এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সংবিধান বনাম গণভোট 

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ মার্চ ২০২৬ | ৯ বার পঠিত
  • সংবিধান বনাম গণভোট। 

    সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে জোরে সোরে আলোচনা চলছে। আওয়ামী সরকারের সময়ে সংবিধানের যে সংশোধন হয় তাতে সংবিধান নয় সেটা আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো’র আরেক রূপ ছিলো। সেই নিয়ে আপত্তি ছিলো সবার। তারপর ও নিজেদের স্বার্থে সংবিধান থেকে গণভোট বাদ দেওয়া, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে রাজনীতির মাঠ থেকে তাড়িয়ে দিতে স্পেশাল অনুচ্ছেদ যুক্ত করা, সাতই মার্চের ভাষনকে সংবিধানের মধ্যে যুক্ত করার মতো দুনিয়ার বিরল বিষয় প্রবেশ করে তার বিতর্ক কম হয় নি। এমনকি সেই সংবিধানের যে কোন দাড়ি কমা সেমিকোলন পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে রাস্ট্রদ্রোহিতার শামিল, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড যুক্ত করার মতো সাংঘাতিক ধারণাটাকে শুধু মাত্র যুক্ত করার পিছনে ছিলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপকৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিন্তু এই অপচেষ্টা কি নতুন?  যুগে যুগে সংবিধানের অনুচ্ছেদ কাটা-ছেঁড়ার ইতিহাস কম হয় নি।  শেখ মুজিবের বাকশাল আর খন্দকার মোশতাক শেখ মুজিবের হত্যার বিচার না করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কথা কেউ ভুলে যায়নি। সবকিছুর মুলে রয়েছে রাজনীতি আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা। তৃতীয় বিশ্বের দেশের মানুষ রাজনীতি আর সংবিধান নিয়ে যতটা না সুচিবাই তার উল্টো পথে দুনিয়ার বড় রাস্ট্র গুলোর শাসক রা। মাদুরে কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ও আমেরিকার বিরুদ্ধে আমরা চুপচাপ। না খুঁজে বেড়াই স্বার্বভৌমত্ব বা হস্তক্ষেপ। এবার বাংলাদেশের কথা বলি, আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়ে সারাদেশের মানুষের ক্ষমতা দখল নিয়ে সংবিধান নিয়ে কম টানাটানি হয় নি। এতটা অপ্রস্তুত আর হযবরল অবস্থা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। নানা প্রশ্নের মুখোমুখি এখনো সংবিধান। আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট এখনো বহাল, বি এন পি র যুক্তি সেটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। বিরোধী শিবিরে তার সমালোচনা, সেই সংবিধান আর নেই। কিন্তু সেই প্রেসিডেন্টের হাতে অন্তবর্তী সরকারের শপথ। যদি ও সংবিধানে অন্তবর্তী বা তত্বাবধায়ক সরকার কোন কথা নাই। কিন্তু doctrine of necessity এর দোহাই দিয়ে সবকিছু চলছে। বি এন পি কিছু মানছে কিছু মানছে না জামায়াতের ক্ষেত্রে ও তাই। কিন্তু গণভোটে কি সেই সংবিধান বিলুপ্তির কথা ছিলো?  এরকম প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে আছে যা আলোচনা করলাম না। ৭২ সালের সরকার গঠন এর প্রাকাল্লে যেভাবে নতুন সংবিধান সৃষ্টি হয়েছিল আমরা যদি এবারের সেই গণভোটে সেই প্রক্রিয়ায় যেতে পারতাম তাহলে হয়তো এসব প্রশ্নের উদ্ভব হইত না। কিন্তু ৭২ সালের সরকার গঠন নিয়ে ও কম সমালোচনা নেই। পাকিস্তানের নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার হওয়া নিয়ে ও অনেক আইনী প্রশ্ন আছে। সেটা নাই বা বললাম। 
    এবার গণভোটে আসি।
     গণভোটে প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর: একই ব্যক্তি বা দল সর্বোচ্চ ২ মেয়াদে বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। 
    উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠন: আইন প্রণয়ন ও ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা। 
    নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি: জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা।
    ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংস্কার: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জরুরি অবস্থা জারিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, এবং সংবিধানে উল্লিখিত আরও কিছু মৌলিক সংস্কারের বিষয়। 

    এই গণভোটে জনগণ 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোটের মাধ্যমে এই সংস্কারগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের রায় দেবেন।  
    এখানে কোথাও বর্তমান সংবিধানের বিলুপ্তি বা অবসানের জন্য বলা নেই। তার মানে সংবিধানে সংস্কার বা নতুন যুক্ত কিছু অনুচ্ছেদ ছাড়া কিছু নয়। 
    তর্কের খাতিরে যদি বলি, গণভোটে তত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে যেহেতু কিছু বলা নাই তাহলে কি বিরোধী শিবির আগামী নির্বাচনে বি এন পি র অধিনে নির্বাচনে যাবে? 
    এরকম প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা গণভোটে নির্ধারিত হয়নি।  যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার অবস্থায় রয়েছে।  
    আগামী দিনে সংবিধান নিয়ে একটা বড় ঝামেলার অপেক্ষায় দেশ।  আমরা এখনো আওয়ামী লীগের বানানো সংবিধানের দেশে আছি আবার সেই সংবিধানের বাহিরেও ডকট্রিন অফ নেসেসেটি অবস্থায় রয়েছি। কাজেই বি এন পি র বক্তব্য ও যেমন যুক্তিযুক্ত তেমনি বিরোধী শিবিরের চাওয়া পাওয়া ও অগ্রাহ্য নয়। সবকিছুর মুলে রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে রাস্ট্রব্যবস্থা কিভাবে গঠিত হবে তার উপর।  
    আগামীর সংবিধান দীর্ঘস্থায়ী হোক।
    শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হোক।
    আমজনতার এটাই চাওয়া। 
    বাংলাদেশ ভালো থাকুক।

    লেখক ঃ লতিফুর রহমান প্রামাণিক। 
    লেখক ও আইনজীবী।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন