দীপ্তেন দার এই বই টা পড়ে আমি জাস্ট পাগলা হয়ে গেছি। মাত্র ১৩ পাতায় এত কথা বলা যায়?
লেখক এখানে কিছু দৃশ্য কল্পের সৃষ্টি করেছেন :-
দৃশ্য ১/(পাতা ৩) :- সেই প্রথম প্রকাশ্যে চীনা বই বিক্রি হল। আমিও কী একটা বই কিনে এনেছিলাম। সেটা দেখে মা আর বাবা দু জনেই শংকিত। "লেলিন স্ট্যালিন পড় না। এইসব মাও ফাও কেন? "বাবার প্রশ্ন।
দৃশ্যঃ ২ /(পাতা ৩) অসংখ্য উপদল। জোরদার বিতর্ক চলছে। মূল দ্বন্দ্ব টা কী? দেশের আর্থ সামজিক চরিত্র কীরকম? মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ নাকি জাতীয় বুর্জোয়া। নয়া জনগণতান্ত্রিক লড়াই না কৃষি বিপ্লব।
দৃশ্য ৩ / (পাতা ৪ ):- ১৯৬৯ বাইশে এপ্রিল পার্টি হলো আর পয়লা মে শহীদ মিনারের নিচে কানু সান্যাল ঘোষণা কল্লেন পার্টির নাম। সেদিন ময়দান কুরুক্ষেত্র। বেনুদার হাত ধরে দৌড়াচ্ছি -কিন্তু কোথায় যাবো? কে সি দাসের দোকানের দিক থেকে পুলিশ ক্রমাগত কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে -এসপ্লানেডের দিক থেকে বড় বড় লাঠি নিয়ে পুলিশ নির্বিচারে মেরে যাচ্ছে। চোখের সামনে চার পাঁচ জন মিলে এক জন কে ছুরি মারলো। বেনুদা আশ্বস্ত কল্লো "ও আমাদের নয়। "হঠাৎ হো হো করে উল্লাস ধ্বনি "হাওড়ার মিছিল এসে গেছে -হাওড়ার মিছিল এসে গেছে। "ব্যাস। পলকে ব্যালেন্স অফ পাওয়ার আমাদের দিকে। সারা সন্ধ্যে হৈ হৈ করে আমরা ফিরলাম। একই সাথে দলে দলে বাড়ি ফিরছিলো সাঁঝ বেলা -ওরা আর আমরা। একই পাড়ায়। আর রাগ নেই। সেদিনের মতো যুদ্ধ শেষ।
দৃশ্য ৪ (পাতা ৬ )ঃ-সেটা আমার কানে শোনা। বাগবাজারে আমাদের হাতে ধরা পড়লো বাপী। শোনা যায় আমাদের অন্তত ছ জন কমরেডের গলা কেটেছে বাপী। তার আর রক্ষা নেই। বাপীও বুঝেছিল। কিন্তু ভয় পায় নি। বল্লো "মারবি তো? তো আগে একটু রসগোল্লা খাওয়া। "তো আমরাও কিনে দিলাম গোটা চারেক রসগোল্লা। "এবার সিগারেট দে "তার আবদার। চারমিনার দিলে রেগে যায়। "বাঞ্চোত জিন্দেগীর শেষ সিগারেট খাবো -একটা ক্যাপস্টান তো দে। "তাই খেলো। তারপরে হেসে বল্লো "শোন, মারবি একেবারে গলার নলিতে। এইখানটায় বুঝলি তো? "ধারালো ছুরি তে সেই কাজ করেছিল কমরেড রা। কিন্তু সেই হৃদয়্হীন আততায়ীর সাহস ও তাদের মুগ্ধ করেছিল।
দৃশ্য ৫ (পাতা ১০ )ঃ- ধ্রুব দার সাথে দেখা। ছুটে যাই। কেমন আছো ধ্রুব দা ? এর তার খবর ? কে কোথায় আছে? সবাই ছাত্র পরিষদ হয়ে যাচ্ছে ধ্রুব দা। "শুনে মুখ ম্লান হয়ে যায় ধ্রুব দার। "তুই শুনিস নি ? " ধ্রুব দা অস্ফুটে বলে "আমিও। এখন কলেজের বড়
সবাই ছাত্র পরিষ্দ নেতা। "দুজনেই চুপ করে যাই।
দৃশ্য ৬ (পাতা ১২ )ঃ-পাড়ায় পাড়ায় চিরুনি তল্লাশি চলছে সারা রাত ধরে। পুলিশ আর সিআর পি আসতো বিভিন্ন কোম্পানির বাসে করে -পাছে লোকে টের পায়। বিশাল পুলিশি কনভয় রওনা দিচ্ছে। টাইমিং ঠিক করে ঘিরে ধরতো পাড়া। সব রাস্তা আর গলির মুখে পুলিশ। আর উঁচু বাড়ীর ছাদেও বন্ধুক বাগিয়ে তারা। ম্ধ্য রাত্রে কার্নিশে কার্নিশে বদল সম্ভব ছিল না। প্রতিটি বাড়ির সব কটি ছেলেকে নিয়ে যেতো থানায় -বারো থেকে বত্রিশ -অল্পবয়স্ক সবাই শত্রু। সেখানে সারিবদ্ধ আতংক্গ্রস্ত ছেলেদের সামনে বোর্খা পরে আসতো কোন বিশ্বাসহন্তা -চিনিয়ে দিতো কোন কোন ছেলে "পার্টি"করে। টেনে হিঁচড়ে তক্ষুনি তার গারদের মধ্যে। তাদের আর্তনাদ শুনতে শুনতে বাকী ছেলেরা বাড়ি ফিরে যেতো।
দৃশ্য ৭ঃ { পাতা ১৪) চারু মজুমদার ধরা পড়লেন। দশ বারো দিন পরে লক আপেই মৃত্যু। যার অঙ্গুলিনির্দেশে ঐ গেরেফতারী হয়েছিলো তিনিও বাঁচেন নি। প্রায়
দশ বছর বাদে এক নিশ্চিন্ত সকালে রিক্সা করে বাজার করতে যাওয়ার পথে পাঁচ ছ জন আততায়ী র ছুরি ঝলসে উঠেছিলো।
দৃশ্য ৮ (পাতা ১৫ )ঃ-"প্রাক্তন নকশাল দের সাথে আমরা মাঝে মাঝে আলোচনা করি। বুঝতে চেষ্টা করি তারা কী ভাবছে,? তো প্রায় ঘন্টা দুয়েক অমন প্রশ্নবাণ আর আলোচনার পর সাদা পোশকের একজন একটি ছোট্ট রুপালি পিস্তল দিয়ে আমার গালে বুলিয়ে দিলেন "মারা পরে যাবেন। স্রেফ মারা পড়ে যাবেন। ও পথে আর যাবেন না।
দৃশ্য ৯ (পাতা ১৬ ):-" কিন্তু কেকাদি ঠিক হয়ে গেলো। অত ইলেক্ট্রিক শক দিয়েছিলো -কিরকম পাগল টা হয়ে গেছিলো। এখন আছে নেব্রাস্কায়। "মনে পড়ে? ""সেই ধর্মাতলার স্ট্রীটে আমাদের দৌড়। খুব বোম ফাটছিলো তালতলায় !"
আমরা চুপ্চাপ হয়ে যাই। কেউ বিড় বিড় করে বলে "বাড়ি ফিরে অনেক্ক্ষন ধুয়েছিলাম। অনেকক্ষণ। কিন্তু রক্তের গন্ধ টা অনেক দিন রয়ে গেছিলো। কিছুতেই .....
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।