এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ওলো সই_২#শ্লীলতা কি এক্সক্লুসিভ অফার?

    শ্রীমতী লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • ১ | ২
    ওলো সই_২

    শ্লীলতা কি এক্সক্লুসিভ অফার?

    সই, একটা কথা বল তো—শ্লীলতা জিনিসটা আসলে কী? মানে, একেবারে প্যাকেট খুলে দেখতে চাইছি। কী থাকে তার ভেতরে? শালীনতা? ভদ্রতা? সংযম? নাকি মেয়েদের শরীরের ওপর সমাজের বসানো একটা অদৃশ্য সিলমোহর? নাকি শ্লীলতা কোনও ডিজাইনার পোশাক? যার কাটিং আলাদা, মাপ আলাদা, কালেকশন আলাদা। আর সবচেয়ে বড় কথা—পুরুষের জন্য এই কালেকশন নেই। শুধু মেয়েদের জন্য। Exclusive Women’s শ্লীলতা Collection। সীমিত সংস্করণ। বাজারে চাহিদা বিপুল। দাম? মেয়ের স্বাধীনতা।
    ওলো সই, তুই হাসছিস কেন? হাসিস না, ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমাদের মেয়েদের হাতে এই শ্লীলতার প্যাকেটটা ধরিয়ে দেওয়া হয়। মা বলে, জামাটা একটু টেনে পর। দিদা বলে, মেয়েমানুষের মতো বস। পিসি বলে, এত জোরে হাসিস না। কাকিমা বলে, রাস্তায় হাঁটার সময় মাথা নিচু করে চল। স্কুলে কেউ বলে, চুলটা বাঁধা রাখো। বাড়িতে কেউ বলে, ছেলেদের সামনে এত কথা বলতে নেই। তারপর বয়স একটু বাড়লে আরেকটা অধ্যায়—একটু সাবধানে চলিস, বেশি বন্ধুত্ব করিস না, ছেলেদের সঙ্গে বেশি মিশিস না, রাতে ফিরিস না, ওড়নাটা নে, দুপুরে যা, সন্ধের আগে ফিরে আয়। এ যেন একটা আজীবন প্রশিক্ষণ। মেয়েটাকে মানুষ করার আগে তাকে ‘শ্লীল’ করা হবে। মানুষ হওয়া পরে। প্রথমে শিখতে হবে—কীভাবে বসতে হয়, কীভাবে হাঁটতে হয়, কীভাবে হাসতে হয়, কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে শরীরটাকে এমনভাবে বহন করতে হয় যাতে অন্যের চোখে কোনও অভিযোগ না থাকে।
    সই, একটা প্রশ্ন করি? অন্যের চোখের শান্তির দায়িত্বটা মেয়েটার কেন? এই যে রাস্তার ওপারে একজন দাঁড়িয়ে মেয়েটার শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে—তার চোখের শিক্ষা কে দেবে? মেয়েটা? নাকি সেই লোকটার নিজের পরিবার? কেউ কি কোনও ছেলেকে ছোটবেলায় বলেছে—বাবা, মেয়েদের শরীরের দিকে তাকানোরও একটা শ্লীলতা আছে? বাবা, কারও শরীরকে নিজের বিনোদন ভাববি না। বাবা, কেউ ছোট জামা পরলে সেটা তোর জন্য আমন্ত্রণ নয়। বাবা, কেউ হাসলে তার মানে সে তোকে পছন্দ করে না। বাবা, কেউ চুপ থাকলে তার মানে সম্মতি নয়। বাবা, কেউ ‘না’ বললে আর কোনও ব্যাখ্যার দরকার নেই। কেন বলি না? কারণ সই, আমরা ছেলেদের মানুষ করি, আর মেয়েদের পাহারা দিই। এই দুইয়ের তফাতটা খুব ছোট নয়, এটাই গোটা গল্প।
    একটা ছেলে সন্ধেবেলায় বাইরে বেরোলে মা বলে—সাবধানে যাস। একটা মেয়ে বেরোলে মা বলে—কোথায় যাচ্ছিস? কার সঙ্গে? কখন ফিরবি? ফোন রাখিস। লোকেশন অন রাখিস। অচেনা কারও গাড়িতে উঠিস না। একলা থাকিস না। জামাটা একটু ঠিক করে পর। ছেলেটার জন্য সতর্কতা, আর মেয়েটার জন্য বিধিনিষেধ। আর তারপর একদিন যদি মেয়েটার সঙ্গে কোনও অন্যায় ঘটে, সমাজ খুব অবাক হয়ে বলে—আমরা তো ওকে এত সাবধান করেছিলাম! সই, এটাই কি তাহলে নিরাপত্তা? একজনকে সারাজীবন বন্দি রেখে তাকে নিরাপদ ঘোষণা করা? এ তো চোর ঢুকতে পারে বলে বাড়ির মালিককে সারাক্ষণ ঘরের ভেতর বসিয়ে রাখা। চোরকে বলা হলো না—ঢুকবি না। বাড়ির মানুষকে বলা হলো—বেরোবি না! কী সুন্দর ব্যবস্থা! অপরাধীর স্বাধীনতা অক্ষত, আর মেয়েটার স্বাধীনতা বন্ধক। তারপর আমরা বলব—দেখো, মেয়েরা তো নিরাপদ!
    সই, শ্লীলতা শব্দটারও বুঝি এই সুবিধে। এটা যতদিন মেয়ের গায়ে থাকে, সমাজ নিশ্চিন্ত। যেই একটু নড়ে গেল, অমনি হইচই। জামা ছোট? শ্লীলতা গেল। হাসি বেশি? শ্লীলতা গেল। চুল খোলা? শ্লীলতা গেল। রাতে বাইরে? শ্লীলতা গেল। প্রেম করেছে? শ্লীলতা গেল। বিয়ের আগে সম্পর্ক? শ্লীলতা গেল। বিয়ের পর নিজের শরীরের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত? ওমা! শ্লীলতা গেল কোথায়? শ্লীলতা যেন মেয়েদের শরীরে থাকে, মেয়েটা হাঁটলেই সেটা দুলছে, বসলেই সেটা সরে যাচ্ছে, হাসলেই সেটা একটু কমে যাচ্ছে, আর প্রেম করলে প্রায় শেষ। আর কেউ যদি তার শরীরে অনুমতি ছাড়া হাত দেয়—তখন? তখন সমাজ বলে, ‘শ্লীলতাহানি’! অর্থাৎ শ্লীলতা ছিল মেয়েটার, হানি হলো তার। কিন্তু যে হাতটা গেল, যে মানুষটা গেল, তার কী হলো? তার কোনও শ্লীলতা ছিল না? তার আচরণ অশ্লীল হলো না? তার শিক্ষা ব্যর্থ হলো না? তার সামাজিক পরিচয় প্রশ্নের মুখে পড়ল না? কারণ সই, আমরা শ্লীলতাকে নৈতিকতার বদলে মেয়েদের শরীরের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছি। যেন শরীরটা একটা শোকেস, সেখানে একটা বোর্ড ঝুলছে—HANDLE WITH SOCIAL APPROVAL। নিজের হাতে ধরলে সমস্যা নেই, অন্য কেউ ধরলে? ওহ, তখনও সমস্যা মেয়েটার।
    এই যে ‘ভালো মেয়ে’—এই শব্দটার ব্যবসা খুব পুরনো। ভালো মেয়ে মানে কী? যে বেশি প্রশ্ন করে না, যে চেঁচায় না, যে রাত করে না, যে নিজের ইচ্ছের কথা খুব জোরে বলে না, যে প্রেম করলে লুকিয়ে করে, যে সম্পর্ক ভাঙলে চুপ করে থাকে, যে শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নেয়, যে স্বামীর রাগকে ব্যক্তিগত সমস্যা বলে মেনে নেয়, যে অফিসে অপমান হলে ভাবে—চুপ থাকাই ভালো, যে যৌন হয়রানি হলে চাকরির কথা ভাবে, যে রাস্তায় কেউ কটূক্তি করলে দ্রুত হাঁটে, যে বাসে কেউ শরীরে ঘেঁষলে সরে যায়, যে প্রতিবাদ করার আগে চারদিকে তাকায়—কে দেখছে, কে শুনছে, কে কী ভাববে? সই, এই ‘ভালো মেয়ে’ আসলে খুব ক্লান্ত একটা প্রাণী। তার নিজের কোনও জীবন নেই, তার জীবনটা অন্যদের আরাম অনুযায়ী সাজানো। সে এমনভাবে বাঁচবে যাতে কেউ অস্বস্তিতে না পড়ে। এমনকি যে মানুষটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলছে, তাকেও যেন সে বেশি অস্বস্তিতে না ফেলে! এটাই ভদ্রতা, এটাই শ্লীলতা, এটাই সামাজিক শিক্ষা।
    একবার ভাব তো, কোনও ছেলের বাড়িতে কি বলা হয়—বাবা, তুই যেন কোনও মেয়েকে অস্বস্তিতে না ফেলিস। তুই যেন ওর পোশাক দেখে ওর চরিত্র বিচার না করিস। তুই যেন রাস্তায় মেয়েদের উদ্দেশে মন্তব্য না করিস। তুই যেন কোনও মেয়ের ‘না’-কে নিজের অপমান ভাবিস না। তুই যেন কোনও মেয়ের ব্যক্তিগত ছবি বন্ধুবান্ধবের মধ্যে ছড়িয়ে না দিস। তুই যেন ক্ষমতা পেয়ে সেটা ব্যবহার করে কোনও মেয়েকে চুপ করিয়ে না দিস। বলা হয়?
    হয়তো কোথাও কোথাও হয়, কিন্তু সমাজের সাধারণ পাঠ্যবইয়ে খুব বেশি নেই। তার বদলে মেয়েদের জন্য পুরো সিলেবাস—প্রথম পত্র পোশাক, দ্বিতীয় পত্র চলাফেরা, তৃতীয় পত্র সম্মান, চতুর্থ পত্র চুপ থাকা, পঞ্চম পত্র সহ্য করা, ষষ্ঠ পত্র নিজেকে দোষ দেওয়া। পরীক্ষার ফলও বেরোয়। যে মেয়ে সবথেকে বেশি চুপ করেছে—সে ‘সংসারী’। যে সবথেকে বেশি সহ্য করেছে—সে ‘ভালো’। যে সবথেকে কম প্রশ্ন করেছে—সে ‘শালীন’। আর যে নিজের জীবনের মালিক হতে চেয়েছে? উফ! ওকে নিয়ে তো পাড়ায় মিটিং বসবেই—মেয়েটা নষ্ট হয়ে গেছে এত বেশি কেন স্বাধীন।
    এই ‘এত বেশি’ কথাটা খুব ভয়ংকর। কারণ স্বাধীনতারও সমাজে নির্দিষ্ট মাপ আছে। একটু স্বাধীন হও, বেশি নয়। চাকরি করো, কিন্তু সংসার যেন নষ্ট না হয়। নিজের টাকা উপার্জন করো, কিন্তু বেশি স্বাধীন হয়ে যেও না। প্রেম করো, কিন্তু বাড়ির পছন্দের সীমার মধ্যে। নিজের পোশাক বেছে নাও, কিন্তু এমন নয় যে অন্যরা তাকাবে। নিজের শরীরের মালিক হও, কিন্তু সমাজের অনুমতি নিয়ে। সই, তাহলে স্বাধীনতা কী? Pre-booked freedom? আগে আবেদন করতে হবে, তারপর কমিটি বসবে, তারপর অনুমোদন, আর তারপর বলা হবে—ঠিক আছে, তুমি আজ থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত স্বাধীন। রাত সাতটা এক মিনিটে স্বাধীনতা বাতিল, কারণ শ্লীলতা বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে।
    এই শ্লীলতা আবার বিয়ের বাজারে খুব দামী। মেয়ে দেখতে এসেছে পাত্রপক্ষ। চা এসেছে, নিমকি এসেছে, মিষ্টি এসেছে, মেয়েটা এসেছে। এবার পরিদর্শন—হাঁটে কেমন? কথা বলে কেমন? বেশি হাসে? চোখে চোখ রাখে? চুপচাপ? শান্ত? সংসারী? আধুনিক? না না, অত আধুনিক নয়, অল্প আধুনিক। মানে, চাকরি করবে, কিন্তু বাড়ি সামলাবে। নিজের মত থাকবে, কিন্তু বেশি মতামত থাকবে না। সাজবে, কিন্তু বেশি সাজবে না। শরীর সচেতন হবে, কিন্তু শরীর সম্পর্কে নিজের সিদ্ধান্ত নেবে না। এ যেন শ্লীলতার নতুন মডেল—“Bridal শ্লীলতা 2.0”।
    সই, একটা বিজ্ঞাপন বানানো যায়। স্ক্রিনে এক তরুণী, চুল বাঁধা, শাড়ি পরা, মাথা নিচু। পেছনে মৃদু সুর। ভয়েসওভার—আপনার মেয়ের ভবিষ্যৎ কি নিরাপদ? তারপর মা বলছে—আমি চাই আমার মেয়ে শ্লীল থাকুক। স্ক্রিনে নতুন পণ্য—এক বোতল শ্লীলতা। প্রতিদিন সকালে এক ঢোক, স্কুলে যাওয়ার আগে এক ঢোক, কলেজে যাওয়ার আগে দুই ঢোক, প্রেমে পড়লে অতিরিক্ত ডোজ। সতর্কীকরণ—অতিরিক্ত স্বাধীনতা গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। লক্ষণ—নিজের মতামত, প্রতিবাদ, আত্মসম্মান, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
    হাসছিস? হাসতেই পারিস, কিন্তু আমাদের বাস্তব বিজ্ঞাপনগুলো কি খুব আলাদা? মেয়েদের জন্য ক্রিম আছে ফর্সা হওয়ার, চুল সুন্দর করার, শরীরের গন্ধ দূর করার, ত্বক টানটান করার, বিয়ের আগে নিজেকে ‘প্রস্তুত’ করার।
    আবার ছেলেদের জন্য মাপকাঠি হল —ক্ষমতা, সাহস, দাপট, অ্যাডভেঞ্চার, জয়। মেয়েদের শরীরকে সংশোধন করতে হবে। আর ছেলেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। মেয়েদের বলা হয়—নিজেকে সুন্দর করো। ছেলেদের বলা হয়—নিজেকে প্রকাশ করো। এই দুই বাক্যের মাঝখানেই সমাজের চলমান রাজনীতি। মেয়ের শরীর দেখানোর জিনিস, আর ছেলের শরীর ক্ষমতার জিনিস—এটা কার মাথা থেকে বেরিয়েছিল? মেয়ের সৌন্দর্য মূলধন, আর ছেলের দাপট মূলধন- এটা কার ভাবনা? তাদের পাড়ার মোড়ে চান্দুর চায়ের দোকানে দেখলে জানিও। একটা ফোন করে দিও, এক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নিয়ে নেব। এরপর মেয়েটা যদি নিজের শরীর নিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়, সমাজের মাথা গরম। কারণ শরীরটা তার হলেও তার শরীর নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার যেন সবার—মা বলবে, পিসি বলবে, পাড়ার কাকিমা বলবে, বন্ধু বলবে, প্রেমিক বলবে, স্বামী বলবে, শাশুড়ি বলবে, ফেসবুক বলবে, ইউটিউব বলবে, টিভি বলবে, পাশের বাড়ির লোক বলবে। শুধু মেয়েটা বলবে না। সে বললে—বেশি স্বাধীন! এই একটা বাক্যেই কত দরজা বন্ধ হয়ে যায়!
    সই, শ্লীলতা কি তাহলে একটা সামাজিক লাইসেন্স? যে মেয়েটা লাইসেন্স নিয়ে ঘোরে সে নিরাপদ, আর যে লাইসেন্স হারায় সে দায়ী। আর লাইসেন্স কে দেয়? সমাজ। কে বাতিল করে? সমাজ। কে পরীক্ষা নেয়? সমাজ। কে শাস্তি দেয়? সমাজ। আর মেয়েটা? সে শুধু পরীক্ষার্থী, জীবনভর।
    তারপর একদিন একটা ঘটনা ঘটে। কেউ তাকে অপমান করে, কেউ তাকে অনুসরণ করে, কেউ তার শরীরে হাত দেয়, কেউ তাকে হুমকি দেয়, কেউ তার ছবি ছড়িয়ে দেয়, কেউ তার ‘না’-কে অগ্রাহ্য করে। তখন বলা হয় —‘শ্লীলতাহানি’! কী ভদ্র, কী মার্জিত, কী সুন্দর একটা শব্দ! অপরাধের গায়ে যেন আতরের গন্ধ। কেউ বলল না—একজন মানুষ আরেকজন মানুষের সীমা ভেঙেছে। কেউ বলল না—অনুমতি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। কেউ বলল না—ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। আমরা বললাম—শ্লীলতাহানি। সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপন বেড়ে গেল। হ্যালো, শুনছেন একটা অফার আসছে যেখানে তখন স্ক্রিনে ভাসছে সেই ক্রিমের মেয়েটার মুখ। যে দ্রুত সুন্দর হয়ে উঠছে, হয়ত শ্লীল কোনও ক্রিম মাখে সে। যেটা বাকী মেয়েরা জানেই না।
    কারণ ভাষা কখনও কখনও সমাজের খুব ভালো চাকর। যে কথাটা সরাসরি বললে অস্বস্তি হয়, ভাষা সেটাকে একটা সুন্দর কাপড় পরিয়ে দেয়। তারপর সবাই স্বস্তি পায়, অপরাধও যেন একটু সভ্য হয়ে যায়।
    সই, এই সভ্যতার ব্যাপারটা বড় মজার। আমরা অশ্লীলতা নিয়ে খুব চিন্তিত, কিন্তু অশ্লীল আচরণ নিয়ে নয়। আমরা মেয়ের জামার দৈর্ঘ্য মাপি, কিন্তু একজন পুরুষের হাত কোথায় যাচ্ছে, সেটা মাপি না। আমরা মেয়ের কণ্ঠস্বর শুনি, কিন্তু তার ‘না’ শুনি না। আমরা মেয়ের শরীর দেখি, কিন্তু তার ভয় দেখি না। আমরা মেয়ের চরিত্র নিয়ে আলোচনা করি, কিন্তু ছেলেটার আচরণ নিয়ে কথা বলি না। অর্থাৎ শ্লীলতা আমাদের কাছে একটা দারুণ একমুখী রাস্তা—মেয়েরা যাবে, পুরুষেরা দেখবে; মেয়েরা সাবধান হবে, পুরুষেরা বিচার করবে; মেয়েরা নিজেদের সামলাবে, আর পুরুষেরা নিজেদের ইচ্ছেকে স্বাধীনতা বলবে। তারপর সমাজ বলবে—সবাই সমান। আহা! কী চমৎকার কৌতুক!
    সই, এবার একটা পরীক্ষা করা যাক। একটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, তার পোশাক নিয়ে কেউ মন্তব্য করল। আমরা বললাম—মেয়েটার পোশাকটা শালীন হওয়া উচিত ছিল। এবার একটা ছেলে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, তার পোশাক নিয়ে কেউ মন্তব্য করল। আমরা কী বলব? ছেলেটার প্যান্টটা একটু লম্বা হলে ভালো হতো? হয়তো বলব, কিন্তু তার চরিত্র, তার সম্মান, তার পরিবার, তার ভবিষ্যৎ, তার বিয়ের সম্ভাবনা, তার সামাজিক মূল্য—এসব নিয়ে কি একই তীব্রতা তৈরি হবে? না। কারণ পুরুষের ‘শ্লীলতা’ তার অস্তিত্বের মূল শর্ত নয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটাই করা হয়েছে। একটা মেয়ের শরীরকে সমাজ যেন তার চরিত্রের সরকারি দলিল বানিয়ে দিয়েছে। শরীর ঠিক থাকলে চরিত্র ঠিক, শরীরের ওপর অন্যের আক্রমণ হলে চরিত্রের ওপরও প্রশ্ন, শরীর দেখা গেলে চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ, শরীর ঢাকলে চরিত্র প্রশংসিত, শরীর নিজের মতো করে ব্যবহার করলে চরিত্র বিপজ্জনক। কী আশ্চর্য হিসাব!
    সই, মেয়েটার শরীরটা তাহলে আসলে কার? মায়ের? বাবার? স্বামীর? প্রেমিকের? সমাজের? ধর্মের? সংস্কৃতির? রাষ্ট্রের? নাকি মেয়েটার নিজের? এই প্রশ্নটা খুব সাধারণ, কিন্তু সমাজের কাছে খুব অস্বস্তিকর। কারণ যদি উত্তর হয়—মেয়েটার নিজের, তাহলে শ্লীলতার পুরো দোকানটাই একটু কেঁপে ওঠে। তখন জামার মাপ সমাজ ঠিক করতে পারবে না, চলার গতি ঠিক করতে পারবে না, হাসির শব্দ ঠিক করতে পারবে না, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে ঠিক করতে পারবে না, কখন প্রেম করবে ঠিক করতে পারবে না, কখন বিয়ে করবে ঠিক করতে পারবে না, বিয়ে করবে কি না তাও ঠিক করতে পারবে না, মা হতে চায় কি না সেটাও নিজের সিদ্ধান্ত হবে, নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্তও নিজের। তখন তো সই, সমাজের বহু পুরনো চাকরি চলে যাবে! কত মানুষ বেকার হয়ে যাবে! পাড়ার কাকিমা কী নিয়ে আলোচনা করবেন? পরিবারের বড়রা কী নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন? টিভির প্যানেল কী নিয়ে চেঁচাবে? সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্টবক্স কী দিয়ে ভরবে?
    তাই শ্লীলতা বেঁচে থাকুক, মেয়েদের গায়ে বেঁচে থাকুক—তাদের হাঁটায়, তাদের হাসিতে, তাদের পোশাকে, তাদের প্রেমে, তাদের শরীরে, তাদের নীরবতায়। আর পুরুষের আচরণ? সে থাকুক শ্লীলতার বাইরে, যেন তার জন্য আলাদা আইন, আলাদা অভিধান, আলাদা ক্ষমা, আলাদা সমাজ। কখনও কোনও ছেলে কোনও মেয়েকে রাস্তা থেকে অনুসরণ করল, কেউ বলল—ছেলেটা একটু বাড়াবাড়ি করেছে। ‘বাড়াবাড়ি’! কী মিষ্টি শব্দ। কেউ কারও ভয়কে বাড়াবাড়ি করে দেয়, কেউ কারও সীমা ভাঙাকে দুষ্টুমি করে দেয়, কেউ কারও অসম্মতিকে প্রেম করে দেয়, কেউ কারও আক্রমণকে ভুল করে দেয়। আর মেয়েটা? সে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে, তারপর আয়নায় নিজের মুখ দেখে ভাবতে থাকে—আমি কি কিছু ভুল করেছিলাম? সই, এই প্রশ্নটাই আমাদের সবচেয়ে বড় জয়। অপরাধীর কাজের পরে যদি মেয়েটা নিজের অস্তিত্বকে সন্দেহ করতে শুরু করে, তবে সমাজের কাজ অর্ধেক হয়ে গেছে। বাকি অর্ধেক করব আমরা। আমরা বলব—ওরও তো একটু সাবধান হওয়া উচিত ছিল, ও এত রাতে কেন, ওর সঙ্গে আগে সম্পর্ক ছিল না, ও এমন পোশাক পরে কেন, ও এত জোরে কথা বলে কেন, ওর চরিত্রটা কেমন? একটা মেয়ের ওপর অন্যায় ঘটল, তারপর আমরা তাকে আরেকবার আক্রমণ করলাম—প্রশ্নের মাধ্যমে, দৃষ্টির মাধ্যমে, ইঙ্গিতের মাধ্যমে, গুজবের মাধ্যমে, ভদ্রতার মাধ্যমে, শ্লীলতার মাধ্যমে।
    সই, কখনও কখনও সবচেয়ে অশ্লীল জিনিসটা অশ্লীল শব্দ নয়, অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভদ্র থাকার অভিনয়। এই যে আমরা খুব ভদ্রভাবে বলি—মেয়েদের একটু শালীন হওয়া উচিত, এর ভেতরে কতখানি নিয়ন্ত্রণ লুকিয়ে থাকে, বুঝতে পারিস? শালীনতা যদি সত্যিই নৈতিকতা হয়, তবে সেটা সবার জন্য হোক। পুরুষের ভাষায় শালীনতা থাকুক, পুরুষের চোখে শালীনতা থাকুক, পুরুষের আচরণে শালীনতা থাকুক, পুরুষের ক্ষমতা ব্যবহারে শালীনতা থাকুক, পুরুষের রাগে শালীনতা থাকুক, পুরুষের প্রেমে শালীনতা থাকুক, পুরুষের প্রত্যাখ্যান মেনে নেওয়ার মধ্যেও শালীনতা থাকুক, আর সবচেয়ে বেশি—অন্য মানুষের সীমা বোঝার মধ্যে শালীনতা থাকুক। তাহলে হয়তো ‘শ্লীলতা’ শব্দটার একটু মানে হবে। তার আগে? এটা এক্সক্লুসিভ অফার, শুধু মেয়েদের জন্য। সঙ্গে ফ্রি পাওয়া যায়—লজ্জা, ভয়, চুপ থাকা, নিজেকে দোষ দেওয়া, আর আজীবন ব্যবহারের জন্য একটা অদৃশ্য তালা। শর্ত প্রযোজ্য, অফারটি বাতিল করা যাবে না, কারণ সমাজ বলেছে।
    তবে এর ঐতিহাসিক পথটাও কিন্তু বেশ পরিষ্কার: ‘শ্লীল’ একটা সংস্কৃতমূল শব্দ। সরকারি বাংলা অভিধানে ‘শ্লীল’-এর অর্থ দেওয়া হয়েছে ভদ্র, শিষ্ট, রুচিসম্মত, সুরুচিসম্পন্ন; ‘শ্লীলতা’ অর্থ সম্ভ্রম। আর একই অভিধানে যখন ‘শ্লীলতাহানি’ ব্যাখা করা হয়, সেখানে সরাসরি লেখা থাকে—নারীর সম্ভ্রমহানি।
    ইংরেজি modesty-র সঙ্গেভারতীয় আইনি ভাষায় এই ধারণাটি বহু আগে থেকেই জুড়ে গেছে। ঔপনিবেশিক ভারতের Indian Penal Code, 1860-এর Section 354-এ অনুসারে ছিল... “assault or criminal force to woman with intent to outrage her modesty।” আইনটি ১৮৬০ সালের ৬ই অক্টোবর প্রণীত হয় এবং ১৮৬২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। অর্থাৎ নারীর বিরুদ্ধে আক্রমণকে “নারীর modesty বা শ্লীলতার ওপর আঘাত” হিসেবে আইনি ভাষায় ফ্রেম করার অন্তত একটা সুস্পষ্ট ঔপনিবেশিক আইনি ইতিহাস ১৮৬০–৬২ থেকে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই IPC বাতিল হয়ে Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS) কার্যকর হলেও BNS-এর Section 74-এ একই “woman + outrage her modesty” কাঠামো বহাল রয়েছে।
    আরও একটা বিষয় লক্ষণীয়, ১৯৬৭ সালের Major Singh মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আলোচনায় বলা হয়েছিল, IPC 354-এ “modesty” নারীর সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত একটা গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল; একই রকম পুরুষের modesty-র জন্য IPC-তে সমান্তরাল কোনো বিধান ছিল না।
    তাই ব্যাপারটা বেশ ভাবার মতো—‘শ্লীলতা’ শব্দ যে শুধু মেয়েদের আলমারিতে রাখা, তা নয়; একসময় আইনও যেন তার জন্য আলাদা তাক বানিয়ে দিয়েছিল! ১৮৬০-এর IPC 354 থেকে আজকের BNS 74-এ এসে প্রশ্ন করা যায়—একটা মানুষের ওপর আক্রমণ ঘটলে কেন আইনের ভাষাতেও এতদিন ধরে তার কেন্দ্র হয়েছে ‘মেয়েটির modesty’? কেন প্রথম শব্দটা ‘আক্রমণকারী’ নয়, ‘নারীর শ্লীলতা’? কারণ সরকারি সংজ্ঞাতেই আজও “শ্লীলতাহানি = নারীর সম্ভ্রমহানি” বলা আছে। তাই “শ্লীলতা কি এক্সক্লুসিভ অফার?”—এই ব্যঙ্গটা নিছক কৌতুক নয়। শব্দটার অভিধানগত ও ঔপনিবেশিক আইনি ইতিহাসের ওপর দাঁড়ালে প্রশ্নটি গভীর থেকে আরও গভীরে যায়।
    সই, সমাজ কে? এই প্রশ্নটা কিন্তু এখনও বাকি। আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন—যে সমাজ মেয়েদের শ্লীল হতে শেখায়, সে সমাজ পুরুষদের কী হতে শেখায়?
    শ্লীলতা যদি সত্যিই ভদ্রতা হয়, তাহলে তাকে মেয়েদের শরীরে আটকে রাখিস না। তাকে মানুষের আচরণে রাখ, চোখে রাখ, কথায় রাখ, হাতে রাখ, সম্মতিতে রাখ, না শুনে থেমে যাওয়ার মধ্যে রাখ, অন্যের স্বাধীনতাকে নিজের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাবার মধ্যে রাখ। আর যদি কেউ আবার এসে বলে—মেয়েটা শ্লীল ছিল তো? তুই খুব শান্তভাবে জিজ্ঞেস করিস—কেন? শ্লীলতা কি শুধু মেয়েদের জন্য? সে হয়তো বলবে—না, তা নয়। তখন বলিস—তাহলে? সে চুপ করবে, আর তুই হাসবি, খুব জোরে। হ্যাঁ সই, খুব জোরে, কারণ এবার হাসিটাও মাপা হবে না। হাসিরও তো কোনও লিঙ্গ নেই, শ্লীলতারও থাকার কথা ছিল না।
    কিন্তু যদি সমাজ জেদ করে বলে—না, শ্লীলতা মেয়েদের জন্যই, তাহলে দোকানের সামনে সেই পুরনো ধারণার ঘষা বোর্ড টেঙে এখনও বড় বড় অক্ষরে জ্বলছে--
    “এক্সক্লুসিভ অফার বাতিল। শ্লীলতা সকলের জন্য।” আর যে শ্লীলতা নিয়ে হেন্দিয়ে মরল সেও মেয়ে। আর কখনও তার শ্লীলতা হানি হয়নি, এটা বলা যাবে না।
    ওলো সই, এবার বল— কেমন লাগল এই শ্লীল আলোচনা?

    _শ্রীমতী

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    ১ | ২
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন।