এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • qwerty | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৭559374
  • সাভারকরের আরেকটা উপদেশ হল "Militarise Hinduisn and hinduise politics" — সেইটাই এরা করে চলেছে। ক্রিস্টোফ জ্যাফ্রেলটের বই পড়লে "স্টিগমাটাইজেশন এমুলেশন" বলে একটা আইডিয়া পাবেন। অপর-কে (অহিন্দু, দলিত ইত্যাদি সকলেই) স্টিগমাটাইজ করো নানান ইস্যুতে (যেমন মুসলমানদের এক গাদা বাচ্চা হয়), অথচ তাকেই এমুলেটও করো (সব হিন্দু মহিলাকে চারটে করে বাচ্চা পয়দা করার নিদান)।
     
    হিন্দুত্ব চিনতে গেলে তনিকা সরকার, জ্যাফ্রেলট ইত্যাদিরা অপরিহার্য্য।
  • albert banerjee | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০১559373
  • ভালো লাগলো রঞ্জনদা
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৮559372
  • @এল সি এম
     
    সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
    ধন্য যোগ।
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৪559371
  • হিন্দু ও হিন্দুত্ব (২)
     
    আমরা আপাততঃ “হিন্দুত্ব” বইটির বিষয় এবং সাভারকরের মতে ‘হিন্দুত্ব’ এবং ‘হিন্দুইজম’ এর ফারাক নিয়ে আলোচনা করব।
    সে’সময় আর্যদের ভারত আগমনের তত্ত্ব এবং তার খন্ডন- এই দুটো বিরোধীমত নিয়েই বিতর্ক চলছিল। সাভারকর আর্যদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত আগমনের তত্ত্বকে আশ্রয় করে তাঁর হিন্দুত্বের তত্ত্বকে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর হিন্দু ভারতে বহিরাগত ঔপনিবেশিক হিন্দু, যারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এদেশের মূল নিবাসী পণি এবং দাসদের দমন করে হিন্দুসাম্রাজ্যের স্থাপন করেছিল। সাভারকরের মতে সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং বলপ্রয়োগ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত এবং কাম্য।

    সাভারকর সেই ঐতিহ্যে ফিরে গিয়ে সমগ্র বিশ্বে হিন্দু সাম্রাজ্যের বিস্তার দেখতে চান। তাঁর ‘হিন্দুত্ব’ বইটি শেষ হয় এই আশায় যে’একদিন ঐক্যবদ্ধ হিন্দুরা ‘can dictate their terms to the whole world. A day will come when mankind will have to face the force’.[1]
    শুধু তাই নয়, তাঁর বিখ্যাত হিন্দুত্ব বইয়ের গোড়ার দিকে হিন্দুরাষ্ট্রের নাম হিসেবে “ভারতবর্ষ” শব্দের ঔচিত্য সিদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেনঃ বৈদিক রাজা ভরত নাকি সমগ্র বিশ্বে হিন্দুরাষ্ট্রের আধিপত্য স্থাপন করেছিলেন[2]!
    এই তথ্য উনি কোথায় পেলেন? কোন পুরাণে বা বেদে? এমনভাবে বলছেন যেন ওটা স্বতঃসিদ্ধ। অথচ কোন পুরাণ বা প্রাচীন সাহিত্যে এমন তথ্য নেই।

    এ’নিয়ে অর্থাৎ সাভারকরের মানসজগত নিয়ে, গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন ডঃ বিনায়ক চতুর্বেদী[3] এবং ডঃ জানকী বাখলে[4]।

    কথা ওঠে যে সাভারকরের অনেক আগে চন্দ্রনাথ বসু (১৮৪৪-১৯১০) এবং লোকমান্য তিলক ‘হিন্দুত্ব’ শব্দটি নিয়ে কথা বলেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সুহৃদ চন্দ্রনাথ বসু যখন তাঁর “হিন্দুত্ব—হিন্দুর প্রকৃত ইতিহাস” (১৮৯২) বইয়ে হিন্দুত্বের ধারণা এবং তার মাহাত্ম্য নিয়ে চর্চা করছেন, তখন সাভারকর নয় বছরের বালক।

    চন্দ্রনাথের চিন্তা অনুযায়ী হিন্দু বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি, হিন্দুধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং হিন্দু সংস্কৃতি পাশ্চাত্ত্যের থেকে উন্নত। তাঁর মতে ভারতভূমিতে ক্রিশ্চান এবং ইসলামকে স্থান দেয়া উচিত নয়। আমরা দেখতে পাব যে চন্দ্রনাথের হিন্দুত্ব ধারণার সঙ্গে সাভারকরের কত মিল! তিলকের ‘হিন্দুত্বে’র ধারণাকে সাভারকর স্বীকার করেননি—সেটা আগেই উদ্ধৃত করেছি।

    হিন্দু কে এবং ‘হিন্দুত্ব’ কাকে বলে?
    সাভারকর প্রথমে প্রশ্ন তুললেন –নামে কিবা আসে যায়! উত্তরে বললেন—অনেক কিছু আসে যায়; জুলিয়েটকে যদি রোজালিন্ড বলে ডাকা হয় বা ম্যাডোনাকে ফতিমা, অথবা অযোধ্যাকে হনলুলু—তাহলে কি একই অনুভূতি প্রকাশ পাবে? অবশ্যই নয়। মহম্মদকে ইহুদী বললে কি তিনি খুশি হতেন?[5]
    তাই হিন্দুত্ব, হিন্দু এবং হিন্দুস্তান শব্দ নিয়ে তাঁর বিচার শুরু হল।

    বললেন ‘হিন্দুত্ব’ একটি শব্দ মাত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাস।[6]খালি আধ্যাত্মিক ইতিহাস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, যুগ যুগ ধরে জীবনযাপনের যে ঐতিহ্য যে মূল্যবোধ—তার পূর্ণরূপ। হিন্দুধর্ম এর একটি সাবসেট, বা ক্ষুদ্র অংশ। আবার সনাতন ধর্ম বলে যা চালানো হয় তা বিশাল বৈচিত্র্যময় হিন্দুধর্মের একটি অংশ মাত্র, পুরোপুরি হিন্দুধর্ম বা তার একমাত্র রূপ নয়।
    আগে হিন্দু এবং হিন্দুস্তানের উৎস বোঝা দরকার।

    প্রচলিত মত হল মধ্য এশিয়া থেকে আগন্তুক তুর্কীদের আক্রমণের সময় থেকে ওদের মুখে সিন্ধু হয়েছে হিন্দু, যেমন কিনা সাভারকর নিজেই দেখেছেন জেন্দ -আবেস্তা ধর্মগ্রন্থে ‘স’ কে ‘হ’ বলতে।
    কিন্তু সাভারকর খাপ্পা! আমাদের নামকরণ করবে আক্রমণকারী বিধর্মীরা?

    যে হিন্দুধর্ম মানে সেই কি হিন্দু?
    সাভারকর একেবারেই এই সংজ্ঞা মানতে রাজি নন। তাঁর মতে আর্যগোষ্ঠীর একটি অংশ সিন্ধুনদীর এবং সপ্তসিন্ধুর তীরে তাদের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক স্বতন্ত্র নদীমাতৃক কৃষিসভ্যতা স্থাপন করে এবং তাদের মধ্যে ক্রমশঃ এক জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলে। ওরা নদীর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজেদের এলাকার নাম দিল ‘সপ্তসিন্ধু’।
    ঋগবেদে সপ্তসিন্ধুর উল্লেখ আছে। এবং সাভারকরের মতে এটি আমাদের বিশিষ্ট জাতীয়তা এবং সংস্কৃতির দ্যোতক।

    মুশকিল হল দুটো।
    এক, ওই জাতীয়তা ব্যাপারটি বেদে কোথাও নেই, পুরাণেও নেই। রয়েছে ‘জাতি’। এবং সেই জাতি বা বর্ণ নানান ভাগে বিভক্ত। সপ্তসিন্ধু এলাকা জুড়ে একটি মাত্র জাতি বা একটি রাষ্ট্র –এমন কোথাও বৈদিক বা বৌদ্ধ বা পুরাণ কথায় নেই। না ‘হিন্দু’ বলে কোন জাতি বা রাষ্ট্রের কথা রয়েছে।
    দুই, তার বদলে ঋগবেদে, মহাভারত রামায়ণ আদি সমস্ত পুরাণকথায় এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে যত জনপদ এবং রাজত্বের বর্ণনা রয়েছে তাতে দেখি বিভিন্ন রাজার আলাদা আলাদা রাজ্য/রাষ্ট্র এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তার এলাকা বাড়ানো কমানো। অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার কথা মনে করুন। পরাভূত রাজারা বশ্যতা স্বীকার করে এবং কর দিয়ে বা যুদ্ধের সময় সৈন্য সাহায্য দিয়ে রেহাই পেত।

    খুঁজতে খুঁজতে সাভারকর বিষ্ণু পুরাণে পৌঁছলেন। বললেন—এই ছোট্ট দ্বিপদীতে আমাদের পরিচয় চমৎকার ভাবে ধরা হয়েছে।
    ‘উত্তরং যতসমুদ্রস্য হিমাদ্রৈশ্চৈব দক্ষিণম্‌।
    বর্ষ তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততী।। (বিষ্ণু পুরাণ)
    যে ভূখণ্ড সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে স্থিত তাকে ভরতবংশীয়দের বাসস্থান হিসেবে ভারত বলে অভিহিত করা হয়[7]। এখানেও মুশকিল, ভারত আছে, হিন্দু বা হিন্দুস্থান নেই।

    প্রাচীন যুগে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রশক্তি, একটি মাত্র জাতি –কোথাও নেই। এবং ভারত রয়েছে কিন্তু হিন্দুস্থান বা হিন্দু নেই, সাভারকর অস্বস্তিতে পড়লেন।
    ওনার উপপাদ্য হল ভারত নয়, হিন্দু এবং হিন্দুস্থান শব্দ দুটো; এবং এর ব্যবহার বিদেশী যবন-ম্লেচ্ছদের মুখে নয়, প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যের সময় থেকে প্রচলিত বলে প্রমাণ করতে হবে।
    দেখা যাক সেটা উনি কী ভাবে করেন।

    সাভারকর বললেন- সপ্তসিন্ধু বা সিন্ধুস্থান হল আমাদের হিন্দুদের আদি জাতি এবং রাষ্ট্রের রূপ। এটি প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেটাই পরে প্রাকৃতে হিন্দুস্থান হয়েছে।
    কিন্তু বৈদিক এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে যে ‘হিন্দু’ শব্দ নেই!

    উনি বললেন –সংস্কৃতের ‘স’ প্রাকৃত জিভে ‘হ’ হয়ে যায়। সপ্তাহ হয়ে যায় হপ্তা। পারসিক ভাষায় ‘আসুর’ হয় ‘আহুর’। এসব বলতে বলতে উনি আশ্রয় নিলেন সেই বিতর্কিত ভবিষ্যপুরাণের, তার প্রতিসর্গ পর্বের।
    মূল শ্লোকটি হল-
    জানুস্থানে জৈনু শব্দঃ সপ্তসিন্ধুস্তথৈবচ।
    সপ্তহিন্দুর্যাবনী চ পুনর্জ্ঞেয়া গুরুন্ডিকা।। (৩৬)
    যবনী ভাষায় জানুকে বলে জৈনু, আর সপ্তসিন্ধুকে বলে ‘সপ্তহিন্দু’!
    এবার ফিরে যান সাভারকরের ছ’লাইনের শ্লোকটিতে। প্রায় প্রতিটি শব্দ মূল পুরাণের ২১-২২ এবং ৩৫-৩৬ থেকে তোলা। কিন্তু একটা তফাৎ রয়েছে।

    শেষ লাইনে সাভারকর লিখছেনঃ হপ্তহিন্দুর্যাবনী চ পুনর্জ্ঞেয়া গুরুণ্ডিকা।। অর্থাৎ ভবিষ্যপুরাণেও সপ্তকে হপ্ত বলা হয় নি, ওটা সাভারকর একরকম জোর করে বলছেন।

    এছাড়াও আর একটা প্রশ্ন না করেই পারা যাচ্ছে না। সাভারকরের উদাহরণ কি তাঁর তত্ত্বের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে না? ভবিষ্যপুরাণের শ্লোকটি বলছে – স কে হ বলা হয় যবনদের ভাষায়।[8]
    তাহলে কী দাঁড়াল? সিন্ধু থেকে হিন্দু বলা যবনদেরই বৈশিষ্ট্য, আমাদের নয়।

    কিন্তু সাভারকর নিজের পিঠ নিজেই চাপড়িয়ে বলছেন—এতক্ষণে আমরা পা ফেলেছি ‘on solid ground of recorded facts’[9]।
    কিন্তু ভবিষ্যপুরাণের ভাষা ও উচ্চারণ বিধি নিয়ে ঐ শ্লোকটি কি অমন শক্তপোক্ত প্রমাণ?
    দু’পাতা এগিয়ে সাভারকর যেন দ্বিধাগ্রস্ত। বলছেন—এমনও হতে পারে যে সিন্ধু এলাকার আদিম অধিবাসীরা সিন্ধুকে ‘হিন্দু’ বলত। আগন্তুক আর্যরা ওই একই নিয়মে সংস্কৃতে হ কে স করে হিন্দুকে সিন্ধু করে নিয়েছে?[10] মানে, সিন্ধু থেকে হিন্দু হয় নি, উলটো পথে প্রাকৃত হিন্দু থেকে সিন্ধু হয়েছে!

    এর থেকে কী বুঝব? আর্যদের স প্রাকৃত জিভে হ হল, নাকি আদিবাসীদের হ আর্যদের জিভে স হল? আমি হাল ছেড়ে দিলাম।

    কিন্তু সাভারকর এবার বলছেন আমাদের দেশের আদি বৈদিক নাম হল ‘সিন্ধুস্তান’, ভারতবর্ষ নয়,-- ‘Sindustan—the best nation of Aryans’.
    প্রমাণ? কেন, সেই ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গ পর্ব! এবারেও কোন শ্লোক সংখ্যা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করেন নি।

    চারটে শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন যার সার হলঃ
    বিক্রমাদিত্যের নাতি শালিবাহন তাঁর পূর্বজদের সিংহাসনে বসে শক, চৈনিক, তাতার, বালহিক, কামরূপ, খোরাজান এবং শঠদের পরাস্ত করে আর্য এবং ম্লেচ্ছদের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিত করে দিলেন। তখন থেকে আর্যদের শ্রেষ্ঠ দেশের নাম হল সিন্ধুস্থান এবং ম্লেচ্ছদের দেশ হল সিন্ধুনদের ওপারে।[11]

    কিন্তু বিক্রমাদিত্যের শক-হুণদল-পাঠান-মোগল বিজয়ের আখ্যান কি আদৌ বৈদিক যুগের?
    বার বার বৈদিক ইতিহাস বা সাহিত্যের উদাহরণের নামে কেবল ভবিষ্যপুরাণের উল্লেখের দুর্বলতা বোধহয় সাভারকরকেও চিন্তায় ফেলেছিল। তাই তিনি ভবিষ্যপুরাণের সাফাই দিয়ে দু’পাতার ফুটনোট দিলেন।
    *The verses from Bhavishyapuran quoted above seem to be quite trustworthy so far as their general purport is concerned. [12]

    ওনার তর্ক হল মানছি, ‘it contains some inaccuracies and even absurdities—and is Plutarch free from them? বিদেশি পণ্ডিতদের সার্টিফিকেট না পেলে আমাদের ঐতিহ্যকে খারিজ করতে হবে? আরও বলছেন যে এই যে শ্লোকটি ভবিষ্যপুরাণে রয়েছে—
    “চন্দ্রগুপ্তস্য সুতঃ পৌরস্যাধিপতি সুতাম্‌
    সুলভস্য তথোদাহ্য যাবর্নী বৌদ্ধতৎপরঃ”,-- একে কি খারিজ করতে হবে?

    শ্লোকটির অর্থ (সাভারকরের ইংরেজি, আমার বাংলা)’ তখন বৌদ্ধমতে প্রভাবিত চন্দ্রগুপ্তের পুত্রটি পুরু রাজ্যের অধিপতির কন্যা সুলভাকে বিয়ে করল’[13]।

    না, কেন খারিজ করব? কিন্তু এই শ্লোকটি কি প্রমাণ করছে না যে ভবিষ্যপুরাণ আদৌ বৈদিক সাহিত্যের যুগে রচিত নয়, বরং অনেক পরবর্তী রচনা?

    প্রশ্ন হল- ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গ পর্বের উলটো পালটা রাজবংশের বর্ণনা এবং ফাল্গুন মাস মানে ফেব্রুয়ারি, রবিবার বলতে সান্ডে --এসব শব্দ থাকার পরেও তাদের ইংরেজ আগমনের পরবর্তী না ভেবে প্রাচীন ৫০০০ বর্ষ আগের ইতিকথা কী করে বলা যায়? এটা কী ধরণের ইতিহাস চর্চা?

    দুই, আর্যগোষ্ঠী আসার আগে যারা এই সপ্তসিন্ধু এলাকায় বৈদিক যুগে বাস করছিল তাদের কী দশা হবে? দাস বা পণিরা? তাদের কি হিন্দু বলা যায়?

    সাভারকরের 'হিন্দুত্ব' বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে আজ অব্দি যত পুনর্মূদ্রণ হয়েছে তাতে মলাটের ভেতর দিকে ঋগবেদ থেকে একটি শ্লোক মুদ্রিত রয়েছেঃ
    “য ঋক্ষাদংহসো মুচদ্যো বার্যাত সপ্তসিন্ধুপু।
    বধর্দাসস্য তুবিংলৃমণলীলমঃ”।। ঋগবেদ, ৮/২৪/২৭।
    এর অর্থ, “আমাদের সপ্তসিন্ধুকে সম্পদশালী কে করেছে? তুমিই হে প্রভু। এখন আমাদের শত্রু দাসেদের ধ্বংস করতে তোমার বজ্র হানো”!
    অর্থাৎ, সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে বহিরাগত আক্রমণকারী আর্যেরা ওখানকার মূল অধিবাসী দাসদের শত্রু ভাবছেন!

    সাভারকর শ্লোকটির ইংরেজি অনুবাদে জুড়ে দিয়েছেন ‘Nation of Sapta Sindhus’, কিন্তু ঋগবেদের এই শ্লোকটিতে কোথাও জাতি বা জাতীয়তা গোছের নিকটতম সংস্কৃত শব্দ দেখা যাচ্ছে না।

    শেষে সাভারকর হিন্দুর সংজ্ঞা নির্ধারিত করলেন এই শ্লোকটি রচনা করেঃ
    “ আসিন্ধু সিন্ধু-পর্যন্তা যস্য ভারত-ভূমিকা,
    পিতৃভূঃ পূণ্যভূশ্চৈব স বৈ হিন্দুরিতি স্মৃতঃ”।[14]
    সাভারকর এর ইংরেজি ব্যাখ্যা করেছেন সিন্ধুনদ থেকে সমুদ্র পর্য্যন্ত বিস্তৃত ক্ষেত্রকে যাঁরা ‘পিতৃভূ’ (পিতৃভূমি) এবং ‘পূণ্যভূ’(পূণ্যভূমি) মনে করেন তাঁরাই হিন্দু[15]।

    আগেই বলেছি যে এই সংজ্ঞাটি সাভারকরের রচনা, কিন্তু খুব মৌলিক নয়। এতে মনুস্মৃতির একটি শ্লোককে, যাতে আর্যাবর্তের ক্ষেত্র কতটা তার বর্ণনা রয়েছে, সামান্য বদলে নেওয়া হয়েছে এবং হিন্দু শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
    সাভারকর বলছেন –হিন্দু হওয়ার তিনটি শর্ত; এক পিতৃভূমি, একই রক্তের বন্ধন এবং একই পূণ্যভূমি।

    [1] Savarkar, Hindutva, page –136.

    [2] ঐ, হিন্দি সংস্করণের ডিজিটাল ভার্সনে পৃষ্ঠা ১৬।

    [3] Vinayak Chaturvedi, ‘Hindutva and Violence: V D Savarkar and the Politics of History’; Permanent Black, 2022.

    [4] Janki Bakhle, “Savarkar (1883-1966), Sedition, and Surveillance: the rule of law in a colonial situation”, in Social History. Vol. 35, No.1, February, 2010.
    “Country First? Vinayak Damodar Savarkar (1883-1966), and the Writing of Essentials of Hindutva”, in Public Culture 22:1, February, 2010.

    [5] সাভারকর, হিন্দুত্ব, পৃঃ ১৭।

    [6] সাভারকর,’হিন্দুত্ব’, পৃঃ ১৮।

    [7] ঐ, ১৯।



    [8] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 27

    [9] সংস্কৃত সাহিত্যের নিবিড় পাঠক এবং শিল্পী তথা সাংস্কৃতিক কর্মী নিউইয়র্কপ্রবাসী শুদ্ধব্রত সেনগুপ্ত ভবিষ্যপুরাণ নিয়ে সাভারকরের কথিত রিসার্চের বিরোধাভাস নিয়ে একটি প্রবন্ধে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমাদের সবার ধন্যবাদার্হ হয়েছেন।

    [10] সাভারকর,‘হিন্দুত্ব’ পৃঃ ২৩।

    [11] ঐ, পৃঃ ২৪।

    [12] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, p. 42.

    [13] ibid, p. 45-46.

    [14] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, পৃঃ ৪৬।

    [15] সাভারকর, “হিন্দুত্ব”, পৃঃ ১১৫, হিন্দি সাহিত্য সদন, নিউ দিল্লি, ২০১৭ সংস্করণ।
     
  • Ranjan Roy | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:২৪559370
  • @ মানালি (নাকি মনালি? )
     
    হিন্দু ও হিন্দুত্ব (১)
    আমার মতে দুটো আলাদা জিনিস।
     
     
    ইতিহাসের পরিহাসে ধর্ম-নিরপেক্ষ ভারতের মধ্যবিত্ত এবং শিক্ষিত জনতার একটি বড় অংশ আজ ‘হিন্দু রাষ্ট্রের’ শ্লোগানে মুগ্ধ এবং তাঁদের স্বপ্ন এক প্রাচীন অখণ্ড ভারতের নির্মাণ। তাই নতুন সংসদ ভবনের উন্মোচনের দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সর-সংঘচালক মোহন ভাগবত জোর গলায় বলেন যে অখণ্ড ভারতের নির্মাণ হবেই এবং খুব বেশি হলে আর ২০-২৫ বছর লাগবে।[1]

    নতুন সংসদ ভবনের ম্যুরালে অখণ্ড ভারতের যে ম্যাপ দেখানো হয়েছে তাতে বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু, পেশোয়ার, তক্ষশিলা এবং নেপালের বিরাটনগর সবই অখন্ড ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন ওটা অশোকের সাম্রাজ্যের ম্যাপ।[2]

    আমাদের প্রশ্ন দুটিঃ
    এক, সত্যিই কি অখণ্ড ভারত বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল? ইতিহাসে বা পুরাণকথায়? নাকি এর অস্তিত্ব কেবল কিছু মানুষের স্বপ্নে?

    দুই, ভারতের সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য মানে কি কেবল হিন্দু ঐতিহ্য? হিন্দু শব্দের উৎপত্তিস্থল কী?

    বিংশ শতাব্দীর ভারতে এই স্বপ্নের প্রণেতা এবং মূল তাত্ত্বিক হলেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর।

    ইনি বলছেন ভারতবাসী অর্থে হিন্দু শব্দের ব্যবহারের প্রমাণ আমাদের পুরাণকথায় তথা ঐতিহ্যে রয়েছে।
    কাজেই উপরোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের খুঁটিয়ে দেখতে হবে সাভারকর তাঁর বিখ্যাত “হিন্দুত্ব” বইয়ে এবং অন্যত্র কী করে ‘হিন্দুত্ব’ শব্দের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন এবং তার যাথার্থ নির্মাণে কী ধরনের সাক্ষ্য প্রস্তুত করেছেন।

    ৯.২ হিন্দুত্ব এবং হিন্দুধর্মঃ শব্দের উৎপত্তি নিয়ে সাভারকর
    সাভারকরের মতে হিন্দুধর্ম ও হিন্দুত্ব এক নয়। হিন্দুত্ব একটি জাতির আচার ব্যবহার, তার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার ইতিহাস, এবং ওই ইতিহাস শৌর্যে ও বীরগাথায় ভরপুর।

    হিন্দুধর্ম হল হিন্দুত্বের বিশাল অবধারণার একটি সাবসেট মাত্র। অতএব, লোকমান্য তিলকের দেওয়া হিন্দুত্বের সংজ্ঞাটি হিন্দুধর্মের অনুয়ায়ীদের জন্যে যথেষ্ট হলেও ‘হিন্দুত্ব’এর জন্যে সংকীর্ণ এবং একেবারেই উপযুক্ত নয়।

    তিলক বলছেনঃ
    ‘প্রামাণ্যবুদ্ধির্বেদেষু সাধনানামনেকতা,
    উপাস্যানামনিয়ম এতদ্ধর্মস্য লক্ষণম্‌’।

    বেদে আস্থা, পূজার্চনার বিবিধতা এবং কোন এক বাঁধাধরা নিয়মের অভাব—এই হল হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য।[3]
    কিন্তু খালি সনাতন বৈদিক ধর্মের অনুযায়ীদের হিন্দু বলা, সাভারকরের মতে, মস্ত ভুল।[4]

    তাহলে হিন্দু কে?

    সাভারকরের নিজস্ব সংজ্ঞাঃ
    “ আসিন্ধু সিন্ধু-পর্যন্তা যস্য ভারত-ভূমিকা,
    পিতৃভূঃ পূণ্যভূশ্চৈব স বৈ হিন্দুরিতি স্মৃতঃ”[5]।
    সাভারকরের খ্যাতনামা জীবনীকার বিক্রম সম্পত এর অনুবাদ করেছেন—তারাই হিন্দু, যাদের পিতৃভূমি এবং পুণ্যভূমি হল সিন্ধু (নদ) থেকে সিন্ধু (সমুদ্র) পর্য্যন্ত এক বিশাল স্থলভাগ-- from the Sindhu to the Sindhu (Indus to the seas)[6]।

    অথচ, ‘হিন্দুত্ব’ গ্রন্থের হিন্দি অনুবাদকেরা এর অর্থ করেছেনঃ
    “সিন্ধুনদ (ব্রহ্মপুত্র এবং তার উপনদী সমেত এলাকাকেও সিন্ধু বলা হত) থেকে সিন্ধু (সাগর) পর্য্যন্ত বিস্তৃত এই ভারতভূমি, যার পিতৃভূমি (পূর্বপুরুষের ভিটে), এবং পূণ্যভূমি (সাংস্কৃতিক ভূমি), সেই হিন্দু”।
    ( প্রকাশকের হিন্দি থেকে অক্ষরশঃ আমার বাংলা)।
    উপরের উদ্ধৃতিতে বন্ধনীর মধ্যের অংশটুকু হিন্দি সংস্করণে ইদানীং কালের প্রকাশকেরা জুড়ে দিয়েছেন।
    মনে হয়, হিন্দি অনুবাদকেরা খেয়াল করেছেন যে হিন্দুদের আদি বাসভূমি সিন্ধুনদ থেকে সমুদ্র ধরলে পূর্ব এবং উত্তর -পূর্ব ভারত বাদ পড়ে যায়, তাই ব্রহ্মপুত্রকে নিয়ে হাস্যকর টানাটানি। সাভারকর কিন্তু তাঁর মূল লেখায় সিন্ধু ও পঞ্চনদের কথাই বলেছেন।
    আমরা জানি, সিন্ধুর উপ- এবং শাখা-নদীগুলোর নাম সিন্ধু, চন্দ্রভাগা (চেনাব), ঐরাবতী (রাভী), বিতস্তা (ঝিলম), শতদ্রু (সতলেজ), বিপাশা (বিয়াস), এবং অধুনা বিলুপ্ত সরস্বতী—এই হল সপ্তসিন্ধু।
    অথচ, সাভারকরের সপ্তসিন্ধু বর্ণনায় পাচ্ছি সিন্ধু, শতদ্রু, চেনাব, বিতস্তা, গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী![7] এখানে রাভী এবং বিপাশাকে সরিয়ে গঙ্গা-যমুনা কীভাবে জায়গা পেল বুঝতে পারছি না।

    দেখাই যাচ্ছে, ঐতিহাসিক সত্যের ‘অকাট্য প্রমাণ ‘ হিসেবে যেসব কথা আজ সোশ্যাল মিডিয়ার আকছার দেখা যায়--যেমন জোর গলায় এবং সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ ছাড়াই কোন ভেজাল বক্তব্যকে নির্ভেজাল সত্য বলে দাবি করা--তার শুরু হয়েছে অনেক আগেই।
    খেয়াল করার বিষয়--এই শ্লোকটি কোন শাস্ত্রগ্রন্থে নেই, সাভারকরের নিজস্ব রচনা। কিন্তু দ্বিতীয় সংস্করণে (১৯৪২) প্রকাশক বলছেন –এই শ্লোকটি এখন ধার্মিক গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতির সমান মান্যতা পেয়েছে।[8]
    সেই প্রকাশক কে? প্রকাশন সংস্থা – বীর সাভারকর প্রকাশন, সাভারকর সদন, বোম্বাই।
    প্রকাশকের নাম এস এস সাভারকর। তিনি কে- কোথাও বলা নেই।

    সংস্কৃত সাহিত্যের কোন কোন মনোযোগী পাঠকের মনে হয়েছে যে শ্লোকটি কোন মৌলিক রচনা নয়, এটি মনুস্মৃতির শ্লোক ২.২২ কে একটু পালটে দেওয়া মাত্র।
    মনু ওই শ্লোকে কোন দেশে বা এলাকায় তাঁর মনুস্মৃতি মান্য সেটা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন আর্যাবর্ত কোথায় বা কতদূর বিস্তৃত।
    “আসমুদ্রাৎ তু বৈ পূর্বাদা সমুদ্রাচ্চ পশ্চিমাৎ।
    তয়োরেবান্তরংগিয়োর আর্যাবর্তং বিদুর্বুধাঃ “।। (মনুস্মৃতি ২/২২)।
    ‘পূর্ব এবং পশ্চিম সাগরের অন্তর্বতী যে ভূমি দুই পর্বতের মধ্যে অবস্থিত, তাহাকেই বিদ্বদজ্জনেরা আর্যাবর্ত বলিয়া থাকেন।
    ( মহামহোপাধ্যায় গঙ্গানাথ ঝা’র ইংরেজি অনুবাদ থেকে আমার বাংলা)।
    ওই শ্লোকে ‘সমুদ্র’ শব্দের জায়গায় ‘সিন্ধু’ বসিয়ে দিন আর ‘আর্যাবর্ত’ শব্দের বদলে ‘হিন্দু’ – এবার দেখুন- সাভারকরের শ্লোকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

    [1] The Hindu, 29th May, 2023.

    [2] ibid, 3rd June, 2023

    [3] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, পৃঃ ১০৮।

    [4] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, হিন্দি ডিজিটাল সংস্করণ, প্রভাত প্রকাশন, দিল্লি, পৃঃ ৭৮।

    [5] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, হিন্দি সংস্করণ, প্রভাত প্রকাশন, দিল্লি, পৃঃ ৮৬।

    [6] Sampat, Vikram “Savarkar, Echoes from the Forgotten Past”, p. 416.

    [7] সাভারকর, ‘হিন্দুত্ব’, হিন্দি সংস্করণ, প্রভাত প্রকাশন, দিল্লি, পৃঃ ১২।

    [8] Savarkar, ‘Hindutva’, 2nd edition, preface p. iv
     
  • পাগলা গণেশ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৪559369
  • qwerty একদমই তাই,ধর্ম এসেছে মানুষের ভয়,অসহায়তা আর অজ্ঞানতা থেকে। পরে সেগুলো অর্গানাইজ হয়েছে। পরে যখন রাষ্ট্রের জন্ম হল,তখন শাসকরা তাদের শাসনকে বৈধ প্রমাণ করার জন্য ধর্মের সাহায্য নিল।
     
    একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করতে লাগল।আর পেষা হল এবং এখনও হচ্ছে,সাধারণ মানুষ।
  • qwerty | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৫০559368
  • টাইমলাইনগুলো এরকম আরবিট্রারি না ঘাঁটাই ভালো। ধর্মের প্রথম ধারণা এসেছে বহু হাজার বছর আগে। হারারি যে সময়টাকে কগনিটিভ রিভোলিউশনের সময় বলে ডিফাইন করেছেন (অ্যারাউন্ড ৭০০০০ বছর আগে)। তখন গোষ্ঠী ছিল, রাষ্ট্র নয়। কালেক্টিভ বেরিয়াল গ্রাউন্ড, সেখানে গিফট ইত্যাদি রাখা, স্পিরিট, টোটেম এইসবই সেই আমলের। যখন প্রথম "শেয়ার্ড স্টোরি" জিনিসটা আসে। ডিফিউজড রিলিজিয়ন বলে একে।
     
    অর্গানাইজড রিলিজিয়ন আসে সারপ্লাস ব্যাপারটা তৈরী হওয়ার পর। পুরোহিত শ্রেণী, মন্দির, ফর্মালাইজড আচার আচরণ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের ধারণাও মোটামুটি এই সময়েই। দুটোই ওই সারপ্লাস তৈরী হওয়ার সময় থেকে।
     
    আর আধুনিক রাষ্ট্র্বের ধারণা হার্ডলি দুশো আড়াইশো বছরের পুরনো।
  • hAnupranito | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪৪559367
    • <<<. | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৩559351
    • বাগেশ্বর বাবার পাছায় লাথি মেরে ভাগানো হোক।>>>

      বগেশ্বর বাবুর প্রতি আপনাগের হেতো রাগ কেনো? একটা ছোক​ড়া ২৫ বছর ব​য়সে যার কিছু ছিলো না, সে ৩০ বছরে এসে কোটিপতি হ​য়ে গেলে, কোটি লোগ তার পায়ে পরে গেলো। দিখা অপনারা অনুপ্রানিত হন না কিঁনো?
      ওনার দুটো পাধুলি নিলে কওয়াতো যায় না আপনেরাও প্রচুর টেকার মালিক হ​য়ে যায়েন।

       
  • Manali Moulik | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৬559366
  • ওইযে, হ‍্যাঁ সেইযে ফয়েরবাখ বলেছিলেন কনজারভেটিভ হেগেলিয়ান ট্র‍্যাডিশন থেকে, আইসোলেশন আর অপ্রাপ্তির মধ‍্যে দেবতাকে খোঁজার উপাদান থাকে।
  • Manali Moulik | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৫559365
  • //কাজেই নাস্তিকদের উচিত শুধু ধর্মের বিরোধিতা না করে রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধীতা করা//
     
     
     
    ধুত্তোর আপনি চুপ করুন। প্লিজ এসব ভাববেন না। পাশের বাংলাদেশে আওয়ামী রেজিম থাকাকালীনই মিছিল বেরোতো, নাস্তিকদের ফাঁসি চাই। মুক্তমনা বা অন‍্যান‍্য গবেষক ও চিন্তাশীল ব‍্যক্তিদের পরিণতি তো জানেনই। আমাদের সুনার বঙ্গালও পিছিয়ে নেই। শ্রীজাতর 'অভিশাপ' কবিতাটা নিয়ে ২০১৭ তেই ভদ্দরলোক চাড্ডির পাল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়েছিলো। আমি শ্রীজাতকে অকুন্ঠ সমর্থন করছি না, তার কবিতা খারাপ লাগলে ইগনোর করতেই পারেন। কিন্তু যে পরিপ্রেক্ষিতে ওটা উনি লিখেছিলেন সেই মনুষ‍্যেতর রুচির জীবটিকে নিয়ে কোনো কথা হলো না। আর কেবল মুসলমান বিদ্বেষ কেন বলছেন? রিজার্ভেশন আর উচ্চবর্ণের ব‍্যাপারটাও ভয়াবহ হচ্ছে। লোকজন কোনো কেউ একটু লজিক‍্যাল কথা বললেই 'এই চোওওওয়‍্যাপ মাকু কে বাচ্চে ! লেলিন কি করিচিল র‍্যা? "খ‍্যাঁক করে তেড়ে আসছে।
    রুচি আর শালীনতা আমি নাহয় ছেড়েই দিলাম। ও নিয়ে যতো কম কথা বলা যায় ততোই ভালো।
    সব দেখে শুনে আমার লীলা মজুমদারের 'মাকু' র ঠাম্মির কথা মনে পড়ছে। 'ওরা ওইরকম দিদি, বড্ডো অলবড্ডে। ওদের কতা কি ধরতে আছে?'
    সুতরাং ফিকশন পড়ুন, রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনুন, ক্লাসিক‍্যাল শুনুন, মুভি দেখুন....এ সব বাদ দিন
  • :|: | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৯559364
  • আজকের দুর্গার এগারো হাতের ভিডিওর শুরুতেই বন্দ্যো গুরু বিজেপির ভটচাজ রাজ্য সম্পাদককে বন্দ্যো বললেন বলেই মনে হলো।
  • Dhuttor | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪০559363
  • @ ওইযে, ধর্মকে বুঝতে গেলে এখানে রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে বুঝতে হবে l রাষ্ট্র মানুষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি কিন্তু রাষ্ট্রই (সে যে আইডিওলজি দিয়েই তৈরী হোক না কেন ) মানুষকে সবচেয়ে বেশি exploitation করে টিকে থাকে l exploited মানুষকে ভুল বোঝানোর জন্যেই ধর্মের সৃষ্টি রাষ্ট্রের মাধ্যমে যার ফলে রাষ্ট্রের status quo বজায় থাকে permanently l এটাই আসল সত্য যে ধর্ম রাষ্ট্রের সৃষ্টি কাজেই নাস্তিকদের উচিত শুধু ধর্মের বিরোধিতা না করে রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধীতা করা l ধর্মের মজা এটাই যে রাষ্ট্র মানুষকে সবচেয়ে বেশী exploit করছে, মানুষ ধর্মের প্রভাবে সেই রাষ্ট্রকেই ত্রাতা মনে করে l সনাতনীদেরই দেখুন গত বারো বছরে হিন্দুরাষ্ট্র সনাতনীদেরই সবচেয়ে বেশী exploit করেছে সে নোটবন্দি জিএসটি COVID lockdown SIR inflation inequality AQI pollution unemployment সব সবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সনাতনীদের আরএসএসের হাতেই l আরএসএসের হাতেই সনাতনীদের সম্পদ সবচেয়ে বেশী লুট হয়েছে আর কয়েকটা গুজরাটি জৈন পরিবার ফুলেফেঁপে উঠেছে l অথচ আরএসএসের ইসলামোফোবিক প্রোপাগান্ডাতে ভুলে আম সনাতনীরা মুসলমানদের প্রতি শত্রুবোধ ছাড়া কিছু ভাবতেই পারেনা l আরএসএসের প্রোপাগান্ডাতে ভুলে এরা এটাই ভাবে যে আরএসএস গদীতে না থাকলে মুসলমানেরা তাদের মেরে ফেলবে l এই ভয়ের কারণেই সনাতনীরা আরএসএসকে গদীতে রেখেছে যদিও আরএসএসের হাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি সনাতনীদেরই l
  • ওইযে | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৩559362
  • ভাগানান /ভগবান
  • ওইযে | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩৯559361
  • ধর্ম সব হারানো, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের শেষ আশ্রয়
    ও বটে। জীবনে ইন্সিকিউরিটি থাকবেই, সেই ইন্সিকিউরিটিটা সুকৌশলে ব্যবহার করে পুরুৎশ্রেণী ফায়দা লুটেছে। এদিক দিয়ে হিন্দুধর্ম সবচেয়ে সুবিধাজনক, এত স্ববিরোধ এত ফালতু ও বিষাক্ত জিনিসে ঠাসা যে যে কেউ একটা ব্যাখ্যা খাড়া করে মানুষকে কনফিউস করতে পারে।
    আমরা যখন দুরে বসে দেখি ধর্মের প্রয়োজন তেমন হয় না, হাবুডুবু খেতে খেতে কিন্তু ভাগানানকে ডাকি। মানুষকে যদি একটা সুস্থ জীবন বাঁচতে দেওয়া যায় তাহলে একদিন হয়ত ধর্মের কবল থেকে বেরিয়ে আসতেও পারে।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৩559360
  • **** এছাড়া শিল্প সংস্কৃতি দর্শন ও ইত্যাদির উল্লেখও পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্মের মধ্যেই আছে। আসলে তখন অর্থনীতি বিজ্ঞান সমাজ বিজ্ঞান শিল্প কলা ইত্যাদির পৃথক ধারনা ছিল না। সেজন্যই এমনটা হত।
  • তরমুজ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:০৯559359
  • এবং প্রায় প্রত্যেক ধর্মেই যৌনাচারের উল্লেখ ও বিশেষ নির্দেশ আছে। এই বিষয়টি প্রতিটি ধর্মের মধ্যে কমন। অতএব হিন্দু ধর্মেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। .... এছাড়া শিল্প সংস্কৃতি দর্শন ও ইত্যাদির উল্লেখও পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্মের মধ্যেই আছে। আসলে তখন অর্থনীতি বিজ্ঞান সমাজ বিজ্ঞানের শিল্প কলা ইত্যাদি পৃথক ধারনা ছিল না। সেজন্যই এমনটা হত। এটা অনুন্নত সমাজ ব্যবস্থার লক্ষণ। সমাজ ও মানুষ যখন উন্নত হয়েছে তখন প্রতিটি বিষয়কে আলাদা করে বিশেষভাবে স্টাডি ও গবেষণা করেছে। এটা উন্নততর সমাজের লক্ষণ যা প্রাচীন সমাজের বিপরীত।
  • তরমুজ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৮559358
  • আহার নিদ্রা মৈথুন এবং ধর্ম সমার্থক। সে যে ধর্মই হোক না কেন।
  • তরমুজ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৬559357
  • আমি হিন্দু ধর্মকে বিশেষ বা উন্নততর মনে করি না। ইসলাম, খ্রিষ্টানের মতই হিন্দু একটা ধর্ম। ভৌগলিক অবস্থানের জন্য কিছু বৈশিষ্টগত পার্থক্য আছে ঠিকই, কিন্তু তার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। উদাহরনস্বরূপ বৌদ্ধ, জৈন ধর্ম। খ্রিষ্টান ও ইসলামের মতই বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের পয়গম্বর আছে। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে তা হিন্দু ধর্মের কাছাকাছি। অতএব সিদ্ধান্তে আসা যায় যে ধর্মীয় এই প্রকৃতিগুলি ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক। ..... আমার হিসাবে কোনো ধর্মই উন্নততর নয়। উন্নততর হল বিজ্ঞান। যেহেতু মানুষ পশু থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ হয়েছে তাই কিছু পাশবিকতা রয়ে গেছে। এবং বিবর্তন এখনো হচ্ছে। দৈহিক বিবর্তন, সামাজিক বিবর্তন দুটিই। কিন্তু সমস্যাটা হল এই নবনির্মিত বিবর্তিত সমাজে প্রাচীন ধর্ম বা ধর্মভিত্তিক আদর্শকে নতুনভাবে তুলে ধরা। এই প্রবণতা বিজ্ঞান বিরোধী। এবং এটাই সমস্যার। .... প্রাচীন কাল থেকে মানুষ সেক্স করে আসছে এবং এখনো করে। একইভাবে প্রাচীন ধর্ম আচার অনুষ্ঠান মানুষ পালন করে আসছে এবং এখনো করে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একটা প্রাচীন ব্যবস্থাকে যদি সর্বচ্চ ও শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। সেটা ভয়ঙ্কর।
  • Manali Moulik | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫১559356
  • রঞ্জন স‍‍্যার laugh
     
    ??
    পাঞ্জাবের আন্দোলনগত চরিত্র বাংলার সবচেয়ে কাছে। তবে প্রদেশগত পার্থক‍্য ছিলোই। বাংলার ও অন‍্যান‍্য প্রদেশের বহু তরুণ তরুণী যখন ভয়হীন হয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়ছেন, তখন দেশীয় রাজ‍্যের বিভিন্ন কর্তা, বড়ো জমিদার সহায়তা করতো ব্রিটিশকে। বাংলাতেও ধামাধরা জমিদার ব‍্যতিক্রম ছিলো না। নারায়ণ সান‍্যালের একটা লেখায় ইন্দোর আর পাঞ্জাবের একটা দেশীয় রাজ‍্যের এইরূপ খুব ভালোভাবে পাওয়া যায়।
  • Ranjan | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪৪559355
  • Manali
    আমাকে Bidwan বললে খেলব না l
     
    কাল সকালে হিন্দু ধর্ম ও हिन्दुत्व নিয়ে কথা হবে l
  • ?? | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪০559354
  • একটা কথা
    বাংলার বাইরে ধরুন ইউ পি বা পাঞ্জাব ইত্যাদির স্বাধীনতা সংগ্রাম কি চরিত্রগত ভাবে বাংলার থেকে আলাদা?
  • Manali Moulik | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৫559353
  • এলেবেলে বাবু সুন্দর আলোচনা করেছেন। সমৃদ্ধ হচ্ছি।
    @Dhuttor, ক্ষমাপ্রার্থী এখনো উত্তর দিতে পারিনি বলে। আমার মাথাটা আর কী মাথায় নেই আর। সকাল সাড়ে আটটায় বেরিয়ে বিকেল সাড়ে ছটায় আন্দুল ষ্টেশন নিউটাউনের জগঝম্পমার্কা ভিড় ঠেলে ফিরলুম (সেই ৩০০০ নতুন এসি বাস, মহিলাদের ব‍্যাপক পরিবহণ সেবার কী হলো অঁ‍্যা????)। এসেই স্ক্রিপ্ট, ইন্টার্ণশিপ আর নিজের পড়া নিয়ে বসে গেছি।
    হ‍্যাঁ, তো শ্রদ্ধেয় বিপ্লবী অনন্ত সিংহ সম্পর্কে রঞ্জন স‍্যারের মতো বিদ্বান ও প্রত‍্যক্ষজ্ঞানী মানুষ যে আলোচনা করেছেন তাতে আর কিছু বলাটা ধৃষ্টতা হবে। এখন বলি, হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদের ধারণা ভীষণভাবে আলাদা এটা স্বীকার করতে হবে। স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু না মুসলিম কাদের অবদান বেশী সেই রিসার্চ না করে আমাদের অভাবিত সংগ্রামলব্ধ স্বাধীনতার কতোটা সম্মান বর্তমানে করা যাচ্ছে, আমার মনে হয় সেটা বিচার করা উচিত। আমি Sammy Samohooa এর Nation and Nationalism বইটার কথা বলেছিলাম (এক্ষুনি নেম ড্রপ বলে তেড়ে আসবে) সেখানে ওই ইহুদি আর জায়নবাদী আন্দোলনের পার্থক‍্যটা জানার কারণে এই বিভাজন সহজে করা যায়। হিন্দু হওয়া সত‍্যি কঠিন। গোরার সেই কৃষ্ণদয়ালবাবুর মতো, "বাপু, ও জিনিস ভালোমতো না জেনে হাত দিতে না যাওয়াই ভালো।"
    নাসদীয় সূক্তের মতো সুগভীর দার্শনিক নির্দেশনা, উদ্দালকের মতো ভক্তি, কূটনীতি, রাজনীতি, শিল্প, সঙ্গীত এমনকী যৌনতা নিয়েও আমাদের তথাকথিত ইনহিবিশন কিছু ছিলো না। যেসব অবমাননাগুলি দেখা যায় তা মূলতঃ স্মৃতিশাস্ত্রের থেকে এসেছে। এর সঙ্গে মৌর্যসাম্রাজ‍্যর পতন ও সেদিকটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি অতো গভীর বিতর্কে যাবো না। মোটকথা, সিঁদুর, মঙ্গলঘট এগুলো মাঙ্গলিক দ্রব‍্য,ধর্মের প্রতীক বলে অতো কিছু নেই। লক্ষ্মী পূজা, সরস্বতী পূজা, দুর্গাপুজো, কালীপুজো সবই শ্রদ্ধার সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে পালিত হওয়াটা দরকার। স্বাভাবিক মানুষ ও হিন্দুরা তাই করে। এবার রাজনৈতিক হিন্দুদের কথা নিয়ে বলাই বাহুল‍্য। এটাই মূল বিষয়। এছাড়া স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগ আর পাকিস্তানের কথাও যখন বলা হচ্ছে, তখন শের-ই -বঙ্গাল ফজলুল হকের একটি অমূল‍্য কথা বলে শেষ করি, "হিন্দু মুসলিম দ্বন্দ্ব আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতির জন‍‍্য সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকারক। তবু আমি বলবো, মুসলমানদের মধ‍্যে থেকে একদিন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বা মহান এস.এ.ডাঙ্গের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব হয়তো উঠে আসবে। তবে আমাদের প্রকৃত প্রয়োজন একজন বিদ‍্যাসাগরের। অতো সুমহান মাপের মহামানব না পাওয়া গেলেও ক্ষুদ্রস্তরে প্রচেষ্টা করতে হবে।"
    এই হলো মূল কথা।
  • :|: | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩১559352
  • কুড়িটা ৪৪: আপনার মনে হয় স্থাপন আর প্রতিস্থাপন শব্দ দুটির পার্থক্য বোঝার একটি বিশেষ সুযোগ আছে। আশা করি সদ্ব্যবহার করবেন।
    তাছাড়া ধর্মের অন্যতম প্রতিষ্ঠা আশ্রমে। শ্রমের সঙ্গে সম্পর্ক নাই বললে জজে মানবে কেন?
  • . | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৩559351
  • বাগেশ্বর বাবার পাছায় লাথি মেরে ভাগানো হোক।
  • তরমুজ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৪559350
  • ধর্ম কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু বিজ্ঞানকে টপকে ধর্ম প্রতিস্থাপন করাটা সমস্যা। কারন যেহেতু বিজ্ঞান বস্তুনিষ্ঠ। তাই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রচুর শ্রমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ধর্ম যেহেতু বিশ্বাসনিষ্ঠ তাই ধর্মের ক্ষেত্রে সস্তার ডায়লগের প্রয়োজন হয়। ধর্মের সাথে শ্রমের কোন সম্পর্ক নেই। সুতরাং বিজ্ঞানকে টপকে ধর্মকে প্রতিস্থাপন করার অর্থ হল শ্রমকে অস্বীকার করা। ধর্মের গন্ডির ভেতর ধর্ম কোন সমস্যা নয়।
  • তরমুজ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:২২559349
  • মানুষ নিজেকে সবসময় কোনো না কোনো কিছুর মধ্যে ব্যস্ত রাখতে চায়। ধর্মও কোনো অভিন্ন বিষয় নয়। আগে আমাদের গ্রামে দেখা যেত, যখন চাষাবাদ হয়ে কিছুটা অবসর থাকত তখন গ্রামের লোকেরা যাত্রা, পালাগান, কবিগান রির্হাসাল করত। আর পুজোর সময় পারফর্ম করত। এই যাত্রা পালাগানের মূল বিষয় হত রামায়ন, মহাভারত। তারপর এই প্রবনতা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এখন বেশিরভাগ লোক অবসর সময়ে কোনো ছোট খাটো ব্যবসা বা অন্য কোনো বৈকল্পিক কাজ করতে চায়। যারা সংস্কৃতিমনা তাদেরও সংস্কৃতির ধরন পাল্টেছে এই কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর যুগে। এখন রামায়ন কবিগান গান কেবল ট্রেডিশন। এভাবেই প্রতিটি সভ্যতা এগিয়ে চলে। তাই বলে আমার ব্যক্তিগত জীবন দিয়ে আমি অনুভব করিনি যে আমার গ্রামের লোকেরা কোনো কালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ছিল। বরং অনেক বেশি উদারবাদী ছিল এবং এখনো তাই। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নতুন এসেছে তাই তারা তাদের সব রকমের হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডাকে বিভিন্নভাবে পূরণ করতে চাইবে। এটা অপ্রত্যাশিত নয়। কারন আদর্শ ছাড়া দেওয়ার মত আর কিছুই নেই।
  • albert banerjee | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৫559348
  • কালিদাস ও খোলা যেতে পারে।
  • albert banerjee | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৩559347
  • আবার রবি বাবুকে টানা কেন গোরা টা একটু খুলবো নাকি? কি বলছেন "পানু বাবু" চাড্ডি কুল
    নাকি একবারে গোরক্ষ বিজয় কাব্য।
  • albert banerjee | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৯559346
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৪yes
  • qwerty | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩৪559345
  • আজ্ঞে পোন্‌শাইগণ,
     
    আগে হিন্দু আর হিন্দুত্বকে আলাদা করতে শিখুন। তারপর না হয় সুমিত সরকার বা তনিকা সরকার আওড়াবেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত