হিন্দু ও হিন্দুত্ব (২)
আমরা আপাততঃ “হিন্দুত্ব” বইটির বিষয় এবং সাভারকরের মতে ‘হিন্দুত্ব’ এবং ‘হিন্দুইজম’ এর ফারাক নিয়ে আলোচনা করব।
সে’সময় আর্যদের ভারত আগমনের তত্ত্ব এবং তার খন্ডন- এই দুটো বিরোধীমত নিয়েই বিতর্ক চলছিল। সাভারকর আর্যদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত আগমনের তত্ত্বকে আশ্রয় করে তাঁর হিন্দুত্বের তত্ত্বকে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর হিন্দু ভারতে বহিরাগত ঔপনিবেশিক হিন্দু, যারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এদেশের মূল নিবাসী পণি এবং দাসদের দমন করে হিন্দুসাম্রাজ্যের স্থাপন করেছিল। সাভারকরের মতে সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং বলপ্রয়োগ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত এবং কাম্য।সাভারকর সেই ঐতিহ্যে ফিরে গিয়ে সমগ্র বিশ্বে হিন্দু সাম্রাজ্যের বিস্তার দেখতে চান। তাঁর ‘হিন্দুত্ব’ বইটি শেষ হয় এই আশায় যে’একদিন ঐক্যবদ্ধ হিন্দুরা ‘can dictate their terms to the whole world. A day will come when mankind will have to face the force’.
[1]শুধু তাই নয়, তাঁর বিখ্যাত হিন্দুত্ব বইয়ের গোড়ার দিকে হিন্দুরাষ্ট্রের নাম হিসেবে “ভারতবর্ষ” শব্দের ঔচিত্য সিদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেনঃ বৈদিক রাজা ভরত নাকি সমগ্র বিশ্বে হিন্দুরাষ্ট্রের আধিপত্য স্থাপন করেছিলেন
[2]!
এই তথ্য উনি কোথায় পেলেন? কোন পুরাণে বা বেদে? এমনভাবে বলছেন যেন ওটা স্বতঃসিদ্ধ। অথচ কোন পুরাণ বা প্রাচীন সাহিত্যে এমন তথ্য নেই।
এ’নিয়ে অর্থাৎ সাভারকরের মানসজগত নিয়ে, গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন ডঃ বিনায়ক চতুর্বেদী
[3] এবং ডঃ জানকী বাখলে
[4]।
কথা ওঠে যে সাভারকরের অনেক আগে চন্দ্রনাথ বসু (১৮৪৪-১৯১০) এবং লোকমান্য তিলক ‘হিন্দুত্ব’ শব্দটি নিয়ে কথা বলেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সুহৃদ চন্দ্রনাথ বসু যখন তাঁর “হিন্দুত্ব—হিন্দুর প্রকৃত ইতিহাস” (১৮৯২) বইয়ে হিন্দুত্বের ধারণা এবং তার মাহাত্ম্য নিয়ে চর্চা করছেন, তখন সাভারকর নয় বছরের বালক।
চন্দ্রনাথের চিন্তা অনুযায়ী হিন্দু বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি, হিন্দুধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং হিন্দু সংস্কৃতি পাশ্চাত্ত্যের থেকে উন্নত।
তাঁর মতে ভারতভূমিতে ক্রিশ্চান এবং ইসলামকে স্থান দেয়া উচিত নয়। আমরা দেখতে পাব যে চন্দ্রনাথের হিন্দুত্ব ধারণার সঙ্গে সাভারকরের কত মিল! তিলকের ‘হিন্দুত্বে’র ধারণাকে সাভারকর স্বীকার করেননি—সেটা আগেই উদ্ধৃত করেছি।
হিন্দু কে এবং ‘হিন্দুত্ব’ কাকে বলে?সাভারকর প্রথমে প্রশ্ন তুললেন –নামে কিবা আসে যায়! উত্তরে বললেন—অনেক কিছু আসে যায়; জুলিয়েটকে যদি রোজালিন্ড বলে ডাকা হয় বা ম্যাডোনাকে ফতিমা, অথবা অযোধ্যাকে হনলুলু—তাহলে কি একই অনুভূতি প্রকাশ পাবে? অবশ্যই নয়। মহম্মদকে ইহুদী বললে কি তিনি খুশি হতেন?
[5] তাই হিন্দুত্ব, হিন্দু এবং হিন্দুস্তান শব্দ নিয়ে তাঁর বিচার শুরু হল।
বললেন ‘হিন্দুত্ব’ একটি শব্দ মাত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাস।
[6]খালি আধ্যাত্মিক ইতিহাস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, যুগ যুগ ধরে জীবনযাপনের যে ঐতিহ্য যে মূল্যবোধ—তার পূর্ণরূপ। হিন্দুধর্ম এর একটি সাবসেট, বা ক্ষুদ্র অংশ। আবার সনাতন ধর্ম বলে যা চালানো হয় তা বিশাল বৈচিত্র্যময় হিন্দুধর্মের একটি অংশ মাত্র, পুরোপুরি হিন্দুধর্ম বা তার একমাত্র রূপ নয়।
আগে হিন্দু এবং হিন্দুস্তানের উৎস বোঝা দরকার।
প্রচলিত মত হল মধ্য এশিয়া থেকে আগন্তুক তুর্কীদের আক্রমণের সময় থেকে ওদের মুখে সিন্ধু হয়েছে হিন্দু, যেমন কিনা সাভারকর নিজেই দেখেছেন জেন্দ -আবেস্তা ধর্মগ্রন্থে ‘স’ কে ‘হ’ বলতে।
কিন্তু সাভারকর খাপ্পা! আমাদের নামকরণ করবে আক্রমণকারী বিধর্মীরা?
যে হিন্দুধর্ম মানে সেই কি হিন্দু?
সাভারকর একেবারেই এই সংজ্ঞা মানতে রাজি নন। তাঁর মতে আর্যগোষ্ঠীর একটি অংশ সিন্ধুনদীর এবং সপ্তসিন্ধুর তীরে তাদের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক স্বতন্ত্র নদীমাতৃক কৃষিসভ্যতা স্থাপন করে এবং তাদের মধ্যে ক্রমশঃ এক জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলে। ওরা নদীর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজেদের এলাকার নাম দিল ‘সপ্তসিন্ধু’।
ঋগবেদে সপ্তসিন্ধুর উল্লেখ আছে। এবং সাভারকরের মতে এটি আমাদের বিশিষ্ট জাতীয়তা এবং সংস্কৃতির দ্যোতক।
মুশকিল হল দুটো।
এক, ওই জাতীয়তা ব্যাপারটি বেদে কোথাও নেই, পুরাণেও নেই। রয়েছে ‘জাতি’। এবং সেই জাতি বা বর্ণ নানান ভাগে বিভক্ত। সপ্তসিন্ধু এলাকা জুড়ে একটি মাত্র জাতি বা একটি রাষ্ট্র –এমন কোথাও বৈদিক বা বৌদ্ধ বা পুরাণ কথায় নেই। না ‘হিন্দু’ বলে কোন জাতি বা রাষ্ট্রের কথা রয়েছে।
দুই, তার বদলে ঋগবেদে, মহাভারত রামায়ণ আদি সমস্ত পুরাণকথায় এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে যত জনপদ এবং রাজত্বের বর্ণনা রয়েছে তাতে দেখি বিভিন্ন রাজার আলাদা আলাদা রাজ্য/রাষ্ট্র এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তার এলাকা বাড়ানো কমানো। অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার কথা মনে করুন। পরাভূত রাজারা বশ্যতা স্বীকার করে এবং কর দিয়ে বা যুদ্ধের সময় সৈন্য সাহায্য দিয়ে রেহাই পেত।
খুঁজতে খুঁজতে সাভারকর বিষ্ণু পুরাণে পৌঁছলেন। বললেন—এই ছোট্ট দ্বিপদীতে আমাদের পরিচয় চমৎকার ভাবে ধরা হয়েছে।
‘উত্তরং যতসমুদ্রস্য হিমাদ্রৈশ্চৈব দক্ষিণম্।
বর্ষ তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততী।। (বিষ্ণু পুরাণ)
যে ভূখণ্ড সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে স্থিত তাকে
ভরতবংশীয়দের বাসস্থান হিসেবে
ভারত বলে অভিহিত করা হয়
[7]। এখানেও মুশকিল, ভারত আছে, হিন্দু বা হিন্দুস্থান নেই।
প্রাচীন যুগে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রশক্তি, একটি মাত্র জাতি –কোথাও নেই। এবং ভারত রয়েছে কিন্তু হিন্দুস্থান বা হিন্দু নেই, সাভারকর অস্বস্তিতে পড়লেন।
ওনার উপপাদ্য হল ভারত নয়, হিন্দু এবং হিন্দুস্থান শব্দ দুটো; এবং এর ব্যবহার বিদেশী যবন-ম্লেচ্ছদের মুখে নয়, প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যের সময় থেকে প্রচলিত বলে প্রমাণ করতে হবে।
দেখা যাক সেটা উনি কী ভাবে করেন।
সাভারকর বললেন- সপ্তসিন্ধু বা সিন্ধুস্থান হল আমাদের হিন্দুদের আদি জাতি এবং রাষ্ট্রের রূপ। এটি প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেটাই পরে প্রাকৃতে হিন্দুস্থান হয়েছে।
কিন্তু বৈদিক এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে যে ‘হিন্দু’ শব্দ নেই!
উনি বললেন –সংস্কৃতের ‘স’ প্রাকৃত জিভে ‘হ’ হয়ে যায়। সপ্তাহ হয়ে যায় হপ্তা। পারসিক ভাষায় ‘আসুর’ হয় ‘আহুর’। এসব বলতে বলতে উনি আশ্রয় নিলেন সেই বিতর্কিত ভবিষ্যপুরাণের, তার প্রতিসর্গ পর্বের।
মূল শ্লোকটি হল-
জানুস্থানে জৈনু শব্দঃ সপ্তসিন্ধুস্তথৈবচ।
সপ্তহিন্দুর্যাবনী চ পুনর্জ্ঞেয়া গুরুন্ডিকা।। (৩৬)
যবনী ভাষায় জানুকে বলে জৈনু, আর সপ্তসিন্ধুকে বলে ‘সপ্তহিন্দু’!
এবার ফিরে যান সাভারকরের ছ’লাইনের শ্লোকটিতে। প্রায় প্রতিটি শব্দ মূল পুরাণের ২১-২২ এবং ৩৫-৩৬ থেকে তোলা। কিন্তু একটা তফাৎ রয়েছে।
শেষ লাইনে সাভারকর লিখছেনঃ হপ্তহিন্দুর্যাবনী চ পুনর্জ্ঞেয়া গুরুণ্ডিকা।। অর্থাৎ ভবিষ্যপুরাণেও সপ্তকে হপ্ত বলা হয় নি, ওটা সাভারকর একরকম জোর করে বলছেন।
এছাড়াও আর একটা প্রশ্ন না করেই পারা যাচ্ছে না। সাভারকরের উদাহরণ কি তাঁর তত্ত্বের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে না? ভবিষ্যপুরাণের শ্লোকটি বলছে –
স কে হ বলা হয় যবনদের ভাষায়।[8]তাহলে কী দাঁড়াল?
সিন্ধু থেকে হিন্দু বলা যবনদেরই বৈশিষ্ট্য, আমাদের নয়।
কিন্তু সাভারকর নিজের পিঠ নিজেই চাপড়িয়ে বলছেন—এতক্ষণে আমরা পা ফেলেছি ‘on solid ground of recorded facts’
[9]।
কিন্তু ভবিষ্যপুরাণের ভাষা ও উচ্চারণ বিধি নিয়ে ঐ শ্লোকটি কি অমন শক্তপোক্ত প্রমাণ?
দু’পাতা এগিয়ে সাভারকর যেন দ্বিধাগ্রস্ত। বলছেন—এমনও হতে পারে যে সিন্ধু এলাকার আদিম অধিবাসীরা সিন্ধুকে ‘হিন্দু’ বলত।
আগন্তুক আর্যরা ওই একই নিয়মে সংস্কৃতে হ কে স করে হিন্দুকে সিন্ধু করে নিয়েছে?[10] মানে, সিন্ধু থেকে হিন্দু হয় নি, উলটো পথে প্রাকৃত হিন্দু থেকে সিন্ধু হয়েছে!
এর থেকে কী বুঝব? আর্যদের স প্রাকৃত জিভে হ হল, নাকি আদিবাসীদের হ আর্যদের জিভে স হল? আমি হাল ছেড়ে দিলাম।
কিন্তু সাভারকর এবার বলছেন আমাদের দেশের আদি বৈদিক নাম হল ‘সিন্ধুস্তান’, ভারতবর্ষ নয়,-- ‘Sindustan—the best nation of Aryans’.
প্রমাণ? কেন, সেই ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গ পর্ব! এবারেও কোন শ্লোক সংখ্যা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করেন নি।
চারটে শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন যার সার হলঃ
বিক্রমাদিত্যের নাতি শালিবাহন তাঁর পূর্বজদের সিংহাসনে বসে শক, চৈনিক, তাতার, বালহিক, কামরূপ, খোরাজান এবং শঠদের পরাস্ত করে আর্য এবং ম্লেচ্ছদের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিত করে দিলেন। তখন থেকে আর্যদের শ্রেষ্ঠ দেশের নাম হল সিন্ধুস্থান এবং ম্লেচ্ছদের দেশ হল সিন্ধুনদের ওপারে।
[11]কিন্তু
বিক্রমাদিত্যের শক-হুণদল-পাঠান-মোগল বিজয়ের আখ্যান কি আদৌ বৈদিক যুগের?বার বার বৈদিক ইতিহাস বা সাহিত্যের উদাহরণের নামে কেবল ভবিষ্যপুরাণের উল্লেখের দুর্বলতা বোধহয় সাভারকরকেও চিন্তায় ফেলেছিল। তাই তিনি ভবিষ্যপুরাণের সাফাই দিয়ে দু’পাতার ফুটনোট দিলেন।
*The verses from Bhavishyapuran quoted above seem to be quite trustworthy so far as their general purport is concerned.
[12]
ওনার তর্ক হল মানছি, ‘it contains some inaccuracies and even absurdities—and is Plutarch free from them? বিদেশি পণ্ডিতদের সার্টিফিকেট না পেলে আমাদের ঐতিহ্যকে খারিজ করতে হবে? আরও বলছেন যে এই যে শ্লোকটি ভবিষ্যপুরাণে রয়েছে—
“চন্দ্রগুপ্তস্য সুতঃ পৌরস্যাধিপতি সুতাম্
সুলভস্য তথোদাহ্য যাবর্নী বৌদ্ধতৎপরঃ”,-- একে কি খারিজ করতে হবে?
শ্লোকটির অর্থ (সাভারকরের ইংরেজি, আমার বাংলা)’ তখন বৌদ্ধমতে প্রভাবিত চন্দ্রগুপ্তের পুত্রটি পুরু রাজ্যের অধিপতির কন্যা সুলভাকে বিয়ে করল’
[13]।
না, কেন খারিজ করব? কিন্তু
এই শ্লোকটি কি প্রমাণ করছে না যে ভবিষ্যপুরাণ আদৌ বৈদিক সাহিত্যের যুগে রচিত নয়, বরং অনেক পরবর্তী রচনা? প্রশ্ন হল- ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গ পর্বের উলটো পালটা রাজবংশের বর্ণনা এবং ফাল্গুন মাস মানে ফেব্রুয়ারি, রবিবার বলতে সান্ডে --এসব শব্দ থাকার পরেও তাদের
ইংরেজ আগমনের পরবর্তী না ভেবে প্রাচীন ৫০০০ বর্ষ আগের ইতিকথা কী করে বলা যায়? এটা কী ধরণের ইতিহাস চর্চা?
দুই, আর্যগোষ্ঠী আসার আগে যারা এই সপ্তসিন্ধু এলাকায় বৈদিক যুগে বাস করছিল তাদের কী দশা হবে? দাস বা পণিরা? তাদের কি হিন্দু বলা যায়?
সাভারকরের 'হিন্দুত্ব' বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে আজ অব্দি যত পুনর্মূদ্রণ হয়েছে তাতে মলাটের ভেতর দিকে ঋগবেদ থেকে একটি শ্লোক মুদ্রিত রয়েছেঃ
“য ঋক্ষাদংহসো মুচদ্যো বার্যাত সপ্তসিন্ধুপু।
বধর্দাসস্য তুবিংলৃমণলীলমঃ”।। ঋগবেদ, ৮/২৪/২৭।
এর অর্থ, “আমাদের সপ্তসিন্ধুকে সম্পদশালী কে করেছে? তুমিই হে প্রভু। এখন আমাদের শত্রু দাসেদের ধ্বংস করতে তোমার বজ্র হানো”!
অর্থাৎ, সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে বহিরাগত আক্রমণকারী আর্যেরা ওখানকার মূল অধিবাসী দাসদের শত্রু ভাবছেন!
সাভারকর শ্লোকটির ইংরেজি অনুবাদে জুড়ে দিয়েছেন ‘Nation of Sapta Sindhus’, কিন্তু ঋগবেদের এই শ্লোকটিতে কোথাও জাতি বা জাতীয়তা গোছের নিকটতম সংস্কৃত শব্দ দেখা যাচ্ছে না।
শেষে সাভারকর হিন্দুর সংজ্ঞা নির্ধারিত করলেন এই শ্লোকটি রচনা করেঃ
“ আসিন্ধু সিন্ধু-পর্যন্তা যস্য ভারত-ভূমিকা,
পিতৃভূঃ পূণ্যভূশ্চৈব স বৈ হিন্দুরিতি স্মৃতঃ”।
[14]সাভারকর এর ইংরেজি ব্যাখ্যা করেছেন সিন্ধুনদ থেকে সমুদ্র পর্য্যন্ত বিস্তৃত ক্ষেত্রকে যাঁরা
‘পিতৃভূ’ (পিতৃভূমি) এবং
‘পূণ্যভূ’(পূণ্যভূমি) মনে করেন তাঁরাই হিন্দু
[15]।
আগেই বলেছি যে এই সংজ্ঞাটি সাভারকরের রচনা, কিন্তু খুব মৌলিক নয়। এতে মনুস্মৃতির একটি শ্লোককে, যাতে আর্যাবর্তের ক্ষেত্র কতটা তার বর্ণনা রয়েছে, সামান্য বদলে নেওয়া হয়েছে এবং হিন্দু শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সাভারকর বলছেন –হিন্দু হওয়ার তিনটি শর্ত; এক পিতৃভূমি, একই রক্তের বন্ধন এবং একই পূণ্যভূমি।[1] Savarkar, Hindutva, page –136.[2] ঐ, হিন্দি সংস্করণের ডিজিটাল ভার্সনে পৃষ্ঠা ১৬।
[3] Vinayak Chaturvedi, ‘Hindutva and Violence: V D Savarkar and the Politics of History’; Permanent Black, 2022. [4] Janki Bakhle, “Savarkar (1883-1966), Sedition, and Surveillance: the rule of law in a colonial situation”, in Social History. Vol. 35, No.1, February, 2010. “Country First? Vinayak Damodar Savarkar (1883-1966), and the Writing of Essentials of Hindutva”, in Public Culture 22:1, February, 2010.[5] সাভারকর, হিন্দুত্ব, পৃঃ ১৭। [6] সাভারকর,’হিন্দুত্ব’, পৃঃ ১৮।[7] ঐ, ১৯। [8] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 27[9] সংস্কৃত সাহিত্যের নিবিড় পাঠক এবং শিল্পী তথা সাংস্কৃতিক কর্মী নিউইয়র্কপ্রবাসী শুদ্ধব্রত সেনগুপ্ত ভবিষ্যপুরাণ নিয়ে সাভারকরের কথিত রিসার্চের বিরোধাভাস নিয়ে একটি প্রবন্ধে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমাদের সবার ধন্যবাদার্হ হয়েছেন।[10] সাভারকর,‘হিন্দুত্ব’ পৃঃ ২৩। [11] ঐ, পৃঃ ২৪।[12] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 42.[13] ibid, p. 45-46.[14] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, পৃঃ ৪৬।[15] সাভারকর, “হিন্দুত্ব”, পৃঃ ১১৫, হিন্দি সাহিত্য সদন, নিউ দিল্লি, ২০১৭ সংস্করণ।