(১)
মানুষ।
ডাস্টবিনে অজস্র সময় কেটেছে আমার,
ময়লার স্তূপের ভিতর হন্য হয়ে খুঁজেছি মানুষ।
প্রহর কেটে গেছে বানের জলের মতো নিয়মে।
তারপর জানলাম বহুকাল পরে,
সেখানে মানুষ থাকে না।
মাঝে মাঝে সেখানে ভ্রুন পাওয়া যায়,
বেওয়ারিশ প্রসবের রক্ত কাপড়।
অথবা নরম অস্থিমজ্জার মাংসপিন্ড।
আমি সেখানে মানুষ পাবো কিভাবে?
অথচ আমি সেখানে মানুষ খুঁজেছি,
পচা বর্জ্যতে মানুষ থাকে না।
(২)
কবে আসছো?
একদিন যদি দেখা হচ্ছে আমাদের,
হোকনা অল্প আয়ুস্কাল।
আমার চোখে যদি ভুল করে চোখের পাতা ফেলিস,
মুহূর্তে খরায় শুকিয়ে যাবে তোর বুকের ভিতর।
পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ছুয়ে দেখা পুর্ব পুরুষের হাত,
অথবা লালা সব আর বুকের উপর অগুণতি চুম্বন।
আমি তোমার ঠোঁটে, ঠোঁট ছোয়ালেই,
মুহূর্তেই মাটি ফুড়ে বেরিয়ে আসবে জল,
তোর বুকের ভিতর আদ্র হয়ে আসবে অসম্ভব,
চোখের পলকেই শীতল হবে,
বুকের যাবতীয় অঞ্চল।
তোর কপালে আংগুল ছোঁয়াতেই,
হুড়মুড় করে ঢেলে দিবে তোকে,
এরপর আমরা খানিকক্ষণ ছুটে যাবো কোথাও,
ক্লান্ত হয়ে আবারও বলবি
এরপর কবে আসছো?
৩)
আর ও কিছুটা থেকে গেলে হতো।
আর ও কিছুটা থেকে গেলে হতো।
যে খিড়কি ঠেলে পা রেখেছ আকীর্ণ বুকে,
সেই খিড়কি দুয়ারের কম্পন এখনো অস্থির,
দেখো এখনো কাঁপছে।
যে বুকের বিছানায় শরীর মেখেছ মাত্র,
যে হাতে মাত্র ছুঁয়েছ পিঞ্জর,
সে উত্তাপ মিশে যেতে আরও কিছু সময় দিতে হয়,
আরও খানিকটা জিরাতে।
বলছিনা তোমাকে প্রথম ভালো লেগেছিল,
আগে কেউ চলে যায় নি তাও বলছিনা।
আর ও কিছুটা থাকতে,
রোজ রোজ অভিযোগ জমতো,
তোমার হৃদপিণ্ডের চারপাশে পুড়ে হতো ছাই,
তুমি বেশ খানিকটা ভষ্ম হতে।
তাহলে জানতাম,
তুমি কেন ছুটে যাও।
আমাকে অপরাধী বলে চলে গেলে,
আমার সান্ত্বনা কিছু তো থাকত।
(৪)
ঘুমিয়ে পড়ো।
আজকাল রোজ বিকেল মানে, পশ্চিমের আকাশ ছেয়ে আসা অন্ধকার মেঘ।
সামান্য কিছু বাতাস, আর এক পশলা বৃষ্টির দেখা।
তখন।
আমাদের বিদায়ের পালা, বিদায় সম্ভাষণ।
সাবধানে যাবেন।
ফিরে গিয়ে একটা ফোন দিবেন কিন্তু।
রাস্তায় কি দাঁড়িয়েছেন?
আহা তুমুল বৃষ্টি ,রেইন কোর্ট আছে তো?
মাঝে মাঝে তোমার কপালে ও চিন্তার ভাজ পড়ে।
শরীরের উপর ধকলটা কিন্তু কম যায়নি তোমারও
জানি কিছু করার নেই।
এভাবেই তো যুদ্ধ করে বেঁচে আছো।
চোখের নিচে কালো জমেছে,
শরীরে শুয়োপোকা আর ছত্রাকের মতো,
জমাট বেঁধে আছে ক্লান্তি।
রোজ রোজ বকা দেই।
পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে আছে,
তুমি পাহারা বসিয়ে রেখেছ রাত্রি।
জানালায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দূরের আকাশ দেখছো,
রাস্তায় আকস্মিক দু একটা মানুষ হাটছে,
কুকুরের নতুন ছানা চারটি, তাদের মায়ের বুকের ভিতর মুখ গুজে ঘুমিয়ে আছে নর্দমায়।
ক্লান্তি কার নেই?
শরীর টা তো টিকিয়ে রাখতে হবে?
ঘুমিয়ে পড়ো।
লেখক ঃ লতিফুর রহমান প্রামাণিক।
আইনজীবী, জজকোর্ট রংপুর।
ফোন ০১৭২৭৬৬৩২৯৫
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।