এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • আলটিমেটাম যখন ৪৮ ঘন্টা 

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মার্চ ২০২৬ | ৫৭ বার পঠিত
  • আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। ট্রাম্প হঠাৎ করে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে রেখেছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাচ টায় তার সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে আলটিমেটাম নতুন কিছু নয়। এটা অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অতীত ইতিহাসে এই আলটিমেটাম খুব একটা কাজে আসার মতো উদাহরণ খুব একটা চোখে পড়ে না।  আলটিমেটাম জারী তাহলে কেন? ইরান নিয়ে আমেরিকা বা ইসরায়েলের স্টাডির যে ব্যাপক ঘাটতি আছে তা ইতোমধ্যে টের পাচ্ছে। একটা দেশ আর কতটা এগুতে পারে। ইরাক ইরানের দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত এখনো শুকায়নি। লম্বা সময় ধরে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবরোধ, আন্তর্জাতিক মহলে কোন ঠাসা অবস্থা আর কিছুদিন পুর্বে ইসরায়েলের সাথে কয়েকদিনের যুদ্ধ থামতে না থামতেই এবারের যুদ্ধ শুরু। আমেরিকার চোখে সন্ত্রাসী রাস্ট্র ইরানের এই আস্ফালন বর্তমান সময়ের সেরা যুদ্ধবাজ ইসরায়েল আর আমেরিকার জন্য মোটেই স্বস্তির বিষয় নয়। কিন্তু ইরানের রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করার গেরিলা অভিজ্ঞতা। প্রথমে সস্তা ড্রোন আর মিসাইল দিয়ে আমেরিকা ইসরায়েলের অনেক টাকায় কেনা ইন্টারসেপ্টার খরচ করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। এবার নাকি ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে সিনেটের দরজায় ট্রাম্পের চিঠি এসে হাত পাতিয়েছে।  ইরাক, কুয়েত, সৌদি আর আরব আমিরাতের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।  ব্যবসায় ধস নামার ধুকপুক শুরু করেছে।  আর তুরুপের তাস হরমুজ প্রণালী ইরান কে দেখাচ্ছে যুদ্ধ জয়ের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে।
    এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল) চওড়া। তবে জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত লেনটি মাত্র ৩ কিলোমিটার চওড়া। বলা যায় বারুদ ছাড়া বন্দুক হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেই এটা পার হওয়ার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইবে না। যারা নাবিকেরা জাহাজ চালায় এরা আমেরিকা ইসরায়েল এর কেনা গোলাম নয় যে, ইরানের বন্দুকের নলের সামনে জীবন দান করবে।  আমেরিকার বাজারে হুহু করে দাম বাড়ছে তেলের গতকালই নাকি ১৩০ ডলার ছুইছুই। যা আরও বাড়বে। আরব দেশগুলো তেল বিক্রি করতে না পারলে দ্রুত পথে বসে যাবে। তখন কি করবে আমেরিকা?  খোদ আমেরিকার জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে। এই অনাহুত অকারণ যুদ্ধ, তার বলী হতে চাইবে না কেহ। আর ইরানের টার্গেট সেদিকেই। আর দুই সপ্তাহ এই যুদ্ধ টেনে নিতে পারলে  পুরো এশিয়া আর আরবের উপর যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে যাবে তাতে আমেরিকার প্রভুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করবে সারা দুনিয়ার মানুষ। আমেরিকার উপর যে চাপ সৃষ্টি হবে তা ট্রাম্প প্রশাসন সামলে উঠবে কি না সেই নিয়ে আশংকা থাকছেই।  আমেরিকার পক্ষে এই যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া অচিরেই অসম্ভব হয়ে যাবে।
    ১৯৫৬ সালে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিলে মিসরের সুয়েজ খাল দখলের চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেই অভিযান থামাতে বাধ্য করেছিল। ইতিহাসে এটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
    তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে থামাবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত নেই।
    বিশ্বের একটি পরাশক্তি হিসেবে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে হরমুজ প্রণালী খুলতে না পারা অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালি তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ভারতও একই পথে এগিয়েছে। সবাই নিজেদের জন্য ব্যস্ত ন্যাটো কথা শোনেনি, ব্রিটিশ দেরিতে সাড়া দেয়, স্পেন তো সরাসরি খারিজ করে ট্রাম্পের কথায়। ইউরোপের এমন আচরণ নতুন করে ট্রাম্প প্রশাসন কে ভাবাচ্ছে। তাই যুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকার সাথে সম্পর্ক নিয়ে অনেক হিসাব নিকাশ থাকছেই।  আমেরিকা ও তা বুঝতে পেরে গত পরসু ইসরায়েলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এক্সিট চাইছে কি না সেই নিয়ে আলোচনার ঝড় যাচ্ছে।
    এবার আলটিমেটাম এ আসি। ৪৮ ঘন্টা থেমে থাকবে না। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ নেই কিন্তু আমেরিকার ভয়ে ইন্সুইরেন্স কোম্পানী গুলো জাহাজ নিয়ে এগুচ্ছে না, সেটাও অসত্য নয়। বর্তমানে একটা বারুদের সমুদ্র হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালী। পানির তলায় মাইন পুতে রাখার গুঞ্জন ও ছড়িয়ে আছে। ইরানের হুমকি দিয়ে রাখা যে, আমেরিকা তার তেলের বিদ্যুৎ এর উপর আঘাত হানলে একই শাস্তি তারাও প্রস্তুত করে রেখেছে। তারমানে এক অনিশ্চয়তার সারা বিশ্ব। জ্বালানি ছাড়া এক সেকেন্ড ও পৃথিবীর চলার সাধ্য নেই। অন্ধকারে নিমজ্জিত দুনিয়া এক কঠিন সময়ে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।  তবে যাইহোক না কেন, আমরা যে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ভিতরদিয়ে চলছি তা স্পষ্ট এখন। বোধোদয় হোক সবার। নিজের স্বার্থের অযুহাতে পৃথিবীর মানুষকে হত্যার এই আয়োজন দ্রুত নিস্পন্ন হোক।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন