এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু

    PJ Roy Jit লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৩৫৬৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PJ Roy Jit | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৯:১৫369717
  • নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মামা তত্কালিন খ্যাতনামা ব্যারিষ্টার জে. এন. দত্ত শ্রীশ্রীঠাকুরের আশ্রিত হয়েছেন শুনে নেতাজীর পিতৃদেব জানকীনাথ বসু ও মাতৃদেবী প্রভাবতী দেবী ঠাকুরের দীক্ষিত হন । ও ঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। হিমাইতপুর আশ্রম নির্মাণে তাঁদের আর্থিক অবদান এবং নিজ হস্তে শ্রমদান সত্সঙ্গের ইতিহাসে সাক্ষ্য হয়ে রয়েছে ।

    শ্রীক্ষেত্র পুরীর আর্মস্ট্রং রোডে নেতাজীর পিতৃব্য হরনাথ বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে জানকীনাথ বসু হরনাথ লজ নামে যে গৃহ নির্মাণ করেছিলেন সেই অঙ্গনকে পুরুষোত্তম পদার্পণে ধন্য করতে প্রায় ২০০ জন ভক্তসহ ঠাকুরকে পুরীতে নিয়ে গিয়েছিলেন নেতাজীর পিতৃদেব । সেদিনটি ছিল ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। ভক্তপার্ষদসহ প্রায় দুমাস পুরীসহ সন্নিহিত অঞ্চলকে কীর্তনানন্দের ভক্তিরসের অমৃত ধারায় নিমজ্জিত করে আচার্য সতীশচন্দ্র গোস্বামীকে উ়ড়িষ্যা প্রদেশে প্রচারের জন্য থাকতে বলে সপার্ষদ হিমাইতপুরে ফিরে এসেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর ।

    এই আদর্শ সৎসঙ্গী পরিবারের সন্তান নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু মা-বাবার কাছেই ঠাকুরের অমৃত জীবন কথা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তিনবার ঠাকুর দর্শনে আসেন। প্রথমবার আসেন I.C.S পাশ করার পর। ঠাকুর তখন কলকাতায় ছিলেন । তারপর আরো দুবার হিমাইতপুরে এসেছিলেন ঠাকুর দর্শনে । নেতাজী ঠাকুর দর্শনে হিমাইতপুর, পাবনা সৎসঙ্গ আশ্রমে এলে ঠাকুরের অন্যতম পার্ষদ পূজনীয় কর্মবীর শ্রীসুশীলচন্দ্র বসু তাঁকে আশ্রমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান। ঠাকুরের মতাদর্শ ও তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় নেতাজীর কাছে তুলে ধরেন সুশীলদা। আশ্রম ঘুরে নেতাজী ভাবলেন যে, ঠাকুরের অধিকাংশ প্রচারকেরা বিবাহিত এবং সংসারী। ঠাকুরকে মাথায় নিয়ে, সংসার ঠিক রেখেও বিশ্বসংসারের মাঙ্গলিক-ব্রতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এঁরা। তারপর আশ্রম ঘুরে দেখে নেতাজী সুশীলদাকে বলেছিলেন — “সাধারনতঃ আশ্রম বলতে লোকে সন্ন্যাসী বা গৃহত্যাগীদের আশ্রমই বোঝে। গৃহী হয়ে পরিবারসহ আশ্রম জীবন -যাপন করবার দৃষ্টান্ত আপনারাই প্রথম দেখালেন। পরিবার, পরিজন এবং পরিবেশের সবরকম দায়দায়িত্ব বহন করে, দৈন্য অভাব অভিযোগের মধ্য দিয়ে আপনারা এগিয়ে চলেছেন। তাই আমার মনে হয়, আপনারা দেশ গঠনের একটা বড় গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন। আপনারা যদি সত্যি সত্যি এভাবে আশ্রম গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনারা দেশের কাছে একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। গৃহী হয়েও যে আশ্রমজীবন যাপন করা যায়, একথা লোকের কাছে আর অবিশ্বাস্য বলে বোধ হবে না। তারপর নেতাজী ঠাকুরের কাছে এসে ভক্তি ভরে প্রণাম করলেন। নেতাজীকে বসবার জন্য যে চেয়ার দেওয়া হয়েছিল সেখানে তিনি বসলেন না। মাতৃভক্ত নেতাজী বলেছিলেন — “ঠাকুর আমার মায়ের ইষ্ট, তাঁর সামনে আমি চেয়ারে বসতে পারি না।” বলে ঠাকুরের পদপ্রান্তেই বসে পড়েছিলেন নেতাজী। ঠাকুর সস্নেহে নেতাজীর মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সকলের কুশল সংবাদ নিলেন। তারপর নেতাজী ঠাকুরকে বললেন– দেশের তো নানা কাজই করবার আছে। তা দেশের প্রকৃত সেবা করতে হলে কোথা থেকে আরম্ভ করতে হবে? এ বিষয়ে আপনার মত কি? শ্রীশ্রীঠাকুর নেতাজীর দিকে গভীর স্নেহল দৃষ্টতে তাকালেন। তারপর ভাব বিভোর কন্ঠে বললেন —আমার কথা হচ্ছে দেশের কাজ করতে হলে প্রথম মানুষ তৈরীর কর্মসূচী নিতে হবে। ভাল মানুষ পেতে হলেই বিবাহ-সংস্কার আশু প্রয়োজন। আর এটা এমনভাবে করতে হবে যাতে সব বিয়েগুলিই Compatible (সুসঙ্গত) হয়, আর Compatible বিয়ে মানেই বিহিত সঙ্গতি। বর্ণ, বংশ, আয়ু, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সব হিসাব করে দেখে শুনে কাজ করতে হবে। বিহিত বিবাহ হলেই ভাল সন্তানাদি জন্মাবে আর তখন তাদের দ্বারাই দেশের, দশের সবারই মঙ্গলব্রতের কাজ করা যাবে। সেইজন্য মানুষ তৈরীর ব্যবস্থা আগে করা প্রয়োজন। দাশদা (দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ) যখন আমায় বললেন যে, তিনি মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন না, যার উপর ভার দিয়ে তিনি একটু বিশ্রাম নিতে পারেন।— তার উত্তরে আমি একথাই বলেছিলাম।

    ঠাকুরের কথা শুনে নেতাজীর চোখেমুখে গভীর চিন্তার ছাপ পড়ল। তাঁর চিন্তা জগত নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হলো যেন।

    নেতাজী ঠাকুরকে বললেন- বিবেকানন্দও মানুষ তৈরীর কথা বলেছেন, এবং তা যে আশু প্রয়োজন তা ভেবেছি, কিন্তু তা করতে হলে যে বিবাহ সংস্কার প্রয়োজন তা ভেবে দেখিনি।…. এখন ভেবে দেখছি ভাল সংস্কার-সম্পন্ন শিশু যদি না জন্মায় শুধু শিক্ষা তাদের বিশেষ কি করতে পারে ? বীজ থেকেই তো গাছ হয়, বীজ ভাল হলেই গাছ ভাল হবে। এটা আপনার কথা শুনে বুঝতে পারছি। কিন্তু এতে দীর্ঘসময় সাপেক্ষ।

    ঠাকুর দৃপ্তকন্ঠে বললেন – দীর্ঘ সময় তো নেবেই – আমরা তো এতদিন পর্যন্ত জাতির বা সমাজের স্তায়ী কল্যাণের জন্য কিছুই করিনি। বহু গলদ জমে গেছে। সাফ করতে সময় নেবে বৈকি ? কোন Shortcut Programme (সংক্ষিপ্ত কর্মসূচী) এ জাতির সত্যিকার কল্যান হবে বলে আমার মনে হয় না।
  • সিকি | 158.168.***.*** | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৯:৩৯369718
  • ইয়ে, নেতাজীর ফেরার ডেটটা কি জানা গেল আলটিমেটলি? খুব চিন্তায় আছি কিন্তু।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন