দ্বিতীয় পর্ব আত্রাই নদীর জল ভোরবেলা অন্য রকম লাগে। যেন রাতের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে সে আবার নতুন করে জন্ম নেয়। কুয়াশার হালকা পর্দা জলের উপর ভাসে, আর দূরে কোথাও এক-আধটা বকের ডাক শোনা যায়। এই সময়টাতেই পরেশ মাঝি একা বসে থাকে নৌকার ধারে। গাজনের দিন না থাকলেও, ভোরবেলার এই নদী তাকে টানে। তার মনে হয়, নদীই একমাত্র জানে পাট ঠাকুরের আসল ইতিহাস। কারণ পাট ঠাকুরের শুরু এই নদী থেকেই। পরেশ তখন কিশোর। তার বাবা ছিল এই দলের সর্দার। গাজনের সময় পাট ঠাকুর কাঁধে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল তার বাবার। পরেশ তখন ঢাক বাজাত। এক বছর চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন ভয়ানক ঝড় উঠল। আত্রাই ... ...
প্রথম পর্ব দুপুরের চড়া রোদে আত্রাই নদীর পারের বালুচর একেবারে গরমের তাওয়া হয়ে আছে। চৈত্র মাসের ভরা দুপুর। বাতাস নেই, যেন আকাশের নীলচে আগুন সরাসরি বালুর উপর নেমে এসেছে। সেই উত্তপ্ত বালুর উপর পায়ের ছাপ পড়ছে, আর মুহূর্তেই মুছে যাচ্ছে—যেন সময় নিজেই হাঁপিয়ে উঠেছে। এই বালুচরের সঙ্গে পরেশ মাঝির চেনাজানা বহু দিনের। বছরভর সে এই নদীতেই নৌকা বায়, জাল ফেলে, মাছ ধরে। কিন্তু গাজনের এই পনেরো দিন সে আর শুধু মাঝি থাকে না—সে হয়ে ওঠে শিবের বাহক। পাট ঠাকুর কাঁধে নেওয়ার পর মানুষ বদলে যায়—এ কথা সে বহুবার শুনেছে তার বাবার কাছে। আজ সে নিজেই সেই কথার প্রমাণ। পাট ঠাকুর সারা বছর ... ...