এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুকি | 49.206.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৪742184
  • পলিটিশিয়ান-দা, 
              কেন নয়! নিমো গ্রামের লোকের হাতে গল্প শোনার জন্য সময়ই সময়! শুধু চলে এলেই হবে
  • সুকি | 49.206.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৪742185
  • পলিটিশিয়ান-দা,  কেন নয়! নিমো গ্রামের লোকের হাতে গল্প শোনার জন্য সময়ই সময়! শুধু চলে এলেই হবে 
     
    নিমো আসার প্রসঙ্গে মনে পড়ল। এক ভাইয়ের কথা লিখেছিলাম যে অষ্ট্রেলিয়ায় থাকে। নিমো গ্রামের গল্প বইটি বেরুবার পর জানিয়েছিল সে নাকি বাড়িতে মায়ের সাথে কথা বলার সময় বইটি থেকে কিছুটা করে শোনে। 

    সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা। এই বারে সেই ভাই দেশে এসে নিমো দিয়ে ঘুরে এসেছিল। আগে আমাকে জানায় নি - বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিল। এখনো খুবই খারাপ লাগছে ভেবে যে এই প্রথম মনে হয় কেউ বাড়ির দুয়ার থেকে চা-জলখাবার না খেয়ে ফিরে এল!

    আমাদের পরিধী ছোট, এই জীবনও সীমিত - এমন সব ঘটনাই গাঁথা রয়ে যায় স্মৃতিতে
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:da24:7744:ff37:***:*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:০২742186
  • ঠিক হ্যায় সুকি ভাই। দেশে গেলেই নিমো যাব সিওর।
     
    অনেকদিন এরকম করে কেউ নেমন্তন্ন করেনি।
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩২746711
  • অনেক দিন নিমোর গল্প লেখা হয় না, একটু আপডেট দেওয়া যাক যদিও জানি না আর কেউ এটা ফলো করেন কিনা!
     
     
    বর্ধমান জেলারই এক গ্রাম থেকে সেই বহু বহু বছর আগে গুরুপদ মন্ডল নিমোতে মাষ্টারি করতে এসেছিল "নিমো উন্নত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে"। তখনকার দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা তত ভালো ছিল না, তাই যাতাযাত করে মাষ্টারি করতে আসার প্রশ্নই নেই। তাহলে গুরুপদ থাকবে কোথায় নিমোতে? তখন নাকি আমাদের দাদু বলেছিল, "ঘোষবাড়িতেই থেকে যাও গুরুপদ। ছেলেমেয়েগুলোকে পড়িও, তাহলেই হবে"। 

    সেই শুরু, তার পরের পঁয়ত্রিশ বছর, মানে অবসর নেবার আগে পর্যন্ত আমাদের বাড়িতেই থেকে গিয়েছিল গুরুপদ। আমাদের কাছে এবং নিমোর সকলের কাছেই 'মাষ্টারমশাই' মানে ওই একজনাই।

    এমনিতে নিমোতে মাতাল, মস্তান, নেতা, বেয়াদব, চঞ্চল, বেপরোয়া - কোন প্রকারের ছেলেপুলেরই কমতি ছিল না। কিন্তু মাষ্টারমশাই-কে ভয় বা সম্ভ্রম করত না এমন কাউকেই কোনদিন আমি দেখি নি। অবসর নেবার পর মাঝেই মাঝেই নিমো দিয়ে ঘুরে যেত মাষ্টারমশাই - বাড়ির কোন অনুষ্ঠান হলে তো কথাই নেই, ঝাপান এবং দুর্গাপুজোও মাষ্টারমশাইকে ছাড়া ভাবা যেত না। তা স্টেশনে নেমে বাড়ি আসার রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মাষ্টারমশাইকে প্রণাম করা খুবই দেরী করিয়ে দিত অন্যকাজগুলি। মাষ্টারমশাই অবসর নেবার দিন এগিয়ে এলে ঘোষবাড়ির লোকজনের চিন্তা বেড়ে গেল - মাষ্টারমশাই ছাড়া কলা বউ স্নান করাবে কে?

    তাই অবসর নেবার পরেও বহুবছর মাষ্টারমশাই ঠিক ষষ্ঠির দিন হাজির হতেন, অষ্টমীর দিন বাড়ি ফিরে যেতেন। যাবার আগে ওবাড়ি থেকে এবাড়ি এসে একবার আমার খোঁজও নিয়ে যেতেন - সুকান, কবে এলি ইত্যাদি।

    তারপর মাষ্টার মশাইয়ের বয়স বাড়তে থাকে, একসময় শরীর আর দেয় না। কিছুদিন আগে খবর পেলাম মাষ্টারমশাই মারা গ্যাছেন। আজকের এই ছবিটা দেখে অনেক কথা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল যে মাষ্টারমশাই যখন অবসর নেন, তখন আমি ক্লাস টুয়েলভ। বর্ধমানের কার্জন গেটের পাশে তখনকার দিনের বিখ্যাত বইয়ের দোকান থেকে উপহারের বই কিনে আনার দায়িত্ব ছিল আমার। বিদায়ী সম্বর্ধনায় নিমো প্রাইমারী ইস্কুলে সেদিন কি ভীড়। সেদিনই প্রথম মাষ্টারমশাইকে কাঁদতে দেখা।

    মানুষ চলে যায় - কিন্তু মনের মাঝে তাদের জায়গা কি আর সময় ত মত সহজে কেড়ে নিতে পারে!!
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪১746712
  •  
    আজকাল দেখি আমার ছেলে মাঝে মাঝেই মুড়ি চেয়ে খায়, সাথে চানাচুর। মন প্রসন্ন হয়। বর্ধমানের মান রাখবে। 

    কিন্তু হালকা সমস্যা হচ্ছে সে ছেলে মুড়ি খায় চামচ দিয়ে, ডাইনিং টেবিলে বসে, আইপ্যাড দেখতে দেখতে! বলতে হয়, বাছা, এই ভাবে মুড়ি খেতে নেই। মুড়ির অমর্যাদা হয়!

    তাহলে মুড়ি কিভাবে খেতে হবে?

    এই ভাবে - যেমন ভাবে পল্টু, বিল্টু আর রাজু খাচ্ছে হাপুসে!

    আচ্ছা, এই ছবি নিমো গ্রামের। যদি কেউ এই ছবি ঝেঁপে মুড়ি নিয়ে লেখা ফাঁদে, বর্ধমানের নামোল্লেখ করো বাপু!
  • aranya | 2601:84:4600:5410:f002:81e2:270c:***:*** | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৩746713
  • ভাল লাগল, গুরুপদ মাস্টারমশাই-এর কথা। এমন কিছু শিক্ষকের কাছে আমরাও পড়েছি, খুবই  প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় সব মানুষ। 
    মুড়ি খাওয়ার গল্প ও ছবি ও দারুণ :-)
  • . | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০২746714
  • বলি, ও সুকি, এই গল্পগুলো রেগুলার লিখো। এগুলো সবচেয়ে বেস্ট খোলে তোমার হাতে।
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৪746723
  • এবারে দুর্গাপুজোর সময় সপ্তমীর দিন সবাই নিমো শিবতলায় বসে আছি, আমাদের গ্রামেরই এক ভাই এক হাত লম্বা ধারালো কাটারী নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে রাজুকে খুঁজছে। পাবলিক বলে রাজু এখানে নেই এখন, কিন্তু সেই ভাই শোনার নয়! বলে, ঠিক আছে রাজুদার ফোন নাম্বার দাও, জরুরী দরকার।

    পাবলিক এবার একটু ঘাবড়ে গেল। কারণ রাজুর সাথে এই ভাইয়ের বাপের হিষ্ট্রি আছে - আজ থেকে বহু বছর আগে এর বাপ রাজুকে অমাবস্যার গভীর রাতে সিঁদুর মাখানো খাঁড়া নিয়ে তাড়া করেছিল নরবলি দেবে বলে। সেই ঘটনা আমি নিমো গ্রামের গল্প বইতে লিখেছি।

    সেইদিন বাপের হাতে ছিল খাঁড়া, আর আজ ছেলের হাতে ধারালো কাটারী। রাজুর জান এই ফ্যামিলির সাথে জড়িয়ে আছে মনে হয়!

    যাই হোক, রাজুকে অবশেষে ফোন করল ছেলে। স্পিকারে দেওয়া হল সেই কল। এমন সব ক্রিটিক্যাল কল নিমোতে স্পিকারে চালিয়ে সবাই মিলেমিশে শোনাই দুস্তর। 

    - রাজুদা, তুমি শুধু একবার পারমিশন দাও
    - কিসের পারমিশন রে?
    - আমার বাপ-মা আমার জমানো টাকা মেরে দিয়েছে। তুমি শুধু একবার পারমিশন দিলেই ওদের দুজনে আজ কেটে ফেলব
    - মানে? তা আমি কি করব?
    - এই দুজনে চোটাবার পর তুমি শুধু কথা দাও যে থানা-পুলিশ সামলে নেবে। তাহলেই এখুনি কেটে ফেলব, কাটারি হাতেই আছে!

    সে এক কেলো কেস। এর মাঝেই আবার শিমলাগড় থেকে এক মেয়ে চলে এসেছে এই ছেলেকে বিয়ে করবে বলে। ট্রেনে হকারি (গজা বিক্রী) করতে গিয়ে এই মেয়ের সাথে আলাপ। হালকা সমস্যার ব্যাপার একটাই, ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে এবং বাচ্চাও আছে একটা। মেয়ে কোন কথা শুনতে চাইছে না, সে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছে বিয়ে করবে বলেই। বিয়ে না দিলে, সে রেলে মাথা দেবে।

    সপ্তমীর দিন সন্ধ্যাবেলা এমন অনেক ডেজাভু হল - কাটারী দিয়ে কেটে ফেলা, রেলে মাথা, প্রেম ইত্যাদি - যৌবন কালের স্মৃতিমেদুরতা ফিরে এল আবার।
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৯746724
  • আমার লেখাপত্র পড়ে সবচেয়ে বেশী ফিডব্যাক যেটা পাই তা হল, "আপনার সেন্স অব হিউমার দারুণ" বা "রসবোধ প্রবল আপনার"। 

    অন্য অনেক কিছু প্রশংসা শুনে হালকা লজ্জা পাবার সম্ভাবনা তৈরী হলেও - "রসবোধ প্রবল" শুনলে লজ্জা লাগে না, বরং নায্য কথা বলেছে মনে হয়। ইনফ্যাক্ট ব্যাপার সত্য - 

    ঘটনা হল, নিমো গ্রামের বেশীর ভাগ লোকজনেরই রসবোধ প্রবল। সেই গ্রামের ছেলে হয়ে আর কিছু না হোক রসবোধটা তো ধরে রাখতেই পারি!

    এই তো কিছুদিন আগের ঘটনা। আমার সেজ কাকা আর তার বন্ধু মঙ্গল কাকা দুই জনা মিলে মেমারীতে ব্যাঙ্কে যাচ্ছে পেনশন তুলতে টোটো চেপে। তার কিছুদিন আগে থেকে কাকিমার হার্টের কিছু সমস্যা যাচ্ছিল, স্টেন্ট ইত্যাদি বসাতে হয়েছিল।

    নিমো রেলগেটের কাছে টোটো দাঁড়িয়েছে গেট বন্ধ আছে ট্রেন পাস হবে বলে। পাশ থেকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, "এ্যাই, তোরা দুজনে এই রোদে কোথায় যাচ্ছিস?"

    মঙ্গলকাকা বলে উঠল,

    - আর বলো না দাদা। যবে থেকে বউমার হার্টের অসুখ ধরা পড়েছে, তবে থেকে এ এসে আমার কাছে কান্নাকাটি। বউটার কিছু হয়ে গেলে বুড়ো বয়েসে কে দেখবে, সেই চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না। কয়েকদিন খোঁজ খবর করে, আজ নিয়ে যাচ্ছি মেয়ে দেখিয়ে আনতে। বউমার ভালোমন্দ কিছু একটা হয়ে গেলে তখন যেন আর ওদিকে দেরী না হয়"।
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৭746725
  • দুর্গাপুজোর কথা যখন উঠলো তখন এটাও লিখে রাখি। 
     
    বাড়ি গেলে আজকাল আর তেমন কোথাও বেরুনো হয় না। গ্রাম ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গল্প করতে যাবার সময় কমে গ্যাছে। মাত্র কয়দিন বাড়িতে থাকলে যা হয় আর কি! 

    নিজে গিয়ে আর দেখা করা হয় না কারো সাথে - অথচ জীবনের অনেকখানি সময় হ্যাপির বাড়িতে কেটেছে। প্রতিবার পুজোয় নিমো গেলে হ্যাপি কিন্তু দেখা করে যায় বোলোর সাথে। এরা দুইজনাই আমার সেই কোন স্কুলজীবনের বন্ধু।

    বোলো নতুন চাকুরীতে ঢুকেছে। কেমন চাকুরী চলছে জিজ্ঞেস করলে বোলো জানালো,

    "বুঝলি প্রথম দিনই সুপারভাইজারকে গিয়ে বলে দিয়েছিলাম যে মাইনে যা দেবেন দিন, কিন্তু কাজ করতে বলবেন না! এই বয়সে কাজ করা আর পোষায় না"। 

    শুনে আশ্চর্য হলাম প্রথমে - বোলোও আমাকে কাজ না করেও কিভাবে চাকুরী করা যায় তার সব অনেক পদ্ধতি শেখালো। বলল, "তুই বিশ্বাস কর - সপ্তমীর দিন এক ফোঁটা কাজ করি নি! তবে হ্যাঁ, সুপারভাইজার বলেছে 'কাজ না করো ঠিক আছে, কিন্তু আগে বাড়ি যাওয়া যাবে না।' এখন তাই ফোনের চার্জ আর ডাটা দুই শেষ হয়ে যাচ্ছে!"

    বোলোর আরো গল্প অন্যদিন হবেক্ষণ কেউ শুনতে চাইলে।
  • গল্প শুনতেই তো আসা  | 165.225.***.*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০746726
  • --- নিমো গ্রামের বেশীর ভাগ লোকজনেরই রসবোধ প্রবল
    আচ্ছা, এইটে কি নিমো ছাড়িয়ে আশপাশ, মেমারী পর্যন্ত, ধরুন পুরগুনা, এসব জায়গাতেও প্রযোজ্য? মানে, কোন ধারণা আছে? 
     
    --- আরো গল্প অন্যদিন হবেক্ষণ কেউ শুনতে চাইলে
     
    কীই যে বলে ছেলেটা
  • . | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০১746727
  • আরো হোক।
    বোলোর গল্প হোক।
    তবে মেহুলের গল্প ও শুনতে চাই, চামচে করে মুড়ি খাওয়াটা অতি অল্প হৈলো।
  • kk | 2607:fb91:4c8e:d999:a966:5760:ae92:***:*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৮746728
  • হ্যাঁ অনেক লোক শুনতে চাইবে। আমি তো চাইবোই।
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০২746733
  • গল্প শুনতেই তো আসা  | 165.225.***.*** | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০
     
    আপনার প্রশ্নের উত্তরে আমার নিজের কি মনে হয় সেটা বলতে পারি - প্রত্যেক জায়গাতেই, অন্তত আমি যে গ্রাম গুলো দেখেছি, সেই সব জায়গাতেই সেন্স অব হিউমার দারুণ এমন কিছু লোক আছেই। সেই সব গ্রামে আমার মত কেউ একজনকে চাই যে সেখানকার গল্পগুলো লিখে ফেলবে
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৫746734
  • সে-দি, অরণ্যদা, কেকে সহ আরো বাকি যারা পড়ছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনারা পড়েন ও উৎসাহ দেন বলে লিখতে মন চায়। 
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৬746735
  • সেদিন নিমো স্টেশনে বেশ রাত নেমেছে জাঁকিয়ে, চারিদিক একেবারে নির্জন হয়ে যায় নি - দূরে খুব অস্পষ্ট শোনা যাচ্ছে মাঝে মাঝে কিছু গাড়ির শব্দ। আশে পাশে স্টেশনে কেউ নেই -

    এমনিতে নিমো সেফ জায়গা - কিন্তু শুনলাম ইদানিং শেয়ালের খুব উৎপাত বেড়েছে। একা থাকলে আক্রমণের ভয়। তাই হালকা টেনশন এল, কারণ স্টেশন একদম জমির ধারেই। শেয়াল উঠে এলে আর কে আটকাচ্ছে!

    দুপা এগিয়ে দেখলাম আলোটা দপদপ করছে। হঠাৎ খেয়াল হল ঠিক এই জায়গাটাতেই আগে ছিল সেই বেলতলা এই প্লাটফর্মটি  হবার আগে। বেল তলায় আমাদের ছোটবেলায় মানুষ রেলে মাথা দিতে আসত। ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে শুরু করে গার্হ্যস্থ কলহে বীতশ্রদ্ধ মানুষ। কত জন যে মরেছে এখানে! সাকসেস রেটও ভালো ছিল, মানে কেউ ইনজুরি নিয়ে ফেরে নি, স্পট ডেথ প্রায় গ্যারান্টিড ছিল।

    হালকা শীতল শ্রোত বয়ে গেল মেরুদন্ড দিয়ে। তাহলে কি মৃত আত্মাদের সাথে এই দপদপে আলোর কোন সম্পর্ক আছে? তার উপরে আবার শেয়াল, যাদের বেশ পছন্দের জিনিস মৃত জিনিসপত্র!

    গা ছমছমে কেস!
     
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৪746736
  • আমাদের ছোট বেলায় নিমো স্টেশনে প্রায় স্থায়ী ক্যাম্পিং করে মাইকের মাধ্যমে ট্রেনে টিকিট কাটার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করা হত। তখন চাপা টেনশন ছিল মার্কেটে যে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার টিকিট দৈনিক বা মাসিক বিক্রী না হলে নিমো স্টেশন কোনদিন উঠে যাবে!

    মাইক ধরার মত বয়স আমাদের তখনো হয় নি - বড়দের মধ্যে প্রায় সবাই কোন না কোন সময় মাইকের ভার নিয়েছিল। যতদূর মনে পড়ছে এদের মধ্যে কামারদের নীরদ জ্যেঠু ছিল স্ট্যান্ড আউট পারফরমার। সক্রীয় পলিটিক্স থেকে অবসর নেবার পর যখন ভাষণ দেবার প্লাটফর্মের অভাব বুকের ভিতর অনুভব হতে শুরু করল, ঠিক তখনই মরুদ্যান হিসেবে দেখা দিল নিমো প্লাটফর্ম। প্রায় একা জান লড়িয়ে দিয়েছিল জ্যেঠু টিকিট কাটা নিয়ে। ফেসবুক বা স্যোশাল মিডিয়ার যুগে জন্মালে জ্যেঠুর মিলিয়ন ফলোয়ার বাঁধা ছিল। এদেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিমো স্টেশন উঠে যায় নি - বরং এখন ফুলে ফেঁপে যা তা ব্যাপার।

    এর অনেক পরে ব্র‍্যান্ড অ্যামবাসাডারের এর মত করে বিদেশী আনা হয়েছিল নিমোতে - প্লাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়াতে। তেমনি এক বিকেলে তাদের সাথে নিমো স্টেশনে -
     
  • সুকি | 49.205.***.*** | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২১746737
  • মানুষ কত যে ভ্রান্ত ধারণায় ভোগে! 

    মেয়েদের বিশ্বকাপের সেমিফাইন্যাল জেতার পর থেকেই ন্যারেটিভ তৈরী হয়েছিল আর পাবলিক হড়হড় করে উগড়ে যাচ্ছিল - নারীবাদী, পুরুষতান্ত্রিক, সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী, কর্পোরেটিয়, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, টি ভি রেটিং, ইস্পাত এর মত দৃঢ স্নায়ু, লক্ষ লক্ষ আরো অনেকের অনুপ্রেরণা, এম আর এফের ব্যাট - ইত্যাদি ইত্যাদি।

    কিন্তু আসলে বিশ্বকাপ কি করে ভারতে এল সেই সম্পর্কে এদের প্রায় কোন ধারণাই নেই! 

    নিমোর সোনার বাংলা ক্লাব বিশ্বকাপটা ঘরে তুললো দেশী পাঁঠার ঝোল দিয়ে।২০২৩ এ হয়েছিল মুরগীর মাংস, কাপ ঘরে আসে নি। সেই দিন দু:খে অ্যালকোহল জনিত দেবদাস হয়ে গিয়ে মুরগীর মাংস খাবারও তেমন ছেলেপুলে ছিল না খেলার শেষে।

    ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। ফাইন্যালে দেশী পাঁঠা চালু করুন আর ট্রফি জিতুন পটাপট।

    কিন্তু সেদিন মাংসের ঝোলে প্রচুর ঝাল দিয়েছিল বনি। পাবলিক খেতে গিয়ে এবং তার থেকেও বড় করে সকালে টের পেয়েছে।

    তবে কিনা যে আনন্দে দু ফোঁটা চোখের জলই না ঝরল, সে আনন্দ কি আর তেমন আনন্দ হয়!
     
  • সুকি | 195.229.***.*** | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:২৮746844
  • মানুষ দুম করে নেই হয়ে যায়! এবারে নিমো গিয়ে শুনলাম গণেশ তেমনই এক নেই হয়ে গ্যাছে।

    ছোটবেলায় গণেশ আমাদের বাড়িতে রাখালি করত। তখন আমাকে কি বলে ডাকত এখন আর মনে নেই। মনে থাকার পরিধির মধ্যে সে আমাকে ভাই বলেই ডাকত। নিমো স্টেশনের কাছে পুকুরের আশেপাশেই থাকত সে - যাওয়া আসার মাঝে "ভাই, কবে এলে?" "ভাইপো কেমন আছে?" ইত্যাদি।

    কিন্তু যেটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, গ্রামের ছেলেপুলে সেদিন মনে করিয়ে দিল, সেটা হল গণেশ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সি পি এম পার্টিতে ভক্তি ধরে রেখেছিল।

    গত পঞ্চায়েত ভোটে সি পি এম এর প্রচারে বেরুবার নাকি কেউ নেই প্রায়, তখনো গণশা প্রবল রোদে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে বেরিয়েছিল।

    বামুনদের লাল্টু আমাকে বলল, "বুঝলে সুকানদা, গণেশ ওত তেতেপুড়ে বাড়িতে ভোট চাইতে এসেছে বলে আমি বউকে বললাম ওকে আগে একটু বসতে বলে জল দাও"

    সেই শুনে নাকি গণেশ প্রবল আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, বলে, "ভাই, এই যে তুই জল দিতে বললি, এটা শুনেই বুকটা ভরে গেল। নাহলে সি পি এম এর হয়ে ভোট চাইতে গেছি শুনলে কেউ কথাই বলছে না রে আর"!

    সাথের ছবিতে বাঁদিকের শ্যামলদা আর ডানদিকের লক্ষণদার মাঝে গণেশ। বহু বহু বছর আগের তোলা ছবি

    অনেক পুরানো কথা মনে চলে আসে - নেই হয়ে যাওয়া মানুষেরা স্মৃতি ভার করে তোলে।
     
  • সুকি | 195.229.***.*** | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩১746845
  • সংসার করলেই হয় না, দায়িত্ব নিতে হয়! এই যে এত দিন পর নিমো এলাম, তাবলে যখন আজ ধান বিক্রী হবে তার দেখভালের দায়িত্ব তো আর সরিয়ে রাখা যায় না!

    ফলে পুরো সকাল ধান বিক্রী নিয়ে ব্যস্ততায় কাটলো। লালস্বর্ণ এখন ১২২০ টাকা বস্তা (৬০ কেজির বস্তা)। কিছুদিন আগে ১২৪০ রেট ছিল, এখন কুড়ি টাকা দাম কমেছে। 

    খালি বস্তার ওজন করো। তারপর মড়াই থেকে ধান এনে বস্তায় ভরে তার ওজন। এটার থেকে ওটা মাইনাস। তারপর ট্রাকটরে তোলা ইত্যাদি। 

    পুরো ব্যস্ততায় সকাল কাটলো, কিন্তু কাজ করে প্রশান্তি আসে মনে।

    যাইহোক উপরে যা লিখলাম সেটা হল ফেসবুক পোষ্ট। বাস্তবে কি করলাম সেটাও লিখি। ধান বিক্রী হল ঠিকই, আমি বাড়িতে ছিলাম সেটাও ঠিক - কিন্তু দুয়ারে বসে শুধু দেখে গেলাম।

    মা বলল আগে কফি খাবি নাকি কাঁঠাল? জটিল প্রশ্ন - সেই নিয়ে খানিক ভাবলাম। মাঝে ভাইয়ের বউ একটা খাতা এনে বলল, "দাদা, এখানে যখন বসেই আছেন, খাতায় ধানের ভরা বস্তার ওজন গুলো একটু লিখুন না, আমার রান্না বান্না আছে সকালে"

    তাকে দু:খের সাথে জানাতে হল, আমার পক্ষে ধানের ওজনের হিসেব রাখা সম্ভব নয়, কারন আমি কফি আগে খাব নাকি কাঁঠাল, সেই নিয়ে ভাবছি।

    এদিকে শ্রাবণ মাসের প্রথম রবিবার আজ। তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাবার বিশাল ভিড়। এক ছেলে সকালেই আমাদের বাড়ি এসে বলল ভাইকে, "বাবুদা, পালক লাগবে ময়ূরের। জল ঢালতে যাবার বাঁক সাজাবো"

    বাবু গেল রবিবারের বাজারে দোকান খুলে পালক সাপ্লাই দিতে। আমি খুবই মন:ক্ষুণ্ণ হলাম, কারণ এখন দোকান যাওয়া মানেই আবার ওদিকে রসুলপুরের রেল গেটের কাছে ডিম-পরোটা খেতে যাবার দেরী হয়ে যাবে!

    বাধ্য হয়ে বাবুকে মনে করিয়ে দিতে হল - যে ওকে ব্যবসা নাকি ডিম পরোটা কোনটা বেশী প্রায়োরিটি সেটা ঠিক করতে হবে!

    তবে সে মাল্টিটাস্কিং এ অভস্ত্য বলে পালক দিয়ে এসে ডিম পরোটার প্রতিশ্রুতি দিল।

    আমি কাঁঠাল আগে নাকি কফি এই ভাবতে ভাবতে দুয়ারে বসে ধান মাপা দেখতে লাগলাম
     
  • সুকি | 195.229.***.*** | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৮746846
  • আমাদের পরিবারের মধ্যে দুইজনকে দেখেছি যারা সেলফি তুলতে বেজায় ভালোবাসে - এক তো অমৃতা আর দ্বিতীয় হল সুমন। সম্পর্কে সুমন আমার ভগ্নিপতি। মোম - সোম দুই বোন, ডিটেলে বলতে গেলে মোম আমার নিজের বোন আর সোম কাকার মেয়ে। কিন্তু বৃহত্তর পরিবারে বড় হবার জন্য এবং কাছাকাছি বয়সের হবার জন্য তাদের দুজনের নাম একসাথেই উচ্চারিত হত। এখনো বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান হলে লোকে খুঁজে দ্যাখে মোম-সোম এসেছে কিনা।
     
    তো যাই হোক সোমের বর হল সুমন আর মোমের বর কার্তিক।  নামের ডিফারেন্সের মতই তাদের দুই জনের কাজ কারবার। কার্তিককে কাজ দিলে সে তার নিজের কাজ কর্ম ফেলে সেই নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পরবে যে আপনার নিজের লজ্জা লেগে যাবে সেই কাজ তাকে রিকোয়েস্ট করেছি বলে! সেই যেমন কিছু দিন আগে আমার স্টেট ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে কিছু সমস্যা হচ্ছিল, তা কার্তিক-কে বললাম যে স্কুল যাবার আগে একদিন পারলে ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চে গিয়ে একটু খোঁজ নিও না! 

    ব্যাস - সেই যে বলা, কার্তিক প্রায় ম্যানেজারের ঘরের সামনে ক্যাম্প করে ফেলে আর কি! ম্যানেজার বলল যে ঠিক আছে দেখছি - কিন্তু তা বললে হবে কেন! কার্তিক নাছোড় বান্দা - কবে দেখা হবে, আমরা কিভাবে জানবো, হোয়াটঅ্যাপে এখুনি একটু আমার সাথে ভিডিও কল কি ম্যানেজার করে নিতে পারে না! ইত্যাদি ইত্যাদি। ম্যানেজার কাজের ফাঁকে নিচে চা খেতে নেমেছে কি, সেই চায়ের দোকানে বসেই আছে কার্তিক, চা ম্যানেজারের গলা দিয়ে নেমেছে কি এক ঢোঁক, কানের গড়ায় গিয়ে, 'বলছিলাম কি, কাজটা এই ফাঁকে করে দেওয়া যেত না!'

    আগের মাসে কার্তিকের গ্রামে কার বিয়ে হবে, তারা বলেছিল কার্তিককে, "দাদা, রাঁধুনির ব্যাপারটা কিন্তু আপনাকেই দেখতে হবে। ওই যে আপনার শ্বশুর বাড়িতে অনুষ্ঠানে যে রান্না করেছিল, তাকেই কিন্তু আনতে হবে"। ব্যাস - আর যায় কোথায়! শ্বশুর বাড়ির রাঁধুনি বলতে চকদিঘী মোড়ে লজেন্স বিক্রি করে অবসর সময়ে সেই ঈশ্বরদা। এবার ছোটা ঈশ্বরদার কাছে! নিজের বাড়ির সব কাজ বন্ধ - বোন বলছে বাড়িতে এগুলো দরকার, কিন্তু তার আগে প্রায়োরিটি বিয়ের রান্নার অ্যারেঞ্জমেন্টের।  শুধু একদিনের তো ব্যাপার নয়, কার্তিক তিন দিন ধরে রাঁধুনি টিমের ম্যানেজার হয়ে বিয়েবাড়ি সামলালো। সারাদিন রান্নার ম্যানেজারই, তারপরই নাকি খাওয়া দাওয়া শুরু হলে মেয়েদের বাড়ির কাউকেই প্যান্ডেলে দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না - ফলে কার্তিক-কেই সেই প্যান্ডেলের দেখভালও করতে হয়।

    সেই দিক দিয়ে দেখতে হলে সুমন হচ্ছে ঘোষ বাড়ির আদর্শ জামাই। কোন কাজে তার শরীর নড়বে না প্রায়। গ্রামেতে এসেও সে সকাল নটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না। বাড়িতে তখন সেটা জলখাবার বেলার মুড়ি খাবার সময়।  তারক ততক্ষণে ঘুঘনি বিক্রি করতে চলে এসেছে সাইকেলে হাঁড়ি বেঁধে। ছিনুই থেকে আমি ছেঁড়া পরোটা কিনে নিয়ে চলে এলাম - কিন্তু সুমনের আর  ঘুম ভাঙে না। কোন কাজ দিলে সুমন না করে না - "দাদা, তুমি চিন্তা কোরো না, আমি রয়েছি তো"। কিন্তু হালকা সমস্যা একটাই - সেই কাজ আর হয়ে ওঠে না শেষ।

    - সুমন, কতদূর এগুলো?
    - আর বোলো না, কাল তো বাড়ি থেকে বেরুতে যাচ্ছি, ব্যাস কি বিশাল জোরে মেঘ ডাকল! অত মেঘ ডাকার মধ্যে কি বেরুনো যায় নাকি!
     
    আরও কিছুদিন যায়। আবার জিজ্ঞাসা - আবার সুমনের উত্তর

    - কালকে বেরুতে গিয়ে কি কোমরে ব্যাথা। ওই ভলিবল খেলতে - 
    - আচ্ছা অনেক দিন পর খেলতে গিয়েছিলে নাকি?
    - মাঠে নামা হল কৈ! ভাবছিলাম একটু ওয়ার্ম আপ করি, ব্যাস খিঁচ  ব্যাথা লেগে গেল!  
     
    কিছুদিন আগে সবাই বেড়াতে গিয়ে সুমন সবেতেই লেট! গাড়ি ছাড়ছে কিন্তু সে নেই, সেলফি  তুলছে। সবার  ছবি তুলে দিয়েছে আগে - শেষে নিজের সেলফি, 'মি টাইম' আর কি। শেষের  দিন  তো হাইট। হোটেল থেকে চেক আউট করে গাড়িতে ঠিক চাপতে যাবার আগে তার মনে পড়ল, সুইমিং পুলের ধারে সবার ছবি তোলা হলেও, জলে নেমে সেলফি তো তোলা হয় নি! আমরা গাড়িতে রইলাম, সে গেল সেলফি  তুলতে। 

    তবে কোন কাজই কি সে করে না! তা নয় - বেশ কাজ দেয় - ধরুন ছেলে পুলেদের খেলতে পাঠানো হল কোন পার্কে, বা আশেপাশের বাগানে। সুমন একদম সেফ বেট - বাচ্চারা খেলবে - আর সুমন দোলনায় বসে বা ওই স্লিপারের ধারে সেলফই তুলবে। উইন উইন -
     
    সাথের ছবিটি এমনই এক সেলফির - বেড়াতে গিয়ে নৌকা বিহারে সময় বাচ্ছাদের দায়িত্বে সুমন
     
  • . | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:২৫746847
  • এইত্তো! জ্জিও মামা।
  • . | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩৭746848
  • সুমনের চশমার ভেতর দিয়ে মোবাইল ফোনটাও দেখা যাচ্ছে।
  • গল্প  | 165.225.***.*** | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০০746849
  • বেশ 
  • :|: | 2607:fb90:bd3d:9b03:982:bbe7:4bc8:***:*** | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৪746857
  • "চেনা মানুষ অচেনা গল্পে"র সিরিজটিকেও যেন মাঝেমধ্যে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দেবেন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন