সবাই জানেন এখন অমৃত্কাল এসে গেছে, টাকার মধ্যে চিপ লাগানো থাকে, সুতরাং সঞ্জয়ের স্টাইলে দূরে বসেই গুরুপদ মেলার সব খবরাখবর পেয়ে যাচ্ছে।
গুরুপদ আগের দিন দেখে গেছিল স্টলে দুটো ফ্লেক্স একটু বেরিয়ে মতো ছিল, যাতে দূরের থেকেই স্টলের নামটা লোকে দেখতে পারে। সেটা আবার ছিল মাটি থেকে সাড়ে ছ ফুট ওপরে। সুতরাং এক চেয়ারে উঠে লাফালাফি না করলে বা ঠিক তার নিচে দাঁড়িয়ে স্পট জাম্প প্র্যাকটিস না করলে খুব চেষ্টা করেও আম বাঙালির পক্ষে ওই জিনিসে মাথায় ধাক্কা লাগানো সম্ভব নয়। তাও গিল্ডের তরফ থেকে আমাদের কাছে জানানো হল ওই ফ্লেক্স নিয়ে নাকি কেউ গুরুচন্ডালির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। গুরুর রোবটেরা আশেপাশের সব স্টলে খোঁজ নিল, কারোর কোনো আপত্তি আছে কিনা এই ফ্লেক্সে। সবাই একবাক্যে জানাল, একরত্তিও আপত্তি নেই। এই ফ্লেক্সে কারোর স্টল তিলমাত্র আড়াল হচ্ছে না বা কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। গুরুর রোবটেরা গিল্ডকে সেকথা জানাল।
স্টল বন্ধ করে এক রোবট বেরোতে যাবে, এমনি সময় এক পেয়াদা করাত-হাতুড়ি-আরোকিসবযন্ত্র নিয়ে হাজির, জানালো ওপর তলার হুকুম ওই ফ্লেক্স খুলে ফেলতে হবে। গুরুর রোবট বাধা দিতে গেলে কোনো ওজর আপত্তি শোনা হলো না, বলা হলো আমার কাছে হুকুম আছে খোলার, আপনারা বাধা দিলে আমি বলে আসব, আমায় খুলতে দেওয়া হয়নি, তারপর আপনারা বুঝবেন। গুরুর রোবট নিরুপায় হয়ে মেনে নিল, আর কি করবে।
তারপর পরদিন রঙিন হরফ কেটে কেটে গু রু চ ণ্ডা ৯ ও গুরুর ম্যাসকটের একখান ছবি গুরুর রোবটরা লাগিয়ে ফেলল স্টলে ঢোকার গেটের মাথায়। আর গেটের দুদিকে গুরুর ইতিহাস আর কাব্যি লেখা ফ্লেক্স গুলো আছে।
আরেকটা আশার গল্প দিয়ে শেষ করা যাক। এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন স্টলে। একটু হাঁপিয়ে নিয়ে বললেন একটু চেক করুন তো। গুরুর রোবটেরা যারপরনাই অবাক, কী চেক করব? মহিলা বললেন আমি বেশ খানিকক্ষণ আগে বই কিনে নিয়ে গেছিলাম আপনাদের থেকে, অনলাইনে পে করেছি, মেলা দেখে টেখে রাস্তায় এগিয়ে গিয়েছিলাম অনেকদূর। হঠাৎ ফোনে দেখি একটা নোটিফিকেশন। টাকাটা মনে হচ্ছে আমার একাউন্টেই ব্যাক হয়ে গেছে, একবার চেক করে দেখবেন ঢুকেছে কিনা। গুরুর রোবটেরা জানালেন ওই অমিতাবচ্চনের গলা ওলা পেমেন্টের স্পিকার তাঁদের কাছে নেই, আর যে মোবাইলে টাকার মেসেজ ঢোকে সেটিও অন্যত্র, তাই এই মুহূর্তে চেক করার কোনো উপায় নেই। সেই মহিলা তখন নম্বর আলাদা করে দিয়ে গেলেন পরে টাকাটা এসেছে কিনা জানানোর জন্য, না এলে তিনি পাঠিয়ে দেবেন।
পুনশ্চ: পরে খোঁজ খবর করে জানা গেল টাকাটা সত্যিই ঢোকেনি তখন। মহিলাকে পরে সেকথা জানানো হয়, ও তিনি তৎক্ষণাৎ পেমেন্ট করে দিয়েছেন। ওঁকে গুরুর তরফ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।