেই নিজেদের সব মনোমালিন্য উধাও। ড্রাইভার রামদা ও সুযোগ বুঝে গান চালিয়ে দিয়েছে।
    ‘এই তোমার চিকনি চামেলী থামাও তো’ আমি আমার মোবাইল থেকে চিপ টা খুলে দিলাম।
    .
    গাড়ী ততোক্ষণে জয়বীরপাড়া ছাড়িয়ে জাতীয় সড়কে পড়েছে। দূরে ভুটানের পাহাড় উঁকি দিচ্ছে, পেছনে পড়ে থাকলো মাদারিহাটের জঙ্গল, হাসিমারার বাজার; গাড়ী ঢুকলো কালচিনির রাস্তায়। গাড়ীর মিউজিক সিস্টেমে বাজছে ‘আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি’।
    সুন্দর সাজানো ছবির মতো রাস্তা ধরে গাড়ী চলছে, হ্যামিল্টনগঞ্জের কাছে এসে লেবেল-ক্রসিং এ দাঁড়াতে হলো। কুঝিকঝিক করে চলে গেল লাল-নীল-সাদা রং এর ডেমু। সেটাও ঠিক ছবির মতোই।
    এর পরের স্টপেজ রাজাভাতখাওয়া। সেখান থেকেই বক্সাতে ঢোকার জন্য কাগজপত্র বানিয়ে নিতে হলো। কাল বক্সা থেকে নেমে আসবো, সে সময় আমাদের পিকআপ করার জন্য অটো ও ঠিক করা গেল একটা।
    .
    রাজাভাতখাওয়া থেকে কয়েক কিমি দূরে জয়ন্তী। ওপাশে পাহাড়, জঙ্গল তার আগে একটা নদীর শুকনো খাত। বৈশাখ মাসে হাঁটু জল থাকে কিনা জানি না, পৌষ মাসে গোড়ালি টুকুই ভিজছে। প্রায় নেই হয়ে যাওয়া স্রোত লাফ দিয়ে ডিঙ্গিয়ে এগোলাম জঙ্গলের দিকে। মুঠোফোনে নেটওয়ার্কের ‘ন’ ও নেই।
    .
    জঙ্গলের নিজস্ব একটা শব্দ আছে। কয়েকহাজার ছোট ঘন্টা যেন কানের কাছে মিহিসুরে বেজে চলেছে। শাহরিক রা সে শব্দ শুনতে পায় না, জাঙ্গলিক রা অভ্যাসের দরুণ সে ডাক বুঝতে পারে না। কিন্তু জঙ্গল যদি কখনো কোনো শাহরিক কে একা পায়, দুর্বোধ্য ভুডু মন্ত্রের মতো সে শব্দ তাকে আকর্ষণ করতে থাকে। জঙ্গল তাকে ডেকে চলে, এসো, শুকনো পাতার ওপর হেঁটে এসে দেখো, দেখো চাঁদনী রাতে জঙ্গলের এক প্রান্তে নাচে মেতেছে খরগোষের দল, চাকভাঙ্গা মধু খেয়ে মাতাল হয়েছে ভাল্লুক, অর্জুনগাছের নীচে নিজের শেষ কয়েকটা নিঃশ্বাস নিচ্ছে বুড়ী শেয়াল। এসো এই মধু তোমার প্রাপ্য, এই নাচ তোমার প্রাপ্য, এই মৃত্যু তোমার প্রাপ্য। এখানে হিংসা আছে, ঈর্ষা নেই; জরা আছে, মৃত্যু আছে, শঠতা নেই। এসো, ভাল যদি নাও হতে পারো, অন্ততঃ সহজ হও।
    .
    হঠাৎ সম্বিত ফিরলো অবিনদার ডাকে। ‘সভ্যতার সঙ্গে আবার সম্পর্ক স্থাপন করেছি’- কোনো জায়গা থেকে ফোনের নেটওয়ার্ক পেয়েছে নির্ঘাত। আমি এই কটা দিন বেশ আনন্দে ছিলাম, ফোনে সিগন্যাল ছিলোনা বললেই চলে, এরকম বেড়াতে এসে আমার কাছে মোবাইল একটা বাড়তি ঝঞ্ঝাট। এসব এখানেই লিখছি, অন্য কেউ শুনলে সেকেলে, গাঁইয়া, আঁতেল কতকিছু ভাবতে পারে !!
    .
    যে পথে এসেছিলাম, সেই পথেই ফেরা। ফেরার পথে নদী ডিঙোতে গিয়ে জিষ্ণু বাবাজীবনের প্যান্ট, জুতো ভিজে একশা। শান্তনুদা কে একটা কুকুরী তাড়া করেছিল, আমার মনে হয় লাইন মারছিল।
    .
    জয়ন্তীতেই একটা হোটেলে হাল্কা করে কিছু খেয়ে নেওয়া গেল, আমার প্রচুর বকাবকির ফলে বাকিরা পেটপুরে খাওয়ার জেদ ছাড়লো। এরপর গাড়ীতে করেই সান্থালাবাড়ী। সেখান থেকে পাহাড়ী রাস্তায় কয়েক কিলোমিটার হেঁটে লেপচাখা। সঙ্গে বেশ মালপত্র আছে, শেষবার ট্রেক করেছি আট বছর আগে, জানি না কি হবে !! বাকিদের শরীরের অবস্থাও সুবিধের মনে হচ্ছে না, এদিকে লেপচাখার প্ল্যানটা আমারই, কেস ভন্ডুল হলে সব খিস্তিবাণ আমার দিকেই ধেয়ে আসবে ফর শিওর।
    .
    এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই সান্থালাবাড়ী। পাথেয় হিসেবে জল, বিস্কুট, কেক, চিপস, বাতাসা, সিগারেট, চ্যুইং গাম জোগাড় করে নিয়েছি। বাতাসা কেনার সময় জিষ্ণু জিজ্ঞেস করেছিল বাতাসা কি হবে, বলেছিলাম বক্সার পাশে একটা মহাকালের মন্দির আছে, পুজো দেবো।
    .
    সান্থালাবাড়ী থেকেই একজন গাইডকে পাওয়া গেলো, রামু। চারশো টাকার বিনিময়ে সে আমাদের লেপচাখা অবধি পৌঁছে দেবে। এবার ড্রাইভার রামদা কে বিদায় দিয়ে ‘আমাদের যাত্রা হলো শুরু’। শুরুর আগেই শান্তনুদা এমন একটা ডাক ছাড়লো, তাতে ওর ষাট ভাগ এনার্জি কমে গেল, নো ডাউট।
    ..
    [সেই ছয় কিলোমিটার হাঁটাপথে কিভাবে দুএকজন মারা যেতে বসেছিলেন, রামু আমাদের কিভাবে ঠকালো সেসব পড়ুন পরের পর্বে]
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২২ মে ২০১৪ ২০:০৮636622
  • “তেলেনাপোতা আবিষ্কার” (ষষ্ঠ পর্ব)

    “এই আমার শিক্ষা হয়ে গেল, আগে থেকে ভালভাবে সব না জেনে আর কোথাও ঘুরতে আসবো না”
    হাপরের মতো হাঁপাতে হাঁপাতে কোনোরকমে এই কয়টা কথা বললো জিষ্ণু। মুখচোখ দেখে মনে হচ্ছিল এই বুঝি শেষ কয়েকটা নিঃশ্বাস পড়ে যাবে। আমি টেনশনে পড়ে গেলাম সত্যি সেরকম কিছু হয়ে গেলে এত বড় লাশ টা নামাবো কি করে নীচে !
    .
    সান্থালাবাড়ী থেকে বক্সা-র পথে একটা চায়ের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছি। সত্যি বলতে কি, এরকম একটা রেস্টিং প্লেস না থাকলে আমাদের চারজনের মধ্যে দু-এক জনের রেস্ট-ইন-পীস অবস্থা হয়ে যেতো।
    যাত্রার শুরুটা ঠিকঠাকই ছিল, শালবনের মধ্যে দিয়ে ক্রমশ উঠে যাওয়া বাঁধানো রাস্তা, সবার মধ্যে টগবগে এনার্জী। ঝামেলার মধ্যে শুধু প্রত্যেকের পিঠে একটা করে ভারী ব্যাগ। পরে থাকা সোয়েটার, জ্যাকেট গুলো ও ধীরে ধীরে ঠাঁই নিচ্ছে আর ব্যাগ গুলো আরো পেটমোটা হচ্ছে। জিষ্ণু কোত্থেকে জানিনা একটা ব্যাগ কুড়িয়ে এনেছে, যার চেন ছিঁড়ে যাচ্ছে, ফিতে খুলে যাচ্ছে। এমনিতেই সকাল থেকে ঝিমোচ্ছিল, এই ব্যাগের দয়ায় প্রথম কয়েক মিনিট হেঁটেই হাসফাঁস শুরু করেছে ছেলেটা।
    .
    কিছুক্ষণ পর থেকে সবারই সমস্যা শুরু হলো, এক তো গাইড বাবাজী লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সবারই দম ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর চড়াই এর কোনো শেষ নেই, এমনকি সামান্য সমতলও কোথাও নেই। শান্তনুদাও নেতিয়ে আসছে, খালিখালি ওর নিজের বয়েস মনে পড়ে যাচ্ছে, অবিনদা শক্ত মুখ করে হেঁটে যাচ্ছে, আমারও করুণ দশা, কিন্তু যাই হোক না কেন, আমার প্ল্যান, কাজেই আমায় বাহাদুর তো সাজতেই হবে।
    হঠাৎ আমাদের গাইড বললো, আমাদের যদি পোর্টার লাগে, তবে সামনে একজন আসছে, তাকে নেওয়া যেতে পারে। আমরা সবাই রাজী ছিলাম, কিন্তু সেই মুহুর্তে শান্তনুদার বিবেক জেগে উঠলো," আমরা নিজের নিজের ব্যাগ বইতে হিমশিম খাচ্ছি আর এই একটা ছেলে অতোগুলো ব্যাগ বইবে !! এতোটা নিজেরাই বয়েছি বাকিটাও বয়ে নেব। " আমাদের চোখের সামনে দিয়ে পোর্টার নেমে চলে গেল।
    .
    কিছুক্ষণ পরেই বোঝা গেল কত বড় ভুল হয়ে গেছে, এতক্ষণ ঘাম ঝরিয়ে, হাঁপ ধরিয়ে আমরা না কি মাত্র এক কিলোমিটার এসেছি, আরো পাঁচ কিলোমিটার যেতে হবে। এই শুনেই সবার মাথায় হাত পরলো।
    .
    দাঁতে দাঁত চেপে উঠছি, জিষ্ণু ক্রমাগত আমার চোদ্দ গুষ্টি তুলে খিস্তি করে যাচ্ছে, বাকিরাও নিশ্চয় মনে মনে করছিল, মুখে বলেনি। তার পরের রাস্তা তো আরো খাড়াই, এতোক্ষণ পাকা রাস্তা ছিল, এখন শুধুই মাটি-পাথর, আমার তো একবার পা মচকাতে গিয়ে মচকালো না। আমি সকালে কিনে আনা বাতাসা সবাইকে দিলাম, এরকম খাটনির সময় বাতাসা মুখে রাখলে কিছুটা এনার্জি মেলে। শ্বাসকষ্ট থেকে কিছুটা রিলিফ পেতে নাকের পাশে অমৃতাঞ্জন লাগিয়ে নেওয়া হলো, কিন্তু ‘ক্রিমিনাল কেস’-এর চেয়েও দ্রুতগতিতে আমাদের এনার্জী শেষ হয়ে যাচ্ছিল, অবিনদা সিগারেট ধরাতে চাইছিল, আমি অনেক কষ্টে নিরস্ত করলাম।
    .
    শেষমেশ তিন কিলোমিটারের মাথায় এই চা-এর দোকান, সামনে একটা প্রশস্ত উঠোন, তাতে বেঞ্চ পাতা। বসেই মনে হলো যেন অরগ্যাজমিক সুখলাভ করলাম। জিষ্ণুও কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। পাশের পাহাড়ের আড়ালে সূর্য ঢাকা পড়েছে, বাগানের গাছে রঙ-বেরঙ এর ফুল, হালকা হাওয়ায় ঘামে জবজবে শরীরে কাঁপন ধরাচ্ছে। অবিনদা চনমনে হয়ে ছবি তুলছে একের পর এক। একটু পরেই ধূমায়মান কাপে চা হাজির হলো, চা-এর আমেজের সাথে সিগারেটের ধোঁয়া মেখে বেশ ফুরফুরে লাগা শুরু হলো।
    .
    ততক্ষণে আমাদের গাইড রামু কোত্থেকে একজন পোর্টারকে ধরে এনেছে। ততোক্ষণে শান্তনুদাও বুঝে নিয়েছে গোয়ার্তুমি করে লাভ নেই, তার পিঠে তিনখানা ব্যাগ ঢুকে গেল, তবে একটা ব্যাগ আমাদেরই পালা করে নিতে হবে। রামু হঠাতই ‘পোর্টারই আপনাদের লেপচাখা পৌঁছে দেবে, আমি চললাম’ বলে টুক করে কেটে পরলো, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই। ‘দাঁড়া ফেরার সময় ওর নামে রিপোর্ট করে দেব’।
    .
    সে যাই হোক, আমাদের পোর্টার(নাম ভুলে গেছি) আমাদের তুর্কী নাচন দেখিয়ে ছাড়লো। পিঠে অতো ভারী বোঝা নিয়েই পাঁইপাঁই করে এগোচ্ছে, আমরা ওর সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে হাঁসফাঁস করে যাচ্ছি, সে শুধু বলে চলেছে ‘লেট হো যায়েগা, লেট হো যায়েগা’।
    এক জায়গায় রাস্তা ছেড়ে শটকার্ট করতে গিয়ে যেখান দিয়ে নিয়ে গেল, আমার আর অবিনদার সেখানে উঠতে গিয়ে মোটামুটি পূর্বজন্মের পাপ মনে পরে যাচ্ছিল। আমাদের তরুণ তুর্কী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ দুই সদস্য শর্টকাটের ঝুঁকি নেয়নি।
    আমরা বারবার ছেলেটাকে বলছি এতো তাড়াতাড়ি যেতে আমরা পারবো না, কিন্তু তার বাঁধা বুলি- লেট হো যায়গা। একবার তো রেগেমেগে অবিনদা ধর ধর বলে ছুটে গেল, এই বুঝি ধস্তাধস্তি লেগে যায়, যাই হোক, হাত থাকতেও যুদ্ধ টা মুখেমুখেই মিটে গেল। বক্সা ফোর্ট পেরিয়ে এগিয়ে গেলাম, এখানে কাল ফেরার পথে আসা হবে।
    .
    অবশেষে পোর্টারকে খিস্তি দিতে দিতে পৌঁছে গেলাম পথের শেষে। কয়েক পা দূরের একটা গ্রামের বুক চিরে মেঠো রাস্তা চলে গেছে, পোর্টার বললো ওটাই আমাদের গন্তব্য, পথের প্রান্তে সুদূর গাঁ লেপচাখা। চারদিক ঢালু হয়ে নেমে গেছে, ওপরে টেবিলের মতো চাতালের ওপর লেপচাদের ছোট্ট গ্রাম। সূর্যাস্ত হয়েছে, এখানে ইলেকট্রিক এখনো এসে পৌঁছয়নি, তাই ঝুপ করে অন্ধকার, না নামছে না, নীচের থেকে উঠে আসছে। সামনে একটা ছোট মনাস্ট্রী, তার সামনে সুন্দর খোলা জায়গা, ইচ্ছে হলো সেখানেই বসে পড়ি, কিন্তু তার আগে শরীরের থেকে ক্লান্তির বোঝা টা হালকা করা দরকার। গ্রামের এককোণে তেন্ডু ডুকপার বাড়ী, তার বাড়ীতেই আজকে রাতে অতিথি হবো, আগের থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা ছিল।
    .
    . [হয়তো আগামী সংখ্যায় সমাপ্য]
  • দেব | 135.*.*.* | ২৩ মে ২০১৪ ১৮:১৭636623
  • পড়ছি
  • শ্রী সদা | 127.*.*.* | ২৩ মে ২০১৪ ২২:৫৬636624
  • আমি ও।
  • শুভদীপ | 130.*.*.* | ২৭ মে ২০১৪ ০১:৫৪636625
  • পড়ে জানাবেন।
  • শুভদীপ | 212.*.*.* | ১০ জুন ২০১৪ ২১:৪৯636616
  • “তেলেনাপোতা আবিষ্কার” (সপ্তম পর্ব)

    “নাহ, এতক্ষণ তোকে গালাগাল দিচ্ছিলাম বুঝলি, কিন্তু এখানে পৌঁছে মনে হচ্ছে সত্যি যদি রাস্তা থেকে ফিরে যেতাম, অনেক কিছু মিস হয়ে যেত”
    এখানকার বরফঠান্ডা জলে হাত-পা ধুয়ে নিতে না নিতেই শরীরের টনটন-কনকন সব উধাও। এবার চলছে ক্লান্তি দূর করার জন্য বিয়ার-পর্ব। ভুটানী বিয়ারটা দিব্যি খেতে, আর সঙ্গে এদের বাড়ীতে বানানো পর্ক মোমো, আহহ এটাই যেন স্বর্গ, এখানে আসার জন্যই মহপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছিলেন পান্ডব ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং। “এই মোমো শেষ, ঐ ছেলেটাকে বল এক প্লেট ডিম ভুজিয়া যদি পাওয়া যায়”
    “আহ ছেলেটাকে কেন, ঐ মেয়েটাকে বলো না ! খুব মিষ্টি মেয়ে, চোখেমুখে কেমন একটা তেজ”
    “হুহ এতক্ষণ তো হাঁটারই শক্তি ছিল না, একটা মেয়ে দেখে চুলকুনি শুরু হয়ে গেল !!”
    “আমি তো চির-যুবক”
    এই গ্রামের চার-পাঁচটা বাড়ী তে এই হোমস্টের ব্যবস্থা আছে। বাড়ীগুলো কাঠের, কাঠের কাঠামোর ওপর একটু উঁচুতে বাড়ী। আমরা যে অংশে আছি, সেটার দেওয়াল-মেঝে দেখে মনে হচ্ছে এই অংশটা নতুন বানানো, আমাদের মতো আগন্তুকদের মাথা গোঁজার জন্যই। আমাদের দুটো ঘর দিয়েছেন এনারা। এক রাতের ভাড়া পারহেড ২৫০টাকা। এখানে এখনো ইলেকট্রিকের কোনো ব্যবস্থা নেই, তবে সব বাড়ীতেই সোলার প্যানেল লাগানো রয়েছে, তাই দিয়েই টিমটিম করে একটা বাতি জ্বলছে। সেই আবছা আলোতেই কোনো রকমে টুয়েন্টি নাইন খেলা শুরু হলো। [এই তাস খেলা নিয়ে গতরাত্রে আমি কি লেভেলের নাটক করেছিলাম, সেটা আর বললাম না] আমার আর জিষ্ণুর কম্বো এই প্রথম একটা সেট দিলাম ওদের। সেট দেওয়ার পরই আমি জড়ানো গলায় বললাম, আর খেলবো না, এবার বাইরে যাবো। শান্তনুদা ল্যাদ খেয়ে বা ডুকপা-তনয়ার দর্শনের আশায় আর বেরোল না।
    লেপচাখার ঠিক মাঝখানে একটা ছোট মনাস্ট্রী, তার পাশে একটা ছোট দোকান। ছোট হলেও সে বিগবাজারের বাপ, সেখানে বিস্কুট, ডিম থেকে সিগারেট মদ সবই পাওয়া যায়, এবং একখানা টেলিফোন বুথও আছে। বাকী দুজন তাদের মা-বাবা, প্রাক্তন-বর্তমান আর হবু প্রেমিকা, প্রাক্তন প্রেমিকার সুন্দরী ননদ ইত্যাদিদের ফোন করার চেষ্টা করে গেল। আমি মনাস্ট্রীর পাশে ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়ালাম এসে। নীচের অন্ধকার উপত্যকায় জোনাকীর মতো আলো জ্বলছে এখানে ওখানে। আকাশটা অনেক কাছে এসে গেছে, পরিষ্কার মেঘমুক্ত আকাশ, তার কালো শরীরে কে যেন জড়িয়ে দিয়েছে চুমকীদার ওড়না, তারা গুলো বেড়ালের চোখের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে, আকাশের একপাশে একফালি চাঁদ ঝুলে আছে। খাদের পাশে একটা কাঠের বেঞ্চে বসে একটা সাদাকাঠি ধরালাম। এই অন্ধকারেও বুঝতে পারছি ধোঁয়াগুলো পাক খেতে খেতে উঠে যাচ্ছে আরও ওপরে। যেদিকে পিঠ করে বসে আছি, সেদিকেই কয়েক কিমি পরে ভুটান পাহাড়। এই লেপচাখায় ভুটানি নোট পাওয়া যায়, ভুটানি মদ পাওয়া যায়, লোকজনের ঘরে ভুটান রাজার ছবিও আছে, এখানকার লোকজন কি পরোয়াও করে, সীমান্তের আঁচড়ে তারা কোন দেশে পড়ে গেছে ! বাংলাদেশ সীমান্তে রাধিকাপুরে গেছিলাম একবার, পাশাপাশি দুটো গ্রাম, একসঙ্গে ঈদ-লক্ষ্মীপুজো-চড়ক-তাজিয়া নিয়ে ছিল, হঠাৎই কোনো এক সকালে জানতে পেরেছিল, আজ থেকে তারা দুটো আলাদা দেশ, শুধু আলাদা নয়, শত্রু দেশ। এই গ্রাম থেকে চিঠি ওই গ্রামে পাঠাতে হলে সেই চিঠি যাবে লন্ডন বা দুবাই, সেখান থেকে ঘুরে যাবে পাকিস্তান। তারপরে স্বাধীনতার যুদ্ধ হলো, ঐ গ্রাম থেকে লোকজন পালিয়ে এসে আশ্রয় নিল এপারে, ওপারে নতুন দেশ হলো। কিন্তু কাঁটাতার দিয়ে কি দুটো পাশাপাশি গ্রামকে আলাদা করা যায় ! বার্লিন-দেওয়াল পেরেছিল ? পেরেছিল দক্ষিণ ভিয়েতনাম ? অনুপ্রবেশ-অনুপ্রবেশ করে চেঁচিয়ে একটা জাতির মধ্যে আদানপ্রদান বন্ধ করা যাবে ?? মনে হয়না।
    এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই দেখি দুই মক্কেল ফিরছেন, কারো সাথেই ফোনালাপ সারতে পারেনি বিশেষ, সেই আহ্লাদে হাতে দুটো বিয়ারের বোতল। ভুটানী বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে এতক্ষণের ফীলিং গুলো শেয়ার করছিলাম। জিষ্ণু বলে উঠলো, ‘শাব্বাস, সেই সোয়াশো বছর আগে বিবেকানন্দ কন্যাকুমারীতে গিয়ে দেশের কথা ভেবেছিল, আর এই পাহাড়ে বসে তুই ভাবলি।’ ‘সেটাই’ আমি বিয়ারে মনোনিবেশ করলাম।
    ফেরার পথে দেখি এখানকার ‘বিগ বাজার’এর পাশে কাঠ জড়ো করে আগুণ করা হয়েছে। হাত পা একটু সেঁকে নেওয়ার লোভটা সামলানো গেল না। আমরা আলোচনা করছিলাম এই আগুণে জিষ্ণুকে বার্বিকিউ করলে কেমন দাঁড়াতে পারে ব্যাপারটা। পাশে আরেক বাঙালী ট্যুরিস্ট পার্টি, একজন বেশ হাত নেড়ে নেড়ে বিবরণ দিচ্ছেন। কান পাততেই বোঝা গেল ব্যাপারটা, বক্সার জঙ্গলে দুকিমি দূর থেকে গাছের ওপর লেপার্ড দেখেছেন, মাত্র এক মিটার চওড়া দিয়ে হেঁটেছেন, একটু পা হড়কালেই অতল খাদ, ইত্যাদি প্রভৃতি। জিষ্ণু জিজ্ঞেস করলো, ‘শুনছিস’। ‘তুইও শুনে রাখ, ঘুরতে যাওয়ার ডেসক্রিপশনে সব সময় রুল অফ থ্রী অ্যাপ্লাই হয়, তাই বাড়িয়েই বলতে হয়। তুই যদি বলিস গন্ডারের পাল, হাতীর ঝুন্ড, বাঘের জোড়া দেখেছিস, তবেই লোকজন মানবে যে হ্যাঁ হয়তো দুটো একটা জন্তু দেখে থাকতেও পারিস, বুঝলি ?’
    তখনও ভ্রমণকাহিনী চলছে একই রকমের হাত পা নেড়ে, আমরা কোনোমতে হাসি চেপে উঠে পড়লাম। রাত হয়েছে। রাতে চিকেনকারী আর রুটি দিতে বলা হয়েছে। খেয়ে দেয়ে ঘুম দিতে হবে ভালমতন।
    “হ্যাঁ, শান্তনুদাও বেঁচে আছে কি না দেখতে হবে, বলা যায় না ডুকপা কন্যাকে ঝাড়ি মারতে গেল আর ওরা কেটেকুটে টুম্পাকারী বানিয়ে রেখে দিল”
    “টুম্পাকারী !! হাঃ হাঃ হাঃ”

    [এই পর্বে শেষ করা গেল না, তবে ঘোরাঘুরি প্রায় শেষ, অষ্টম পর্বটিকে এপিলগ ধরে নিলে আপত্তি নেই]
  • শুভদীপ | 212.*.*.* | ১০ জুন ২০১৪ ২১:৫১636617
  • “তেলেনাপোতা আবিষ্কার” (শেষ পর্ব)

    পরদিন ঘুম ভাঙলো যখন, ততক্ষণে সকাল হয়ে গেছে, লেপচাখা থেকে সূর্যোদয় নাকি খুবই সুন্দর দেখা যায়। অতোগুলো বিয়ার, পেটপুরে চিকেনকারী(হ্যাঁ চিকেনকারী, শান্তনুদাকে অক্ষত অবস্থাতেই পেয়েছিলাম) আর অনেকরাত অবধি পুরুষতান্ত্রিক গল্পগুজবের চোটে সেই সানরাইজ মিস করলাম। যাইহোক, মুখে ব্রাশ নিয়েই বেরোলাম। বুঝলাম খুব একটা মিস করিনি, আজকের আবহাওয়া এমনিতেই মেঘলা, বেশ ঘন কুয়াশা, লেপচাখা থেকে অনেক দূর অবধি না কি ভিউ পাওয়া যায়, সেটা আর ভাগ্যে জুটলো না।
    ফিরে এসে দেখি গৃহকর্তা তেন্ডুবাবু একখান গুনছুঁচ জোগাড় করে জিষ্ণুর ব্যাগটা সেলাই করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আমার এখন সন্দেহ হয় জিষ্ণু হয়তো ওনাকেও জিগ্যেস করেছিল লেপচাখায় আমেরিকান ট্যুরিস্টারের আউটলেট আছে কিনা, সেটা শুনেই মনে হয় লজ্জায় নিজেই ব্যাগ মেরামতির চেষ্টা করছিলেন।
    রুটি-আলুভাজা পেটের ট্যাঙ্কে পুরে নিয়ে ডুকপা-পরিবারকে বিদায় জানালাম। এবার নামার পালা, সোজা রাস্তায় নামা, কাজেই গাইড বা পোর্টারের দরকার পড়লো না। শুধু সবাইকে বলে দিলাম, উৎসাহের চোটে দৌড়ে দৌড়ে নেমো না কেউ, যদি না মুখ থুবড়ে পড়তে চাও।
    নেমে আসছি কালকের পথ বেয়েই, কাল বিকেলে পোর্টারের রুদ্ধশ্বাস দৌড়ের চোটে যে নৈসর্গিক সাজসজ্জা গুলো উপভোগ করতে পারিনি, সেটুকু বিদায়বেলায় যেন উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতি। ছোট পাহাড়ি পথ লাল-নীল-বেগুনি-হলুদ ফুলের পাপড়িতে ঢাকা পড়েছে, এক জায়গায় একটা বিরাট বড় গাছ ভেঙে পড়ে আছে, কোথাও একটা ফাঁপা গাছের গুঁড়ি। একটা ছোট ঝরনা, কাঠের সাঁকো, দূরের পাহাড়, ঘরবাড়ী, নদী এসব কিছু দেখতে দেখতেই পৌঁছে গেলাম বক্সা ফোর্টে। ভুটান রাজার তৈরী দুর্গ, যেটা বৃটিশ আমলে হয়েছিল রাজবন্দীদের কারাগার। রাজবন্দীদের উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঠানো চিঠি খোদাই হয়ে রয়েছে ফলকের গায়ে। এই ঐতিহাসিক ইমারতের কোনায় কোনায় দেশপ্রেম, শাসক ইংরেজের অত্যাচারের পাশাপাশি ছাপ রয়েছে স্বাধীন ভারতের অবজ্ঞা-অবহেলারও। পাশেই একটা বুড়োগাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে কে জানে কবেকার স্মৃতি বুকে নিয়ে...
    নেমে আসছি, দেখি শান্তনুদা এক প্রৌঢ় দম্পতির সঙ্গে বেশ হেসে হেসে গল্প করছে। কি ব্যাপার, না সে মহিলার মামার বাড়ী পিংলা থানার অমুক গ্রামের তমুক অঞ্চলে, সে তমুক অঞ্চলের পাশের নদীতে শান্তনুদা স্কুলে পড়াকালীন সাঁতার কাটতে যেতো। “নির্ঘাত মেদিনীপুর-জিপিএস গোছের কিছু তৈরী হয়েছে, এক কিমি দূর থেকে এরা বুঝে নিচ্ছে কে আমার দেশোয়ালী ভাই-বোন”
    আমি ঘাড় নেড়ে সায় দিলাম।
    ফেরার পথে সেই চা-এর দোকানের পাশে দেখি এক ভদ্রলোক, বয়স পঁচাত্তরের নীচে হবে না, একটা লাঠি আর তার মেয়েকে সঙ্গে করে চলেছেন বক্সার পথে। খুব বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন বলে মনে হলো না।
    “জিষ্ণু শেখ রে কিছু, দাদু এই বয়সে এভাবে উঠছেন, আর তোর জোয়ান রক্ত, বাচ্চা সিংহের সাথে লুকোচুরি খেলার স্ট্যামিনা, সব এই পাহাড়ে উঠতেই ফুস !!”
    জিষ্ণুকে উদ্দেশ্য করে বলা বটে, কিন্তু মোটামুটি আমাদের সবারই সমস্যা এটাই। এক্সারসাইজ করে ফিটনেস বাড়ানোর রেজোলিউশন নিয়ে ফেললাম সবাই। আবার পাহাড়ী পথ বেয়ে নামা শুরু। দেখছি নীচ থেকে অনেকে মাথায় মালপত্র নিয়ে ওপরে উঠছে, কি নেই তাতে, চাল, ডাল, তেল, সব্জী। তেন্ডু ডুকপার ছেলের সঙ্গে দেখা হলো, সে পিঠে একটা এলপিজির সিলিন্ডার নিয়ে উঠছে, বললো নীচে আজ হাটে খরিদ্দারির দিন ছিল, সকালে ও ডিম, মাংস নিয়ে বেচতে এসেছে, এখন মালপত্র সওদা করে ফেরত যাচ্ছে। এদের জীবন আর জীবনসংগ্রাম নিয়ে নেতারা ভাষণ দেবেন, আমরা শুধু একটা লাল সেলাম ঠুকে চলে এলাম – ‘যে যেখানে লড়ে যায়, আমাদেরই লড়া’
    প্রায় পৌঁছে গেছি সান্থালাবাড়ী, আরও অনেক বক্সাভ্রমণ-লোভী দের দেখা মিললো। সে প্রায় এক রঙিন ট্যুর কার্নিভাল। একদল আমাদের ঘিরে ধরলো, কতদূর গেছিলাম, কতদিন ছিলাম এইসব। কাল বক্সা অবধি যাওয়ার অভিজ্ঞতা শুনে তিনচারজন সেখানেই যাত্রায় ভঙ্গ দিয়ে ফিরে এলেন, দেখতে পেলাম।
    সান্থালাবাড়ীতে চা-ঘুগনি-কেক দিয়ে পেটের জ্বালা জুড়িয়ে নিচ্ছি, কাল যে অটোখানা ঠিক করলাম তার টিকিরও দেখা নেই। তবে আজ এখানে ট্যুরিস্টদের ভীড়, আরেকটা অটো পেতে সমস্যা হলো না মোটেই। এবার সেই রাজাভাতখাওয়ার পথ ধরেই ফেরা, যেতে হবে নিউ আলিপুরদুয়ার জংশন। অটোকাকাও রসিক লোক, “ঠিক যেন আমাদের গগিদা !!” আমিও সায় দিলাম। “নাহ আমাদের গগিদার তুলনা হয়না কারো সঙ্গে”। হবেওবা, আমি আবারও সায় দিলাম, এতদিন হুবাই তর্ক করে আর ঢপের জ্ঞানবন্টন করে করে আমি ক্লান্ত।
    স্টেশনের পাশেই একটা হোটেলে দুপুরের খাওয়া সেরে নেওয়া গেল। এতক্ষণ বেশ একটা ট্যুরিস্ট ট্যুরিস্ট ফীলিং হচ্ছিল, এখন ঘরে ফেরার পালা, সবাই যে যার পুরোনো মেজাজে ফিরে গেছে। ভাতের পরেই একটা করে সিগারেট জ্বলে উঠলো চার জোড়া ঠোঁটে। ভাতের পরের এই সিগারেটটার তুলনা হয়না। কে যেন বলেছিল ‘আমি তো ভাত খাওয়ার পরে সিগারেট খাই না, সিগারেট খাওয়ার জন্য তার আগে ভাত খাই’।
    স্টেশনে ঢুকে দেখি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস। জায়গা করে বসতে না বসতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। চারমূর্তির ডুয়ার্স অভিযানের প্রায় শেষ লগ্ন উপস্থিত। ফ্ল্যাশব্যাকে ভাসছে অরণ্যের দিনরাত্রি, দুলি এসে পড়লে সত্যি হয়তো একটা টেলিফিল্মের স্ক্রীপ্টও হয়ে যেত, অপর্ণা বা তার বৌদি তো পাদপূরণে খলু মাত্র, এসব হিজিবিজি ভাবতে ভাবতে হঠাৎ হাসিই পেয়ে গেল।
    ট্রেনে ভীড় বাড়ছে। একটু বাদেই এনজেপি, সেখানে এরা তিনজন নেমে যাবে, ওদের কলকাতার ট্রেন ভোররাতে, আমি যাব বারসই হয়ে রায়গঞ্জ। চারজনের কেউ চ্যাটিং এ ব্যস্ত, কেউ ঘাড় বাঁকিয়ে দেখে নিচ্ছে পেছনে ফেলে আসা সর্ষেক্ষেত, কেউবা চোখ বুজে রয়েছে, আমি বেশ বুঝতে পারছি আমার জঙ্গলের হ্যাংওভার এখনো কাটেনি, কারোরই কাটেনি, সহজে কাটবেনা। এই তিনজনের সঙ্গে তো অনেক সময় কাটিয়েছি শহর কলকাতার চেনা চেনা রাস্তায়-ঠেকে-তৃপ্তি-তন্দুর পার্ক-কফি হাউসে। কিন্তু শহর কলকাতার থেকে কয়েকশো কিমি দূরে চাবাগানের আলোছায়ায়, ঝিঁঝিঁর একটানা সারেগামায়, পাহাড়ি ঠান্ডা হাওয়ায়, ভুটানি বিয়ারের মাদকতায়, খুনসুটি-ঝগড়াঝাঁটি-হাসিকান্নায় এরাই নতুন করে সহজরূপে ধরা দেয়। এই আপাতচেনা শাহরিকদের মধ্যেই ঘটে যায় নতুন সম্পর্কের এক ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন