এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কি হতে যাচ্ছে ইরানে? 

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৮৪ বার পঠিত
  • কি হতে যাচ্ছে। এখনো হিরোশিমা নাগাসাকিতে বিকলাঙ্গ শিশুদের জন্ম হয়। অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাপানের মানুষ আতংকে থাকে।  আবারও কি তাই হতে যাচ্ছে? প্রস্তর যুগে ফিরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে আমেরিকা। তাই গত মঙ্গলবারের রাত টি অনেক দীর্ঘ হতে থাকে। স্থানীয় সময় রাত ৮ ঘটিকায় কি হতে যাচ্ছে সেই হাড়হিম করা অপেক্ষা সারা দুনিয়ার মানুষকে রেখেছিল এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির ক্লাইমেক্স দেখতে। ট্রাম্পকে দমানো যাচ্ছে না কোন ভাবেই।  বিগত কয়েক দিনের ট্রাম্পের ৪৫ ঘন্টা, পাচ দিন, দশ দিন ইত্যাদি হুমকি গুলো একটা সময় বেহুদা বচন রুপে পরিনত হতে থাকে। আর ততই ইরানের আক্রমণ আরও বাড়তে থাকে। পুর্বে বেশ কিছু আলোচনায় উল্লেখ করেছি যে, আমেরিকা একটা সম্মান জনক সেইফ এক্সিট এর পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। যে কোন হুমকি দিয়ে যে হরমুজ প্রণালী খুলতে না পারার যন্ত্রণা পেয়ে বসে আমেরিকাকে। যার ফলে ট্রাম্প বলতে বাধ্য হয় যে, ভেনিজুয়েলা আর আমেরিকার নিজ্বস্ব তেল দিয়েই তারা অনায়সে চলতে পারবে, কাজেই যাদেরকে হরমুজ প্রণালীর ভরসা করে চলতে হবে তারা যেন সবাই ইরানের বিপক্ষে দাঁড়ায়। এমন দায়সারা আর নতজানু বক্তব্য ভালোভাবে নিতে পারেনি আমেরিকার বন্ধু পক্ষ। যার ফলে ভিতরে ভিতরে একটা চাপা ক্ষোভ জমতে থাকে আমেরিকার।  কিন্তু ইরান বুঝতে পারে যে, হরমুজ প্রণালীই তার জন্য তুরুপের তাস এখন। ইরাক, কাতার, আর সৌদির উপর ইরানের প্রতিনিয়ত আক্রমণ চলতে থাকায় তারা আমেরিকার উপর চাপ বাড়াতে শুরু করে যা ছিলো পর্দার আড়ালের খবর। আর এই ফাকে চীন তার ইয়ানের ব্যবসা জমিয়ে তোলে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ক্রয় করে। ডলারের ধস নামার এই ষড়যন্ত্র রাশিয়া, ইরান আর চীনের এই মাস্টার গেইম আমেরিকার বুঝতে বাকি নেই যার ফলে এই যুদ্ধ থেকে সেইফ এক্সিট পাওয়ার জন্য উপায় খুজতে থাকে।  খুব সম্ভবত ইরান ও চাইছে না এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলুক। বিশেষ করে ইরানের সমর্থক রাস্ট্র গুলো অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।  তারাও চায় একটা স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হোক। পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ই হয়ে উঠে মধ্যস্থতাকারী হয়ে। আমেরিকা চায়না এই সময়ে চীন বা রাশিয়া হয়ে উঠুক নেতা হিসেবে। তাই মধ্যপন্থী পাকিস্তান ই হয়ে উঠে আম্পায়ার হয়ে। আর সেই সুযোগ ও দেয়নি ভারতকে কিংবা  ইউরোপের আর কাউকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এতো ঠুনকো জিনিস নয় যা চর্মচোখে দেখা যায়। ইরান কে পাকিস্তান নমনীয় করার ক্ষমতা রাখে পাশাপাশি আমেরিকার যাতে মাথা হেট না হয় তার জন্য আমেরিকার যুদ্ধ টেবিলে কথিত পারমাণবিক বোমা ফেবিয়া ছড়িয়ে ইরান তথা বিশ্বকে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার কুটনৈতিক বুদ্ধি যে পাকিস্তানের ছিলো না তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার আগ্রাসন টেনে রাখাই যখন মুখ্য উদ্দেশ্য সেটা পাকিস্তান কে যে পুর্ব পরিকল্পনামতো সাজানো ছিলো না তা যে ইরান বা আমেরিকা জানতো না সেটাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। এতে লাভ হলো ইরানের ই।  সারা ইরানের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে। যা হয়তো ইরান বা আমেরিকাও ভাবতে পারে নি আগাম।  এবার যদি যুদ্ধ বিরতির দশ শর্তের দিকে উঁকি দেই তাহলে সেটা স্পষ্ট যে,  ইরানের ড্রাফট ই উচ্চারিত হয়েছে তাতে। বিশেষ করে আমেরিকা সেনাবাহিনীর আরব দেশগুলো থেকে চলে যাওয়ার মতো আত্মঘাতী শর্ত মেনে নেওয়ার কথা আমেরিকার নয়। প্রশ্ন হলো তাহলে আমেরিকা কেন রাজী হলো?
    যে আমেরিকা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি চালাতে দিতে বরাবরই না রাজি তারা হুট করে এই শর্তে রাজি হবে কেন?  নাকি আমেরিকার আর কোন উপায় ছিলো না?  নাকি ভবিষ্যতে আমেরিকা ইরানের বন্ধু হয়ে উল্টো ইসরায়েলকে শায়েস্তা করে আরব দেশগুলো তথা মুসলমানদের বন্ধু সাজার নতুন কোন ফন্দি আঁটছে কি না তা হয়তো ভবিষ্যতে দেখা যাবে। আপাতত পাচ দিনের এই যুদ্ধ বিরতি চলছে। আমেরিকা আর বোমা হামলা চালিয়েছে বলে খবর আসেনি কিন্তু ইসরায়েল গতকাল লেবাননে ও ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে। যা যুদ্ধ বিরতির লংঘন স্পষ্ট।  সেটাই আবারও নতুন করে ভাবাচ্ছে। আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ পাকিস্তানের টেবিলে বসবে তিন পক্ষই। কি হবে সেদিন? 
    যুদ্ধ বন্ধ হবে নাকি আবারও মানুষের প্রান যাবে বোমায়, গুলিতে। সেই অপেক্ষা রইলো।  
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন